ভূতপূর্ব এবং অভূতপূর্ব নানাবিধ বিষয় নিয়ে মানুষের জল্পনা কল্পনার শেষ নেই।কিন্তু কয়জনই বা প্রয়োজনীয় যৌক্তিক ব্যাপারগুলো নিয়ে ভাবেন তাই হল মুখ্য বিষয়।আমরা আমাদের নানাবিধ সমস্যা নিয়ে না ভেবে ভাবি যা আমাদের অপ্রয়োজন সেসব ব্যাপারগুলো নিয়ে।প্রয়োজনীয়তা এবং অপ্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সুষ্ঠু বিচার বিশ্লেষণ না করা হলে জীবনে অনেক অপ্রত্যাশিত ক্ষতি সাধিত হতে পারে যার ফল অবশ্যই ভালো নয়।এ ব্যাপারে আলোচনা করার অর্থই হল মানুষের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ধারণা লাভের প্রয়াস।

আমরা সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে অভিহিত হওয়ার পেছনে প্রয়োজনীয়তা এবং অপ্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ধারণা থাকা এবং সেই অনুযায়ী বিবেক বুদ্ধি দিয়ে নিজের প্রয়োজনকে অপ্রয়োজনীয় ব্যাপারগুলো থেকে পৃথক করে তার মধ্যে পার্থক্য দাঁড় করিয়ে প্রয়োজনকে প্রাধান্য দেওয়াটাও একটা গুন মনে করি।আমরা প্রত্যহ যে সকল কাজ করে থাকি সেগুলোই যে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় তা নয়।জৈবিক ব্যাপারগুলো প্রয়োজনীয় কিন্তু কিছু কিছু ব্যাপারে প্রয়োজনীয়তা জৈবিক ব্যাপারগুলোর ঊর্ধ্বে।কিছু কিছু ব্যাপারে সমগ্র মানবজাতির প্রয়োজনীয়তাটাও ভেবে দেখতে হয়।কারণ মানুষ মাত্রই পৃথিবী।এই বিশ্বে যেখানে যেখানে লোকালয় আছে সেখানে সেখানে মানুষের প্রয়োজন আছে।কারণ কেউ তো আর জঙ্গলে থাকতে যায় না।বিনোদনের জন্য ভ্রমণ সেটা অন্য কথা।তো আমাদের উচিত সবার প্রয়োজন পূরণের ব্যাপারে সচেষ্ট হওয়া।কারণ আপনি কারো প্রয়োজনের ব্যাপারে দায়িত্বশীল হলে আপনার প্রয়োজনের ব্যাপারেও অন্যজন সচেতন থাকবে।যেমন আপনি মুদির দোকানে গেলে প্রয়োজন যে জিনিস সেটা না বললে তো দোকানদার বুঝবে না যে আপনি কি চান।তখন সে জিজ্ঞেস করবে আপনার প্রয়োজন সম্পর্কে।তারপর আপনি আপনার প্রয়োজন বললে সে তখন আপনাকে আপনার প্রয়োজনীয় জিনিসটা দেবে।এখানে তারও প্রয়োজন আছে আর সেটা হচ্ছে অর্থ।অবশ্যই সে আপনাকে বিনামূল্যে পণ্য দেবে না।আর এভাবেই পরস্পরের প্রয়োজনবোধ থেকে সৃষ্টি হয় সৌহার্দ্য।আর এটাকে বলা যেতে পারে পারস্পরিক সহযোগিতায়(reciprocal co-operation)প্রয়োজনীয়তা মেটানো।তো এভাবেই একে অন্যকে সহযোগিতা করার মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে পারি।কখনই একটা বৃহৎ প্রয়োজনীয়তা যেখানে অনেক লোকের স্বার্থ বিজরিত থাকে তা কখনও একা মেটানো সম্ভব নয়।যেমন ধরুন আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের কথা।সেখানে গোটাকয়েক লোক যুদ্ধ করলে স্বাধীন হওয়া সম্ভব হত না যদি না সর্বস্তরের জনগণ একত্রিতভাবে না আগাত।এখানে সবাই সবার প্রয়োজন সম্পর্কে সচেতন ছিল বিধায় তা সম্ভব হয়েছে।যা নাকি আজকে সবার সচেতনতার অভাবে সম্ভব হচ্ছে না।শুধুমাত্র জৈবিক চাহিদা খাদ্য বস্ত্র বাসস্থান হলেই প্রয়োজন শেষ এটা চিন্তা করা ভুল।দরিদ্র অথবা যাদের জৈবিক চাহিদা পূরণের ক্ষমতা নেই তাদের প্রয়োজন সম্পর্কেও ভাবতে হবে।কারণ তারাও সমাজের অংশ।তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে আমাদেরকেই সচেষ্ট থাকতে হবে।নয়তো এ দেশের উন্নয়নে তারা ভুমিকা রাখতে পারবে না বিধায় দেশের উন্নয়নের গতি শিথিল হয়ে যাবে।আজকে মাথাপিছু আয় হিসাব করা হচ্ছে প্রায় ১৩১৪$।এখন আপনি বলেন যে আপনার বাৎসরিক আয় কি এই পরিমাণ বা একটা ছাত্রের আয় বা একজন বেকার যুবকের আয় কি এই পরিমাণ।একটা গড় হিসেব টেনে বিশ্ব বাজারে নিজের অবস্থান ঠিক রাখা যায় কিন্তু নিজের দেশের অবস্থার উন্নতি হয় না।কারণ এই গড় হিসাবে একজনের আছে ৫০০ টাকা আর বাকি চারজনের এক টাকাও নেই।কিন্তু গড় করলে দেখা যায় সবাই ১০০ টাকার অংশীদার।কিন্তু টাকা তো আর পাচ্ছে না।কারণ টাকাটার গড় বণ্টন হচ্ছে সুষম কিন্তু মালিকানা পরিবর্তিত হচ্ছে না।তাই আমাদের এই চিন্তা করতে হবে যে কি করলে ঐ বেকার চারজনও সমান না হলেও কিছু আয় করতে পারে।তাহলে অবশ্যই তাদের আয়ের গড় আরও বড় হত এবং সবাই তার অবস্থান থেকে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারতো।কারণ এই অবস্থায় একজন দিনমজুর বা একজন রিকশাওয়ালার আয় দেশের অর্থনীতিতে কোন ভুমিকা রাখতে পারছে না।আর বেকার হলে তো কথাই নেই।তো নিজেদের নিয়ে ভাবতে হবে নিজেদেরই।আর এর জন্য কি কি পরিবর্তন আনতে হবে সেই ব্যাপারগুলো নিয়ে প্রয়োজনবোধে আন্দোলন করতে হবে।নতুবা এই দেশের পরিবর্তন কোনদিন সম্ভব নয়।এখন প্রয়োজনীয়তা এবং অপ্রয়োজনীয়তার কিছু নজির দেখা যাক।

মহানবী (সাঃ) প্রয়োজনীয়তার অপ্রয়োজনীয়তার তাগিদে হাজার হাজার বাণী বা হাদিস দিয়ে গেছেন।আর ইসলাম প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনে কত ত্যাগ আর উৎসর্গ করেছেন তা আমরা সকলেই জানি।

এডলফ হিটলার একজন দিনমজুর ছিলেন।তিনি তার প্রয়োজনীয়তা এবং অপ্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন ছিলেন ছোটবেলা থেকেই।তিনি মাত্র তিন ঘণ্টা ঘুমাতেন এবং করতেন অক্লান্ত পরিশ্রম।যার ফলশ্রুতিতে তার জীবনে কি ধরণের সাফল্য আসে তা মোটামুটি সবাই একটু আকটু জানি।

মিশরের নাগরিকেরা তাদের প্রয়োজনের তাগিদে গণমাধ্যম ফেসবুকের সাহায্যে সকলে সমবেত হয়ে আন্দোলন করে রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করতে সক্ষম হন।

নরেন্দ্র মোদী একজন চা বিক্রেতা থেকে প্রয়োজনে এবং চেষ্টায় আজ ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

অপ্রয়োজনীয় কারণবসত মঘল সম্রাট আকবর হারান তার রাজ্যখ্যাতি।

এ রকম হাজারও সাফল্যের গাঁথা আছে প্রয়োজনীয়তা এবং অপ্রয়োজনীয়তাকে ঘিরে।যা বললে কয়েকদিন পেড়িয়ে যাবে কিন্তু গাঁথা শেষ হবে না।এসব থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে।এসব গাঁথার বিরুদ্ধে অযথা যুক্তি দাঁড় করিয়ে নিজেকে গুটিয়ে রাখলে চলবে না।কারণ যে যার প্রয়োজনে সম্মিলিতভাবে যা করেছে তাতেই এসেছে সফলতা।কারণ প্রয়োজনীয়তাই উদ্ভাবনের জনক।আমাদের প্রয়োজন নিয়ে আমরা আওয়াজ তুললে সে আওয়াজ কখনও বিফলে যাবে না তা আমার প্রত্যাশা।কিন্তু সেই আওয়াজ হতে হবে আওয়াজের মত যার মধ্যে থাকতে হবে পরিবর্তনের স্বপ্ন এবং তা পূরণ করার মত যথেষ্ট শক্তি এবং সাহস।তবেই এই দেশে পরিবর্তন আসবে নতুবা রয়ে যাবে পিছিয়ে।নিজের মাতৃভূমির কল্যাণের কথা চিন্তা করে হলেও আমাদের সবার উচিত সেই আওয়াজ তোলা যার সুরে মেশা থাকবে পরিবর্তনের মন্ত্র।।

রাহাত হোসেন

৪৮৮জন ৪৮৮জন
0 Shares

একটি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ