ভালোবাসা দিবসে অপ্রেমের গদ্য

একছিলো পরী –
পরীটার ডানা ছিলো লুকোনো,তাই সবাই তাকে সাধারণ মানবী ভাবত। কিন্ত যাদের জানা ছিলো পরী হচ্ছে পরী, তারা সবাই তাকে আগলে রাখতে চাইতো – অধিকারে মায়ায় ভালোবাসায়। কিন্ত পরীর অপেক্ষা ছিলো এক ম্যাজিশিয়ানের , যে জাদুকাঠি ছুঁইয়ে তাকে মুক্ত করবে মানব খোলস থেকে, উড়বার আকাশ দেবে । এই ভাবনায় তার দিন কাটে, রাত কাটে । ম্যজিশিয়ান আর আসেনা।

এক ছিলো ম্যাজিশিয়ান –

কিন্ত সে নিজেই জানতো না তার কাছে যে জাদুরকাঠি আছে, হাতের মুঠোয় স্বপ্ন আছে, বুকের ভেতর নদী। সে ভাবছিলো সাধারণ মানুষের জন্ম নিয়ে এসেছি সাধারণ হয়ে কাটিয়ে যাই।

 

এক ছিলো রাক্ষস –

তাকে সবাই ধর্ম নামে ডাকে। তার ছিলো লুকনো দাত নখর, সযত্নে লুকনো।

 

পরী আর ম্যাজিশিয়ান আর রাক্ষস , তিনজন যারযার মত দিন কাটায় কেউ কারো ছায়াও মারায় না , যেন তিনজনের কেউই বাস্তবে নেই – যেন জলের ওপর মেঘের ছায়া।

 

তারপর একদিন, প্রচন্ড কোলাহল আর ভীর এবং বাজনার ভেতরে শাখের শব্দ আর ধুপের ধোঁয়া এবং হ্যাজাক বাতির হিসহিসে আলোর ভেতর চোখে চোখ পরে ম্যাজিশিয়ান আর পরীর। মুহূর্তের জন্য কোলাহল আলো বাজনা থেমে যায় – কেবল নিঃশব্দ আর বুক ধুকপুক।

 

আড়ালে রাক্ষস মুচকি হেসে দাতে আর নখরে শান দেয়।

 

তারপর, ম্যাজিশিয়ানের ম্যাজিকে পরী সত্যিকারের পরী হয়ে উড়ে বেরায় আকাশ জুড়ে, তারা চাইলেই রাস্তাগুলো নদী হয়ে যায়, তুচ্ছ একটা বাইক হয়ে যায় পঙ্খিরাজ ঘোড়া। দিনের রঙ বদলায় যখন তখন – তারা চাইলেই বৃষ্টি নামে। তুমুল বৃষ্টিতে হাতেহাত রেখে তারা হেটে যায় নির্বিকার।

 

তারপর –

তারপর –

তারপর –

রাক্ষস আড়াল ছেরে আসে প্রকাশ্যে, হিংস্র দাত নোখ বের করে আচড়ায় কামড়ায়। তারা রক্তাক্ত কিন্ত হাসিমুখে সয়ে যায়, সব।

 

অতঃপর,

একদিন, পৌষের সকালে সূর্য ওঠার আগের আলোয় তারা মুখোমুখি হয়

– তোমার চোখ অত লাল কেন, ঘুমাওনি ?

– হ্যাঁ, ঘুমিয়েছি। আবার কবে দেখা হবে ?

– জানিনারে পাগলী। হয়তো এজন্মে নয়। যাই , যাবার সময় হলো।

– যাই বলেনা, এসো। নিজের যত্ন নিয়ো ।

– হু

– হু

 

এবং,

বহু, বহুদিন পর এক মাঝরাতে মাঝখানে দুই দুইটা মহাসগরের দুরত্বে বসে ম্যাজিশিয়ান বুঝতে পারে পরীর চোখ গুলো অত লাল ছিলো কেন, সেই ভোরে।

কান্নায়।

আর বৃষ্টির ছাঁটে যাবে না দেখা দুজনের চোখের জল…..

একদিন বৃষ্টিতে বিকেলে

আমরা ধরা পড়ে যাব জেনো ঠিক

ধুয়ে যাবে যত আছে অভিমান

ধুয়ে যাবে সিঁদুরের টিপ

মোট পড়েছেনঃ ৬৭৬জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২৯টি মন্তব্য

  1. রাক্ষস কে ধর্ম না বলে সমাজ দিলে কেমন হতো? সবার অপ্রেমের গল্প হয়ে যেত।
    কেমন করে এতো সুন্দর লেখেন কে জানে, অজানা ম্যজিসিয়ানরা অবশ্য অনেক কিছুই পারে। প্রেমের গল্প আর পরুম না, এখন থাইকা অপ্রেমের গদ্যই দিয়েন।
    তারা চাইলেই বৃস্টি নামে, তারা চাইলেই রাস্তাগুলো নদী হয়ে যায়। আবেগের চুড়ান্ত লেখায় 🙂
    কান্নায়। এর পর “আর” দিয়ে কবিতাটি শুরু, অনেক ভাল্লাগছে।

    1. রাক্ষস সমাজকে বলতেই পারতাম , কিন্ত কাহুনেরা সবসময়েই শামানদের সাথে তাল মিলিয়ে ধর্মীয় সমাজব্যাবস্থা বানায়েছে – ধর্মীয় আচার ভিত্তিক সমাজ কিন্ত না, দ্যাটস ধর্মের নামে মানুষেরে ডমিনেট করার ব্যাবস্থা । যেটা তুলনামুলক সহজ , কারন আদিমকাল থেকেই মানুষ তার বুদ্ধির বাইরে বোঝার বাইরে যাকিছু ঘটে তার দায় কিংবা ব্যাখা অদেখা ঐশ্বরিকের ওপ্রে চাপায়ে দিয়ে শ্বান্তনা খোজে । এবং এইটারেই ব্যাবহার করা হয় তারে ডমিনেট করতে।
      আর এইটা একটা সত্য ঘটনা – এবং সত্যিকারের রাক্ষস 🙂

      ওইটা কবিতা না শুন্য – গান অঞ্জন দত্তের গান । অন্যের লেখা দেখেই ব্লককোট করে দিছি 😀

  2. এত্তো এত্তো আবেগ যে কিভাবে মেশান আপনি কে জানে? মাঝখানে মাঝখানে এমন এমন কিছু কথা বলছেন যাই অতুলনীয় সুন্দর।

    ছোট ছোট টুকরো কথায় গল্পের আদলে পুরো উপন্যাস লিখে ফেলেছেন আপনি ভাইয়া। অপ্রেমের গল্প এমন হলে প্রেমের গল্প দিয়া কাম কি?

    সবাই খালি পদ্য ছাইরা গদ্যের দিকে যাচ্ছে কেন? হেলাল ভাইয়ার আছর এখন আমাদের সবার উপরে পরেছে, সব দায় উনার তবে আছর না পড়লে এমন লেখাও পড়তে পারতাম না।

    1. এইটা এক পর্বের গল্প ভাই 🙂 জীবনের গল্প , এই গল্পের পর্ব বাড়লে বাইচা থাকাই দায় হইয়া যাবে। এর রিপিটও চাইনা এমনকি অন্যকারুর জীবনেও না 🙂

  3. আমার মন্তব্যটি শুন্য শুন্যালয় করে দিয়েছেন।
    ধর্মের চেয়েও রাক্ষস সমাজ এর শক্তি বেশী,তারা ধর্মকে পাল্টাতে পারে।

    এমন লেখায় মন খারাপ হয়
    হতাশ দৈত্য হয়ে মেরে ফেলতে চায়।

  4. বহু, বহুদিন পর এক মাঝরাতে মাঝখানে দুই দুইটা মহাসগরের দুরত্বে বসে ম্যাজিশিয়ান বুঝতে পারে পরীর চোখ গুলো অত লাল ছিলো কেন, সেই ভোরে।
    কান্নায়।…………… পরীকে যেন দেখতে পেলাম ভাইয়া (y)

মন্তব্য করুন