দাহকালের কড়চা

আগুন রঙের শিমুল ২৩ নভেম্বর ২০১৪, রবিবার, ০৩:০০:১৬পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২২ মন্তব্য

ভালোবাসা এসে যখনই আলতো টোকা দেয় বন্ধ দুয়ারে, বালক তার জন্য পথের পাশে ছড়িয়ে দেয় গন্ধ বকুল। তার চলার পথে বিছিয়ে দেয় নরম ঘাসের মায়া, শ্বাসবায়ুতে মিলায় হৃদ সৌরভী ধুপ। মাঝ উঠোনে পেতে দেয় কুসুম আসন, সাঝকে সাজায়ে দেয় জোনাক জলের আল্পনায়।

ভালোবাসা আলতায় রাঙানো পায়ের ছাপ রেখে এসে বসে সাঝের আসনে, মধ্য উঠোনে। ভালোবাসার কানে কানে গল্প বলে, জীবনের গল্প। স্বপ্ন এবং বেদনার, যাযাবর জীবনের গল্প, শিকড়ের গল্প এবং বিচ্ছিন্নতার। সে কান পেতে শোনে, প্রাণ পেতে শোনে।
কখনো বা, অস্তরাগের সুর্যের দিকে তাকিয়ে উল্লাসী, অহংকারী উচ্চারে বলে দেখো আমাকে। কি হিংসে হয়? হিংসে করোনা। ভালোবাসা আবেগের স্রোতধারা হয়ে হৃদয়ের উন্মুক্ত প্রবাস ঢেকে দেয়, মায়াময় আদরে। নিবিড় সুর্যের প্রাণ মুঠোয় নিয়ে নেমে আসে ধূলায়।

তারপর,
কোত্থেকে আসে এক বালুচরি নকশার সাপ, কোন গোপণ খোড়ল থেকে বেরোয়? হিলহিলে শরীরে তীব্র অবিশ্বাসের বিষ নিয়ে, কোত্থেকে আসে? সময়ে মোহ কাটে, মায়াঞ্জন কুপিবাতির কালচে ধোঁয়ায় বদলায়। চক্রবুহ্যের মধ্যিখানে বালক অভিমন্যু। সে ভেদ করতে জানে, নির্গমন অজানা। এবং সারথী বিহীন রথ সামলে যুযুধান প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়াটা একটু বেশীই কষ্টকর। তারমাঝেও সন্তের মতো নির্বিকারত্বের সাধনা।

প্রতিপক্ষ বিভিন্ন, এবং পরাক্রান্ত। ধর্ম, বিত্ত, শিক্ষা অকুলীন জীবন। আহা অভিমানী বালকের পুরুষ হয়ে ওঠার প্রানপাত চেষ্টা। কেবলই ভুল আগুনে ওম খোঁজা।
অথচ, বিফল নিবেদনের ব্যথা নিয়ে ফিরে গেছে অনন্তর দীপশিখা। স্বপ্নের সফেদ ব্যাঞ্জনায় বাজিয়ে মিহি সুর। বালুঘড়ি উল্টে দেবার অপেক্ষায় থেকে থেকে ভুলেছে সময়ের হিসেব, জলজোছনার কাব্য ধুসর আধাঁরি গিলে খেয়েছে।

সময়ের ছাপ পরে বালকের বুকে, মুখে, চোখে, আত্মায়।
নিকোটিনের হলদেটে ছোপ লাগা আঙ্গুলে শব্দের কান্নারা রঙ ডুবি খেলে। তীক্ষ্ণ নখের আচড়ে ফালি ফালি নিশিবাস, অচিন সৌরভ।

– শুভেচ্ছা বালক, আমৃত্যু দহনে যন্ত্রণায় কাটানোর অগ্রীম শুভেচ্ছা।শুভ যাবজ্জীবন।

– উৎসর্গ  আমার একাকীত্ব আর বুকশেলফে জমা হওয়া ধূলোদের ।

ছবি – RS ফটোগ্রাফী

৪১৩জন ৪১৩জন
0 Shares

২২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ