হিমুর হাতে চিরকুট

হিমু চিরকুট লিখছে…

প্রিয় প্রিয়তমেষু রুপা,
তোমার অতশত রূপ দেখে আমি বিমুগ্ধ। তোমার গাঢ় লাল লিপস্টিকের ভিড়ের নেশায় মত্ত। কি যে রূপের সুধা! কি যে ঠোঁটের উষ্ণতার রস, আহা! দেখে দেখে বুকের ভেতরটায় তৃষ্ণার চড় ভেসে উঠেছে। আর সে তৃষ্ণায় জব্দ হয়ে ডুবে ভাসি রোজরোজ। তোমার ফর্সা দু গালের নরম মাংসপেশিতে আমার ঠোঁটের উষ্ণ আবরণ ভাবতেই বুকের পর্দাগুলো বারবার নড়বড় করে ওঠে। তোমার ছোঁয়াছুঁয়ি ছোটছোট চুলের গন্ধে দিশেহারা ছন্নছাড়া হই। তোমার চুলে মাখা বিদেশি শ্যাম্পুর গন্ধ শ্বাসপ্রশ্বাসে মিশে দিতে ইচ্ছে করে। যেন অনর্গল সুগন্ধির সুভাসে বসবাস করতে পারি।
প্রিয় হৃদয়স্পর্শী রুপা,
তোমার কপালে লাল ফোঁটা আর পরনে আকাশী-নীল রঙের শাড়ি দেখতে আমার সাদাসিধে হাড্ডি-গুড্ডির আড়ালে পিষিত মনটা খুবই ব্যাকুল। তোমার শাড়ির গোছানো কুঁচির বাজে বাঝে, তোমার শাড়ির আঁচলে কোমরে গুঁজে থাকার আগ্রহ পরকালেও মিটবে না আশাকরি। বিশেষ করে শাড়ির আঁচলের গিট্টু হতে পারলে দেহটা ফুরফুরে আলোর গুঁতোয় রঙিন হয়ে যেতো। সত্যি! তোমাকে রেশমি চুড়ি আর আউলা চুলে আরও বেশি রোমাঞ্চকর লাগে। তোমার রেশমি চুড়ির ঝিনিঝিনি শব্দ আমাকে শোষিত করে।
প্রিয় রূপবতী-গুণবতী রুপা,
তোমার নজরকাঁড়া চাহনির ক্যানভাসে আর ঠোঁটে গাঢ় লিপস্টিকের গন্ধের আকর্ষণে কলিজা শুকিয়ে শুকিয়ে নড়বড়ে হয়ে গেছে। এই দূর্বলতার লোভেই এতোদিন পরে হলেও লোভী শব্দটার সাথে পরিচয় হয়েছে আমার।
প্রিয় নিশীথিনী রুপা,
মধ্যরাতে তোমার ভাবনার জালে ফেঁসে ফেঁসে বালিশটাকেও শত আঘাতে ব্যথিত করেছি। আর তুমি হন্যে হয়ে অন্যের ফেসবুকের পাতায় ফ্রীতে ঘুরাঘুরি করছো। জানো? এই মূহুর্তেই ছ্যাঁকা শব্দটি বুকের খাঁচায় বেয়নেটের আঘাত হানে। আর দেহের কলকব্জা গুলো হাউমাউ করে কাঁদে।
প্রিয় প্রতিরূপ রুপা,
বাসরঘরে হরেক রকমের লাইট জ্বালিয়ে তোমার শরীরের ইমিটেশনের গহনা, আলতা রাঙা পায়ের সৌন্দর্যের আগ্রহে দ্বিধাদ্বন্দে ভুগে ভুগে শুকিয়ে দেহখানি মরাকাঠ হয়ে গেছে। জীবনের এপর্যায়েও তোমাকে পাওয়ার খিদে মেটেনি, তোমাতে মাতাল হয়ে ডুবে থাকা হয়নি। অগত্যাই রোগে-শোকে ক্ষয় হয়ে কিছুটা জীবিত থাকলেও তোমাকে মোটেই ভুলতে পারিনি। রাগ করোনা লক্ষীটি। শেষমেশ! তোমাকে আর…।
যেখানেই থাকো ভালো থাকো। ডেঙ্গু থেকে মুক্ত থাকো।

পরিশেষে,
তোমার হলুদ হিমু

বিঃ দ্রঃ চিরকুটটি কখনো ডাকে পাঠানো হয়নি।

মোট পড়েছেনঃ ১,৬৩৫জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২২টি মন্তব্য

  1. যদিও হিমু রূপা কমন নাম আপনি ব্যবহার করতেই পারেন। তারপরেও একজন লেখকের প্রতিষ্ঠিত চরিত্র এরা। এই নামের চরিত্রগুলো শুধু উনার লেখাতেই বেশি খাপ খায়।

    আপনার লেখাটা চমৎকার যদি সম্ভব হয় চরিত্রের নামগুলো নিজের মত করে দিবেন এতে আপনার তৈরি চরিত্রগুলোও প্রতিষ্ঠিত হবে🤘

    ভাল থাকুন সব সময়😇

    1. ধন্যবাদ প্রিয় কবিবর, কথাটি একদম সত্যি বলেছেন। আসলে আমি হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে গল্পগুলো লিখছি। এজন্য হিমু নামটি ব্যাবহার করছি। পরবতর্তীতে আমার লেখা চরিত্রের গল্পও পাবেন আশাকরি।

  2. অবশেষে হিমু চরিত্রে লোভ দেখা গেল।

    ভাল লেগেছে চিঠি।
    শুধু ভাল না- দুর্দান্ত চিঠি।
    রুপার মায়ের হাতে পড়লে খবর আছে – হাহাহা

  3. ১। <strong<প্রিয় প্রিয়তমেষু রুপা, তোমার অতশত রূপ দেখে আমি বিমুগ্ধ।
    ২। প্রিয় হৃদয়স্পর্শী রুপা, তোমার কপালে লাল ফোঁটা আর পরনে আকাশী-নীল রঙের শাড়ি দেখতে আমার সাদাসিধে হাড্ডি-গুড্ডির আড়ালে পিষিত মনটা খুবই ব্যাকুল।
    ৩। প্রিয় রূপবতী-গুণবতী রুপা, তোমার নজরকাঁড়া চাহনির ক্যানভাসে আর ঠোঁটে গাঢ় লিপস্টিকের গন্ধের আকর্ষণে কলিজা শুকিয়ে শুকিয়ে নড়বড়ে হয়ে গেছে।
    ৪। প্রিয় নিশীথিনী রুপা, মধ্যরাতে তোমার ভাবনার জালে ফেঁসে ফেঁসে বালিশটাকেও শত আঘাতে ব্যথিত করেছি।
    ৫। প্রিয় প্রতিরূপ রুপা, বাসরঘরে হরেক রকমের লাইট জ্বালিয়ে তোমার শরীরের ইমিটেশনের গহনা, আলতা রাঙা পায়ের সৌন্দর্যের আগ্রহে দ্বিধাদ্বন্দে ভুগে ভুগে শুকিয়ে দেহখানি মরাকাঠ হয়ে গেছে।

    পরিশেষে রূপার কাছে হিমুর লেখা অসাধারণ হয়েছে। কিন্তু চিঠি পাঠানো হয়নি কেন?

  4. শাড়িতেই নারী অতুলনীয়
    লাল টিপে নারী উজ্জলনীয়
    গালের টোলে নারী কামনীয়
    চুড়ির ঝন ঝনে নারী চঞ্চলনীয়
    চুলে নারী তুমি বেশি আদরনীয়.
    সুন্দর একটি লেখা মাসুদ ভাই।

মন্তব্য করুন