পুরুষতন্ত্র

পুরুষের যে তন্ত্র = পুরুষতন্ত্র
পুরুষতন্ত্র হলো নেগেটিভ একটি মূল্যবোধ যেখানে নারী বিভিন্ন বঞ্চনার শিকার হয়, নিযার্তিত হয়, নিপিড়ীত হয় আর সমাজ তাকে বৈধতা দেয়। সমাজকর্তৃক সৃষ্ট এই তন্ত্রের বেড়াজালে জড়িয়ে নারীকে শোষণ, নির্যাতন, নিপীড়ন, ধর্ষণ, ইভটিজিং ও হেয় প্রতিপন্ন করা করা হয়, নারীর বাক স্বাধীনতা ও গতিশীলতাকে করা হয় রুদ্ধ, নারীর পছন্দ ও অপছন্দতে দেয়াল তুলে দেয়া হয়, সম্মত্তির অধিকারকে ছোট করে দেখা হয়। সময়ের পরিক্রমার এই তন্ত্র একেক সময় একেক রূপে আবির্ভূত হয় — যেন ঠিক রাক্ষসের রূপ পাল্টানোর মতই — যেখানে যে কৌশল প্রয়োজন তা প্রয়োগ করতে পিছ পা হয় না। এই তন্ত্র শুধু পুরুষই মনে লালন পালন ও চর্চা করে না বরং নারীও নিজের অলক্ষে এই তন্ত্র নিজের মনে নিয়ে নেয় এবং তা প্রয়োগও করে– যেমন একজন পুরুষ যদি হয় সূর্য্য তবে সেই সূর্য্য এর আলোকে আলোকিত হয় সেই পুরুষের মা, বাবা, ভাই, বোনসহ বাড়ির আরো অন্যান্য সদস্য। এখন উক্ত বাড়িতে ঐ ছেলের/পুরুষের যে বউ সে কখনো কখনো তার পরিবারের উক্ত সদস্যদের দ্বারা মানসিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়, আবার সেই পুরুষ/ স্বামী ব্যক্তিটি নারীকে/ তার বউকে শারিরীক বা মানসিকভাবে নির্যাতন করে ——। ঐ বউটিও এক সময় শাশুড়ী হয় সেও কিন্তু পরে ঐ একই গীত গাইতে থাকে, উক্ত পুরুষ এবং তার বউয়ের মেয়েটি/ছেলেটিও দেখতে দেখতে ঐ একই নেগিটিভ মূল্যবোধ শিখে ফেলে যা ছেলেটি তার বউয়ের উপর চাপাতে থাকে আর উক্ত মেয়েটিও অন্যের বাড়ি যেয়ে সেই বাড়ির সুন্দর পরিবেশ ঘোলা থেকে আরো ঘোলা করে শান্তির বারোটা বাজিয়ে তেরটা ঝুলাতে থাকে —।

পুরুষতন্ত্রের পুরোটাই চলে ক্ষমতার দাপটে। আর তাইতো একজন ধনী নারী/পুরুষ দ্বারা একজন দরিদ্র নারী/পুরুষ নির্যাতিত হয়, সব পরিবারেই পুরুষ দ্বারা নারী নির্যাতিত হয়, নারী নির্যাতিত হয় শুধুমাত্র নারী হওয়ার কারণে, একজন দরিদ্র পরিবারে পুরুষ ব্যাক্তিটি নারীকে নির্যাতন করছে কারণ তার হাতেই রয়েছে পাওয়ার —-

পুরুষতন্ত্র নারীর চলার পথে কাঁটা দিয়ে ভরে রাখে–যে কাঁটা শুধু নারীর পায়েই ফোঁটে না তার বংশধরদের তথা সমাজের নারী/পুরুষ/কিশোর/কিশোরী/শিশুদের মনেও ফোঁটে — যার জ্বালা ছড়িয়ে পড়ে বংশ থেকে বংশ পরম্পরা, সমাজ থেকে সমাজে —।

 

উৎসর্গ: ব্লগার লীলাবতীকে, আজ এই প্রিয় ব্লগারের জন্মদিন, শুভকামনা রইল প্রিয় বোন

 

মোট পড়েছেনঃ ৬৫৪জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

১৮টি মন্তব্য

  1. একটি বিষয় খেয়াল করেছেন আপু, কোন ধর্মে কোন নারী প্রচারক নেই। সব পুরুষ। ধর্মেই যখন এটি করেছে, পুরুষরা তো একটু এমন হবেই 🙂 ভালো লিখেছেন আপু। অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে উৎসর্গ করার জন্য -{@ (3

  2. পুরুষতন্ত্র আসলে একটি সংক্রামক রোগ
    পুরুষ নারী উভয়েই এতে আক্রন্ত হয়ে যায়
    এর কোন চিকিৎসা আমাদের দেশে নেই আপাতত
    লেখার সাথে একমত।

    লীলাবতীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা।

    1. লেখার সাথে সহমত প্রকাশের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ–
      আসলেও পুরুষতন্ত্র একটি রোগ– এই রোগ হতে মুক্তির একমাত্র উপায় আমাদের ইতিবাচক মূল্যবোধগুলো চর্চা করা —
      শুভকামনা রইল

  3. শিক্ষা মানুষকে আলোকিত করে, একটা গেয়ো পরিবার থেকেও যখন একজন শিক্ষিত মানুষ বেরিয়ে আসে, তার নিজের মূল্যবোধ তৈরি হয়। এই শিক্ষারই যেন আমি অভাব দেখতে পাই। নিম্ন থেকে উচ্চবিত্ত কেউ এই তন্ত্র থেকে বের হয়ে আসতে পারেনা এটাই অবাকের। নারীর জন্য কোন আলোই আমি আর দেখিনা। অনেকদিন পর এলেন আপু ভালো একটি লেখা নিয়ে। ভালো থাকবেন।

    1. আসলে এটা মন মানসিকতার বিষয়– মেয়েদেরও যে মন আছে, তাদেরও যে ভাল লাগা মন্দ লাগা আছে, তাদেরও যে চাহিদা /পছন্দ আছে, মনের ভিতর কত কথা আছে যা অন্যদের সাথে শেয়ার করতে ইচ্ছে করে, কোথাও যেতে ইচ্ছে করে–অবসর সময়গুলো আনন্দময় করে কাটাতে ইচ্ছে করে তা আমরা ভাবি না ——-
      ভাবা হয় — মেয়েরা তো মেয়ে মানুষ, তারা আবার মানুষ নাকি —
      হায়রে সমাজ —
      ভাল থাকুন আপু

  4. আপনাকে ধন্যবাদ এমন একটি শক্তিশালী পোষ্টের জন্য। খুবই ভালো লেগেছে আপু। সহব্লগারকে জন্মদিনে পোষ্ট উৎসর্গ করায় ভালোলাগাটা আরো বেশি (y)

    1. পোস্টটি ভাল লেগেছে জেনে আমার ভীষণ ভাল লাগলো আপু
      এখনো প্রতি নিয়ত কত নারী নির্যাতনের শিকার হচ্ছে তার হিসাব কে রাখে — লিখতে চাই নারী বিষয়ে, তেমন সময় পাই না — তারপরও লিখলাম
      সহ ব্লগারদেরতো উৎসাহ দিতে হবে যাতে তারা আরো লিখে, সোনেলায় আমরা সবাই যেন একটা পরিবারে বাস করছি —–
      শুভকামনা রইল

মন্তব্য করুন