আমার রোজনামচা ২

বড় ছেলে সৌমিককে বাসার পাশেই একটা দোকানে পাঠিয়েছি কিছু জিনিস কিনে আনার জন্য। দোকানে গিয়ে সে ফোন করলো, আম্মু পাউরুটি, চিনি, লবন আর সাবান এই কয়টাইতো বলেছো আর কিছু কি লাগবে? তখনই আমার মনে হলো বাসায় তো দারুচিনি শেষ অন্য সময় বলতে মনে থাকেনা তাই বললাম, দারুচিনি পেলে নিয়ে এসো। সে জানতে চাইলো কতটুকু আনবো? আমি বললাম, আমিতো দাম জানিনা দাম কিরকম আগে সেটা দেখো, তারপর যে টাকা নিয়ে গেছো তা দিয়ে ব্যালেন্স করে নিয়ে এসো। সৌমিক এবার জানতে চাইলো, এক কেজি, নাকি দুই কেজি কতটুকু আনবো? ছেলের কথাশুনে আমিতো যারপরনাই অবাক!!

(উল্লেখ্য, সৌমিক চুয়েটে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ এবার দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছে। সে আসলে ভেবেছিলো সাধারণ চিনির মতো দারুচিনিও হয়তো একটা চিনি। বাচ্চাদের দোষ দিয়ে কি হবে, ওদেরকে নিয়ে যদি বাজারে যাওয়া না হয় তবে ওরা বাজার করা শিখবে কি করে??)

মোট পড়েছেনঃ ৬৪৬জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২২টি মন্তব্য

  1. হা হা হা তাও ভাল প্রশ্নটা করেছিল। নইলে আপনার কিচেন দারুচিনিতে ভরে যেত। আজকাল বাচ্চাদের ঘাড়ে স্কুল আর কোচিং এর বোঝা এমনভাবে চাপিয়ে দেওয়া হয় যে তারা এর বাইরে হাতে কলমে কিছুই শেখার সুযোগ ও সময় কোনটাই পায়না।

  2. অনেক কিউট আপনার ছেলেটা। যারা খুব ইনোসেন্ট তারা কিন্তু এমনই থাকে।

    সত্যি বলতে কি সন্তান বড়ো হয়ে গেলে মায়েরাই সবচেয়ে নিঃসঙ্গতাকে সঙ্গী হিসেবে পায়। কিন্তু এমন ইনোসেন্ট টাইপ সন্তান থাকলে মায়েরা কখনো একা হয়না।

      1. অবশ্যই দোয়া আছে আপনার সন্তানদের জন্য।

        আসলে লেখাটা ভুলবশত ট্র্যাশে চলে গিয়েছিলো। আবার ফিরিয়ে এনেছি। এখন পাবেন।

    1. হাহাহা ভালো বলেছেন। মণ এর কথা জিজ্ঞেস করাটাও অস্বাভাবিক কিছু ছিলোনা। অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই যে এর দায়ভার আমাদেরই।

  3. আপু আপনি আমার কথা জানলেন কিভাবে? আমিও তো আমার আম্মুকে একই প্রশ্ন করেছিলাম :p ভাগ্য ভাল যে আমি সৌমিক নয়, তাহলে তো আপনাকে আপু ডাকতে পারতামনা 🙂
    আমি এখন অন্নেএক বুদ্ধিমান হয়েছি আপু, সব্বাই জানে এটি 🙂

  4. আবারো বলছি আপু, ছেলের বাপরে বলেন মাখে মাঝে ছেলেকে বাজারে নিয়ে যেতে সাথে যেন সে দেখে শিখে।

    শুভকামনা রইল আপু, আরো লিখুণ এই কামনা রইল।

মন্তব্য করুন