চিঠি দিও

মনির হোসেন মমি ১৮ মে ২০২৪, শনিবার, ১২:৩৪:৪৪পূর্বাহ্ন ছোটগল্প ৬ মন্তব্য

 

চলন্ত সড়কে হঠাৎ পাশ কেটে গেলো পারফিউমের একটি পরিচিত সু-ঘ্রাণ।আমচকাই ডাক দিয়ে বসলাম।
-এইযে শুনছেন?
হাতে তার একটি বড়সর ব্যাগ ছিলো,চোখে পড়েছেন লীনফ্রেমের চশমা।মেয়েটি ঘুরে দাড়াতেই দুষ্টু হাওয়া তার চুলগুলোতে সমুদ্রের ঢেউ তুলে গেলো। মুখো মুখি দুজনে। মেয়েটি উড়ন্ত শাড়ীর ঠিক করে আমাকে দেখে চমকে গেলো।
//আরে আপনাকেতো খুব চেনা চেনা লাগছে !
//হয়তো কেনো? সিউর হয়ে বলেন।হয়তো আমরা কোন এক সময়ের সহযাত্রী ছিলাম।
//হুম!মমি ?
//যাক তাহলে চিনতে পেরেছো।
//আমি মিলি।
//জানি! খুব ভালো করেই চিনি!!
মমির কণ্ঠে খুব ভালো করেই চিনি কথাটা শুনে মিলির মন বিষন্নতায় ভরে গেল।
//হাতে ব্যাগ! কোথাও যাচ্ছো নাকি?
//না-হ্যা এইতো আসলাম,,
//মানে? কোথা হতে আসলে?
// তোমার সময় হবে?
// হ্যা,তাড়া নেই।
কয়েক কদম পেরিয়ে ৴শীতলক্ষার তীরে,ওরা দূর্বা বিছানায় আরাম করে বসলো।দৃস্টি দুজনার নদীর ওপার থৈ থৈ জলের দিকে।

একটা সময় মমির জীবনে একমাত্র ভাবনাই ছিলো মিলি।মমি কলেজে পড়ত-মিলি ক্লাশ টেনের এসএসসি পরীক্ষার্থী।ক্লাশ এইট হতে ক্লাশ টেন তাদের মাঝে ছিলো দূরন্ত প্রেম।দিনে করেক বার মিলিদের বাড়ীর পাশ দিয়ে না গিয়ে৴ তাকে এক নজর দেখতে না পেলে মন আনচান করত।প্রতিটি চিঠিতে এক সপ্তাহের প্রেম করার সিডিউল ছিলো তবে দূরে কোথাও গিয়ে নয়।সেসময় বাড়ীর পাশ দিয়ে হেটে যাওয়াটাই ডেটিং ধরা হতো।মোবাইল ছিলো না বলে তাই যোগাযোগটাও ছিলো এক মাত্র চিঠি অথবা স্বশরিরে দেখা করা।প্রেমিকার বাড়ীর পাশ দিয়ে হেটে যাওয়াটাও তখন টাফ ছিলো।কেউ দেখে ফেললে বিপদ হতো।নির্ঘাত বাসায় বিচার যাবে এবং বিচার করতে রেডি হয়ে থাকবেন মা বাবা কিংবা বড় ভাই।এখনকার মত ইচ্ছে করলেই সহজে দেখা করা কিংবা মোবাইলে ভিডিও চ্যাট করা সম্ভব ছিলো না।তাছাড়া ছেলে মেয়ে বড় হলেই বাড়ীর আশপাশের সবার নজরে লাগতো-আরে ওটা ওমুকের মাইয়া না? আর পাড়ায় মহল্লায় ছেলেদের যদি ঘুরাঘুরি করতে দেখতো তাহলে বলতো-নাহ্ ওমুকের পোলাডা আর ভালা হইলো না।তখন সমাজে মানুষের সংখ্যা ছিলো নগণ্য সবায় সবাইকে চিনতো।

//মনে আছে তোমার?
//কি?
//চিঠির কথা।দিনে পাচটা চিঠি হাতে না পেলে এই নদীর জলে ডুবে মরবে বলেছিলে!
//হ্যা,খুব মনে পড়ছে।
//একদিন তোমাদের কলপাড়ে গিয়ে চিঠি খুলতেই দুলা ভাই দেখে ফেলবে ভেবে পাচ পিষ্টার পুরো চিঠিটাই তুমি গলাদ্ধকরন করেছিলে মনে আছে? দম আটকে যাবার অবস্থায়- চাপ কল চেপে জল পান করতে হয়েছিলো তাই না?
//হুম।
//তখন আমার এসব কথা শুনে হাসি পেয়েছিলো।
//আর আমার মনে ভয় ঢুকেছিলো ৴না জানি দুলা ভাই দেখে ফেললো নাকি!

//আরেক দিন,

শেষ বিদায়ের দিন!তোমার চোখ জলে টই টই।আমার নিজের বানানো ভাঙ্গা টেনডাস্টারে বেজে উঠল পাখি রে উড়ে যা এখান থেকে বহু দূরে,,,গানটি। মুহুর্তে তুমি মুখচেপে ক্রন্দনরত!!বিদায়ের বেদনা সহ্য করার ক্ষমতা হারিয়ে মুখের ভেতরে ঢুকিয়েছিলাম অগণিত ঘুমের বড়ি!! ঘুম ভাঙ্গল একরাত একদিন পর ততক্ষণে দুটি জীবনের মোর দুদিকে।এখনো মনে পড়ে সেদিনের কথা এখনো তবে শিহরণ জাগে না মনে আগের সেই প্রেম প্রীতি ভালবাসা।
//তুমিতো বেচে গেলে ভুলে না যাওয়া স্মৃতিগুলো ভুলে!আমিতো পারছি না? তুমি যখনই চিঠিতে ডেটিং এর ডেট-সময় লিখে দিতে তখন৴ সেদিন আমাকে বেদের মেয়ে জোসনা সাজঁতে হতো।এখন সে সব কথা মনে পড়লে খুব হাসি পায় নিজেকে পাগল পাগল বলে মনে হয়।
//আমার তেমনটি মনে হয় না। ভেতরটা মুচকে উঠে এক অজানা ব্যাথায়।
//বিয়ে করোনি?
//হৃদয় যে ক্ষত বিক্ষত ছিলো!! তুমি?
//এ সমাজে নারীর কি আর সাধ্য আছে বিয়ে না করে সমাজে বাসকরার।আইবুড়ি উপদাদি দিতে হাজার জন রেডি!
//বেশ তাহলেতো সুখেই আছো।
//হুম খুব সুখে! শুধু অশ্রুজলে বালিশ ভিজে।কাউকে কস্ট দিয়ে সুখ পাওয়া যায় না।ভুলটা আমারই ছিলো! তাইতো এতো কস্ট পাই পাচ্ছি।
//আমারইবা কম  কি ভুল ছিলো?

দুজনার মনে আবারো এক ফালি বিরহের দীর্ঘশ্বাস।পাওয়া না পাওয়ার স্মৃতি চারণে মন ভেসে বেড়ায় অতীত মহলে।দূরে অস্তিমিত সূর্যের গোধূলী রংয়ের স্পস্ট ছায়া নদীর জলে ঢেউয়ের তালে তালে দোলছে।সেদিকে তাকিয়ে ভীষন্ন মিলির মন কত কিছুইনা আজ ভাবছে।

//গোধুলীটা কত সুন্দর! তাই না?
//হুম-তবে মনে শিহরণ জাগে না।হয়তো অতি সুখে কারত হয়ে মন  ভাটায় পড়েছে।
//জোয়ারে ফেরা যায় না?
//মরা নদীতে কখনো জোয়ার আসে না।

ক্ষণিক নীরবতা৴৴৴৴৴

//চলো এবার ফেরা যাক।

//আরো একটু বসোনা ?

//না,সময় বলছে যেতে হবে।

চিঠি দিও,,,, //চিঠি চিঠি,, প্রকট কন্ঠে বলছেন কেউ একজন।তন্দ্রাচোখ খুলে দেখেন৴ দরজার ওপাশ হতে গান ভেসে আসছে,,,চিঠি দিও প্রতিদিন চিঠি দিও।

 

৪৭জন ৪৭জন
0 Shares

৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ