মজার স্কুল: শুভ উদ্যোগে চাই সহযোগিতা।

ছিন্নমূলদের নিয়ে এক সেচ্ছাসেবী।
ছিন্নমূলদের নিয়ে এক সেচ্ছাসেবী।

এক:
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ছেলেটির নাম আহমেদ মোহাম্মদ। ১৪ বছর বয়সী ছেলেটি একটি ঘড়ি বানিয়েছে। তাই নিয়ে স্কুলে গেলে স্কুল অথোরিটি তার বানানো ঘড়িটিকে বোমা সন্দেহে পুলিশে দেয়। পুলিশ নিশ্চিত করে এটি বোমা নয়।
এতে সবাই জেনে যায় আহমেদের ভাবনা খারাপ ছিলো না, সে তার উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে একটি ঘড়ি বানিয়েছিলো।
আহমেদও বলে “উদ্ভাবন করতে আমার ভালো লাগে, তাই কিছু একটা দেখাতে চেয়েছিলাম কিন্তু ওরা আমায় ভুল বুঝলো।”
আহমেদ মোহাম্মদ
আহমেদ মোহাম্মদ

এই ভুল অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ায় তাকে মনস্তাত্ত্বিক সাপোর্ট দিতে-
*বারাক ওবামা তাকে হোয়াইট হাউজে তার সাথে একটু সময় কাটানোর আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
*গুগল তার উদ্ভাবনের নেশা দেখে গুগলের বিজ্ঞান মেলায় তাকে একটি আসন বরাদ্দ দিয়েছে।
*ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ তাকে কিছুক্ষণের জন্য পাশে চেয়েছেন।
*তৎসময়ে ছেলেটির পরনে ছিলো মহাকাশ সংস্থা ‘নাসা’র লোগো আঁকা টিশার্ট, তাই দেখে খুশি হয়ে নাসা’ও আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
*হিলারি ক্লিনটন তার গ্রেফতারে ক্ষুব্ধ হয়েছেন এবং তাকে অনুরোধ জানিয়েছেন সে যেনো উদ্ভাবনের নেশা না ছাড়ে।
সুত্র: ডয়চে বেলে।

**মন্তব্য: যে হারে মুসলমানরা (মার্কিনী কুটচালের ফাঁদে পড়ে) চারদিকে বোমাবাজি করছে, সন্দেহ জাগাটা অমূলক নয়। তবুও তো ছেলেটিকে তারা পিটিয়ে মেরে ফেলেনি, পুলিশে দিয়েছে। পুলিশ রহস্য উন্মোচনের সাথে সাথে তাকে দায়িত্বশীল সুত্র থেকে মনস্তাত্ত্বিক সাপোর্ট দেয়া শুরু হয়েছে, যাতে সে থেমে না গিয়ে বরং নতুন উদ্যোমে এগিয়ে যায়।

দুই :
পথশিশু মোবারকের অভিভাবকের অভিযোগে বাংলাদেশে শিশুপাচারকারী সন্দেহে অদম্য ফাউন্ডেশনের ‘মজার স্কুল’ এর আরিয়ার আরিফ জাকিয়াসহ চার স্বেচ্ছাসেবক গত কয়দিন যাবত আটক রয়েছেন। রিমান্ডও হয়েছে তাঁদের।
অদম্য বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন একটি বেসরকারি সেচ্ছাসেবী সংস্থা। ছিন্নমূল বাচ্চাদের নিয়েই তাঁদের কাজ।
12002122_519050244921588_7270552989323427799_n
* স্বেচ্ছাসেবক তানভীর বলেছেন, “আমরা ২৪ ঘণ্টা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য শিশু সংগ্রহের সময় দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছি। তাদেরকে কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছি। যাদের কেউ নেই এবং যারা পথেই থাকে, এমন শিশুদের আমরা এখানে আশ্রয় দিয়েছি। এবং আমরা কখনও কোন বাজে খরচ করি না, যাতে একটি শিশুর জন্য কিছু হলেও করতে পারি।”
*উদ্ধারকৃত ওই ১০ শিশুর মধ্যে নয়জনই একবাক্যে রিমান্ডকৃত স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশংসা করেছে।
* উদ্ধারকৃত শিশু রাসেলের বাবা জামাল উদ্দিনের বক্তব্য, ‘আমি স্যারদের মুক্তি চাই। এরা খুব ভালো মানুষ। আরিফ স্যার ও জাকিয়া ম্যাডাম আমার ছেলেরে নিয়া গত নয় মাসে দুইবার আমার বাড়িতে গেছে। আপনারা দেখেন তাদের লাগি কিছু করতে পারেন কিনা।’
* অদম্য ফাউন্ডেশনের নিবন্ধনের কাগজও মিডিয়ায় প্রকাশ করা হয়েছে।
* বাচ্চাদের সাপোর্ট দেয়ার অনেক ছবি এখন অনলাইন, মিডিয়াতে ভেসে বেড়াচ্ছে।

** মন্তব্য: দুর্ভাগ্যজনকভাবে দায়িত্বশীল কোন সুত্র থেকে এখন পর্যন্ত কোন ভাষ্য পাওয়া যায় নি। সেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতা বা তাঁদের কাজে উৎসাহ যোগানো, মনস্তাত্ত্বিক সাপোর্ট দেয়া তো দূরের কথা।

তিন:
একটু আগে জানলাম, মামলার বাদী পথশিশু মোবারকের চাচা নাকি বলেছে “শুরুতে আমার বুঝতে ভুল হয়েছিলো। এখন মনে হচ্ছে অই চারজন সেচ্ছাসেবী পথশিশুদের নিয়ে সেচ্চায় কাজ করছে। এই মামলা নিয়ে আমার তেমন কোন আগ্রহ নেই আর।”

** মন্তব্য: “তেমন কোন আগ্রহ নেই আর” বললেই হলো? এখন তো আপনার ব্যাপারে আমাদের আগ্রহ বেড়ে গেলো। না জেনে অই চারজন সেচ্ছাসেবীকে হেনস্থা করলেন এর জবাব তো আপনাকে দিতেই হবে। কেনো এবং কি উদ্দেশ্য নিয়ে আপনি এমনটি করলেন আমরা তা জানতে চাই।

দাবীঃ
*দ্রুত সেচ্ছাসেবীদের ছেড়ে দেয়া হোক এবং তাঁদের কাজটিকে মর্যাদা দিয়ে পুরুষ্কৃত করা হোক। অযথা একটা ভালো উদ্যোগকে জটিলতার মধ্যে ফেলে না রেখে সমাধান করা হোক। কারন প্রশাসনিক ঝামেলার কারনে এদেশে অনেক শুভ উদ্যোগই শুরুতে মুখ থুবড়ে পড়ে। সেই সাথে শুভকাজে যুবসমাজের এগিয়ে আসার আগ্রহেও ভাটা পড়ে।
*বাদীর কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হোক নতুবা খামখেয়ালিপূর্ণ বা আক্রোশমূলক এমন ঘটনা অহরহই ঘটবে।

মোট পড়েছেনঃ ৬৫৪জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

১৮টি মন্তব্য

  1. আমাদের স্বভাবটাই এমন। ভয়ানক ছিদ্রান্বেষী স্বভাব আমাদের। নিজেরা তো ভালো কিছু করিইনা, অন্য কেউ করলেও গায়ে জ্বালা ধরে যায়। সেই জ্বালা মেটাতে আমরা নামতে নামতে অনেক নিচে নেমে যাই। এতোটা নিচে নামি যেখানে নামলে আমরা দেখতে মানুষের মত হলেও আদতে মানুষ বলে গণ্য হবার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলি।

  2. দায়িত্বশীল কর্তাদের দায়িত্বহীনতাই প্রধান কাজ।
    কোন কিছুতে কোন সম্ভাবনাই আমি দেখতে পাচ্ছিনা
    হতাশ পুরোটাই।

    1. কয়টা ছেলেমেয়ে সেচ্ছাসেবী হয়ে সমাজে অবহেলিত মানব সন্তানকে সেবা দিয়ে যাচ্ছিলো অথচ চারদিক থেকে আওয়াজ উঠার পরও আজ পর্যন্ত তাঁদের ছাড়া হয় নি।
      সব ব্যাপারেই কি প্রধানমন্ত্রীর নাক গলানো না পর্যন্ত সমাধান হবেই না।

  3. দ্রুত সেচ্ছাসেবীদের ছেড়ে দেয়া হোক এবং তাঁদের কাজটিকে মর্যাদা দিয়ে পুরুষ্কৃত করা হোক। – আমিও সমর্থন করছি।
    কিন্তু ভাবছি দেশ ও সমাজভেদে আমরা কত আলাদা! ;?

  4. বাহিরের দেশে যখন আমাদের কেউ কোন কাজের জন্য পুরস্কৃত হয়, আমরা আনন্দে বুক ফুলিয়ে ফেলি, বাংলাদেশের বলে গর্ব করি, আর কত প্রতিভা আমাদের অবহেলায় এ দেশেই ঝড়ে যায় তার কোন ঠিক নেই। দাবী তো করছিই, কিছু কি হবে আদৌ?

  5. খুসঘোর অফিসার, ঘুসঘর কর্মকর্তা, ভন্ডামী সরকারের নিকট কি আশা করা যায়, এসব নিয়ে সরকারের মাথা ঘামান সময় কই। প্রধান্মন্ত্ররীর ধামাধরা গুলো আছে শুধু আখের গুশানই। তবে আশা করি সব ব্যাক্তি একনয় একজন না একজন আসবেনই এগিয়ে ইন শাল্লা ।
    মানবতার জয় হক

  6. কাল ছাড়া পেয়ে যাবে। এটাও হতোনা যদি না এক ছেলের চাচা লিগেল একশন না নিতো। থানায় যথাযথ আইনী উপায়ে ছেলের চাচা অভিযোগ করে। পুলিশ শিশু অপহরন বলে দ্রত একশনে যায়। তারা জানতনা ‘ মজার স্কুলের ‘ ব্যাপারে। যখন জেনেছে ততক্ষনে ক্ষতি যা হবার হয়ে গেছে।

  7. “আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে!
    কথায় না বড়ো হয়ে কাজে বড়ো হবে!!”

    কাজে যারা বড়ো, তাদেরকেই ধাক্কা খেতে হয়। এই হলো আমাদের দেশ।

মন্তব্য করুন