মানুষগুলা কই যায়, ক্যান যায়, ক্যান হারায় ?

রৌদ্রজ্জ্বল চমৎকার একটি দিন ছিল আজ এই শহরে। ভারি ভালোলাগার দিন হতে পারতো। হলো ভেজা দীর্ঘশ্বাসের একটি দিন।

কতো কাজ পড়ে আছে ! সকাল সকাল ঘর ছেড়ে বেরোতেই বাড়ির সামনের উঠোনে বুনো ফুলের সুবাস ! ফুল ? ফেব্রুয়ারির শেষ কেবল। এসময়ে চারিপাশে কঙ্কালসার গাছ আর বিবর্ণ ঘাস ছাড়া তো আর কিছুই অবশিষ্ট নেই ! বাস্তবের পৃথিবীতে পরাবাস্তবতা হয়তো।

আনমনে ধীরগতিতে যাচ্ছি ব্রডওয়ে ধরে। মাঝে দু’চারবার কেউ কেউ হর্ন দিয়ে বিরক্তিতে পাশ দিয়ে শাঁ করে ছুটে গেছে। কাজে কাজে কেটে গেছে বেলা। নরম, কোমল সকালটি ঝলমলে দুপুরের হাত ধরে মৃদু শীতল বাতাসে সন্ধ্যার দিকে গড়ায়। আলোটুকু মিলিয়ে গিয়ে আঁধার নামে, জীবনীশক্তি ফুরিয়ে যাওয়া বৃদ্ধের মতন। জীবন কতো অনিশ্চিত ! কেননা___

 

এই শহরে একজন মানুষ খুন হয় গতরাতে

প্রতিদিনের চেনা ঘরে তাঁর নিঃশ্বাস ফুরায়

জলজ্যান্ত উচ্ছল এক তরুন

যে দেশভাগ দেখেনি, বায়ান্ন দেখেনি, একাত্তরও না

তাঁর কি চলে যাবার কথা ছিল, নাকি সময় হলো ?

জানি, জীবনের কাছে একসময় পরাজিত হয় সকলেই

জন্মের মতোই গভীরতম সত্য যে মৃত্যু !

মৃত’রা অন্তিমে ফিরে যাবার সময় একঝাঁক যন্ত্রণা রেখে যায় জীবিতদের জন্যে

তাঁরা গল্প হয়, কবিতা হয়

তা পাঠ করে আমরা বিষণ্ণ হই, শোকবানী গাই

স্রস্টার কাছে হাত তুলে প্রার্থনার বাক্য আওড়াই

এভাবেই চলে কাল, মহাকাল

তবুও খুব জানতে ইচ্ছে করে

মানুষগুলা কই যায়, ক্যান যায়, ক্যান হারায় ?

লাশ, খাটিয়া, কফিন, কবর শব্দগুলো

বড় বেশি নির্মম লাগে ক্যান আজ ?

রিমি রুম্মান

নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র

মোট পড়েছেনঃ ৬৯৬জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

১৩টি মন্তব্য

  1. পৃথিবীর সরল মানুষগুলো আজ গরলে হাটছেন কেবলি নিজ স্বার্থ উদ্ধারে।মানুষকে মানুষ এখন আর কেউ ভাবতে চায় না।মিলন মেলায় আমরা বেশ কজন আপনার পাবলিস হওয়া বইটি সংগ্রহ করি এবং স্টলে জানতে পারলাম এর পাঠকের চাহিদা বলা চলে আশাতীত।ধন্যবাদ আপু আগামীতেও আপনার নতুন বই প্রকাশ পাবে এটাই কামনা।

    1. আমি একান্তে লিখে যাই। সেই অর্থে প্রচারনা নেই বললেও চলে। তবুও কেউকেউ কিনে নিজ আগ্রহে। কৃতজ্ঞতা তাঁদের সকলের প্রতি।

    1. গতকাল কবিতাটি আবৃত্তি করেছিলাম নিউইয়র্কের সাহিত্য একাডেমীতে। সকলেই বিষণ্ণ ছিল। আমরা তাঁর আত্নার শান্তির জন্যে প্রার্থনা করেছিলাম সকলে।

  2. প্রতিদিনই পেপারে কতো যে হত্যাকান্ড দেখি আপু! বিশ্বাস করো মাঝে মাঝে ভাবি, এই যে অস্বাভাবিক মৃত্যু গুলো এদের তো আরো বেঁচে থাকা কথা ছিল, তবে কেন এই মৃত্যে? তাইলে এই রুহুগুলো কোথায় থাকে?
    গত দুইদিন থেকে পাশেই এক খালাম্মা খুবই অসুস্থ। বার্ধক্যজনিত। সবাই তাকে ঘিরে আছে। দোয়া পড়ছেশেষ বিদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাস্তব এক কঠিন সত্যের সামনাসামনি হতে সবাই এক প্রকার প্রস্তুত।
    আমি মাগরিব পরেই যেয়ে দেখে আসি।
    সত্যি আপু, এই মানুষগুলো কোথায় যায়?
    যাইহোক,ভালথেকো সব সময়।

মন্তব্য করুন