২৭ বছরে লিনাক্স!

অলিভার ২৫ আগস্ট ২০১৮, শনিবার, ০৮:৫৭:১৮অপরাহ্ন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ২ মন্তব্য

একটি কম্পিউটারকে চালাতে গেলে একটি চালক বা অপারেটিং সিস্টেমের প্রয়োজন পড়ে। শুরুতে কম্পিউটার বলতে মানুষ বুঝতো বিশাল বিশাল মেশিন। আর সেই মেশিন দিয়ে করা হতো খুব গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু নির্দিষ্ট কিছু কাজকর্ম। কিন্তু তার সবই আটকে থাকতো মেশিনকে কাজ করানোর জন্যে অপারেটিং সিস্টেমের দূর্বলতার সামনে।

অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে অনেকেই কাজ করছিল তখন। প্রতিটা মেশিনের জন্যে আলাদা আলাদা করে অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করা হতে লাগলো। পোর্ট করে একটা একটা ফিচার একটা একটা মাইক্রোপ্রসেসরে যুক্ত করা শুরু হলো। কিন্তু এইসবই আটকে থাকলো ব্যবসায়িক ধ্যাণ ধারণাকে সামনে রেখে।

ধরুন আপনি একটি মেশিনের মালিক, এবং আপনার টাকা দিয়ে কেনা একটি অপারেটিং সিস্টেমও রয়েছে তাকে চালাবার জন্যে। কিন্তু সেই অপারেটিং সিস্টেমটি আপনার মেশিনকে দিয়ে আপনি যা করতে চাচ্ছেন তা করতে পারছে না। এমন অব্স্থায় যদি আপনি আপনার অপারেটিং সিস্টেমটার দুটো ফিচার পরিবর্তন করে নিতে পারেন, তাহলেই আপনার কাজ ঠিক মত হবে। কিন্তু চাইলেই আপনি এই কাজটা করতে পারবেন না। কারণ এটি করার অনুমতি আপনার নেই!

 

তখনকার প্রায় সকল অপারেটিং সিস্টেমের মত এমনই প্রতিবন্ধকতা ছিল মিনিক্স (Minix) অপারেটিং সিস্টেমেও। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া এক সুইডিস যুবক নিজের 386 পিনের মাইক্রোপ্রসেসরের জন্যে মিনিক্সের আদতে একটি অপারেটিং সিস্টেম তৈরির কাজ শুরু করল। সেই যুবকটির নাম লিনুস বেনেদিক্‌ত তোরভাল্দ্‌স। লিনুস কাজ শুরুর প্রায় ৪ মাস পর তার কাজের একটি ছোট সংস্করণ সকলের জন্যে উন্মুক্ত করে দিল। আর তার সাথে চাইলো মানুষের মতামত।

লিনাক্স সম্পর্কে তার প্রথম বার্তাটির অনুবাদ নিচে তুলে দিলাম-

হইতে: [email protected] (লিনুস বেনেডিক্ট টোভাল্ডস)
নিউজগ্রুপ: comp.os.minix
বিষয়: আপনি মিনিক্সে সর্বাধিক কি দেখতে চান?
সারাংশ: আমার নতুন অপারেটিং সিস্টেমের জন্য ছোট জরিপ
বার্তা-ক্রম: <[email protected]>
তারিখ: ২৫ আগস্ট ৯১ ২০:৫৭:০৮ GMT
সংগঠন: University of Helsinki

হ্যালো মিনিক্স ব্যবহারকারীগন–

আমি ৩৮৬ এটি ক্লোন একটি প্রসেসরের জন্যে একটি অপারেটিং (এটি নেহায়েতই সখের বসে, খুব বড় কিছু নয় এবং এটি জিএনইউ এর মত পেশাদারীও নয়) সিস্টেম নিয়ে কাজ (বিনামূল্যের) করছি। এটির পেছনে আমি গত এপ্রিল থেকে কাজ করে যাচ্ছি, এবং শুরু করার জন্যে এটি প্রায় প্রস্তুত। যেহেতু এটি প্রায় (ফাইল-সিস্টেম এবং কাঠামোগত দিক দিয়ে) মিনিক্স অপারেটিং সিস্টেমের অনুরূপ তাই যারা মিনিক্স পছন্দ/অপছন্দ করেন তাদের সকলের মতামত আশা করছি।

আমি এটিতে bash(1.08) এবং gcc(1.40) এর বৈশিষ্ট সমূহ নিয়ে এসেছি, এবং প্রায় সবকিছুই কাজ করছে বলে মনে হচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে মাসখানিকের মধ্যে এর থেকে বাস্তবিক কিছু একটি পেতে যাচ্ছি, এবং এর মধ্যে মানুষ কি কি সুবিধাদি চায় তা আমি জানতে ইচ্ছুক। যে কোন ধরণের পরামর্শ গ্রহণযোগ্য, কিন্তু তাদের বাস্তবায়ণের প্রতিশ্রুতি আমি দিতে পারছি না 🙂

লিনুস ([email protected])

বি.দ্রঃ এটি মিনিক্স কোড থেকে মুক্ত, এবং এতে মাল্টি-থ্রেড ফাংশন রয়েছে। এটি বহনযোগ্য নয় (৩৮৬ টাস্ক সুইচের ব্যবহার সমূহ) এবং সম্ভবত AT-Harddisk ছাড়া সম্ভবত এটি অন্যকিছু সমর্থন করবেও না, কারণ আমার তাই আছে 🙁

 

লিনুসের সেই ছোট্ট সখের কাজটি ধীরে ধীরে ডালপালা গজিয়ে উঠতে লাগলো। তার সেই সখের প্রজেক্টের নাম হলো ‘লিনাক্স’। নানা প্রতিকূলতা পার করে তার তৈরি সেই লিনাক্স আজকে শতকরা ৯৬ শতাংশ সুপার কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম। বিশ্বের যত ক্লাউড কম্পিউটার রয়েছে তার বড় একটা অংশ পরিচালনায় ব্যবহার করা হয় এই লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম! এন্টারপ্রাইজ সল্যুশন হিসেবে লিনাক্সের গ্রহণযোগ্যতা এখন বিশ্বজোড়া।

আর এই লিনাক্সকে ব্যবহার করা যায় একদম বিনামূল্যে। চাইলে পরিবর্তন করে নেয়া যায় নিজের ইচ্ছে মত। নেই কোন বাধা, নেই কোন নিষেধ। এন্টারপ্রাইজ লিনাক্স সাপোর্টের পাশাপাশি লিনাক্সকে নিয়ে গড়ে উঠেছে অনেক অনেক কম্যুনিটি। যারা নিরন্তর ভাবে একে উন্নত থেকে আরও উন্নত অবস্থানে পৌছে নিচ্ছে প্রতিটা মুহুর্তে।

হাটি হাটি পা পা করে লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম আজ ২৬ বছর পার করে ২৭ বছরে উর্ন্নীত হলো। পার্সোনাল কম্পিউটার, স্মার্টফোন থেকে শুরু করে সুপার কম্পিউটার, সবস্থানেই লিনাক্সের জয়জয়কার।

শুভ জন্মদিন লিনাক্স, ধন্যবাদ লিনুস তোরভাল্দ্‌স 💗

 

 

 

 

 

৯৬৪জন ৯৬৪জন
0 Shares

২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ