মুক্ত এক গুচ্ছ বনোফুল

মুক্ত এক ফুল ফুটেছে, সুবাস দিতে, কিন্তু এ ফুল বনফুল, উঠবে না, সাজবে না কোনো ফুলদানিতে। কিন্তু তাতে কি! এই যে শিশির বিন্দু, স্বর্গ থেকে নেমে মৃদু স্পর্শ করবে এ বনফুলকে, সজীব করবে তার রুপ।

চারপাশে তার কোলাহল নেই, নেই কোনো ফুলদানির শৃঙ্খল। মুক্ত বিহঙ্গে ঘুরে ফিরে  সে এ লতায় ও লতায়। পাশে আলোয় ঝর্না ধারায় সজীব মুখটি দেখে পুলকিত হয়। জলপ্রপাতের এই কলকল শব্দে সে নেচে ওঠে। মুক্ত ঝিরঝিরে বাতাসে চঞ্চল নৃত্যরত সে। অঙ্গে বর্ণিল যৌবন আভা মাখে ঐ শিশিরের আলত ছোঁয়ায় প্রজাপতির আলিঙ্গনে নিজেকে সে প্রস্ফুটিত করে। ভোরের এ শিশির সজীব করে, প্রাণবন্ত করে নতুন দিনের আশায়।

ফুলদানির এ ফুলে প্রাণ নেই, নাচে না সে ঝিরঝিরে বাতাসে। কলকল শব্দে তার ঘুম ভাঙে না। শিশিরের স্পর্শে তার সজীবতা ফেরে না। পাথরের এ রাজপ্রাসাদে সযত্নে লালিত, শৃঙ্খলবেষ্টিত এক প্রন হীন সুবাসিত ফুল।

এ ফুলে প্রজাপতি নেই, নেই অঙ্কুরের কোনো আশা। শুধু এ ক্ষণিক সুবাস ছড়াতেই তার মুক্তি।

মোট পড়েছেনঃ ৭৮৩জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৩০টি মন্তব্য

    1. তাই তো সে মুক্ত প্রান চঞ্চল সজীব এক ফুল।
      ধন্যবাদ ভাই। ভাল থাকুন। আর আপনার মুক্তিযুদ্ধের লেখা চালিয়ে যান। আমরা অবশ্যই পাশে আছি।

  1. বন্যেরা বনে সুন্দর এই কথাটি মনে পড়ল আপনার লেখা পড়ে।
    ফুলেরা ফুলের মতই সুন্দর, তবে তা ফুলদানিতে নয়,
    ফুলের বাগানে, প্রজাপতির মেলায়।

    1. প্রকৃতির বুকে প্রকৃতিই সুন্দর। ইট কাঠের বেষ্টনিতে না।
      আমি এই জন্য কখনো বনসাই করি না। একটা গাছকে কেটেকুটে বেটে করে রাখতে আমার আপত্তি।
      ধন্যবাদ ভাই।

  2. মৌনতা আপু আমি জানো গাছ থেকে ফুল ছিঁড়িনা? কিন্তু একদিন ছিঁড়ে বন্ধু ঊর্মীকে দিয়েছিলাম। আমার কষ্ট লাগে ফুল ছিঁড়ে ফুলদানী সাজাতে। আর নাম-না-জানা জংলী কিছু ফুল আছে যা আমার খুব প্রিয়।
    অনেক সুন্দর লিখেছো। আবেগে চুয়ে পড়ছে প্রতিটি অক্ষরে। -{@

    1. আগে নিজের লাগানো বেলী ফুল ছিঁড়তাম। বালিশের নীচে রাখতাম। একসময় আর করিনি। এখন তো টোটালেই ছিঁড়িনা।
      আমার বাসায় ফুলদানি আছে, সবগুলোই কাঁসাপিতলের। অনেক পুরাতন। এ্যান্টিক টাইপ। কিন্তু ফুল নেই। মাঝে মাঝে রজনিগন্ধা এনে রাখি।
      আর জংলী ফুল সবই আমার প্রিয়।
      ভাল থেকো। ভালবাসা নিও।

      1. এত্তো মিল তোমার সাথে আমার! আমি অবশ্য ফুল ছিঁড়িনি কখনো। পুজোতে ফুল লাগতো, কিন্তু মামনি বলতো গাছ ঝাড়া দিলে যে ফুলগুলো পড়বে, সেগুলোই যেনো নিয়ে আসি। অবশ্য আমি ফুল কিনতাম। ফুলদানীতে সাজানোর জন্য। কেনা ফুলে লবণ-চিনি জল দিয়ে রাখতাম। আর তিনদিন পর পর বদলে দিতাম। কম করে হলেও ১০/১২ দিন থাকতো ফুলগুলো।

        ভালো আছি, ভালো থেকো। -{@ (3

  3. ফুলদানির এক ফুলের স্বাভাবিক মৃত্যুও নেই, কী নির্মম। ফুল ছেড়া তাই ভালো লাগেনা।
    তোমার লেখায় বনফুলের গায়ে শিশিরবিন্দুরা হেঁসে উঠলো। সজীবতায় মুক্তোর হাসি, তবে তো বনফুল হওয়াই ভালো, তাইনা?
    বেশ লিখেছো, দেখতে হবেনা কার কে তুমি? 🙂

    1. ধন্যবাদ। গ্রামে গিয়ে হেটে পা ফুলে থাকলেন। ভাবলাম কোরবানীর জন্য ব্যাস্ত। বই পড়ুয়াদের খুজছেন তাইতো বুঝিনি। পোষ্ট পড়ে বুঝলাম।

  4. বাগানের ফুলের চাইতে বনফুলের প্রতি আমার আগ্রহ বেশী। রাস্তায় হাঁটলেই অবহেলায় বেডে উঠা ,ফুটে থাকা বুনোফুলের ছবি তুলি আমি। জানো ,এদের জিবনি শক্তি দেখলে না আমি অবাক হয়ে যাই।কোন যত্ন ছাড়াই কত ভালভাবে বেঁচে থাকে।
    ফুল ছেডা আমি একদমই পছন্দ করি না।
    অনেক ভাল লিখেছো আপু।

    1. মিষ্টি আপু, সত্যি বলেছো খুব ভাল লাগে এদের ছবি তুলতে। জান, আমার প্রতিদিনের হাঁটার রাস্তায় এমন অনেক জংলী ফুল আছে। চমৎকার ভাবে ফেটে হাসে যেন আমায় দেখে। কতো যে কথা বলি ওদের সাথে।
      অনেক ভালবাসা নিও। হুম রান্না দেখেছি, মন্তব্য করা হয়নি, একটু ঝামেলায় ছিলাম।

মন্তব্য করুন