যাযাবরের ডায়রী (৩)

হৃদয়ের স্পন্দন ২৩ অক্টোবর ২০১৪, বৃহস্পতিবার, ১০:০১:১১অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২০ মন্তব্য

বেশ কয়েকদিন কেটে গেলো, অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম, ছোটো কাল থেকেই আমার বাতজ্বর, বড় হবার সাথে সাথে ঝেকে ধরলো মাইগ্রেন আর সাইনাস, বয়স সবে চব্বিশ, খুব একটা তো পরে এখনো যৌবনের অর্ধেক আমার দেখা হয়নি, আমি এভাবেই দিন কাটাচ্ছিলাম, মা নাই, বাবার অতি টাকায় নষ্ট হওয়া সেই ছেলেটা, অসুস্থতার জন্য বেশ কদিন  ছাদে যাওয়া হয়নি আমার, জানিনা মেয়েটা আসে কিনা, হয়তো মেয়েটা আমার জন্য অপেক্ষা করে, আর নয়, ছাদে আজ যেতেই হবে যদিও খুড়িয়ে খুড়িয়ে ও হাটতে পারিনা, ক্রাচে ভর করতে হয়, সেদিন প্রচুর গাজা খেয়েছিলাম, নিজের হাত কেটে রক্ত মিশিয়েছি গাজার সাথে, তারপর শুকিয়ে তা সিগেরেট ফিল্টারে ভরে খেয়েছি, খুব নেশা হয়েছিলো সেদিন, সিড়ি দিয়ে নামার সময় পড়ে যাই, আর বা পায়ের মেরুদণ্ডে আঘাত প্রাপ্ত হই আমি, অপারেশন হলো , ডাক্তার বলেছে রেষ্টে থাকতে, কিন্তু পারছিনা, আজ দু তলা থেকে ৬ তলায় একাই উঠতে হবে আবার নামতে হবে আর তার জন্য আমাকে ক্রাচ সাহাজ্য করবে, বাবা বেশ কয়েকদিন ছুটি নিয়েছিলো এখন বাবা বাসায় নাই, গতকাল ই তার ছুটি শেষ হয়েছে আজ থেকে তিনি অফিসে, কিন্তু আমি কার জন্য ছাদে যাব? সেই মেয়েটি আসে কিনা সেটা দেখতে? নাকি আমি জানি মেয়েটি আসবেই রোজ একবার সে জন্য? নাকি আমি মেয়েটিকে ভালোবেসে ফেলেছি এ জন্য, নাহ তার কিছুই না আমি ছাদে যাবো আমার শিকার ঠিক আছে কিনা সেটা দেখার জন্য, আমাকে আত্বঘাতি হতে হবে, আমার আত্বহত্যা করতে হবে, আর তার জন্য সাহস প্রয়োজন, মানুষ মারবো অবশ্য নিজেকেই মেরে ফেলা যায় কিন্তু আমি সম্ভবত মানুষ নই, যদি মানুষ হতাম তাহলে নিজেই আত্বহত্যা করতে পারতাম, আমি পারছিনা, আর তাছাড়া ঘরে কোথাও গাজার একটু ভাং ও নাই, বাবা সব ফেলে দিয়েছেন, আমাকে কিছু বলেন নি উনি, বাবা বুঝতে পেরেছেন মা হারা ছেলেটা এখন গাজা খায়, কবে যেন বিয়ে করে বউ নিয়ে আসেন আর আমাকে তাজ্য করে দেন সে চিন্তায় আছি, যাই হোক বাবা হয়তো সে সময় পাবেন না, আমি তার আগেই দুনিয়া ছেড়ে চলে যাবো, একা নই মিনিমাম দুজন কে সাথে করে নিয়ে যাবো, একটা হত্যা করে সাহস পুরো টা হবে কিনা সে ব্যাপারে আমি সন্দিহান আছি এখনো, এসব ভাবার অবকাশ আর নেই, উঠে দাড়ালাম আমি, ছাদে যাবো, ক্রাচে ভর দিয়ে এক পা এক পা করে উঠে চলেছি আমি, ক্রাচে ভর দিয়ে নিজের বা পা নয় মনে হচ্ছে ১০০০ কেজির কোনো পাথড় উঠাচ্ছি আমি, ৪ তালায় উঠেছি, আর উঠার মত শক্তি  আমার নেই, কিছুক্ষন বিশ্রাম নেওয়া যাক, তারপর যাবো, হাত ঘড়িতে সময় দেখে নিলাম আমি ৪.৩৮ , খুব বেশি একটা সময় না, ধীরে ধোরে ক্লান্ত৬ শরীর আর অসুস্থতা ভর করে ছাদে উঠলাম আমি, তাকালাম ঠিক সেই কোনে, ছাদের ওপাশে, যেখানে সে থাকে। নাহ আজ নাই

অদ্ভুত এক  বিষন্নতা আর খারাপ লাগা বোধ কাজ করা শুরু করলো আমার মাঝে, সেটা কিসের জন্য আমি জানিনা, আমার খুনের স্বিকার হাতছাড়া হয়ে গেলো সেই আশঙ্কায় নাকি ভালোবাসায়, আচ্ছা আমি কি মেয়েটিকে ভালবাসতে শুরু করেছি? নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করতে করতে ফিরে এলাম ঘরে

বাবা আসার সময় হয়েছে

৩৯৬জন ৩৯৬জন
0 Shares

২০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ