অহমিকা, দম্ভ বা ইগো প্রবলেম (৩ য় পর্ব)
পুরুষ মানুষের দম্ভঃ
কি সেই দম্ভ?
 “আমি পুরুষ” এই দম্ভ  ।
পরিবারে,  সমাজে,  দেশে সব জায়গায় তাদের একটা আলাদা আমি  “সুপিরিয়র ”  এই ভাব টি থাকে ।
আর তা হল তাদের কে প্রাধান্য দিতে হবে। সব জায়গায় তাদের নেতৃত্ব দেওয়ার একটা মনো ভাব দেখা যায়।
তবে যখন মেয়ে রা শিক্ষায় দীক্ষায় তাদের সমান হয় এবং নারী পুরুষে ভেদা ভেদ থাকে না , আইন করে জেন্ডার ইকুইলিটি পাশ হয় ,দেশের সব রকম প্রতিষ্ঠানে মেয়েদের সমান আচরণ পরিলক্ষিত হয় তখন “পুরুষ প্রাধান্য” কমতে থাকে ।
যতক্ষণ তা কমান না যায় ততক্ষণ মেয়েরা বঞ্চনার শিকার হয়।
কারন অহমিকা মানুষের চরিত্রের একটা মন্দ বৈশিষ্ট্য ।
যে কিনা ক্রমাগত ভাবে সম্পর্ক নষ্ট করে। মানুষ তার কাছ থেকে দূরে সরে যায় ।
পুরুষ মানুষের দম্ভঃ
বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পুরুষ মানুষ মনে করে তারা নারীর চেয়ে বেশি যোগ্য, বুদ্ধিমান এবং তারা একজন নারীকে  নিচু করে দেখতে পছন্দ করে এবং তা ভাবেও ।
পুরুষের  এই ভাবনা টি যুগ যুগ ধরে তাদের মধ্যে এমন ভাবে গ্রথিত হয়ে গেছে ,যা থেকে তারা বেরিয়ে আসতে পারে না। মনে প্রাণে তারা তা  ভাবে  এবং এটাই বিশ্বাস করতে থাকে যে  জন্মগত ভাবে তারা মেয়েদের চেয়ে উপরের শ্রেণীর ।
এই ভাবনাটি র  পেছনে  অনেকাংশে    দায়ি পরিবার । পরিবারে মা বাবা একটি পুত্র কে যে গুরুত্ব দিয়ে মানুষ করে তা মেয়ে টিকে করে না।
পরিবারে মনে করা হয়,  ছেলে তাদের বংশের এবং বংশ রক্ষা করে ছেলে ,  মেয়ে টি নয়।
ছেলের পড়াশুনাকে যেমন গুরুত্ব দায় মেয়ে টিকে দায় না।
ছেলে,  পরিবারে থেকে যাবে আর বংশের নৌকা টেনে নিয়ে যাবে। মেয়ে তো বিয়ে হয়ে পরের ঘরে চলে যাবে।
ছেলের সন্তান তার বংশের,  মেয়ের সন্তান নয়। এই ভুল এবং যুক্তি হীন ব্যাপার টি মানুষের মধ্যে গ্রথিত হয়ে আছে।
পুত্র কে ভিটায়  সংসার করতে দায় আর মেয়ে টি কোনও কারনে বিয়ে ভেঙ্গে গেলে সেই ভিটায়  আর জায়গা পায় না।
তাকে আবার তার ইছা থাক বা না থাক তাকে সরিয়ে দেয়ার জন্য আবার বিয়ে দাওয়ার ব্যবস্থা  করতে থাকে ।
সমাজ আর পরিবারের এই প্রচলিত প্রথা  একটা মেয়ে কে নিচু করে দেখার আর একটা পরিনাম । মেয়েটির  যেন কোনও অধিকার নায় পিতার  ঘরে থাকার । এ এক করুন প্রচলিত সমাজের  নিয়ম, আর মেয়ে হয়ে জন্মানর  করুন পরিণাম।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশ গুলিতে এই প্রচলন চালু থাকার ফলে  এই দেশ গুলিতে পুরুষ দাম্ভিকতার  আধিক্য বেশি।
চারদিকে এই প্রথা দেখতে দেখতে পুরুষ ভাবতে থাকে তাদের গুরুত্ব অনেক বেশি নারীর তুলনায় । আর এই ভাবনাটি তাকে দাম্ভিক কে  পরিণত   করে।
উন্নত দেশে উনিশ শতকে পুরুষ যা ভাবত তা থেকে বেরিয়ে এসেছে নারী পুরুষের সমতা বা জেন্ডার ইকুইলিটি আইনের মধ্যে দিয়ে ।
এখানে আইন দিয়ে তা বন্ধ করা হয়েছে। যেহেতু সেই সব দেশে “কালচারাল রেভুলেসান” হয়েছে।
এশিয়ার দেশ গুলিতে ছেলে সন্তান বেশি কাম্য মেয়ে সন্তানের চেয়ে। একটি ছেলে সন্তানের আশায় অনেক পরিবারে একটির পর একটি বাচ্চা নিতে থাকতেই থাকে ।যতক্ষণ না একটা ছেলে জন্মায় মা বারে বারে গর্ভবতী  হতে থাকে।
 যা একটা মাকে কতখানি কষ্ট দায়ক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয় তা একজন নারীই বুঝে ।  প্রেগনেন্সী  ব্যাপার টি হাতের মোয়া নয়। বাচ্চার হাতের খেলনা নয়।
এই ব্যাপার টিতে  একটা পুরুষের  কোনও ভ্রুক্ষেপ ও নাই ।কারন  সে যে পুরুষ ! সে যা ইচ্ছা তাই করতে পারে ।এই দম্ভ নিয়েই তার জন্ম । আর আছে পেশই শক্তি ।
আর যা ইচ্ছা তাই করতে পারার ক্ষমতা তাকে “পুরুষ” এই গর্ব বা  অহমিকা  নিয়ে চলার    ভূমিকা রাখে ।
  কিন্তু একটা মেয়ের ‘না’ বলার ক্ষমতা দায় নি সমাজ বা  পরিবার।
এই ভাবে প্রথা ,কালচার ,Tradition,ধর্ম একটা পুরুষকে করে দাম্ভিক ।
সম্পত্তি ভাগা ভাগি আর পুরুষের অহমিকাঃ
ইসলাম ধর্মে সম্পত্তি ভাগা ভাগী  ব্যাপার টি একটা পুরুষ কে দাম্ভিকে পরিণত করে।
 ইসলাম ধর্মেই  আছে একজন পুরুষ তার বোনের চেয়ে দ্বিগুণ সম্পত্তি পাবে ইনহেরিটেন্স হিসেবে।
পেছনের কারন মেয়েটিকে বিপদে সাহায্য করা ।
 কিন্তু সেই ব্যাখ্যা বেশির  ভাগ পুরুষ জানে না এবং তার ব্যাখ্যাও  খুঁজে না ।
বরং তারা মনে করে পুরুষ  আল্লাহ্‌র প্রিয় বান্দা। বোনটি নয়। আল্লাহ্‌ আদেশ তো মানতেই হবে।
বোনটি কষ্টে জীবন পার করুক বা  না খেয়ে থাকুক তাতে পুরুষের কিচ্ছু যায় আসে না।
 ধর্মের আদেশ তারা কে মানতে হবে।
অথচ ইসলাম ধর্মে আছে প্রতিবেশীর খোঁজ রাখতে   তারা অভাবে আছে কিনা। কিন্তু বোনের খোঁজ কজন রাখে?
ভিটা বাড়ি তে মেয়ের স্থান নাই বিয়ের পর ।
সম্পত্তিতে অর্ধেক ভাগ দিয়ে পুরুষ নিজেকে “পুরুষ উত্তম”  ভাবে।
আর এই অসম নিয়ম দিয়ে একজন পুরুষ কে করা হয় একটি মেয়ের তুলনায় শক্তিশালী ।
যা ব্যবহার করে পুরুষ ঘরে বাইরে    গৌরবে চলা ফেরা করে। নিজেকে উত্তম ভাবতে থাকে।
আমরা পুরুষ আমাদের দাবি সব জায়গায় বেশি ।এই দাম্ভিক তা তাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিরাজমান ।
পুরুষ তার ক্ষমতার অপ ব্যবহার  করে বোন কে বঞ্চিত করে।
যে দেশে পরিবারে ,সমাজে নারী পুরুষে বিভেদ বেশি সেই সমাজে,   পরিবারে শান্তি থাকতে পারে না ।
সেখানে থাকে  নারীর দীর্ঘ করুন নিঃশ্বাস ।
৩৯৩জন ৩৭৭জন

২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য