সদ্য সমাপ্ত বৃটেনের সাধারণ নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন তিন জন বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত নারী।এই জয়ে বাংলাদেশের সবাই অত্যন্ত আনন্দিত এবং গর্বিত।এই তিনজন নারী আমাদেরকে দেখিয়ে দিয়েছেন ভিন দেশে প্রতিযোগিতায় নিজ যোগ্যতায় আমরাও জয়ী হতে পারি। ২০১০ এর নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন রুশনারা.২০১৫ এর নির্বাচনে আরো দুজন উৎসাহী হয়ে প্রার্থী হয়েছেন এবং নির্বাচিত হয়েছেন। ভবিষ্যতে বৃটেন সহ অন্য দেশের রাজনীতিতে বাঙ্গালীর অংশ গ্রহন এই তিনজন প্রেরণা হয়ে থাকবেন।
টানা দ্বিতীয়বারের মতো ব্রিটেনের এমপি নির্বাচিত হলেন রুশনারা আলি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ২৪ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসন থেকে তিনি নির্বাচিত হন।
রুশনারা আলি লেবার পার্টির পক্ষে ৩২৮৮৭ ভোটে পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ পার্টির ম্যাথিউ স্মিথ পেয়েছেন ৮ হাজার ৭০ ভোট। ২০১০ এর নির্বাচনে সাড়ে ১১ হাজার ভোটে জয়ী রুশনারা এবার ব্যবধান দ্বিগুণ করলেন।
সিলেটের বিশ্বনাথে ১৯৭৫ সালে জন্ম নেওয়া রুশনারা মাত্র সাত বছর বয়সে বাবা-মার সঙ্গে লন্ডনে পাড়ি জমান। ২০১০ সালে প্রথম বাঙালি হিসেবে তিনি ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন।
প্রতিবাদী এবং নীতির প্রশ্নে আপোষহীন ৪০ বছর বয়সী এই পার্লামেন্টারিয়ান লেবার পার্টির হয়ে শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক শ্যাডো মিনিস্টারের দায়িত্বে ছিলেন। গত সেপ্টেম্বরে ইরাকে সামরিক হামলায় সংসদে লেবার পার্টি সমর্থন দেওয়ায় রুশনারা শ্যাডো মিনিস্টারের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এছাড়া পার্লামেন্টারি ট্রেজারি সিলেক্ট কমিটির সদস্য হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।
দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে ডিগ্রিধারী রুশনারা পরামর্শক সংস্থা ইয়ং ফাউন্ডেশনের একজন সহযোগী পরিচালক। আপরাইজিং নামের একটি দাতব্য সংগঠনেরও নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।
টিউলিপ সিদ্দিক লেবার পার্টি থেকে মোট ২৩ হাজার ৯৭৭ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ পার্টির সায়মন মার্কাস পেয়েছেন ২২ হাজার ৮৩৯ ভোট।
২০১০ সালের নির্বাচনে এ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে লেবার পার্টিকে ৪২ ভোটের জয় এনে দিয়েছিলেন অভিনেত্রী গ্লেন্ডা জ্যাকসন। তিনি অবসরে যাওয়ায় এবার দলের মনোনয়ন পান তরুণ রাজনীতিবিদ টিউলিপ সিদ্দিক।
বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানা মেয়ে টিউলিপ লন্ডনের মিচামে জন্মগ্রহণ করেন। তার শৈশব কেটেছে বাংলাদেশ, ভারত এবং সিঙ্গাপুরে। ১৫ বছর বয়স থেকে তিনি হ্যাম্পস্ট্যাড অ্যান্ড কিলবার্নে বসবাস করছেন। এই এলাকায় স্কুলে পড়েছেন ও কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। লন্ডনের কিংস কলেজ থেকে পলিটিক্স, পলিসি ও গভর্মেন্ট বিষয়ে তার স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে।
মাত্র ১৬ বছর বয়সে লেবার পার্টির সদস্য হওয়া টিউলিপ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গ্রেটার লন্ডন অথরিটি এবং সেইভ দ্য চিলড্রেনের সঙ্গেও কাজ করেছেন।
২০১০ সালে ক্যামডেন কাউন্সিলে প্রথম বাঙালি নারী কাউন্সিলর নির্বাচিত হন তিনি।
তীব্ল লড়াইয়ের পর ২৭৪ ভোটের ব্যবধানে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন বাংলাদেশি বাংশোদ্ভূত রুপা হক। ৪৩ বছর বয়সী রুপা ব্রিটিশ পার্লামেন্টে উত্তর-পশ্চিম লন্ডনের ইলিং সেন্ট্রাল অ্যান্ড অ্যাকটন আসনের প্রতিনিধিত্ব করবেন। তিনি পেয়েছেন ২২ হাজার ২ ভোট। আর ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির প্রার্থী এনজি ব্রে পেয়েছেন ২১ হাজার ৭০১ ভোট। লেবার পার্টির জন্য এ আসনটি পুনরুদ্ধার করার পথে রুপা হক পেয়েছেন ৪৩ দশমিক ২ শতাংশ ভোট। প্রায় ৭০ হাজার ভোটারের এই আসনে ২০১০ সালের নির্বাচনে লেবার প্রার্থীকে হারতে হয়েছিল ৩ হাজার ৭১৬ ভোটের ব্যবধানে। সেই ফল উল্টে দেওয়ার কঠিন কাজটিই করেছেন ড. রুপা।
রুপা হক কেমব্রিজে পড়েছেন রাজনীতি, সামাজিক বিজ্ঞান ও আইন। আর কিংস্টন ইউনিভার্সিটিতে এতোদিন পড়িয়েছেন সমাজ বিজ্ঞান, অপরাধ বিজ্ঞান, গণমাধ্যম ও সংস্কৃতি অধ্যায়নের মতো বিষয়। এর আগে ডেপুটি মেয়র হিসাবে স্থানীয় সরকারেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
১৯৭২ সালে ইলিংয়ে জন্ম নেওয়া রুপা হক ১৯৯১ সালে লেবার পার্টির সদস্য হন। তিনি একাধারে লেখক, মিউজিক ডিজে, কলামনিস্ট হিসাবে পরিচিত। আর তার ছোট বোন কনি হক বিবিসির ব্লু পিটার শো উপস্থাপনার কল্যাণে ব্রিটিশদের কাছে খুবই পরিচিত মুখ। এর আগে ২০০৫ সালের নির্বাচনে চেশাম ও এমারশাম আসন থেকে লেবার পার্টির মনোনয়ন পেলেও নির্বাচিত হতে পারেননি রুপা। এছাড়া ২০০৪ সালে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে নির্বাচনেও প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি।
আমরা গর্বিত বৃটেনের পার্লামেন্টে নির্বাচিত এই তিনজন এমপির জন্য।এনাদের ধমনীতে বাঙ্গালী রক্ত প্রবাহিত।
লেখার সূত্র : দেশে বিদেশে পত্রিকা
১৬টি মন্তব্য
স্বপ্ন নীলা
স্যালুট জানাচ্ছি তাদের যাদের শেকড় রয়েছে এই বাংলাদেশেই
আশা জাগানিয়া
আমরা তাঁদের নিয়ে গর্বিত।এনাদেরকে দেখে প্রবাসের অনেক বাঙ্গালী উৎসাহিত হবেন আশাকরি।
ব্লগার সজীব
আমরা গর্বিত এনাদের জন্য।বৃটেনে বাঙ্গালী নারী নেতৃত্তের পথিকৃৎ হবেন এনারাই।
আশা জাগানিয়া
অন্যন্য দেশে বসবাসকারী বাঙ্গালীরাও রাজনীতিতে উৎসাহিত হবেন।
শুন্য শুন্যালয়
এমন খবরে মন আনন্দে ভরে যায়। বাংলাদেশের পতাকা আরেকটু উঁচুতে তুলে নিয়ে যাবার জন্য স্যালুট বাংলাদেশী বীর কন্যাদের।
আশা জাগানিয়ার পোস্টে আশা জেগে উঠছে 🙂
আশা জাগানিয়া
বৃটেনের নির্বাচনে মোট ২৫ জন ভিনদেশের বংশদ্ভুত নির্বাচিত হয়েছেন।এর মধ্যে আমাদেরই ৩ জন 🙂
জিসান শা ইকরাম
শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন এই তিন নারীকে।
বাংলাদেশের পরিচিতি বৃদ্ধি পাবে এতে।
আশা জাগানিয়া
আমরা গর্বিত।
স্বপ্ন
একসময় বৃটিশরা আমাদের শাসন করতো।অদুর ভবিষ্যতে হয়ত একদিন আমরা তাঁদের শাসন করবো।এই ত্রিরত্নের জন্য গর্বিত আমরা।
আশা জাগানিয়া
অন্তত তিন জন এমপির এলাকায় তো আমাদের শাসন এখন 🙂
খেয়ালী মেয়ে
অভিনন্দন এই তিন বিজয়ীকে -{@
আশা জাগানিয়া
আমরা সবাই অভিনন্দন জানাই।
লীলাবতী
বাংলাদেশের নারী বৃটেনের এমপি।আনন্দ লাগছে খুব।
আশা জাগানিয়া
আমাদের সবার আনন্দ এতে।
ছাইরাছ হেলাল
এটি আমাদেরই গৌরবের অংশ।
আশা জাগানিয়া
হ্যা ভাইয়া এটি আমাদেরই গৌরবের অংশ।