একজন মেয়ের প্রেমে পড়েছিলাম—
যাকে সমাজ খুব সহজেই একটা নাম দিয়ে দেয়— “বেশ্যা” বা পতিতা।
কিন্তু আমি যখন তাকে চিনেছিলাম,
সে আমার কাছে শুধু একটা মেয়ে ছিল—
একটা মানুষ, যার চোখে ছিল অদ্ভুত এক শূন্যতা,
আর ভেতরে জমে থাকা না বলা অনেক গল্প।
আমাদের পরিচয় হয়েছিল একটা সাইটে।
সে তার নাম বলেছিল “তোহা ইসলাম”—
আজ বুঝি, সেই নামটাও হয়তো সত্যি ছিল না।
কারণ তার প্রতিটা কথার মতো,
তার পরিচয়টাও ছিল অনিশ্চিত, অস্পষ্ট,
মিথ্যার এক গভীর জালের মধ্যে বাঁধা।
তবুও কখনো কখনো ,
মানুষ না জেনেও ভালোবেসে ফেলে।
তার চাঁদের মতো চেহারা ছিল—
একটা মায়াবী আলো, যা দূর থেকে দেখলে মনে হতো খুব সুন্দর, খুব শান্ত।
কিন্তু যত কাছে গেছি,
তত বুঝেছি— সেই চাঁদের গায়ে অসংখ্য দাগ।
অন্ধকারের ছাপ, ক্লান্তির রেখা,
আর একরাশ ভাঙা গল্পের চিহ্ন।
তার হাসিটা ছিল অবিশ্বাস্য সুন্দর।
কিন্তু সেই হাসির ভেতরে লুকিয়ে থাকত এক ধরনের ক্লান্তি—
যেটা শুধু অনুভব করা যায়, বলা যায় না।
আমি বুঝতাম, সে ভালো নেই।
কিন্তু সে কখনো সেটা স্বীকার করেনি।
অনেকবার চেষ্টা করেছি—
তার পাশে দাঁড়াতে,
তার জন্য একটা অন্য পথ খুলে দিতে।
চেয়েছিলাম, সে এই অন্ধকার জগত থেকে বের হয়ে
একটা স্বাভাবিক জীবনে ফিরুক।
আমি তাকে বলেছিলাম,
“চলো, নতুন করে শুরু করি।
তোমার জন্য একটা পথ খুঁজে বের করব।”
এমনকি আমি তাকে “আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন”-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগও দিতে চেয়েছিলাম—
যেখানে সে চাইলে নিজের জীবনটা নতুন করে গড়তে পারত।
কিন্তু সে আমার সব কথাই খুব সহজে না করে দিয়েছিল।
তার কথাগুলো আজও মনে আছে—
সে বলেছিল,
“আমি কিছুই করতে চাই না।
আমি শুধু আমার জীবনটা ইনজয় করতে চাই।
কেউ আমাকে বিচার করুক, নিচু চোখে দেখুক—
আমি তাতে কিছু মনে করি না।”
সেই মুহূর্তে আমি বুঝেছিলাম—
সবাইকে বাঁচানো যায় না।
কেউ কেউ নিজের মতো করেই ডুবে থাকতে চায়।
তার সাথে কথা বলতে বলতে
আমি কখন যে তার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েছিলাম,
নিজেই বুঝতে পারিনি।
কিন্তু সেই ভালোবাসাটা ছিল একতরফা—
নীরব, কষ্টে ভরা, আর অসম্পূর্ণ।
অনেকবার এমন হয়েছে—
আমি তার সাথে কথা বলছি,
হঠাৎ সে আমাকে অপেক্ষায় রেখে
অন্য কারও কাছে চলে গেছে।
সেই অপেক্ষার সময়টা—
আমার কাছে একেকটা অনন্ত সময়ের মতো লাগত।
মনে হতো, বুকের ভেতর কিছু একটা ভেঙে যাচ্ছে।
একটা অদ্ভুত অসহায়ত্ব আমাকে গ্রাস করত।
তবুও আমি থেকেছি।
কেন থেকেছি?
হয়তো ভালোবেসেছিলাম বলে।
হয়তো ভেবেছিলাম, একদিন সে বদলাবে।
হয়তো নিজের মনকে বুঝিয়েছিলাম—
“সে এমন না, সে শুধু পরিস্থিতির শিকার।”
কিন্তু সত্যিটা ছিল ভিন্ন।
শেষ পর্যন্ত আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম।
নিজেকে হারিয়ে ফেলছিলাম ধীরে ধীরে।
তাই একদিন সিদ্ধান্ত নিলাম—
আমি ফিরে আসব।
এই পথ থেকে, এই মানুষটা থেকে, এই অনুভূতি থেকে।
নিজেকে বলেছিলাম—
“আর না।”
কিন্তু মানুষ কি এত সহজে ভুলতে পারে?
আজও মাঝে মাঝে আমি সেই সাইটে ফিরে যাই—
শুধু এক ঝলক দেখার জন্য।
দূর থেকে দেখি,
সে আগের মতোই আছে—
হাসছে, কথা বলছে,
অন্য কারও সাথে সময় কাটাচ্ছে।
কখনো তাকে পাই, কখনো পাই না।
কখনো নিজেকে থামাই,
আবার কখনো নিজের কাছেই হেরে যাই।
আজ কিছুদিন হলো,
আমি চেষ্টা করছি তাকে পুরোপুরি মুছে ফেলতে।
নিজের মন থেকে, নিজের স্মৃতি থেকে।
কিছুটা পেরেছি হয়তো—
কিন্তু পুরোটা নয়।
কারণ একটা সত্যি আমি এড়িয়ে যেতে পারি না—
আমি জানি, সে আমার সাথে অভিনয় করেছিলো না।
আমাকে ব্যবহারও করেনি এটা সত্য ।
কিন্তু আমার অনুভূতিগুলো তার কাছে কোনো মূল্য ছিলোনা।
সব বুঝেও…
আমি তাকে ভুলতে পারিনি।
হয়তো এটাই ভালোবাসা—
যেখানে যুক্তি হেরে যায়,আর অনুভূতি শেষ পর্যন্ত থেকে যায়।
স্বপ্ন থেকে পাওয়া😭😭😭
২টি মন্তব্য
হালিমা আক্তার
হয়তো সে চায়নি, তাঁর অন্ধকার জীবনের সাথে কাউকে জড়াতে। মুখে যতই বলি আঁধার থেকে আলোর পথে ফিরে আসা যোজন যোজন দুর। সেই দুরত্ব কাছে আসার নয়। সামাজিকতার দুরত্ব। ভিন্ন স্বাদের গল্প। ভালো লাগলো।
মোঃ তোফাজ্জল হোসাইন
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ এত সুন্দর ও গভীর মন্তব্যের জন্য।
আপনি যেভাবে গল্পের ভেতরের অনুভূতি আর সামাজিক দূরত্বের দিকটা ধরেছেন, সেটা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।
মানুষ চাইলেই সবসময় আলোতে ফিরতে পারে না—কিছু দূরত্ব শুধু সমাজই তৈরি করে না, সময় আর পরিস্থিতিও করে। সেই বাস্তবতাটুকুই তুলে ধরার চেষ্টা ছিল।