একদিন ; মৌনমুখর

একদিন দেখা হয়ে যাবে ঠিক –
নিরাকপরা ভাদ্র দুপুরে,
চেনা শহরের গলিপথে ; অথবা
জৌলুসহীন কোন অনাত্মীয় নগরে।
একদিন ঠিক দেখা হবে।

ততদিনে, তোমার মসৃণ ত্বকে আকুঞ্চন
আমার চোখের আলো ক্রমশ ম্লান,
বয়সী খোলসে আটসাঁট দুইজন ; অচিন মানুষ।

কাছাকাছিই দাড়াবো হয়তো –
চিনে নিতে লাগবে খানিকটা সময়,
অতলে চাপা ব্যথার পাথর গড়ালেই উঠবে সুঘ্রান,
স্বপ্নের ফিরবার পথটাও অতো সোজা নয়।

একদিন দেখা হয়ে যাবে ঠিক –
কথা হবে, সামাজিক নিয়মের কাথাফোড়
কে, কি, কোথায় এইসব – তলায় ভুমিক্ষয়।

ফিরবার পর –
বয়সী মানুষের খোলসে হাসফাঁস
প্রাক্তন বালক বালিকা ; চারু ও অমল।
ঈশ্বর ; পৃথিবীর নিয়ম এতো অদ্ভুত এবং বন্ধ্যা
নিস্ফলা টান, আগুনময় জলের বুকে অনির্বান গরল।

তবু, একদিন দেখা হয়ে যাবে ঠিক – নিরাকপরা ভাদ্র দুপুরে।

মোট পড়েছেনঃ ১,১১৩জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

১৬টি মন্তব্য

  1. দেখা হোক বা না-হোক
    দুপুর কিংবা রাতের ঘোর বৃষ্টিতে
    বা বসন্ত না-বসন্তের গভীর শীতে
    তবুও দিনের-রাত্রি রাত্রির-দিন
    গড়িয়ে গড়িয়ে গড়াবে।

    সত্যি সত্যি ভালোলেগেছে,

  2. গানটিতে আঁটকা পড়ে আছেন বহুবহুদিন।
    যদি কোনদিন আর দেখা না হয়, বয়সের খোলসে বালকের হাঁসফাঁস চলবেই, ত্বকের কুঞ্চনের অপেক্ষা করতে হবে না 🙂
    খুব সুন্দর।

  3. আহা কবিতা ! নিমগ্ন ব্যাথাদল কিভাবে যেন ফুটিয়ে তুলে, বলে দেয় না বলা অনেক কথা। শুরু থেকে শেষ প্রতিটি চরণ প্রশংসার দাবীদার।

  4. অনেক পুরোনো একটা লাইন মনে পড়ে গেলো, আসলে পেয়ে গেলাম হঠাৎ করে।

    “ধোয়া ওঠা চায়ে চুমুক দেয়া কোনো এক বসন্তী বিকেলে
    যদি আচমকা দেখা হয়ে যায় তোমার সাথে,
    অবাক হবোনা।
    ফিরিয়ে দেয়া সাদা-কালো আবেগ বে-রঙীনই থাকে
    অন্তত আমার কাছে।
    তুমি তো জানোই আমি কতোটা আলাদা!” ———১৯৯৩ সালের লেখা থেকে নেয়া। পুরোটা কোনো একদিন দেবো হয়তো।

    খুব ভালো লেগেছে।

  5. দেখা না হয়ে উপায় নাই!
    মানুষের সাথে সাথে প্রকৃতি ও মানুষকে খেলতে ভালোবাসে। সেই নিজ দায়িত্বে দেখা করিয়ে দিবে। তারপর মজা দেখবে।
    ভালো লেগেছে ভাইয়া! 🙂

মন্তব্য করুন