এ জলাভুমির বালক।

জলমগ্ন মাঠের এ প্রান্ত ছুঁয়ে, উঁচু এ হাঁটা পথ। গিরিপথের প্রান্ত সীমায় বসে থাকা রাখাল বালক। রাখলের চোখে স্বপ্ন, এ জলমগ্ন মাঠ ভরে উঠবে সবুজে সবুজে। এই শীতল বটবৃক্ষের ছায়াতলে হাতে তার বাঁশি। মেষ শাবকের পাল ছুটে চলেছে সেই সুরে। এ যেন এক স্বর্গীয় পরিবেশ। হঠাৎ এ জলমগ্ন সবুজ বুকে, মরুর যাদুকরের চিৎকারে, বাঁশির সুরের পলায়ন। হাওয়ার হাত ধরে চলে গেল অনেক দূরে।

খচ্চরের দড়ি ধরে এ সবুজ বুকে তার বিজয়ের হাসি। বাতাসে আজ ভুর ভুর করছে, বিষাক্ত শিষা। কঙ্কালসার বালকের শরীরের ফাঁক-ফোকর গলে সূর্য রশ্মি প্রবেশ করছে। কোনো ছায়া নেই, কোনো শীতলতা নেই, বালকের স্বপ্নও আজ তপ্ত বড়, উত্তাপ ছড়াচ্ছে নিঃশ্বাসে তার। বালকের এ জমি, জমির বুকে এ কুঁড়ে ভেসে গেছে দূর বহু দূর। নদীর বুক থেকে বয়ে আসা বাতাস থমকে গেছে আজ।

চুল্লির দরজা খুলে দিয়েছে এ মরুর যাদুকর। মরুর বুকে দিক-বিদিক ছুটে চলেছে মেষ শাবক পাল দৃষ্টিচক্ষুর অন্তরালে।

 

মোট পড়েছেনঃ ৬৩৯জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৩৬টি মন্তব্য

  1. মরুর যাদুকর? নাকি মরুর দৈত্য? চুল্লিতে এভাবে খাঁক হয়ে যায় সবুজ, বাঁশির সুর তখন পুড়তে পুড়তে হাহাকার ছড়ায় বাতাসে বাতাসে। অল্প কথায় এত সুন্দর করে লিখলেন ভাবীজান?
    বালকের শরীরের ফাঁক-ফোকর গলে সূর্য রশ্মি প্রবেশ করছে।-এই লাইনটা চমৎকার লেগেছে। অগ্নিগিরির লাভার তাপ পাচ্ছি লেখায়, রহস্য কি গো ভাবীজান?
    ;?

  2. নদীর বুকে বয়ে যাওয়া বাতাস থমকে গেলে নদী যে মরে যাবে।
    চুল্লির দরজা খুলে দিলেও মেষ শাবক ঠিকই পথ খুঁজে নেবে সবুজের প্রান্তরে।

  3. ক্ষোভ থেকেই এমন কথা এসেছে বলে মনে হয়।অল্প কথায় চমৎকার একটি পরিবেশের ভারসম্যে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। -{@

  4. ধমকে গেছে নদী বহমান
    ধমকে গেছে সবুজ অরন্য
    সব লুটে পুটে খাচ্ছে বেহায়া রাজনিতি।

    মানুষ বাসের সামান্য প্রাকৃতিক অভরান্য খেয়ে ভেলছে এরা।

  5. এত অল্প কথায় এত গভীর প্রকাশ থাকলে কেন লেখি বিশাল বিশাল লেখা?
    মরুর যাদুকরের হাত থেকে নিশ্চিত একদিন মুক্তি পাবে সবুজেরা,
    রাখাল বালকের বাঁশির সুরে ভরে যাবে প্রকৃতি।

    অনেক ভাল হয়েছে।

    1. আসলে মরুর দৈত্যই প্রথমে লিখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু যাদুকরই একমাত্র , মোহোনীয় করে রাখে মানুষকে।
      নেই মুক্তি নেই। কিছুতেই মুক্তি নেই। সব কিছুই গ্রাস করবে। রাখাল বালক আর চড়াবে না মেষ শাবক।
      দুপুরে বারান্দায় ঐ সবুজের চোখে চেখ পড়তেই শব্দ বলল, “খাতা খোলো, কলম নাও, লিখে ফেল আমার দুঃখ”।

  6. অসাধারণ একটি লেখা, বেশ গতিময় ! চিত্রকল্পগুলো অনায়াসে উঠে আসে পাঠকের লীন দৃষ্টিতে। লেখকের গুণ বলা যায় !!
    ভাল লেখা বার বার পড়া যায়, ক্লান্তিহীন। অবশ্যই খুব ভাল লিখেন আপনি।

    1. এটা আসলে ক্ষোভের প্রকাশ। সবুজ যেন থাকছে না আর।
      আমি ভাল লিখি ! ওরে আললাহ্। এ সবই আপনাদের ভালবাসা ও অমায়িকতা।
      ধন্যবাদ।

  7. মরুর যাদুকর নিপাত যাক। মেষ শাবকেরা দিগ্বিদিক না ছুটে স্থায়ী কোনো চারণক্ষেত্রের সন্ধান পাক। মরুদ্যানে ভরে উঠুক তপ্ত মরুভূমি। 🙂

    সোনেলায় পরপর দুই দুইখানা মরুভূমির পোস্ট! কাহিনী কী? ;?

  8. মৌনতা আপু অসাধারণ। (y) :c
    রূপকধর্মী কবিতা-গল্প আছে প্রচুর, কিন্তু রূপকাশ্রিত আবছায়া মাখা লেখা খুব কমই আছে। আমরা সবুজ পেয়েও যত্ন করিনা। আর এখানে সবুজের জন্য সবাই অপেক্ষায় থাকে। প্রকৃতি কতো সুন্দর কিছু দিয়েছে আমাদের। কিন্তু আমরা তার যত্ন তো করি-ই না, বরং নষ্ট করি।

    খুউব ভালো লেখা। -{@

    1. ভালো হয়েছে ?
      সত্যি মনটা খুবই খারাপ। সুন্দরবন সংলগ্ন জমিগুলো সব বিক্রি হচ্ছে দেদারছে। ওখানে তারা কাঠ কাটার কারখানা করবে,(স’মিল), সুপারির ফ্যাক্টরি, মাছের ফ্যাক্টরি, আরো কতো কি ! কি হবে একবার ভাব !

  9. এ কোন মৌনতা রিতু আপুকে দেখছি? লেখার মান তো অনেক উচুতে উঠে গিয়েছে আপু। প্রতীকী লেখা, অত্যন্ত ভাল হয়েছে। সবুজ হয়ে যাবে সব কিছু আবার। আমি সজীব আছি না? আমি মরুর যাদুকরের যাদুকর। এমন বাঁশি বাজাবো যে মরুর যাদুকর এসে লুটিয়ে পরবে রিতু আপুর পায়ে। বলেবে’ ছেড়ে দেন মা কেঁদে বাঁচি ‘ ।
    সবাই কত ভাল ভাল লেখা লিখছে, আমি কিছু পারিনা কেন আপু? 🙁

  10. বাতাসে দমও বন্ধ হবে আপু।
    দলে দলে মরবে।
    আগে আসতো ওলা বিবিরা। এখন আসবে দমবিবিরা। আসবে আর কেড়ে নিয়ে যাবে সব।

    অতি ভালো হইছে লেখা।

মন্তব্য করুন