রাক্ষসের পৃথিবী


অন্ধকার নরকের দীর্ঘ শ্মশ্রু প্রেত দলের অধিষ্ঠাত্রী এক রহস্যময়ী রাক্ষসীর বিকট চিৎকারে,
সৃষ্টির সেরা মানবকুলের দিক দিশাহীন ছুটে চলা,
জ্যোৎস্নালোকিত অজানা প্রান্তরের দিকে।
পথে অথৈই সাগর, কখনো বা রোমান যুগের দ্বি-ধার তলোয়ারের মতো এ্যালিফ্যান্ট ঘাসের বন।
মানবতার অস্পষ্ট দৃষ্টি তাদের জন্য দিশার আলো জ্বালেনি।
ছুটে চলা বৃদ্ধের চোখে দৃষ্টি নেই,
তবু তার আছে এ পৃথিবীর বুকে বয়ে চলা মুক্ত বাতাসে একটুখানি বাঁচার আকুতি।
সদ্য যুবতীর পেটের ক্ষুধার তীব্র জ্বালার অনুভূতির উহ! আহ! প্রকাশ নেই
তার শুধু এক টুকরো কাপড় চাই,
বেড়ে ওঠা শরীর থেকে খুলে নেওয়া লজ্জা নিবারণের এক টুকরো কাপড়।
সভ্য সমাজে প্রবেশ করা এ মানব জাতি তাকে দিয়েছে লজ্জার এ অনুভূতি।
কোনো ধর্মের জ্ঞান এ লজ্জার জন্ম দেয়নি।
এ লজ্জা তার আত্মার এ লজ্জা তার অনুভূতির।
পৃথিবীর বুকে সদ্য হাঁটি হাঁটি পায়ে বেড়ে ওঠা মানব শিশু বিভীষিকাময় মানবতা শূন্য
মরুভূমির এ পৃথিবীতে মায়ের কোলে নিরাপদ শান্তির এক টুকরো ঘুম চায়,
চায় এক বেলার আহার।
কোনো ধর্ম তাকে ক্ষুধার যন্ত্রনা নিতে শেখায়নি।
শিশু ধর্ম চেনে না, চেনে শুধু মুক্ত নীল আকাশ, মায়ের উজ্জ্বল মুখ।
একদিন এ শিশু হাসবে খিলখিল করে মানবতার দিকে আঙ্গুল তুলে।
মুখোশ পরা সভ্য জাতির পৃথিবীতে তখন বিরাজ করবে এক অপার্থিব নিস্তব্ধতা,
বাতাস বইবে, অথচ সেখানে নিঃশ্বাসের আকুতি থাকবে না, পাখির কুজন থাকবে না।
ধু ধু মরুভূমির ক্যাকটাস দলের এক নরপিশাচ ময় পৃথিবীর অপেক্ষা।

,,,,মৌনতা রিতু,,,,,,
২৯/০৪/১৭.

ছবি কৃতজ্ঞতাঃ মনির হোসেন মমি

মোট পড়েছেনঃ ৭০৫জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

১৪টি মন্তব্য

  1. কোনো ধর্ম তাকে তাকে ক্ষুদার যন্ত্রনা নিতে শিখায়নি।
    শিশু ধর্ম চেনে না, চেনে শুধু মুক্ত নীল আকাশ, মায়ের উজ্জ্বল মুখ।
    একদিন এ শিশু হাসবে খিলখিল করে মানবতার দিকে আঙ্গুল তুলে।
    কি বলবো লেখাটা শরীরের পশম দাড় করিয়ে দিলো।জবাব নেই এর জবাব এ পৃথিবীর মানুষ দিতে পারবে না।কারন মানুষের মাঝে এখন আর সেই মানুষ নেই। -{@

    1. ধন্যবাদ মনির ভাই। গতকাল আপনার কভার ফটো দেখে শব্দগুলো চলে এলো।
      আমরা মানুষ কিনা সত্যিই জানি না। সৃষ্টির সেরা জীব বলতে আর রাজি নই।
      ভাল থাকবেন। -{@

  2. আপু, পড়তে পড়তে গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যাচ্ছিলো, এখনো শরীরে কাঁপন অনুভব করছি, অনবদ্য লিখেছেন প্রিয় আপু।

    আপু, খুব খুশি আজ আমি। 😀

  3. একটা শিশু যখন জন্ম নেয়, তার কোনো ধর্ম থাকেনা। এই শিশুটাই বড়ো হয়ে যখন পরিপূর্ণ মানুষ হয়, তার শরীরে চাপিয়ে দেয়া হয় ধর্মের পোষাক, মনের ভেতর পড়িয়ে দেয়া হয় ধর্ম নামের বল্কল। এই ধর্মের জন্য আজ পৃথিবীতে এতো হানাহানি। মানুষ আর মানুষ থাকছে না। হয়ে উঠেছে পশু। ধর্মের ভেতর নাকি শান্তি বিরাজ করে! কোথায় আমি তো দেখিনা!

    অনেক ভালো লিখেছো আপু।

  4. কি বলব হৃদয় ছুয়ে যাওয়া মনে নাড়া দেওয়া কিন্তু কই এতো এতো অমানবিক ঘটছে তবুও তো মানুষের আত্বে ঘা লাগছে না, জাগছে না মানবতা।

মন্তব্য করুন