ঋণী

জিয়া আল-দীন ২৫ জুন ২০২২, শনিবার, ০৩:৫৯:৩৯অপরাহ্ন অণুগল্প ১২ মন্তব্য

চারুকলার এই সিঁড়িতে অগণিত স্মৃতি আমার। মোবাইলে ছবিটা দেখে বুকের ভেতর বর্ষা নামলো। চোখের সমানে ভেসে উঠলো সেই ক্যাম্পাস, সেই আলপনা আঁকা উপরে উঠার সিঁড়ি। কতদিন কত সময় এই সিঁড়িতে বসে অপেক্ষা করেছি,কখন তোমার ছুটি হবে,কখন তুমি কাছে এসে বসবে।

চারুকলার ছুটির কোন নির্দ্দিষ্ট নিয়ম ছিল না। ক্লাস শেষেও তুমি আঁকাঝাঁকা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে তোমাদের মাঝে ছিল তুখোড় প্রতিযোগীতা। কার কাজ সুন্দর হবে কে বেশী নাম্বার পাবে সেই প্রতিযোগীতা। আমার ছুটি হয়ে যাবার পর ছুটে আসতাম তোমার কাছে। পাগলের মতো ব্যাকুল হয়ে অপেক্ষা করতাম। এক একটা মিনিটকে মনে হতো শত সহস্র বছর,সেকেন্ড গুলো পিন ফুটাতো গায়ে। কখন তোমার দেখা পাবো,কখন তুমি বের হবে।

ভার্সিটির ক্ষণিকা নামের লাল বাস চলে যেতো। দুপুর গড়িয়ে বিকেলের দিকে তোমার দেখা পেতাম।ততক্ষণে আমার পকেটের সামান্য ক’টা টাকা চা সিঙ্গারা খেয়ে শেষ। তুমি হাত ধরে ক্যান্টিনে নিয়ে যেতে। আবার ফিরে আসতাম চারুকলার পেছনের দীঘির কাছে।তখনো অনেক ছাত্রছাত্রী তাদের নির্মাণ শৈলী নিয়ে ব্যস্ত।আমরা দীঘির পারে একটু নিরালায় বসতাম। তুমি আমার কাঁধে মাথা রেখে তোমার ক্লাসের গল্প,তোমার মনের ভেতর যে সব কথা খেলা করে সবই অকপটে বলতে। ফেরার পথে রিক্সা নেবার সময় বলতাম, আমার পকেট শূন্য, তুমি বলতে সে আমি জানি,নতুন কিছু নয়। হিসেব করে রেখেছি,একদিন সুদে আসলে ফেরৎ চাইবো। তোমার সুদের মেয়াদ পূর্ণ হয়ে চক্রবৃদ্ধি হারে বেড়েছে — বেড়েই চলছে।কই,তুমি তো নিতে এলে না?বিশ্বাস করো,ঋণের শেষ আমি রাখতে চাই না। শুধু একটি বার এসো।

৯৫৭জন ৮৩০জন

১২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

মাসের সেরা ব্লগার

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য