দুঃখের ডাকনাম।

      বুকের দেয়ালে যে শৈবাল জন্মেছে… তাদের আলাদা কোন নাম দেইনি আমি। হাঁটতে হাঁটতে একদিন পাড়ি দিবো, পৃথিবীর চোরাবালি।   যন্ত্রনার যে পেয়ালা ছিলো বুক পকেটে গোপনে গোপনে তা পান করেছি। কবিতার মহামারীতে কবিতা খেয়ে,জীবন বাঁচাতে চেয়েছি।   দোয়াতের কালি শুকিয়েছে – মরেছে এক নদী। দোয়াতে ঠিকই রক্ত মেখেছি – নদীটি আর পাইনি। [বিস্তারিত দুঃখের ডাকনাম।]

আত্মহত্যা এবং কয়েকটি মূহুর্ত

•• আত্মহত্যার আগে আমি কিছুটা স্থির ছিলাম। একটার পর একটা সিগারেট পুড়িয়েছি। এক গ্লাস ঠান্ডা জলে মুখ ধুয়েছি – এর বেশি জল ছিলোনা; হয়তো বরাদ্দ শেষ।। আমার পোষা কুকুরকে বললাম ভালো থেকো বন্ধু। সে কিছু বলল না লেজ নাড়িয়ে দৌড়ে চলে গেল। খানিক বাদে একটা পুরনো ডাইরি মুখে করে নিয়ে এলো। আমি ডাইরিটা হাতে নিলাম। [বিস্তারিত আত্মহত্যা এবং কয়েকটি মূহুর্ত]

অনুবাদ

•• আমি তো কবিতা লিখি না, আমি শুধু তোমাকে অনুবাদ করি। তোমার বুকের গহীনে যে রাস্তা মিশে গেছে.. আমি বারবার সেখানে হাঁটি, তবুও মনে হয় …কেমন যেন অপরিচিত সেই রাস্তা। অথচ প্রতিদিন আমি সেখানে ঘুরি, বসে জিরুই।। তোমার সামনে এলেই আমি ব্যস্ত হয়ে পড়ি… কবিতারা বৃষ্টির মতো নেমে যায়.. আমার মস্তিষ্ক বেয়ে কলমের ডগায়। আমি [বিস্তারিত অনুবাদ]

বাহারি রঙের মৃত্যু।

              দিনদিন বাড়ছে ক্রেতা বাড়ছে ভীষণ ভীড়, সস্তা দামে মৃত্যু নিতে হয়েছে অস্থির। লাইন ধরো হে! লাইন ধরো হে!একি করছো তোমরা। সস্তা দামে মৃত্যু নিতে ঘষছো বুকের চামড়া! আগে এলে আগে পাবেন, টাটকা ভীষন ভাই। মৃত্যু নাকি খুব সুস্বাদু, ভেজাল তাতে নাই। তাইতো এতো লাইন পড়েছে অজগরের মতো, জীবন [বিস্তারিত বাহারি রঙের মৃত্যু।]

একটি কবিতা লিখো।

      যদি তোমার হাত কেটে ফেলা হয়। যদি খনার পুনরাবৃত্তি হয় আদালতের রায়। যদি দৃষ্টি কেঁড়ে নেয়া হয়। যদি অপারেশন সার্চ লাইট চলে তোমার কলিজায় ।   তবুও তুমি থেমো না। যমদূতের কাঁধে ভর দিয়ে হলেও লিখে যেয়ো একটি কবিতা। মুক্তিকামী মানুষের কবিতা। ঘামে ভেজা শ্রমিকের কবিতা। কাঁধে শিশু নিয়ে ইট ভাঙা মায়ের [বিস্তারিত একটি কবিতা লিখো।]

❝ ফেলে যাওয়া অনুভূতি ❞

      পার্ক কিংবা উদ্যানে যাবার সময় আমি একটু উল্টো। সবাই চলে যাবার পর আমি যাই সেখানে। যা ভাবছেন তা নয়, আমি মোটেও খারাপ লোক না। সবাই যখন চলে যায়,একাকী হয়ে যায় গাছ, বেঞ্চ,ভাসমান দোকান। এতিম হয় কিছুক্ষণ আগে ফেলে যাওয়া সময়, রোমান্স,অভিযোগ,অভিমান, হতাশা,দুঃখ-দুর্দশা। আমি তাদের সাথে কথা বলি। একাকি হাটি, ছুঁইয়ে দিই গাছের [বিস্তারিত ❝ ফেলে যাওয়া অনুভূতি ❞]

কেউ নেই।

তোমাকে পুঁতে রাখি বুকে।। কৃষক যেভাবে পুঁতে বীজ কাঁদা মাটিতে। তারপর মাটি ফেড়ে বেরিয়ে আসে সবুজ শস্য। তুমিও আমার বুক ফেঁড়ে বেরিয়ে আসো___ ছড়িয়ে দাও ভালোবাসা, আমার বুকে জেগে থাকা চাষাবাদ কৃত জমিতে।।   তোমাকে হয়তো পাবোনা, হয়তো তুমি মিশে আছো, বহুদূর,অন্যকোন আত্মায় অস্তিত্বের মশাল জ্বালিয়ে। আমি এ ঘরে পড়ে থাকি একা, সন্ধ্যা প্রদীপ নিভে [বিস্তারিত কেউ নেই।]

জয়াকে লেখা অভ্রর শেষ চিঠি

    বুকপকেটে ভেজা চিঠি বৃষ্টিতে নয় বুলেট রক্তে। চিঠিটা খুলে কাঁপা কাঁপা হাতে জোড় গলায় পড়ার লোক নেই, কে পড়বে যার পড়ার কথা ছিলো সে তো নেই।   পথচারী চিঠিটা খুললো__   প্রিয় জয়া,   কেমন আছো? এবারের অপারেশন শেষে বাড়ি ফিরবো। কথা দিলাম এবার কথা রাখবোই। আমাদের লালন খুব বড় হয়ে গেছে! তাইনা? [বিস্তারিত জয়াকে লেখা অভ্রর শেষ চিঠি]

কৃষ্ণপক্ষ

    নিশ্চুপে শুনে যাই জমে থাকা ঘামের আর্তনাদ,  কি করবো আমি? আমি যে ডুবিয়েছি মিঠা জলে, আমার দুটি হাত। তোয়াজ করে চলি নামহীন অঙ্কিত পশুর, থুতনি চেপে ধরি লেপ্টে পড়া বিবেকের। শেষ রাতে শুনি বিধবার অশ্রু নূপুর। টুপ টাপ জলে ধুয়ে যায় ষোড়শীর কালো চোখ, অক্ষিকোটরের পিচ্ছিল রক্তাক্ত স্রোত। আমি নিরব দর্শক। কন্ঠনালী ঠুঁকরে [বিস্তারিত কৃষ্ণপক্ষ]

ছুঁতে পারলাম না তোমায়

  আমি আর তুমি , দুজনেই হাঁটি সমান্তরাল পথে.. রেললাইনের মতো। দু-প্রান্ত কখনোই পারেনা দুজনকে ছুঁতে।   আমিও পারিনা তোমায় ছুঁতে… শুধু ছুঁয়েছি তোমাকে না পাবার বিষন্ন বিকেল, একলা একা ঝাপসা কাঁচের দেয়াল। তোমার মন খারাপের কাগজের নৌকো… যা ভাসিয়েছিলে পদ্ম পাতার জলে।   আমি আর তুমি ভেসেছি বহুকাল মেঘে… হঠাৎ হঠাৎ তুমি বৃষ্টি হয়ে [বিস্তারিত ছুঁতে পারলাম না তোমায়]

কবি ও কবিতা

    বইমেলা, একজন জনৈক কবি দাঁড়িয়ে উনার প্রকাশিত বইয়ের সামনে , প্রকাশনীর স্টলে। অপেক্ষা প্রিয় মানুষটি স্বয়ং কবির হাত থেকে বই নিবে। কবির চোখ তৃষ্ণার্ত উটের মতো প্রেয়সীকে খুঁজে। চোখের দৃষ্টি অস্থির, এতো মানুষ কিন্তু প্রেয়সীর পদচারণা নেই। কবির কিছুটা মন খারাপ__ মেঘে ছেয়ে গেছে কবির আকাশ। অজানা শঙ্কা, যদি না আসে!   কষ্টটা [বিস্তারিত কবি ও কবিতা]

টাটিয়ে চড়

দু-গালে  টাটিয়ে দু-চড়, তারপর – চুপচাপ নিরব দর্শক যে যার কাজে লাগাম আঁটে।   সার্কাস শেষে, জুয়াড়ি আপাতত কর্মশূন্য। দু’ফোটা চোখের জল সম্বল,  শুষে নেয় রাস্তার ধূলোকণা আর মাথার উপর টাঙানো বায়বীয় আয়না।   টোকাই হেঁটে যায় যেতে হবে তার, রুটিটা নিতে পারেনি.. শেষ চেষ্টায় হেরেছে আবার। ঘরে বসে আছে উৎসুক কিছু চোখ.. কিছুটা খাবার [বিস্তারিত টাটিয়ে চড়]

প্রয়াত

আমাদের আর দেখা হয়নি! বছর পাঁচেক আগের সেই স্মরণসভার পর।   সেদিন তুমি মঞ্চ কাঁপিয়ে তুলেছিলে কণ্ঠের ঝড়, প্রয়াত কবির লেখা কবিতায়। আমি বসেছিলাম সেই হলরুমে পেছনের সারির ছত্রিশ নাম্বার চেয়ারে।   চুপচাপ শুনছিলাম, তোমার কণ্ঠ কি করে-নদী হয়ে যায় সাগর,চাঁদ ও কেমন প্রেয়সীর মুখের মতই উজ্বল। রাস্তার কুকুর হয়ে যায় এলাকার অধিপতি। ছিটকে মাস্তানও [বিস্তারিত প্রয়াত]