রক্তে ধোয়া আমার স্বাধীন বর্ণমালা

রক্তে ধোয়া আমার স্বাধীন বর্ণমালারা—

অনেকের মতে, তোমাদের নাকি অভাব পড়েছে আজকাল দুর্মূল্যের বাজারে—চারদিকে যত্রতত্র অপব্যবহার হচ্ছে তোমাদের—তাই বলে দুঃখ করো না—যে যাই বলুক না কেনো, তোমরা কি জানো না যে, আমার মতো কোটি বাঙালীর মাঝেই প্রাণবন্ত থাকবে তোমরা সতেজ উর্বরতায়—আমার প্রিয় বর্ণমালারা,আমাদের মাঝেই নাচবে তোমরা মিষ্টি সুবাতাসে—বৃষ্টিপাত ঘটাবে তোমরা চৈত্রের দুপুরে—নিশুতি রাতে জোনাকীর আলোয় ভরে থাকবে আমার আহ্লাদী বর্ণমালাগুলো—শীতের শিশিরের বুকে মাথা রেখে নিশ্চিন্তে ঘুমাবে আমার স্বাধীন বর্ণমালারা চেতনা দ্বীপ শিখা জ্বালিয়ে………

:
আমিতো আমার অবুঝ বর্ণমালাগুলোকে অন্তরে গোলাভর্তি করে রাখবো কড়া পাহারায়…কেননা,আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি—আমি কি ভূলিতে পারি!!!…………..

:
তাইতো সবার কাছে একটাই চাওয়া—

মাঠে ঘাটে প্রান্তরে….

বর্ণমালার চাষ করো যাও অন্তরে….

মোট পড়েছেনঃ ৭৯৬জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৩৭টি মন্তব্য

  1. বর্ণমালারা ভালো নেই আপু,আমাদের দুখিনী মায়ের বর্ণমালা।আমরা অতি যত্নে তাঁদের লালন করবো,ভালবাসবো।
    বর্ণমালার চাষ করে যাব অন্তরে…. (3

    1. আমার কাছেও তাই হলো যে আমাদের বর্ণমালারা ভালো নেই 🙁 তাইতো চাওয়া মাঠে ঘাটে প্রান্তরে, বর্ণমালার চাষ করো যাও অন্তরে….

  2. রক্তে ধোয়া বর্ণমালা কিন্তু প্রতিনিয়তই ধর্ষিত হচ্ছে, ধর্ষিত হচ্ছে কাদের দ্বারা? যাদের বর্ণমালার জ্ঞান নেই যারা অশিক্ষিত তাদের দ্বারা? না যাদের জ্ঞান রয়েছে তাদের দ্বারাই ধর্ষিত হচ্ছে আমাদের এই প্রিয় বর্ণমালা। যত্র তত্র এর বিকৃত ব্যবহার বিকৃত করে তুলছে বাংলা ভাষাকে।

    কেউ কেউ তাদের ইংলিশ বর্ণমালার প্রতি প্রেম ছাড়তে পারে না, অথবা নিজেকে অতি শিক্ষিত প্রকাশ করতে একটি ইংরেজী বাক্য বাংলায় ব্যবহার করে বর্ণগুলোকেই করে তুলছে স্ববিরোধী। ইংরেজীও একটি ভাষা এবং সার্বজনীন একটি ভাষা যার জানার প্রয়োজন অবশ্যই আছে কিন্তু কখনোই নিজের ভাষাকে নীচে ফেলে নয়। কবি ঈশ্বর গুপ্ত ঠিকই বলেছিলেন আমরা স্বদেশের ঠাকুর ফেলে বিদেশের কুকুর পুজো করি।

    একটি ভাষার উপভাষা থাকবেই যেহেতু অজস্র উপভাষা নিয়েই একটি ভাষা সৃষ্টি হয়ে, অনেকের ক্ষেত্রে লক্ষনীয় এই উপভাষার দোহাই দিয়ে বিকৃত করে চলছে এই বাংলা ভাষাকে। এই বর্ণমালা যে রক্তেধোয়া তা আর আমাদের মাথায় থাকে না। এমন ভাষা ধর্ষকদের আবার কিছুই বলা যাবে না, প্রতুত্তরে আসবে” দিস ইজ মাই পার্সোনাল ম্যাটার, ইউ শুড নট এন্টারফ্যায়ার। গো টু হেল!”

    আমি বলছি না আমি সাধুবনের বাসিন্দা, আমিও তাদেরই অন্তর্ভুক্ত এবং হলফ করে বলতে পারি আমাদেরকে ছাড়িয়ে যাবে আগামী প্রজন্ম।

    বেশি বলে ফেলেছি, যাইহোক সুন্দর একটি পোষ্টের জন্য ধন্যবাদ, যদিও আরো বিস্তারিত হতে পারতো।

    1. আমরা স্বদেশের ঠাকুর ফেলে বিদেশের কুকুর পুজো করি-যথার্থই বলেছে কবি…..আসলে আমরা খুব বেশী অনুকরণ প্রিয় হয়ে গেছি…আর অনুকরণ করতে গিয়ে নিজেদের ইতিহাস, নিজেদের ভাষা ভুলতে বসেছি—

      ধন্যবাদ আপনেকেও সুন্দর মন্তব্যের জন্য 🙂

  3. যতই যত্রতত্র অন্য ভাষা ব্যবহার করুক সবাই, বাংলার প্রতি সবার অন্তরেই রয়েছে, থাকবে। ইংরেজীতে সবাই বাংলা টাইপ করতো আগে এই যেমন pori kemon acho? কারো মন ভরেনি। এখন বাংলা ছাড়া কেউ ভাবতেই পারেনা। শীতের শিশিরের বুকে মাথা রেখে নিশ্চিন্তে ঘুমাবে আমার স্বাধীন বর্ণমালারা চেতনা দ্বীপ শিখা জ্বালিয়ে…… সত্যিই তাই। বাংলা বেঁচে থাকুক অন্তর দ্বীপ হয়ে। খুব সুন্দর। অল্প লেখা এমন হলে বেশি লেখার দরকার নেই।

    1. ঠিক তাই ইংরেজীতে অনেক বাক্যে মন ভরে না– খুব সুন্দর করে বুঝিয়ে দিয়েছো আপু..তাই আমিও একটা উদাহরণ টানলাম যেমন i love you very much shonno apu!!! এমন বাক্যে মন ভরে না, বিরক্তিকর….কিন্তু যদি বলি আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি শুন্য আপু–এই ভালোবাসা অন্তত কেউ উপেক্ষা করতে পারবে না আমি নিশ্চিত 🙂
      বাংলা বেঁচে থাকবে আমাদের অন্তরে…

  4. বর্ণমালারা আসলেই আজকে দুঃখী,আমাদের মাতৃ ভাষায় শব্দের অভাব নেই,আমরা কথা বলি বাংলা ইংরেজী যুক্ত করে।ভালো লিখেছেন খেয়ালী মেয়ে।

মন্তব্য করুন