ঠিক যেন বিদায়ী সূর্য

জীবনভর আলো ছড়ানো আমার আব্বা
যখন পড়ন্ত সময়ে নিভে যাওয়ার জন্যে
অপেক্ষার প্রহর গুনছিলেন, সেই সময়ের কথা_
বলছিলেন, বিপন্ন সময়ের না বলা যত কথা
কেমন করে একাকি জীবন যুদ্ধে একটু একটু করে
সচ্ছলতার মুখ দেখেছিলেন,
পায়ের নিচের নরম মাটিকে শক্ত করেছিলেন
কেমন করে আমাদের ভাল রেখেছিলেন।
হাজার মাইল দূরের দেশে ফোনের অন্যপ্রান্তে আমি
খুব স্পষ্টই যেন শুনতে পেলাম
বুকচেরা দীর্ঘশ্বাস আর হাহাকারের শব্দ
তিনি আবার বলে চললেন ফেলে আসা যাপিত জীবনের কথা
বিষণ্ণ কণ্ঠে বললেন,
“পাড়ার অরুন মারা গ্যছে, নুরু মারা গ্যেছে
ওঁরা সকলেই তো বয়সে আমার ছোট
কোন্‌দিন যে আমারও চইল্যা যাইতে হইবো ”
আব্বার গলা ধরে আসে
ধরা গলায় বলে চললেন,
” মানুষের একে একে এইসব মৃত্যু সংবাদ শুনলে
বুক ধড়ফড় করে, নির্ঘুম রাত কাটে
আসন্ন মৃত্যুর কথা মনে হয়”।
অতঃপর ডুকরে কান্নার শব্দ!
ভিনদেশের অন্ধকার রুমে চোখ বুজে
কল্পনায় দেখার অনর্থক চেষ্টা করি, দেখি
আমার আব্বা দেখতে ঠিক যেন
পশ্চিমাকাশে হেলে পড়া বিদায়ী সূর্যের মত।

রিমি রুম্মান
নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র।

মোট পড়েছেনঃ ৭৭৮জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

১৩টি মন্তব্য

  1. তোমার আব্বার প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী। আল্লাহ তার বিদেহী আত্মাকে শান্তি দান করুন।
    একদিন আমরাও বিদায়ী সুর্য হবো।

  2. আল্লাহ ভালো রাখুক তোমার বাবাকে।
    সব সন্তান ঠিক বাবার আদর ঠিকমতো পায় না। যারা পায় তারা বড় ভাগ্যবান। তুমি ভাগ্যবান।

  3. এইসব মৃত্যু সংবাদ শুনলে বুক ধড়ফড় করে, নির্ঘুম রাত কাটে আসন্ন মৃত্যুর কথা মনে হয়”।

    এটাই বাস্তব,এটাই চরম সত্য। বাবার জন্য অনেক দোয়া রইলো আপু।

  4. খালুজানের জন্য রইল অশেক কামনা বেচে থাকুন অনন্তকাল।তবে বাস্তবতায় গা দিতে হবে সবাইকে এটাই সত্য এটাই চিরসত্য।

মন্তব্য করুন