এদের এড়িয়ে চলাই শ্রেয়

সামারে প্রতি সপ্তাহেই নিউইয়র্কে একাধিক মেলা’র আয়োজন করা হয়। বাঙালীদের পদচারনায় মুখর থাকে মেলাগুলো। গান-বাজনা, কেনাকাটা, খাওয়া-দাওয়া, হৈচৈ __ সবমিলে অসাধারন এক ভালোলাগা’র পরিবেশ। যেন এক টুকরো বাংলাদেশ। এক বন্ধুর আমন্ত্রনে গিয়েছিলাম এমনই এক মেলায়। বন্ধুটি মেলার আয়োজক কমিটির সদস্য, বিধায় ব্যস্ত। সেখানে পরিচিত এক ভাবী’র সাথে দেখা। যাক্‌, তবুও একজন সঙ্গী পাওয়া গেলো। খুশি হই মনেমনে।

ঘুরাফেরার এক পর্যায়ে হঠাৎ সেই ভাবীটি তাঁর স্কুল জীবনের এক বান্ধবী’র দেখা পায়। তাঁরা দু’জনই যারপরনাই উচ্ছ্বসিত। একে অপরকে জড়িয়ে ধরে তীব্র ভালোবাসায়। সেল্‌ফি তোলে। ফোন নাম্বার বিনিময় করে। সেই ছোট্টবেলার বান্ধবী ! ক-তো বছর পর দেখা ! আমি একখণ্ড ভালোলাগা নিয়ে চেয়ে থাকি। অনেককাল পর দেখা হওয়া দু’জন মানুষের হর্‌হর করে বলে যাওয়া না বলা কথাগুলো হৃদয় ছুঁয়ে যায়। খানিক আবেগাপ্লুত হয়ে চেয়ে থাকি। একসময় তাঁরা একে অপরের কাছ হতে বিদায় নেয়…

অতঃপর ভাবীটি বলতে থাকে__

“ও আমার ছোট্ট বেলার বান্ধবী। স্কুলে ভালো ছাত্রী ছিল না। তরংবরং করে বেড়াতো। তাই বাবা-মা অল্প বয়সেই বিয়ে দিয়েছে। একটি চ্যানেলের সংবাদ পাঠিকা। মিডিয়া’য় কাজ করে। বেশি সুবিধার না।”___ আমি পৃথিবীর সবচাইতে তীব্র বিস্ময় নিয়ে চেয়ে থাকি। ক্ষণিক আগের দৃশ্যের সাথে কিছুতেই মেলাতে পারছিলাম না। একজন মানুষ একই সঙ্গে দুটো রূপ ধারন করে চলে সকলের অগোচরে ! এক টুকরো মিষ্টি হাসি ঝুলিয়ে রাখা তাঁর সুন্দর মুখশ্রী নিমিষেই আমার কাছে বীভৎস মনে হতে থাকে।

যে কারনে এতো কথা__

প্রতিটি মানুষেরই কিছু দোষ-ত্রুটি থাকে। দুর্বলতা থাকে। কিছু মানুষ সেই ভুলগুলো, ত্রুটিগুলো নিয়ে খেলা করে তৃপ্তি পায়। অন্যকে আড়ালে হেয় করে কথা বলে আনন্দ পায়। এটি এক ধরনের রোগ। এধরনের অসুস্থ মানুষের অবস্থান আমাদের আশেপাশেই। আমি নিশ্চিত, যে তোমার কাছে অন্যের দুর্নাম করে__ সে অবশ্যই অন্যের কাছে তোমার দুর্নামও করে। এদের এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।

মোট পড়েছেনঃ ৫৭৪জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২৪টি মন্তব্য

  1. পৃথিবীতে এই মানুষগুলোর সংখ্যা ই বেশী 🙁
    আর বিদায় টা যদি আপনার কাছ থেকে হত তবে আপনাকে নিয়েও দু’একটা কথা হয়ে যেত।

  2. ঠিক বলেছেন আপু।
    এমন মানুষদের এড়িয়ে যাওয়া উচিত।এদের কাজই হলো অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ানো,এরা কখনোই কাউকে ভাল বলতেই পারে না।

  3. শত্রু সম্পর্কে সচেতন থাকা যায়, কিন্তু বন্ধুরূপী এমন মানুষগুলো থেকে নিজেকে রক্ষা করা বা সচেতন থাকাটা অনেক কঠিন একটা কাজ 🙁

  4. ‘ একজন মানুষ একই সঙ্গে দুটো রূপ ধারন করে চলে সকলের অগোচরে ! এক টুকরো মিষ্টি হাসি ঝুলিয়ে রাখা তাঁর সুন্দর মুখশ্রী নিমিষেই আমার কাছে বীভৎস মনে হতে থাকে। ‘ (y) (y) এদের থেকে দূরে থাকা উত্তম আপু।

  5. আমি এককথায় আপনার ভাবীকে খারাপ বলতে পারলাম না।
    আর তার স্বভাবটাই যে এমন সে বিষয়েও নিশ্চিত হতে পারলাম না। একটি উদাহরনের মাধ্যমে কাউকে খারাপ বা ভাল হিসেবে বিবেচনা করা কঠিন। এখানে দেখতে পারলাম আপনার ভাবি তার এক পুরানো বান্ধুবীর সাথে আন্তরিকতা দেখিয়েছেন। আবার পুরানো বান্ধবীও অনুরুপ আন্তরিকতা দেখিয়েছেন। আপনার ভাবী যদি খারাপই হবেন তাহলে তার সাথে তার বান্ধবীর আন্তরিকতা হল কিভাবে? অবশ্যই আপনার ভাবীর মধ্যে কোন ভাল গুন ছিল যে কারনে তার বান্ধবী তার সাথে আন্তরিক হয়েছে, এক সাথে মিশেছে।
    গল্পটা পড়ে আমার বেক্তিগত অভিজ্ঞতায় যা মনে হচ্ছে, তারা দুই বান্ধবী আসলেই ভাল বন্ধু।

    1. সব চেয়ে বড় কথা, আপনার ভাবীর যদি এমন স্বভাব থাকত, তাহলে অনেক আগেই তাদের দুজনের মধ্যে সম্পর্কের মধ্যে ছেদ পরত।

      1. তাঁরা দু’জন ছোটবেলার বন্ধু। অনেকদিন পর দেখা। আন্তরিকতারও কম্‌তি নেই। এই পর্যন্ত ঠিক ছিল। কিন্তু বান্ধবীর অবর্তমানেই আবার তার দুর্নাম করাটা ঠিক ছিল বলে মনে হয় আপনার ? আমি আমার চোখ দিয়ে একই সময়ে একজন মানুষের দু’টি রুপ দেখলাম। এটি অনেকটা আমাদের দেশের বাংলা সিনেমার মত হয়ে গেল না ?

    1. আমি এড়িয়ে চলি যদিও, কিন্তু দেখা হলে কুশল বিনিময় করি। একজন মুসলমান হিসেবে কারো সাথে সম্পর্ক নষ্ট করাটা ঠিক নয় তাই।

  6. একজন আরেকজনকে নিয়ে টুকটাক গসিপ আমরা অজান্তেই অনেক সময় করে ফেলি। দ্বিমুখী সত্বা বিপরীত মেরুর হলে আসলেই সমস্যা। আসলেই এদের এড়ানো যায়না।

  7. দোষ গুন নিয়েই তো মানুষ। আমরা একে অন্যের ভুলগুলো ধরিয়ে দেই… হাত ধরে টেনে তুলি ভুল পথ থেকে। এটাই তো হওয়া উচিৎ।

মন্তব্য করুন