মূল লেখায় যান

নারী জন্মই যেনো আজন্ম পাপ (খোলা চিঠি)

সুরাইয়া পারভীনচিঠি৩৩টি মন্তব্য

 

প্রিয় অনির্বাণ,

কেমন আছো তুমি? এই প্রশ্নটা করাই বোকামী জানি, তবুও করলাম বলে নিশ্চয়ই ভাবছো! মাথাটা বোধহয় একেবারে গেছে। যাওয়ারই তো কথা বলো। এই অসভ্য দেশে জন্ম নিয়ে তাও কিনা নারী হয়ে, মাথা ঠিক থাকার কথা কি! যে দেশের প্রধানমন্ত্রী সয়ং নারী সে দেশের নারীদের মাংসপিণ্ড, রক্ত, শরীর এমনকি যোনি নিয়ে হোলি খেলা হয়, উল্লাস করা হয় বিভৎস হায়নাদের মতো আর এসব দেখে নিশ্চয়ই মাথা খারাপ হবার কথা। নারীর সন্মান রক্ষার্থে যদি এমন একটা কঠোর ব্যবস্থা গ্ৰহন করতো যে ব্যবস্থার কথা শুনেই শিউরে উঠলো ধর্ষকের শরীর, কেঁপে উঠতো হৃৎপিণ্ড তবে এই জঘন্যতম অপরাধ চোখের সামনে দেখতে হতো না কোনোদিন।

 

জানো অনির্বাণ ইদানিং বড্ড ভয় হচ্ছে। প্রচণ্ড ভয়ে ঘুম নিয়েছে নির্বাসিত জীবন বেছে। বেচারা ঘুমেরই বা কী দোষ বলো? জানোয়ার গুলো যখন প্রকাশ্য দিবালোকে অমন নৃশংস আচরণ করে আর সেটা দেখার পর ঘুম পালিয়ে বাঁচতে চাইবে সেটাই তো স্বাভাবিক তাই না বলো? মানুষের মতো দেখতে মানুষরূপী উগ্র হিংস্র প্রাণীকে আজ কাল ভীষণ ভয় করে। ইচ্ছে করে একটা বদ্ধ খোলসের মধ্যে গুটিয়ে ফেলি নিজেকে। শামুক  যেমন করে  বিপদের আভাস পেলেই লুকিয়ে পড়ে খোলসে।

 

আচ্ছা অনির্বাণ, নারী হয়ে জন্ম নেওয়াটাই কী আমাদের আজন্ম পাপ? এই অসভ্য বর্বর দেশে আমাদের কেনো শুধু নারী হিসেবে দেখা হয়?কেনো ভাবা হয় আমরা শুধু ভোগের বস্তু? কেনো একজন মানুষ হিসেবে মানুষের মর্যাদা পাবো না আমরা? কী করেছি এমন যার জন্য আমাদের প্রতি এতো এতো হিংস্র আচরণ? এই প্রশ্নগুলো মস্তিষ্কে জেঁকে বসেছে আমার, কিছুতেই এক মুহূর্তের জন্য স্বস্তি দিচ্ছে না আমায়। এই সব নৃশংসতা থেকে পরিত্রাণ কী পাবো না আমরা? কারো মা, কারো বোন, কারো কন্যা, কারো প্রিয়তমা হওয়ার সন্মান পাবো না?

যে নারীর গর্ভে নারীর রক্ত খেয়ে একটু একটুক করে বেড়ে উঠে জন্ম নেয়, যে নারী দুগ্ধ খেয়ে বড় হয় সেই নারীর সাথে এমন নিকৃষ্ট আচরণ কী করে করতে পারে ওরা, তুমি কী জানো অনির্বাণ?

ছবি-ফেইসবুক থেকে নেওয়া

মোট পড়েছেনঃ ১৪৮৮জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

৩৩টি মন্তব্য

  1. এ জঘন্যতম অপরাধের শাস্তি কেবল মৃত্যুদণ্ড হলে বরং কম হয়ে যায়। আপনার অনির্বাণ ভালো আছেন নিশ্চয়ই। ভালো থাকুন আপনিও। নিজের প্রতি আরো বেশি যত্নবান হোন।

    1. এ আমার কিংবা কোনো একজন অর্নিবাণ নয়। এ তাবৎ দুনিয়ার বিবেকবান সমস্ত পুরুষদের কাছে লেখা চিঠি। চিঠিতে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর উত্তর চাই

      আন্তরিক ধন্যবাদ জানবেন
      ভালো থাকবেন সবসময়

      1. আপু, সব স্বীকার করা না করার কিছুই নায়, আমরা আজ ধর্মের পাশে যায়না, ধর্মকে তুচ্ছ করছি,
        আপনি মা, বোন, আমি বাবা, ভাই । সমাজে যা ঘটছে তাঁর বিচার করার ভার রাষ্ট্রের, এখানে রাস্ত্র ব্যার্থ। আর হ্যাঁ জনগণ সব সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দলোন কব্রে অন্যায় কারীর বিরুদ্ধে কিন্তু দেখেন আমাদের দেশের অবস্থা । আমরা ধামাধরা রাজনৈতিক সাপোর্টার। দল অন্যায় করলেও বলা যাবেনা। তা কি হয়!

        আমাদের অবস্থান থ্বেকে আমরা কি সবাই সঠিক পদক্ষেপ বা সন্তান ও ছোট ভাইদের খেয়াল রাখছি???
        যদি সব পরিবার সব বাবামা, ভাইবোন সন্তান ও ভাইকে আদ০ব কায়দা, শাসন, করত তবে কি এই ন্যাক্কারজনক কাজ ঘটত??? কখনই না।
        আজ ছাত্রএর হাতে শিখক লাঞ্চিত বাবা ভাই গিয়েও শিক্ষককে পুনরায় প্রহার করা হচ্ছে, আমরা সঠিক অভিভাবক!!!!
        এবার বিচারের ভার আপনার হাতেই দিলাম।

      2. আমার ছোট একটি কাহীনি বলি, আমি তখন ইন্টারমিডিয়েট পড়ি। বাসে ছাত্ররা যা ভাড়া দেয় আমি তাই দিলাম। কিন্তু ঐ কন্ট্রাক্টর বড় ভাইয়ের পরিচিত আমি জানতাম না। যথারীতি অভিযোগ দাখিল হয়েছে। ভাইয়ের প্রশ্ন, আমি কি তোকে কম টাকা দিই। আমি অবাক কি জন্য বলল জানিনা। আমি বললাম কিসের টাকা ?? ভাই বলল কলেজে যাস ভাড়া কম দিস কেন? আমি বললাম সব ছাত্ররা যা ভাড়া দেই আমিও তাই দিয়েছি। তাঁর কথা না বাস ভাড়া যা তাই দিবি। এখন বলুন আমার ভাইয়ের ছেলেও ভাইয়ের কথা এখন শোনেনা। কিন্তু তারপর আমি আর বাস ভাড়া কম দিইনি।

      3. একজন সুসন্তান গঠনে পিতা মাতা তথা পরিবারের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা অস্বীকার করার জো নেই। শুধু জন্ম দিয়েই নয় একজন আদর্শবান মানুষে পরিণত করতে পারলে এই দুর্দশা দেখতে হতো না। রাষ্ট্রের কথা নতুন করে‌আর কী বলবো বলুন।
        আপনি যথার্থই বলেছেন
        কৃতজ্ঞতা অশেষ

  2. নারীর জন্ম পাপ নয়, ইসলামে নারীকে সর্বোচ্চ সম্মান দেয়া হয়েছে। কিন্তু নারীকে অবদমিত রাখে যারা সেই কুলাঙ্গারদের জন্যই আমাদের মা বোন আজ নিজেদের অসহায় ভাবছেন। এই অবস্থার উত্তরণ জরুরী।

    ভালো থাকুন আপু।

    1. একদম ঠিক বলেছেন ভাইয়া
      কতিপয় কুলাঙ্গারদের দমন করতে পারলেই
      সমস্ত ভয় ভীতি দূর হতে পারে।

      আন্তরিক ধন্যবাদ জানবেন ভাইয়া
      ভালো থাকবেন সবসময়

  3. রাষ্ট্রপ্রধান পুরুষ আপু। সংশোধন করে নিয়েন।
    মাথা কর্তনের সৌদিতে আমার মা বোনেরা বাপ ছেলের ধর্ষনের শিকার হয়ে ও বিচার পায়নি। কারন ধামাচাপা দেয় কঠোর সাজার কারনে।
    মা বোনকে যতদিন শ্রদ্ধার চোখে না দেখে ভোগের দৃষ্টিতে দেখবে ততদিন গৃহবন্দী করেও রক্ষা পাওয়া যাবে না।
    গার্মেন্টসে হাজার হাজার নারী শ্রমিক সহকর্মীদের দ্বারা ধর্ষিত হয় না। ধর্ষিত হয় গায়ের মোড়ল আর টাউটদের দ্বারা।
    ভাল থাকবেন আপু। শুভ কামনা।

    1. সংশোধন করে নিয়েছি দাদা। আপনি একদম যথার্থ বলেছেন। এ জঘন্য অপরাধের কঠিন বিচার ব্যবস্থা না করা হলে এর থেকে পরিত্রাণের উপায় নেই।

      আন্তরিক ধন্যবাদ জানবেন
      ভালো থাকবেন সবসময়

  4. কিছুই বলার নেই।নৈতিকতার স্খলণ ঘটলে যা হয়। অপরাধীদের শাস্তি দিতে না পারলে অপরাধ বাড়বেেই এ জন্য রাষ্ট্র আইন সবিই আছে শুধু প্রয়োগ নেই।
    আমরা এ থেকে পরিত্রান চাই।নারী পুরুষ সমান তালে স্বসম্মানে বাচবো এটাই চাই।

    1. একদম ঠিক বলেছেন ভাইয়া
      স্বসন্মানে সমান তালে বেঁচে থাকা তখনই সম্ভব হবে যখন এই নৃশংসতার কঠোর শাস্তি হবে।

      আন্তরিক ধন্যবাদ জানবেন
      ভালো থাকবেন সবসময়

    1. এ অনির্বাণ কোনো একজন নয়
      এ অনির্বাণ আপনি/আপনারা সবাই
      জানি এই প্রশ্নের উত্তর দিতে অপারগ সবাই
      তাহলে নারী জন্ম পাপ সেটা মানতে পারছেন না কেনো

    1. আমি পারছি না/ পারবো এভাবে জীবন যাপন করতে। নারী জন্মই যদি আজন্ম পাপ হয় তবে আমাদেরকেই ফাঁসি দেওয়া হোক। ভয়ে ভয়ে মরার চেয়ে ফাঁসিতে মরা অনেক সন্মানের

      কৃতজ্ঞতা অশেষ আপু
      ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন সবসময়

      1. কী বলবো আপনার এ কথাগুলো সমস্ত নারীকূলের কেননা মৃত্যুর চেয়েও নৃশংস একজন মহিলার সম্ভ্রম। সেই সম্ভ্রম আজ অরক্ষিত সর্বত্র। ঘটনা গুলো নিয়ে যতই ভাবছি হার্টবিট কনট্রোল থাকছেনা। ডাঃ হাইফার হতে মানা করেছেন। আমার একটুখানি হার্টবিট সমস্যা আগে থেকেই আছে । কয়টা রাত ঘুম হচ্ছেনা। শ্বাসকষ্ট বেড়ে কি যে অবস্থা। এরকম মান ইজ্জতের ভয় ইতিপূর্বে কখনো পাইনি।
        যাক বোন আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে সম্ভ্রম নিয়ে বাঁচার তৌফিক দান করুন। আমিন।

      2. আজ আর সত্যিই কিছু বলার নেই আপু। এইসব নৃশংসতা থেকে কেবল মহান রাব্বুল আলামীন আমাদের হেফাজত করতে পারেন। সাবধানে থাকুন। ডাক্তারের ইনস্ট্রাকশন মেনে চলুন। আপনার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।

        কৃতজ্ঞতা অশেষ সুন্দর মন্তব্যের জন্য
        ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন সবসময়

  5. নারীরা নিজেরাই নিজেদের এমন অবস্থার জন্য দায়ী। প্রতিটি মা তার মেয়ে সন্তানকে সব সহ্য করতে শিক্ষা দেয়, প্রতিবাদ করতে বাধা দেয়, পুরুষের হাজার দোষ মাথা পেতে নিতে বলে, পর্দা করতে বলে, মেয়েদের দাবী দাওয়া কে অগ্রাহ্য করে অন্যদিকে পুরুষের বেলায় সব উল্টো তাহলে ঐ ছেলে সন্তান কি শিক্ষা নিয়ে বড় হলো!! মায়েরা সর্বদা ছেলেদের সাপোর্ট দেয় আর মেয়েদের পান থেকে চুন খসলেই দোষারোপ করে, বিয়ে দিয়ে দেয়। বাবারা কিন্তু ছেলেদের শাসন করতে চায় তখন মায়েরাই ছেলেদের ঢাল হয়ে দাঁড়ায়। তাহলে পুরুষ কেন এমন ব্যভিচার, নোংরামি, অপরাধ করবেনা?? এ দায় রাষ্ট্রের নয় সবার আগে পরিবারের আর পরিবার ই সবচেয়ে বড় অপরাধী।

    1. একদম ঠিক কথা বলেছেন দিদিভাই। তবে এতে শুধু নারীই কেনো দায়ী হবে বলুন। জন্মের পর একজন মা যেভাবে বেড়ে উঠে সেই একই ভাবে কন্যা সন্তান কেউ বড়ো করেন। কারণ তারাও যে অসহায়। কে বলতে পারে কখন কোথায় ওঁত পেতে থাকা হায়নারদল দল থাবা বসায়। তবুও একজন সুসন্তান গড়ার কারিগর তার পিতা মাতা তথা পরিবারই। সন্তানের কুকর্মের দায় তার পরিবারের উপরই বর্তায়।

      চমৎকার মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ
      ভালো থাকবেন সবসময়

  6. গত কয়েকদিনের অব্যাহত ধর্ষন ঘটনায় মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পরেছি। এ কোন বর্বর দেশে বসবাস আমাদের।
    নারীরা নিরাপদ নয় মোটেই তা যে বয়সী নারীই হোকনা কেন। কিভাবে এই অবস্থা থেকে আমাদের দেশ, সমাজ মুক্ত হবে তা জানিনা। অক্ষম আমরা কেবল লেখার মাধ্যমেই প্রতিবাদ করতে পারি।

    ভালো থাকবেন ছোট আপু, শুভ কামনা।

    1. সেটা হায়না গুলো ভালোই বুঝে গেছে। কারো কিছু করার ক্ষমতা নেই। তাই তো বেশি বেশি উল্লাস করতে পারছে।
      কৃতজ্ঞতা সহ আন্তরিক ধন্যবাদ জানবেন ভাইয়া
      ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন সবসময়

    1. আমাদের জন্যই তো দেশ কুলষিত ভাইয়া। আমাদের দেশের মানুষ গুলোই এতোটা নিকৃষ্ট। যে দেশে জন্ম নিয়ে দেশের মা বোনদের উপর এতো বর্বর নির্যাতন করছে তার কিছু দাগ তো লাগবেই দেশের গায়ে। যেমন সন্তানের কলঙ্কের দাগ লাগে তার মাতা পিতার গায়ে

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।