বুদ্ধিমতি মা মণি

মনির হোসেন মমি ৮ জুন ২০১৬, বুধবার, ০৬:১০:৫২অপরাহ্ন গল্প, সাহিত্য ১৮ মন্তব্য

;;;l;সোনা মণির স্কুল ছুটি হবে তাই অফিস থেকে তাড়া হুড়া করে বের হলেন পলাশ সাহেব।একটি রিক্সা করে চলছেন স্কুলটির দিকে,কিছু দূর যাওয়ার পর জ্যামে পড়ল রিক্সাটি।চিন্তিত পলাশ সাহেব সেখানেই রিক্সা ছেড়ে দিয়ে পায়ে হেটে চললেন,দীর্ঘ পথের জ্যাম পেরিয়ে আবারো আরেক রিক্সায় উঠলেন।কিছু দূর যাবার পর এই রিক্সাটির চাকা পান্চার হলো।বেচারা পলাশ সাহেব নিজের ভাগ্যকে দোষলেন এবং রিক্সাটির ভাড়া দিয়ে আবারো হেটে চললেন।গন্তব্যে পৌছতে তত ক্ষনে স্কুল ছুটি হয়ে যায়।
চৈত্রের দুপুরে ঘামে ভেজা শরিরে তৃষ্ণার্থ মনে স্কুলে ঢুকে সব ফাকা দেখে দাড়োয়ানকে জিজ্ঞাসা করলেন।
-কত ক্ষণ হলো ছুটি হয়েছে?
-এইতো বিশ পচিশ মিনিট হবে।মানি ব্যাগে রাখা মেয়ের ছবিটি দেখিয়ে আবারো তাকে জিজ্ঞাসা করলেন।
-এই যে এই মেয়েটিকে দেখেছেন?
-না ভাই ঠিক চিনতে পারছি না, তবে একটি মেয়ে এই গেইটে অনেকক্ষণ দাড়িয়ে ছিল।
-তারপর!
-তারপর এক বোরকা পড়া মহিলা এসে তাকে নিয়ে যায়।
-কি করে নিয়ে গেছে মানে টেক্সি কিংবা….?
-না,রিক্সা করে…।
মাথাটা চক্কর খেলো বোরকা পড়া মহিলা কে সে!চিন্তিত পলাশ সাহেবের ঐদিকে তার সহধর্মিনী একের পর এক মোবাইলে ফোন দিয়ে যাচ্ছেন বৈকাল হয়ে এলো এখনো মেয়ের কোন খোজ নেই……
-আমি কি বসে আছি বলো?তোমার কথা শুনে মনে হচ্ছে মেয়েটা তোমার একার,তোমার কষ্ট হয় আমার হয় না বুঝি….বলেই পলাশ মোবাইলের লাইনটা কেটে দিল,কেটে দিয়েও মনে আবার সহানুভূতি এলো তার প্রতি…হাজার হলেওতো মায়ের মন তো।

ঋতু সোনা মণি বোরকা একটি অপরিচিত মহিলার সাথে আইসক্রিম খেতে খেতে রিক্সা চড়ে যাচ্ছেন হঠাৎ ঋতুর চোখে পড়ল চটপটির দোকান।রিক্সাওয়াালাকে এক ধমক দিলেন থামতে তবে অসন্মান করেননি।
-এ এ চাচ্চু থামাওতো….।
বড়কা পড়া মহিলাটি এ দিক সে  দিক তাকিয়ে
-এই কি করছো,পরে খাবে এখন চলো
-না,আমি এখোনি খাবো নতুবা কাদবো…
-না না কান্নার দরকার নেই,,,ঐ তাড়া তাড়ি করে এক প্লেট চটপটি দে,চটপটিওলা অন্য জনকে  চটপটি বানিয়ে দিচ্ছেন দেরি দেখে তার রাগ এসে যায় সে এবার বকা দিয়ে তাড়া তাড়ি দিতে বলাতে ঋতু তার উপর রাগ করেন।
-আংটি তুমি চটপটি চাচ্চুকে এ ভাবে ধমক দিয়ে বলছো কেনো,দেখছো না সে কাজ করছে।চটপটিওলার  বয়স কম হলেও পয়তাল্লিশের মতো মেয়েটির এমন মায়াবী বিচক্ষন কথা শুনে সে ঋতুর মাথায় হাত বুলিয়ে,….মা তোমাকে এক্ষুনি দিচ্ছি….।মনের তৃপ্তি মিটিয়ে চটপটি খাচ্ছে ঋতু,এ দিকে তার পিতা টেক্সি করে হন্নে হয়ে খোজছেন তাকে।ট্রাফিক জ্যামে পলাশ সাহেব লক্ষ্য করলেন আফছা আফছা দুরে এক চটপটি স্টলে তারই মেয়ের মতো কেউ একজন চটপটি খাচ্ছে,উপায় নেই এই জ্যাম থেকে বেরুতে বিরক্তি ভাব নিয়ে কিছু সময় মেয়েটির দিকে চোখ রাখলেন অবশেষে টেক্সি জ্যামে রেখেই পায়ে হেটে ছুটে চলছেন।
ব্যাস্ত রাস্তা পারা পারে তাকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে,তার সম্মুখ দিয়ে এক পঙ্গু ভিক্ষেরি;পা দুটো সরু বলে তাতে বল পায় না হাটতে তাই বসে খুড়ে খুড়ে হেটে যাওয়ার অভ্যাস  তার।ঋতুর পিতা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন তার পথ পারাপারে কৌশলের দিকে,,,,চলন্ত গাড়ীর ব্যাস্ত রাস্তা পাড় হলেন নিশ্চিন্তে হেচড়ে হেটে হেটে অথচ পলাশ সাহেব পরিপূর্ণ সুস্থ্য দেহ বলে একবার পাড় হন  দু পা এগিয়ে গাড়ীর স্প্রিড দেখে তিন পা পিছু হটেন।অনেক চেষ্টা করেও রাস্তা পাড় হতে পারছেন না,অবশেষে সেও ভিখেরীর পথ অবলম্বন  করলেন।ভিখেরির কায়দায় পঙ্গু সেজে বসে বসে ধুলি বালিতে হামাগুড়ি দিয়ে কিছু দূর যেতে আগত গাড়ীর স্প্রিড দেখে ভয়ে উঠে  দাড়িয়ে নিজেকে বেগ করেন স্ব-স্থানেই।
এক সময়  ট্রাফিক সিগনাল পড়লে সে  পাড়  হয়ে  সেই দিকে তাকিয়ে অবাক হন!চারদিকে নজর ছুড়েন,তার মেয়েতো দুরে থাক সেই ভ্রাম্মমান চটপটিওয়ালাকেও দেখতে পেলেন না সে।ফিরে যান নিজ  গাড়ীর  দিকে সেখানেও গিয়ে দেখেন সব  ফাকা।লোক মুখে জানতে  পারলেন  কিছুক্ষণ আগে একটি রেকার  কার এসে গাড়ীটিকে উঠিয়ে নিয়ে গেছেন থানায়।

ঋতুকে একটি প্রাভেট কারের দিকে দাড়  করিয়ে বোরকাওলা মেয়েটি কারে বসা দুজন লোকের সাথে কথা বললেন।ঋতুকে বসতে বললেন কারটিতে ঋতু এরই মধ্যে কারের নম্বরটি মুখস্থ করে ফেলেছে।ততক্ষনে আইক্রীমে মেশানো আশক্ত জীবানুর কার্যকারিতা কমে গেছে সে বুঝতে পারল তাকে ছেলে ধরা লোকেরা ধরেছে।এখন সে বুঝতে পারছে তার জন্য তার মা বাবা কত চিন্তাই না করছেন বেলা যে অনেক হল।তাকে প্রাইভেটে দুজন ভদ্রলোকের কাছে দিয়ে প্রস্থান নিল বোরকা পড়া মেয়েটি।প্রাইভেটে চুপ চাপ বসে দুজন ভদ্র লোককে বললো….আংকেল আমি ইস দিবো।মানে বুঝতে না পেরে একজন আরেকজনকে জিজ্ঞাসা করল।
-মানে কি?
-প্রস্রাব করবে,
-ঠিক আছে এই একটু পরেই তোমাকে বাথ রুমে নিয়ে যাব।গাড়ী ছুটছে  দ্রুত গতিতে
তন্দ্রা আসছে তার চোখে ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে আবারো বলছে ইসস এর কথা।অবশেষে  গাড়ীটি এক প্রাইভেট হাসপাতালের  সম্মুখে পার্কিং করে একজন তাকে নিয়ে চললেন হাসপাতালে টয়লেটে।ঋতু টয়লেটে ঢুকে কাধে রাখা বই খাতার ব্যাগটি খুলে সেখান হতে সদ্য জন্ম দিনে গিফট পাওয়া মোবাইলটি বের করে পুলিশ আংকেলের নম্বরটি টিপল বলা বাহুল্য ঋতুর কাকা একজন পুলিশের এস আই।
-হেলো?
-কে?
-আংকেল আমি…আমি ঋতু।
-ঋতু!তুমি কই মা মণি  তোমার জন্য আমরা সবাই অস্থির।তুমি কেমন আছো মা মণি?
-আমি এখনো ভাল আছি,
-মানে?
-মানে আমাকে ছেলে ধরা লোকেরা প্র্রাইভেট কারে কোথায় যেন নিয়ে যাচ্ছে আর  আমি এখন জনতা হাসপাতালের টয়লেটে…..গাড়ীর নম্বরটি লিখো….ঢাকা-ঠ ০১১-৬৬৬।ঠিক আছে রাখি।
-না না আমি ফোন করছি আবার তুমি ফোনটি রিসিভ করে ব্যাগের ভিতরে রেখে দিও,আমি ওদের কথাগুলো শুনবো আর তুমি কোন চিন্তা করো আমরা আসছি।ঠিক আছে?
সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালটির কাছে শহরের সিসি ক্যামেরাগুলোকে চেক করে গাড়ীটি খুজে বের করতে অধীনেস্থদের অর্ডার দিলেন এবং অতপরঃ জনতা হাসপাতালের নিকটস্থ থানাতে ফোন করে গাড়ীর নম্বরটি দিলেন এবং ফলো করতে বলা হলো পুলিশের একটি বিশেষ টিমকে।

ঋতুর  মা বাবাকে সব বিস্তারিত জানালো এবং বলল তাদেরকে থানায় আসতে মেয়ের সাহসীকতার লাইভ দেখাবেন।
পুলিশের বিশেষ টিম গাড়ীটিকে খুজে পেল ঐহাসপাতাল থেকেই সিভিলে গাড়ীটিকে ফলো করতে থাকলো।মেয়েটি গাড়ীতে আড্ডা জমালো লোক দুটোর সাথে যাতে তারা বুঝতে না পারেন তাদেরকে কেউ ফলো করছেন।এমন আড্ডা দুজন লোকতো হাসছেই সাথেও সেও….।
-তুমিতো খুব সুন্দর করে কথা বলো,কি নাম তোমার।
-ঋতু,
-কোন ক্লাশে পড়?
-এবার ক্লাশ ফাইভে ফাইনাল দিবো।
-বেশ ফাইন,
-আচ্ছা আংকেল তোমরা কি কাজ করো?
-এইতো…ব্যাবসা।
-ভাল ব্যাবসা না মন্দ ব্যাবসা
-ব্যাবসাতো ব্যাবসাই এখানে ভাল মন্দ কি আছে,
-আছে,তোমরা কি নিজামউদ্দিন আওলীয়ার নাম শুননি তার বেহস্থ পাবার গল্প শুনোনি,সেতো ডাকাত ছিল মানুষ খুন করত,খুন করা মহা পাপ যখন বুঝতে পারল এবং জিজ্ঞাসাবাদে এর দায় তার পরিবারের কেউ নেবেন না তখন সে বুঝতে পারলেন দুনিতে যার যার কর্মফল আখেরাতে সে সেই ভোগ করবেন।তখন সে ডাকাতি খুনখারাপি ছেড়ে ভাল হয়ে সঠিক পথে কঠোর সাধনায় মগ্ন হলেন।
তোমরা যদি খারাপ ব্যাবসা করো তবেতো এর দায় ভার তোমাদেরই বহন করতে হবে।তাই না চাচ্চুারা?
ওরা অবাক হল বলে কি পিচ্চি মেয়েটি,কোথায় সে কান্নাকাটি করবে তা না করে ওল্টো সে আমাদেরকেই জ্ঞান দিচ্ছে।তবে মেয়েটির কথা ফেলবার  নয় ভাববার অনেক কিছু আছে তাদের মধ্যে এক জনতো বলেই ফেলল তার সহকর্মিকে
-এটাই শেষ এই টিপটা  দিতে পারলে এ পাপ পথে টাকা রোজগার করা ছেড়ে দিবেন।ঋতু তাদের  ফিস ফাস বুঝতে পারল অতপর
-কিসের টিপ চাচ্চুরা?
-না ঐ কাচা মালের টিপ।…..ড্রাইভারকে টানিং নিয়ে দশ নম্বর গলির একটি পরিত্যাক্ত বিডিং রসিদ ভবনে যেতে বললেন।বুঝতে পারলেন ঋতু,এখানে সে একা নয় আরো শিশুরা মনে হয় আছে।সে আবারো প্রশ্ন করছেন।
-আমরা কোথায় যাচ্ছি?
-ঐতো ঐ বিল্ডিংয়ে আন্ডারগ্রাউন্ডে তোমার মা বাবা দুজনেই তোমার জন্য অপেক্ষা করছেন।ঋতু বুঝতে  পারল সবই ভূয়া মিথ্যে।

থানায় পলাশ সাহেবের মোবাইলে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে  ফোন এলো।তাড়াহুড়া করে ফোনটি ধরেন পলাশ  সাহেব।
-হেলো…হেলো…..নগদ ১০লক্ষ টাকা নিয়ে এলেই ফিরে পাবেন আপনার  মেয়েকে নতুবা আগামীকাল ভোরে মেয়ে আপনার  বিদেশ পাড়ি দিবেন তখন মেয়েকে পাওয়া মুশকিল হবে।
-মেয়ে কোথায়?ওকে একটু দিন……
-কিছুক্ষণ পর আবার ফোন করব তখন সিদ্ধান্ত জানাবেন এবং মেয়ের সাথেও  কথা বলবেনন।বলে ফোনের লাইনটি কেটে দিলেন।

ফোনের লাইনগুলোকে তাদের টেকনোলজির সাথে সংযোগ করতে বললেন যাতে পরবর্তীতে ফোন আসলে তা সহজেইই নির্ধারন করতে পারেন,কোথা হতে কে বা কারা চক্রের সাথে জড়িত।এ দিকে অস্থির মেয়ের বাবা পলাশ সাহেব সে বার  বার তার ছোট ভাই এস আইকে জিজ্ঞাসা করছেন।
-ঋতুর কোন ক্ষতি হবে নাতো?
-না কিচ্ছু হবে না ওর,আমাদের ফোর্স ওর গাড়ীর পিছু পিছু আছে,সিভিলে।তাছাড়া ঋতুতো অনেক সাহসী মেয়ে সে নিজেইতো বলেছে চাচ্চু ওরা একটি ছেলে ধরা চক্র ওদের ধরতে হবে নতুবা সে কখন পালিয়ে যেতো…সেই সুযোগও তার ছিল।তোমাদের চিন্তা করতে না করেছে।দুজনের চোখে জল…প্রার্থনা  কেবল স্রষ্টার কাছে।

ঋতুর প্রাইভেট কারটি এবার টানিং নিয়ে একটি পুরাতন প্রোজেক্টের ভিতর ঢুকে গেল।প্রাভেট থেকে ঋতু নেমে দুরে চার দিক তাকালো দেখার চেষ্টা করল পুলিশের কোন আনাগোনা দেখা যায় কি না।হ্যা লক্ষ্য করল একটু দুরে বেশ কিছু গাড়ী পর পর এসে থামল এবং লম্বা লম্বা প্রায় দশ বারো জন গাড়ী থেকে নামল।
লোক দুটো তাকে হাটতে বললো…ব্যাগটি কাধে নিয়ে নেমে পড়লো তাদের সাথে হাটতে।বিল্ডিংটির গ্রাউন্ডফ্লোর বেশ অন্ধকার টচ্ লাইট ছাড়া তেমন কিছুই দেখা যায় না।।
-এখন কোথায় যাবো….?এখানে এতো অন্ধকার!কিছুইতো দেখা যায় না।
ঐদিকে পুলিশ  ঋতুর মোবাইলের কথাগুলো ফলো করছেন প্রথম থেকেই,অন্ধকারের কথা শুনে তারাও আলোর  ব্যাবস্থা করেন।লোকটি টচ মেরে আলো দিয়ে এগিয়ে যান আরো ঘণিভূত অন্ধকারের দিকে।
এতক্ষণ ঋতু ভয় না পেলেও এবার কিছুটা ভয় পাচ্ছে সে, আরো ভয় পেয়ে চমকে গেলেন যখন প্রায় দশ পনের জন তার সমবয়সী ছোট বড় শিশু কিশোরদের অমানবিক বন্দী জীবন দেখল।তাদের পাশ দিয়ে যেতেই চোখে পড়ল এক আট দশ বছরের বালকের দুটি পায়ের হাটুর নীচ পর্যন্ত নেই তার অগ্রভাগ বেন্ডিস করা।একটি পায়ের বেন্ডিসের উপর  দিয়ে ঘা পেকে রক্ত পুচ পড়ছে।আহত ছেলেটির নিকট থমকে দাড়াল।
-কি ভাবে হলো এমন অবস্থা তোমার।
ছেলেটির চোখ বেয়ে অনবরত জল প্রবাহিত হয়ে গাল বেয়ে গালে ক্ষতের চিহ্ন দেখতে পেল সে।ভুক্ত ভোগি স্বল্প পরিষরে ঘটনা বলার চেষ্টা করল এখানকার লোকেরা তার দুটি পা কেটে দিয়েছেন,’ঘা শুখালে কোন এক শহরে ভিক্ষা করতে পাঠাবেন বলে।তার মতো আরো অনেকের কারো চোখ কারো হাত কারো বা হাত পা দুটোই কেটে ভিক্ষের জন্য তৈরী করছেন বা করেন এখানে একদল অসাধু ব্যাবসায়ী।
দম বন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম এরই অন্য এক লোক এসে ঋতুকে ধমক  দিয়ে হাত ধরে টানতে টানতে ভিতরে দিকে নিয়ে যাচ্ছেন।ঋতু এবার ভয় পেয়ে চোখের জল ছাড়ল এবং ভাবতে লাগল এখানে স্ব-ইচ্ছে এসে কি ভুলই না করেছে সে।এখন যদি সময় মতো পুলিশ চাচ্চুরা না আসে তবেতো তারও ঐ ছেলেটির মতো পরিস্থিতি হতে পারে।একটি হার্টবোর্ডের তৈরীকৃত রুমে ঋতুকে সদ্য আসা আরো দুজন বালকের সাথে চুপচাপ বসতে বলে লোকটি ভিতরের দিকে গেলেন।ঋতু বুঝতে পারল সেও এখানে বিক্রি হয়ে গেছে তারও এমন অবস্থা হতে পারে।
-আম্মু…আব্বু!কৈ?
ঠিক সেই সময় হ্যান্ড মাইকে ঘোষনা আসে।
-পুলিশ চারদিন ঘিরে ফেলেছে পালাবার পথ বন্ধ তাই আত্বসর্মপন করুন।নতুবা অ্যাকসান নিতে বাধ্য হবো।
মুখোশ পড়া বেশ কয়েক জন অপরাধী ঋতুকে নিয়ে ফোন দিলেন তার বাবাকে।তার বাবা মা পুলিশ ফোর্স সহ সেই বিল্ডিংয়েরর বাহিরে অপেক্ষা করছেন।রিং টুনটি শুনে পলাশ সাহেব রিসিভ করে লাউড স্পিকারে অফিসারদের শুনান।
-কাজটি ঠিক করেননি,মেয়েকে জীবিত পেতে হলে এক্ষুনি পুলিশকে সরে যেতে বলুন নতুবা আম ছালা সবই যাবে।
-অফিসার এখন উপায়?
-ভয় নেই,আপনার ভাইকে দায়ীত্ব দিয়েছি সে কিছুক্ষনের মধ্যেই একটি সু-খবর বহন করে ফিরে আসবেন।

ঋতুর চাচ্চু সাথীদের নিয়ে ততক্ষণে আন্ডারগ্রাউন্ডে বাই পথে প্রবেশ করে গেরিলা কায়দায় একে একে সবাইকে অ্যারেষ্ট করে ঋতুকে সাথে নিয়ে বীর দর্পে বেরিয়ে আসেন।পুলিশের বড় কর্তা ঋতুর মাথায় হাত বুলিয়ে তার সাহসিকতার প্রশংসা করেন।
………………………………………………..কৃতজ্ঞ সবার কাছে

৭৮১জন ৭৮০জন
0 Shares

১৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ