প্রত্যেক পিরামিডের একটি গল্প আছে ,  ছড়ানো ছিটানো  এই পিরামিড এবং তাদের পেছনের  গল্প 

প্রাচীন মিশর 

এখন পর্যন্ত ১১৮ টি পিরামিড চিহ্নিত  করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮০ টি সুদানে বাকি সব  মিশরে । পিরামিড বলতেই মিশরের গিজায় অবস্থিত তিনটি সারিবদ্ধ কুফু,কাফ্রি এবং ম্যানকাউরের পিরামিড আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠে। কারন এই সুউচ্চ তিনটি পিরামিডের প্রচার বেশি করা হয়ে থাকে তাদের উচ্চতা এবং সঠিক পিরামিড আকারের  জন্য । 

বেশির ভাগ পিরামিড ছোট আকৃতির । কেন আর  পিরামিড বড়ো উচ্চতাই বানানো হলো  না।  কেন ছোট আকৃতির  পিরামিড নির্মাণ হতে থাকলো এবং কে ছিল এর নির্মাতা  সেটায়   এই লেখার বিষয়বস্তু। 

হাইরগ্লিফিস (Hieroglyphics) লেখা দিয়ে প্রাচীন মিসরিরা যে ভাবে পিরামিড লিখতো

পিরামিড কে মিসরীয়রা Myr বলে , যার হাইরগ্লাফিক  সিম্বল ত্রিভুজ আকৃতির একটা  নকসা । বেশির ভাগ পিরামিড গিজা, সাকারা, আবুসির, আবু রাওয়াস , যাওয়েত ( zawyet) , নেবকা, লায়সে এবং এল আরিয়ান এ অবস্থিত ।  

Karl – Richard Lepsius ১৮৪২ সালে সর্ব প্রথম পিরামিডের লিস্ট তৈরি করেন । তখন তিনি ৬৭ টি পিরামিড পেয়েছিলেন । তার নাম অনুসারেই এই লিস্ট টিকে ‘লেপিয়াস লিস্ট অফ পিরামিড’ বলা হয়। তার পরেও আরও পিরামিড পাওয়া যেতে  থাকে।  

পিরামিড ২৯ , যার  মাথাটি ভেঙ্গে পড়েছিলো কালের বিবর্তনে

‘পিরামিড ২৯’  , যার মাথা বা চুড়া ছিলনা তাই একে বলা হয় মাথা হীন পিরামিড। লেপসিয়াসের সার্ভের সময়ে তিনি বালুর তল থেকে তা  উদ্ধার করেন। পরে তা আবার বালুর তলে  চলে যায় ।  ২০০৮ সালে আবার সেটা বালুর তল থেকে উদ্ধার করা হয়। 

সব শেষে আরও একটি পিরামিড পাওয়া গেছে সেটা হল ‘ নেইথের পিরামিড ‘ যিনি কিনা ফ্যারো টেটির স্ত্রী । 

মিশরকে বলা হয় আর্কেওলজিসট  দের হাব। বিখ্যাত সব  আর্কেওলজিসট সেখানে অবস্থান করছেন এবং আবিষ্কার করে যাচ্ছেন  প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার মিসট্রি । আমরা জানতে পারছি তাদের কালচার, জীবন যাত্রা, সমাজ ব্যাবস্থা দেশ পরিচালনা, খাদ্যাভ্যাস এবং ধর্ম। পৃথিবীর যে কোনো সভ্যতা পুরো মানব জাতির সভ্যতা । 

একটা  ইতিহাস প্রমাণ করার জন্য আর্কেওলজিসট রা নানা রকম বৈজ্ঞ্যানিক পদ্ধতি ব্যাবহার করে থাকেন। DNA টেস্ট, সময় নিরূপণের জন্য কার্বন টেস্ট, হাড় বিশেষজ্ঞ, এক্সরে , জিওলজিষ্ট , থ্রি ডি ক্যামেরা ,রেডিওলজিসট ,  ভূকম্পন মেশিন এবং সর্ব শেষ আধুনিক স্পেস এক্সরে মেশিন যা দিয়ে  স্পেস থেকে স্যাটেলাইজ ইমেজ এই এক্সরে মেশিন দিয়ে  মাটির নিচে  থাকা শহর স্থাপনা সব দেখতে পাওয়া যায়। যা নিচে দাঁড়িয়ে থেকে দেখা সম্ভব নয়। 

পিরামিডের ইতিহাস জানতে হলে আমাদের আগে তাদের সভ্যতার সময়কাল জানতে হবে। 

মিশরের শাসক দের শাসনকাল কে তিনটি সময়কালে ভাগ করা হয়েছে। ১) ওল্ড কিংডম  ( ২৭০০-২,২০০BC)  , ২) মিডিল  কিংডম ( ২,০৫০-১,৮০০BC)  ৩) নিউ কিংডম ( ১,৫৫০-১,১০০ BC) নিউ কিংডমের শেষ সময় টিকে বলা হয় লেট নেউ কিংডম । যার সময় কাল ৩৪৩ BC। 

যদিও আধুনিক ইজিপটিওলজিসট এবং পণ্ডিত গোন  অনেক গবেষণা করে তাদের শাসন আমলকে মোট  নয়টি  সময়কালে ভাগ করেছেন। রাজনৈতিক,সামাজিক এবং দেশের মানুষের গোলমাল প্রতিবাদ এসবের উপর ভিত্তি করে।

এগুলো হলো

 ১) আরখাইক সময়কাল ( The Archaic Period (414 years)  2) ওল্ড কিংডম ,  The Old Kingdom (505 years ), 3)  প্রথম ইন্টারমিডিয়েট ( The First Intermediate (126 Years). ৪) মিডেল  কিংডম The Middle Kingdom ( 405years) ,৫) দ্বিতীয় ইন্টারমিডিয়েট (  Second Intermediate Period (100 years) ৬) নিউ কিংডম ( The New Kingdom (. 481Years) ,৭) তৃতীয় ইন্টারমিডিয়েট ( The Third intermediate Period (302 years) 

ডাইন্যাসটি তাকেই বলা হয় যাতে  একই  রকমের শাসক (সিরিজ অফ গভর্নমেন্ট  ) যাদের উৎপত্তি এবং শাসনের ধরন একি রকম এবং একি পদ্ধতি অনুসরণ করে দেশ পরিচালনা করা হয়।  

বর্তমানে আধুনিক পণ্ডিত গোন এই শাসক  গ্রুপের  সমন্বয়ের সময়কাল কে কিংডম বলে অভিহত করেন। 

উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় ১৮ th ডাইন্যাসটির নিউ কিংডমের প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা সবচেয়ে উচ্চ ক্ষমতায় যাওয়া একটি সময়কাল । যাকে বলা হয় ‘Peak of its power’ বা ক্ষমতার শীর্ষে যাওয়ার সময়কাল । 

এখন আমরা দেখবো  পিরামিড গুলো কোন  কিংডমে তৈরি হয়েছিল । 

বেশির ভাগ পিরামিড ওল্ড কিংডমে নির্মাণ হয়। 

সাকারাতে সবচেয়ে পুরানো পিরামিড গুলো যেমন স্টেপ পিরামিড এবং বেনড পিরামিড নির্মাণ হয়। পিরামিড আকার দিতে যেয়ে কিছু ত্রুটি থাকার জন্য ‘ পিরামিড সেপ’  দিতে পারেনি । বলা যায় এগুলো  ছিল প্রাথমিক পর্যায়ের গবেষণা মূলক পর্যায়ের । আর কুফু,  কাফ্রে এবং ম্যানকাউরের পিরামিড প্রোপার ঠিকঠাক মতো পিরামিডের আকার পায়। 

প্রথম দিকে  মিসরীয়রা   কবরের উপরে  উঁচু টেবিল আকৃতির একটা  ঢিবি বানাতো  । যাকে তারা  ‘মাস্তাবা’ বলতো। 

‘ মাস্তাবা ৩৮০৮’  হল প্রথম একটি কবর যার মালিক হলেন আনেডজীব ( anedjib ) নামে একজন ফ্যারোর  ( ২৬৩০-২৬১০) । এই মাস্তাবার ভিতরের দেয়ালে লেখা আছে তার নাম এবং সাল । 

পিরামিডের আকৃতি কেন ছোট হতে থাকলো 

ওল্ড কিংডমের শেষে দিকের সময় টিকে বলা হয় ‘মিশরীয় সভ্যতার অন্ধকার সময়’ । এই সময়ের ফ্যারো পেপি ১ এবং পেপি ২ । পেপি ২ এর শাসনকাল ছিল দুর্বল শাসকের সময় কাল। এর কারন গুলো 

১) সেন্ট্রাল বা কেন্দ্রে নির্দেশ দেয়ার মতো কেউ ছিলনা 

২) দুর্বলতার কারনে স্থানীয় নেতারা মাথা চাড়া দিয়ে উঠে 

৩) ক্ষমতা নেয়ার  জন্য মারামারিতে লিপ্ত হয় 

৪) সে সময় সমস্ত পৃথিবীতে ক্লাইমেটের পরিবর্তন 

৫) বৃষ্টির অভাবে নীল নদে পানি প্রবাহ ছিলনা 

৬) পানির অভাবে চাষাবাদের বিঘ্ন ঘটে 

৭) ফলাফল স্বরূপ দুর্ভিক্ষ , অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়ে  এবং খ্যাদ্যের অভাবে অনেক মানুষে মৃত্যু 

এ ঘটনা গুলো পেপির পিরামিডের দেয়ালে লেখা আছে। 

একটা ঘটনা প্রমাণ করার জন্য আর্কেওলজিসট ক্লু খুঁজতে থাকেন এবং বিজ্ঞান ভিত্তিক প্রমাণ দরকার হয়। নীল নদের হাজার হাজার ফিট গভীর তলদেশ থেকে ড্রিলের সাহায্যে মাটি  আনে মৃত্তিকা বিজ্ঞানীরা এবং এই মাটির  পলির স্তরের রেকর্ড থেকে তারা বুঝতে পারেন  কত বছর কোন স্তরে পলি জমে নাই। এবং সেই পলি না জমা স্তরের সময় কালে পানির অভাবে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল সেটাই তার প্রমাণ।

তা  ছাড়া আবহাওয়াবীদ প্রমাণ পায় যে সেই সময় কালিমেঞ্জরো  পর্বতে গ্লেসিয়ারও জমেনি যা গলে নীল নদে পানি প্রবাহ করবে। ।  

পেপির ২ এর পিতা পেপি ১ ,তার  কবর টি পুড়িয়ে ফেলে প্রতিবাদী জনতা। 

পিরামিড করার টাকাও ছিলনা। দুর থেকে পাথর আনা একটা  খরচ বহুল ব্যাপার।এই  সব কারনে সূউচ্চ পিরামিড নির্মাণও বন্ধ হয়ে যায় ।তা ছাড়া ওয়ার্কার শ্রেণী ফ্যারোদের প্রতি লয়ালিটি দেখানো থেকে সরে  পড়ে। তাদের প্রদান করা ট্যাক্স দেয়া থেকে পিরামিড বানানো কে বাহুল্য মনে করতে থাকে।  

ছোটো ছোটো পিরামিড ঃ 

 

লাহুনের পিরামিডঃ (lahun) 

লাহুনের পিরামিডের আর এক নাম ‘এল লাহুন’ । ১২ ডাইনেসটির সময় কালে 1180 BC ‘ সেনউসার’ শাসন আমলে নির্মাণ হয়। এটা এখন একটি ধ্বংস প্রাপ্ত স্থাপনা। এখানে প্রবেশ করার রাস্তা একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। 

ব্রিটিশ আর্কে ওলজিসট  স্যার ফ্লিন্দার পেটরী( Sir Finders Petrie) ১৮৪০ সালে  মাসের পর  মাস সময় লাগিয়ে এখানে খনন কাজ করে এর দরজা খুঁজে পান। প্রাচীন মিশরীয়দের ধর্ম  অনুযায়ী পিরামিডের দরজা থাকার নিয়ম পিরামিডের উত্তর সাইডে কিন্তু মমি এবং তার সাথে দেয়া ধন সম্পদ চুরির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ইচ্ছাকৃত ভাবে এর দরজা লুকানো  হয়ে ছিল দক্ষিণে। তিনি সেখানে কোনও মমি বা ধন সম্পদ পাননি। তবে দেয়ালে পিরামিডের স্পেল এবং ফ্যারোর নাম লেখা  ছিল । 

তৈরি করার পদ্ধতি ছিল কাল একটা ছোটো গ্রানাইডের  পাথরের উপর পিরামিডের প্রতিস্থাপন । 

 

উসারকাফের পিরামিড ( userkaf) 

সাকারায় অবস্থিত এই পিরামিডটি ২৪৯২-২৪৮৭ BC তে নির্মান হয়। ফ্যারো  উসারকাফের শাসন কাল  ছিল পঞ্চম ডাইনেসটিতে । তার পিরামিড এখন একটি ধ্বংস প্রাপ্ত ইটের আর পাথরের স্তূপ । যাকে একটা ছোটখাটো ঢিবি বলা যায়। তার মধ্যে একটি কোর আছে এবং যার  চারদিকে পাথর দিয়ে ঢাকা। 

প্রত্যেক পিরামিডের কাছে প্রাচীন মিশরীয় দের অবশ্যই একটি মন্দির থাকে। এখানেও তাই ছিল এবং একটি প্রাচীরও ছিল। 

চতুর্থ  ডাইন্যাসটির পিরামিডের চেয়ে এর নির্মাণ পদ্ধতি কিছুটা আলাদা। র‍্যামেসিস ২,  ১৫০০০ বছর পরে  এটাকে পুনর্নির্মাণ করেছিলেন। 

বর্তমান কালের আধুনিক আরকেওলজিসট গোন ১৮৩১ সালে এখানে প্রবেশ করার টানেল খুঁজে পান। কিন্তু প্রবেশ করতে  সক্ষম হন ১৮৩৯ সালে। তবে সম্ভবত টুম্ব রবার দ্বারা এই টানেল টি করা হয়েছিল। 

পিরামিড হাওয়ারা (hawara) 

কাইরো থেকে তিন ঘণ্টার ড্রাইভ এর দূরত্বে এই পিরামিড। আমেনমেহাট  ২, ১২ ডাইনেসটির ষষ্ট ফ্যারো সাল ১৮৫০ BC তে নির্মাণ । একে বলা হয় কালো পিরামিড । উচ্চতা ৬০ মিটার। প্রথমে তিনি দাসুর পিরামিড নির্মাণ করেন। কিন্তু তা ঠিক এঙ্গেলে ছিলনা বলে পড়ে যায়। পরে এটা মাটি দিয়ে  নির্মাণ করলেও এটাও ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। এটির  প্রবেশের পথটি এতোই আঁকা বাঁকা  ভাবে তৈরি যাতে চোর প্রবেশ করতে না পারে। 

টেটির পিরামিড 

সাকারায় পিরামিড এলাকায় ফ্যারো টেটি ২৩৪৫-২৩৩৩ BC সালে  ষষ্ট  ডাইনেসটি তে সেটি  নির্মাণ করেন নিজের কবরের জন্য। উনিশ শতকে এই পিরামিডের উপরে  গবেষণা এবং খনন কাজ আরম্ভ কোরে আর্কেওলজিসট  দ্বারা। তারা পিরামিডের ভিতরের দেয়ালের লেখা উদ্ধার  করেন। এর পাশে ছোটো ছোটো দুটো রাণীর পিরামিড এবং অফারিং মন্দির পান ভিতরে টেটির চ্যাপেলে পাঁচটি স্ট্যাচু ,হলওয়ে যা কিনা বিউরিয়াল চেম্বারে যোগ করে। সেখানে ছিল ফিনের‍্যারি স্থান এবং টেটির নাম। 

উপর থেকে দেখলে মনে  হবে ছোটো খাটো একটা  পাহার যা ধ্বংস প্রাপ্ত হয়ে মাটির ঢিবির আকার নিয়েছে। সম্পূর্ণ ভাবে ধ্বংস হলেও ভিতরের করিডর এবং চেম্বার অনেক ভালো  প্রিজারভড  অবস্থায় আছে। 

উনাসের পিরামিড ( piramid of unas) 

সাকারায় অবস্থিত পিরামিড উনাস 24th BC তে  নির্মাণ ফ্যারো উনাসের জন্য। বানানর সময় এর উচ্চতা ছিল ৪৩ মিটার। এখন সবি ধ্বংস প্রাপ্ত। ভিতরের দেয়ালের পিরামিড টেক্সট আছে যাতে দেখা যায় তাকে মৃত্যুর পর রক্ষা করা হবে বুক অফ ডেড দ্বারা। 

উনিশ শতকে পশ্চিমা বিশ্বের বিশেষজ্ঞ এটিকে  পুনরায় ভালো মতো গবেষণা চালান। সে সময় এখানে তারা  একটি মমি পান। 

মেইডামের পিরামিড ( Pyramid of Medium) 

এই পিরামিডটি কায়রো থেকে দক্ষিণে ১০০ কিমি. দূরত্বে ফ্যারো হুনির জন্য। তখন পর্যন্ত পিরামিড ঠিক  কি ভাবে নির্মাণ করলে সঠিক পিরামিড আকার হবে তা তাদের জানা ছিলনা। এই জন্য এটি ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। তাছাড়া এর চারদিক পাথরের বদলে বালু দ্বারা ঢাকা ছিল। যার ফলে  খুব তাড়াতাড়ি ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। 

সেনুসরেট এর পিরামিড ( Pyramid of Senusret) 

১৮৪০ সালে ব্রিটিশ আর্কেওলজিসট এবং ইজিপটোলজিসট  স্যার উইলিয়াম ম্যাথেউ ফ্লিন্দার পেটার এই  পিরামিডের উপরে গবেষণা চালায়। সেনুরসেট ২ , ওল্ড কিংডমের একজন ফ্যারো । এর একটা চ্যাপেল আছে যা উত্তর মুখি। পেটরি এর প্রবেশের টানেল আবিষ্কার করে ,  যা করতে তার অনেক চেষ্টা করতে হয়েছে এবং তিনি অনেক বার ব্যর্থ হন। এর উত্তরে একটি করিডোরও আছে। এটার সিলিং গ্রানাইড পাথরের । এর মধ্যে বিউরিয়াল চেম্বার খালি পড়ে  ছিল। পশ্চিমের দেয়ালের কাছে একটা শূন্য সারকোফাগাস ( sarkophagus) অর্থাৎ মমি রাখার পাথরের আধার পড়ে ছিল ।  একটা অ্যালাবেসটার অফারিং  টেবিল ( যেখানে মমির জন্য খাবার দেয়া থাকে। ) ,যেখানে ফ্যারোর নাম লেখা ছিল । একটা সোনার uraeus এবং একটা মানুষের পায়ের হাড় পড়ে ছিল। হয়তো সেটা ফ্যারোর পা হতে পারে। 

পিরামিডের কাছে গেলে পরিষ্কার দেখা যায় তিনটি লেভেল বা ধাপে ধাপে  করা। এটা সরাসরি খাড়া ভাবে উপরে উঠেনি বা একটা চুড়াও করতে পারেনি। মিশরীয়রা এটাকে ‘ এল হেরেম এল কাদ্দাব’ বলে অভিহিত করেছে। অর্থাৎ সরাসরি খাড়া না হওয়া । এই পিরামিডের চারদিকে অনেক মাস্তাবা বা কবর আছে বেশির ভাগ মাটির তৈরি। 

পিরামিড ডিজেডফ্রে,  ( আবু রাওয়াস ) 

আবু রাওয়াস এ অবস্থিত ডিজেদফ্রের  পিরামিড টি একেবারে ধ্বংস প্রাপ্ত ,শুধুমাত্র নিচের ফাউনডেসান টি আছে। প্রথমে আরকেওলজিসট গন মনে করেছিলে এটি অসমাপ্ত একটি পিরামিড । পরে  গবেষণায় জানা যায় এটার  পাথর নিয়ে গিয়ে রোমান আমলে  রোমান রা তাদের কপটিক মনেস্তারি তৈরি করে। এটা ভেঙ্গে এর পাথর নিয়ে যেতে  তিন শত উটের ব্যাবহার হয়েছিলো । 

ডঃ মাইকেল বাউদ প্যারিস মিউজিয়ামের আরকেওলজিসট সাম্প্রতিক সময়ে এখানে খনন কাজ চালায়। ডিজেফ্রে,  কুফুর পরবর্তী সাকসেসর বা উত্তরাধিকারী  ছিলেন। এটি ম্যানকাউরের পিরামিডের সমান উঁচু  ছিল। গ্রানাইড এবং লাইম স্টোন দ্বারা এটি তৈরি ছিল এবং এর চুড়া পিরামিডের আকারে নির্মাণ করা,  যাতে লেখা ছিল ‘ডিযেডফ্রের স্টারি স্কায়’  নিউ কিংডমের শেষের দিকে এটি নির্মাণ হয়। 

 

আবুসির এ মোট  ১৪ টি পিরামিড পাওয়া গেছে। তার মধ্যে প্রধান তিনটি ফ্যারো ১) ( Nyuserre)  নিউসেরে আর ২) Lepsiusxx4 ৩) লেপ্সিউসxx ৫  । রাণী reputnub এবং তাদের সন্তান কবর পাওয়া গেছে। গবেষণা চালান ১৮৩৮ সালে John shaeperring, Karl richard Lepsius, Ludwig Bouchardât , German Oriental Society   

একমাত্র সাকারাতে আছে ২০ টি বিরাট আকৃতির পিরামিড। সুউচ্চ পিরামিড মানে ফ্যারোদের ক্ষমতা , প্রভাব খাটানো এবং নিয়ন্ত্রণ দেখানোর প্রতিযোগিতা । ( pawar,dominent,control’) । পিরামিডের সামনে সিংহ আকৃতির বিরাট  স্ফিং তার মানে ফ্যারোর ক্ষমতা দেখানো, যে  কিনা সিংহের মতোই শক্তিশালী । 

বাকি সব ছোটো ছোটো। মিসরের মরুভূমির বালুতে ঢাকা পড়ে যায় অনেক স্থাপনা। তার সাথে পিরামিডও । যেহেতু আকারে ছোটো তাই ঢাকা পড়তে সময় লাগেনা। 

তবে সারাহ পারসাক ( Sarah Parcak) নামক  একজন আরকেওলজিসট , 21st সেঞ্চুরির   টেকনোলজি ব্যাবহার করে এবং   এই  আমেরিকান আরকেওলজিসট এবং ইজিপ্টটোলজিসট , ১০ কিমি উচ্চতা থেকে , ইনফ্রা রেড ইমেজ দ্বারা মিসরের আর্কেওলজিক্যাল সাইট খুঁজে পান। খুঁজে পান আরও ১৭ টি পিরামিড। 

সামনের সময় বলে দিবে তার এই আবিষ্কার এবং টেকনোলজি কতখানি কার্যকরী । 

তথ্য সূত্রঃ 

Lahun Pyramid senusret 2, Holz christian

The Pyramid of Egypt, Edwards Lorwerth, Harmonds Worth

Cambridge Archaeological  journal, Location of the old Kingdom  Pyramid in Egypt,  Barta, Miroslav

Secrets of the dead,Narrated by Jayo.Sanders

Dark Age Ancient History,  Barbara bell

Lesser Known Pyramid in Egypt , Sherif Khalil

Egyptian Old Kingdom Dynasties , Mark Millmore

Most Fascinating Pyramids in Egypt ,Tpuropia

মিশর ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকে 

Photo credit, wikipedia 

লেখক ও গবেষকঃ  হুসনুন নাহার নার্গিস ,লন্ডন

৯৫০জন ৮১৬জন
0 Shares

২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ