ফেবুতে ছবি দেয়া প্রসঙ্গে

২০১৩ সালের কথা — আমার পরিচিত অনার্সে পড়ুয়া মেয়েটি ছিল অসাধারণ টেলেন্ট ও শান্ত স্বভাবের-। এক পর্যায়ে ফেবুর সুবাদে একজন ছেলের সাথে তার পরিচয় হয়, ভাল লাগা হতে ভালবাসাও হয়ে যায়- কিন্তু এক পর্যায়ে মেয়েটি জানতে পারে যে ছেলেটির আরো দু’জন মেয়ের সাথে মানসিক ও শারিরীক সম্পর্ক আছে–। ভেঙ্গে পড়ে মেয়েটি–। যোগাযোগ ধীরে ধীরে মেয়েটি কমিয়ে দেয়–। কিন্তু ছেলেটি বলে যদি তার সাথে সম্পর্ক না রাখে তবে তার ফেবুর ওয়াল হতে ছবি নিয়ে বিকৃত করে ছড়িয়ে দিবে–। মেয়েটি কিছুতেই সম্পর্ক বজায় রাখতে রাজি হয় না-সে বিশ্বাসই করতে পারে নাই যে ছেলেটি সত্যি সত্যিই এই ধরণের কাজ করতে পারে- এক পর্যায়ে মেয়েটির ছবি বিকৃত করে ছড়িয়ে দেয়–। এতে মেয়েটির মানসিক অবস্থা চরমভাবে বিপর্যয় ঘটে–পরিবারের অন্যান্য সদস্য রাস্তায় বের হলেই অনেকেই টিটকারী দিতে থাকে—পরে পাড়ার কিছু মেয়ে এই দুঃসময়ে মেয়েটিকে মানসিকভাবে সহায়তা করে–। কিন্তু বিধি বাম–পরিবারের সদস্যগণ তাদের বাসা অন্যত্র সিফট করতে বাধ্য হয়- এখন পর্যন্ত জানি যে মেয়েটির লেখাপড়া বন্ধ আছে।

আপুরা ! ফেবুতে ছবি দেয়ার সময় সাবধানে ছবি দিন—বন্ধু নির্বাচন করার সময় সাবধানতা অবলম্বন করুন–কোন ফেবু বন্ধু বাজে কমেন্ট করার সাথে সাথেই তাকে ব্লক করুন, ছবির রেজুলেশন কমিয়ে পক্ষান্তরে একটু ঝাপসা ছবি দিন–।শুধুমাত্র বেশি বেশি লাইকের আশায় এত ছবি আপলোড করার আদৌ দরকার আছে কি !! অহেতুক কৌতুহলের উপর ভর করে অল্প পরিচিত কারো সাথে চ্যাট করা হতে বিরত থাকাই ভাল। যদি সংগত কারণে চ্যাট করেন তবে ছবি বা ভিডিও লিংক না দেয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ আপনি ইতিবাচক মূল্যবোধের চর্চা করলেও অন্যদের মানসিকতায় ইতিবাচক মূল্যবোধের ছোঁয়া নাও থাকতে পারে—

ভাইরা ! আপনারা আপনার স্বজনদের/বোনদের গল্পের ছলে সাবধান করে দিন

বছরের পর বছর ধরে একজন মানুষের সাথে সম্পর্ক থাকলেও তার মনের রহস্য বোঝা যায় না — আর এতো ফেবু বন্ধু !!! তাই সতর্ক হোক !! দুষ্ট গরুর চেয়ে শুন্য গোয়াল অনেক ভাল –

মোট পড়েছেনঃ ৭১৬জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২৯টি মন্তব্য

  1. আপনার লেখাটিকে আমি দুভাবেই দেখতে চাই।
    প্রথমতঃ হুঁ, অবশ্যই সতর্ক থাকা উচিৎ। যে কেউ তার সেটিংস-এ গিয়ে তার পছন্দের মত এ্যাকসেস এ্যান্ড কন্ট্রোল বেছে নিতে পারে।
    দ্বিতীয়তঃ এত ভয় শংকা নিয়ে ও প্লাটফর্মে কাউকে যেতেই বা হবে কেন! এত ভয় ভাল নয়। এত ভয় পেলে দুদিনবাদে আপনার চেনা আয়নাকেও বেহায়া লাগতে পারে। মনে হতে পারে একলা ঘরেও চারটি দেয়াল আপনার ছবি আঁকছে কিনা প্রতিদিন, প্রতিরাত!
    সবচেয়ে জরুরী পারসোনালিটি তৈরী করা। দুষ্টু লোকেরাও পারসোনালিটি আর স্মার্টনেসকে যথেষ্ঠই কেয়ার করে।

    1. হুমমম আপনার কথা মানলাম কিন্তু দুনিয়াজুড়ে যা ঘটছে তাকে অস্বীকার করি কি করে—তবে সতর্ক থাকার বিকল্প নেই ভাই
      ভাল থাকবেন সব সময়

  2. নিজেকে ভুল মানুষের কাছে সমর্পন করলে সেই ভুলের মাশুল তো তাঁকেই দিতে হবে ।

    ছবি বিকৃতি এই ফটোশপের যুগে কোন জোরালো প্রমান নয় । । ।

    ভালো মানুষকে ফটোশপে পর্ণস্টার বানানো অসম্ভব নয় ।

    ফেবুর প্রাইভেসি ঠিকমতো ব্যবহার করলে । অযাচিত সমস্যা থেকে অবশ্যই রেহাই পাওয়া সম্ভব ।

    1. ভাই এ যুগে বাস করেও অনেক আপুই এই প্রাইভেসি সেটিংস ব্যবহার করে না
      আর একটা কথা, কাউকে উপর হতে বোঝা যায় না যে সে ভুল ব্যক্তি—কারণ অনেকে উপরে উপরে ভাল মানুষের ভান ধরে থাকে— কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ঠিকই তার মখোশ খুলে যায়
      সতর্ক থাকাটা ভাল
      শুভকামনা রইল

  3. বহুদিন পরে লিখলেন!
    যাদের ফেবু না হলে চলেই না তারা আপনার কথায় কান দেবে বলে মনে হয় না।
    যেখানে পারিবারিক বা সামাজিক সম্পর্কের দৈন্যদশা সেখানে বাতাসি সম্পর্ক…!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!

    1. হুমম কিছুদিন পর লিখলাম
      ভাই, অনেক আপুকে দেখি শুধু ছবি আপলোড করে। পরিবারের সম্পর্ক দুর্বল বিধায়ই ছেলেমেয়েরা বিপথগামী হয়–ছেলেমেয়েরা হালকা সম্পর্কগুলোর পেছনে ছুটে বেড়ায়—খুবই খারাপ লাগে ভাবলে–
      সবাই নিরাপদে থাকুক——
      আপনার জন্য শুভকামনা রইল —–

    1. অনেক সময় কিছুই বলার থাকে না–তারপরও আপুদেরকে আরো সচেতন হতে হবে, তাদেরকে ভেবে চিন্তে কাজ করতে হবে,,,আর পরিবার হতেও তাদেরকে সহযোগিতা করতে হবে—–
      শুভকামনা রইল

  4. পরিচিত এক আর্মি মেজরের মেয়েকে দেখেছি এফবিতে নিজের ছবি দিয়ে কিভাবে নিজেরই কাছের বন্ধুর দ্বারা নাজেহাল হয়েছে–এটা আমাদের সবারই মাথায় রাখা উচিত বছরের পর বছর ধরে একজন মানুষের সাথে সম্পর্ক থাকলেও তার মনের রহস্য বোঝা যায় না—তাই নিজেকে রক্ষার দায়িত্ব আমাদের নিজেকেই নিতে হবে–আমি নিজেও অনেক আগে থেকেই নিজের ছবি মাঝেমাঝে প্রোফাইলে দিলেও সেটা ঝাপসা করে দিয়ে থাকি….ধন্যবাদ পোস্টটার জন্য..

    1. আপনার গঠণমূলক মন্তব্যের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ
      আপু আপনি ঠিক কাজ করেছেন–ছবির রেজুলেশন কমিয়ে ঝাপসা করে দেয়াই উত্তম কাজ
      সবাই সচেতন হোক
      শুভকামনা রইল

  5. শুধুমাত্র লাইক বা কমেন্ট পেতে সবাই মনে হয় ছবি আপলোড করেনা। ফেসবুক একটা যোগাযোগের মাধ্যমও। এখানে বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন সবাই থাকে। ছবি দেয়াটা তাই এভাবে এতো হিসেব করে হয়না। তবে আপনার সাথে পুরোপুরি একমত, অচেনা কাউকে বন্ধু বানাবার দরকারটাই বা কি? কি হবে এতো বন্ধু দিয়ে? যারা লাইক কমেন্টের জন্য ছবি আপলোড করেই যাচ্ছে, করেই যাচ্ছে, তাদের কথা আলাদা।
    কাজের প্রয়োজনে যদি অপরিচিত লোকদের সাথে আইডি থেকে থাকে, তাহলে ছবি আপলোড না করাই উচিত। আমি করতাম যদিও খুব কম, দুজন বন্ধু সচেতন করার পর থেকে আর করিনা। পোস্ট টির জন্য অনেক ধন্যবাদ আপু, সব কথার শেষ কথা, হেলাল ভাইয়ার কমেন্ট… যেখানে পারিবারিক বা সামাজিক সম্পর্কের দৈন্যদশা সেখানে বাতাসি সম্পর্ক…!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!! 🙂

    1. আপু এমন অনেককে অবিরত ছবি আপলোড করে—ফেবুতে অনেক দুষ্ট লোকও থাকে যারা ওৎ পেতে থাকে সময় ও সুযোগের অপেক্ষায়, তাই সাবধান হওয়ার বিকল্প নেই-
      পরিবারের সম্পর্কএর গাথুনি কেন যেন শিথীল হয়ে যাচ্ছে, আগের মত সবার প্রতি গভীর টানটাই যেন নেই—সব কেমন যেন খাপছাড়া —
      সবাই নিরাপদে থাকুক
      আপু ! ভাল থাকবেন সব সময়

  6. জটিল সমস্যা। মেয়েরা কেন ছেলেদের ফটো এডিট করেনা? শুরু হোক প্রতিশোধ………..
    ফেইসবুকে একটি আইডি করতেই হয় তাহলে 🙂 আপু আপনাকে দেখা যাবে ফেবুতে? :p

  7. ভাল বলেছেন আপু।ফেসবুকে তাই আমি আমার পরিচিত এবং জানা-শোনা নেই এমন কাউকে অ্যাড করি না।যাদের বিশ্বাস করি শুধু সেইসব কাছের মানুষদেরই রাখি বন্ধু-তালিকায়…।
    সবারই সচেতন হওয়া উচিত। 🙂

  8. আমার মতে কোন খারাপ লোকের ভয়ে নিজের স্বাভাবিক কাজকর্ম থেকে বিরত থাকা ঠিক নয়। যেখানে ছেলেরা স্বাভাবিক ভাবে ছবি আপলোড করতে পারবে সেখানে মেয়েরা পারবে না কেন? মেয়েদের কি অধিকার নেই। আর কেউ যদি এরূপ করে অর্থাৎ ছবি বিকৃতি করে তাহলে তার বিরুদ্ধে সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিবাদ করা। তাই বলে এসব বিষয় নিয়ে ওভার সেন্সিটিভ হয়ে বাসা ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যাওয়া, নিজের লজ্জা পাওয়া এগুলো ঠিক নয়। আরে লজ্জা আপনি পাবেন কেন লজ্জাতো পাওয়া উচিৎ তাদের যারা এসব কুকর্ম করে।

মন্তব্য করুন