নির্জনতা।

একটা হলুদ খামে চিঠি এলো,খুলে দেখার আগে

একটু আয়েশ করে চেয়ারটাতে বসলাম।

বহুদিন আমাকে কেউ চিঠি লিখে না,

মাটির মতো আমার কোন স্থায়ী ঠিকানা নেই।

এ বিষয় ভাবার চেয়ে ভাবছি কি লিখা আছে চিঠিতে।

চিঠিটা খুললাম,যেভাবে যত্নে শার্টের বোতাম  খুলে লোকে।

 

প্রিয়তমেষু,

আমি নির্জনতা বলছি। আজকাল আমাকে আপনি

অস্থির হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছেন। অথচ আপনার চারপাশে আমি এমনভাবে ঝেঁকে বসে আছি, আপনি টেরই পাচ্ছেন না। আপনি নির্জনতা ভালোবাসেন।

আপনি ছাড়া আমাকে কেউ ভালোবাসে না এতো যত্ন করে। আপনার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। কথা দিলাম

আপনাকে কখনই ছেড়ে যাবো না।

 

চিঠিটা রেখে দিয়ে উঠে দাঁড়ালাম। গভীর রাত।

নির্জনতার পাখি ডাকছে। অন্ধকার ঘনীভূত হয়ে

মিশে যাচ্ছে পৃথিবীতে। আরবের মরুর মতো বুকের ভেতর হু হু করে এক দলা বাতাস বয়ে গেলো।

আমিও মিলিয়ে যাচ্ছি অন্ধকারে।

 

মানুষ মূলত – মৃত্যুর মতোই নির্জন তাকে ভয় পায়।

অথচ, এই মানুষ ভেঙে গেলে নির্জন তাতে’ই বেঁচে থাকতে চায়।

মোট পড়েছেনঃ ৬১৭জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৬টি মন্তব্য

  1. একদম ঠিক। ভেঙে যাওয়া মানুষের সবচেয়ে বড় ভীতি হলো নির্জনতা। মৃত্যু আর নির্জন নির্জনতার মধ্যে খুব একটা পার্থক্য নেই।

    শুভ কামনা 🌹🌹

  2. বাহ চমৎকার কবিতা। মহাবিশ্ব মূলত তীব্র কোলাহলময় ভয়ংকর নির্জনতা। মাটির ও আসলে হয়ত কোন স্থায়ী ঠিকানা হয়না। মাটিও বদলায়৷ শুভকামনা।

মন্তব্য করুন