মরণোত্তর

হঠাৎ যদি দৈত্য এসে বলে-
রাষ্ট্রের জমিনে এতো নারী সহিংসতার উপদ্রব
আপনার হাতের এই যে কলমটি দেখা যাচ্ছে
তাঁর কী অনুভূতি—আপনি বলুন!
.
ছিপি আটকে তড়িঘড়ি গোপনে লুকিয়ে নিবো
তাঁর হুটহাট আগমনী প্রশ্নে আমি খুব বিব্রত
আমি অভ্যস্ত নই–এড়িয়ে যাবো প্রশ্ন তাণ্ডব।
.
আবার যদি আমাকে প্রশ্ন করে-
গতকাল আপনার প্রেমিকা আগুনে পুড়ে গেছে
ঠোঁট থেকে বারুদের গন্ধ বের হচ্ছে অনবরত
যার কোমল হাত বারবার শব্দশিল্পে উচ্চারিত
তাঁর অকাল মৃত্যু ও চলমান নারী সহিংসতায়
হাতের কলমটির কী শোকবার্তা– আপনি বলুন!
.
আমি রাগান্বিত নিজেকে সংবরণ করে নিবো
তাঁর উদ্ভট প্রশ্নের বিবরণ আমি দিতে নারাজ
অনিরাপদ ভীতিগ্রস্ত— এসকল প্রশ্ন তাণ্ডবে।
.
তৃতীয়বার, চতুর্থবার কিংবা শেষবার
দৈত্যটি আমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জাপটে ধরবে
আমি শোকার্ত নিরাপদে
তাঁর সকল প্রশ্ন সারাংশে
একজন দুভাষী যেমন শ্রোতাকে শান্তি দেয়
তেমনিভাবে নিজেকে শান্তি দিবো, বলবো-
       :কান্নারত চোখের জল। চিৎকার করতে
পারিনি। শুকানো জল। মৌনতায় গিলে যাচ্ছি রাষ্ট্রের যাবতীয় দুঃখ।
 .
এ সকল প্রশ্নোত্তরে আমার বিশেষ ইচ্ছে
আমাকে বিশালাকার একটা থুথু উপহার দিন
আমি রাষ্ট্রীয় কান থুথুতে বধির করে দিতে চাই,
.
বাসযোগ্য পৃথিবী; আমি প্রিয়তমার শেষ ইচ্ছে
মরণোত্তর ভালোবাসি লিখতে চাই
মরণোত্তর ভালোবাসি বলতে চাই
**ছবিটি ব্লগ থেকে নেওয়া।
মোট পড়েছেনঃ ১,০০২জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

১৮টি মন্তব্য

  1. বিশালাকার থুথু দিয়ে রাষ্ট্রীয় কান বধির করে দিবেন- এমন বিদ্রোহ ঘোষণা করা আপনার দ্বারাই সম্ভব। আমাদের সবার কান, চোখ, মুখ বন্ধ করেই চলতে হচ্ছে। নিজের গা বাঁচিয়ে থাকতে হয়। ভালো থাকুন

    1. রাষ্ট্র, সরকার,ও ব্যক্তি প্রতিটি আলাদা বিষয় না। তাই আমি বধির করে দেওয়ার অধিকার রাখি, যা আমার মৌলিক অধিকার।

      ধন্যবাদ আপু ভালো থাকবেন সবসময়।

  2. কারোর প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যাবে না। যদিও বাধ্যতামূলক উত্তর দিতে হয়, তো রাষ্ট্রের পক্ষে থেকেই সব প্রশ্নের উত্তর দিবো। এতে বিবেক আমার জাহান্নামে যাক! সঠিক উত্তর দিয়ে মরবো নাকি!
    বাস্তবমুখী কবিতা পড়ে ভালো লাগলো দাদা।

মন্তব্য করুন