হলি আর্টিজেন ও কিছু প্রশ্ন?

বড় মিজান নামের লাল দাড়ির জঙ্গিটা ছিলো বিস্ফোরণ বিভাগের হেড, সে খালাস পেয়েছে। তাহমিদ আর হাসনাতকে আগেই দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে(দেশ ছেড়ে পালিয়েছে হয়তো)

এসব নিয়ে আমাদের মত গুটি কয়েকজন হতাশ হলেও দেশের ৯৯% মানুষ মনে মনে খুশি। খুশি না হলে কয়েকদিন আগে যে হিন্দু ছেলেটার নামে ইসলাম অবমাননার অভিযোগে তৌহিদী জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল তারা এদের উপর সেই জোশটা দেখাচ্ছে না কেন?

তারা না মনে করে আইএস ইজরায়েল স্টেট! এরা নাকি ইসলামের বদনাম করতে বোমাবাজি মানুষ খুন করছে! তাহ‌লে এতবড় ইসলামের শত্রুর বিরুদ্ধে একশন নেই কেন??(হ্যাাঁ প্রশ্ন করলেই আমি খারাপ!)

খোজ নিলে দেখা যাবে জেলখানাতেও এসব জঙ্গিদের সবাই সমিহ করে। এরা পরেজগার মানুষ, ধর্ম রক্ষার সৈনিক মনে করা হয় এদের। পুলিশ থেকে দাগী খুনি আসামি সবাই নেক নজরে দেখে। কিন্তু একই জেলখানায় একটা নাস্তিক গেলে সাধারণ সেলে থাকা ধর্ষক, খুনি আসামির কাছ থেকে অতর্কিত হামলার আশংকা থাকে। কারণ সে যতই আকাম-কুকাম করুক দিন শেষে একজন ইসলামের শত্রুকে হত্যা করে কে না জান্নাতের টিকেট পেতে চাইবে? এমন মনোভাবটা গোটা রাষ্ট্রের প্রায় সকল মানুষই ধারণ করে। তা না হলে এইসব জঙ্গি কিভাবে আইএস এর টুপি পড়ে আদালতে প্রবেশ করতে পারে? এরা এদের পক্ষে উকিল দাড় করাতে পারে?

জঙ্গিদের যদি সত্যিই মুসলমানরা ইহুদি ইজরায়েলদের ষড়যন্ত্র মনে করতো তাহ‌লে তাদের প্রতি সেই ক্ষোভটা নেই কেন? যেমনটা ছিলো ফেইসবুকে পোষ্ট করা ইসলাম অবমাননাকারী সেই হিন্দু ছেলেটির উপর?

জানি যে দেশে প্রশ্ন করাটা অপরাধ, সে দেশে এর চেয়ে ভালকিছু আশা করাও পাপ! তারপরেও প্রশ্নগুলো থেকেই যায়..

মোট পড়েছেনঃ ৮,৮৮৬জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২৭টি মন্তব্য

    1. প্রশ্ন করলেই নাস্তিক ধর্ম বিরোধী ট্যাগ পাই। অনেকেই পেছনে বাজে মন্তব্য করে। সত্যিই দাদা এদেশে মন খুলে প্রশ্ন করাও অপরাধ। ভাল থাকুন সব সময় দাদা✌

  1. আমার কাছে সবচেয়ে বেশি আশ্চর্য লেগেছে এরা আই এস এর টুপি মাথায় দিয়ে কিভাবে আদালতে গেলো? জেলখানায় এরা টুপি পেলো কোথায়? জেল কর্মকর্তারা কি আই এস সমর্থক?

    দেশের যা অবস্থা তাতে আই এস এই দেশে এলে মানুষ তাদের স্বাদরে বরন করবে।

    ভাল লেখা।

    1. আমার ধারনা এটা আই ওয়াশ। রায় কি হবে এটা পুলিশ প্রশাসন আগে থেকেই জানতো। যেহেতু রায়ে ফাঁসির আদেশ হবে, সেক্ষেত্রে আসামীর মাথায় একটা আইএস টুপি পরিয়ে সেটা মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার করছে যাতে এটা প্রমাণিত হয় যে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় আইএস এর ফাঁসি দেয়া হয়েছে।

      তা না হলে ঐ আসামি পর্যন্ত এই টুপি পৌঁছায় কেমন করে?

      1. সর্ষের মধ্যেই ভুত নাকি আম জনতাকে টুপি পড়ালো নাকি ঠিক বুঝতেছি না ভাই। তবে ডিফেন্সেও অনেক জঙ্গি সমর্থনকরা লোক আছে তা প্রথম বুঝেছিলাম সেই বিডিআর বিদ্রোহের সময়।

        জান্নাতের টিকেটের লোভ দেখিয়ে ভুলভাল ধর্মের ব্যাখ্যা দিয়ে অনেককেই টেররিষ্ট বানানো সম্ভব আমাদের দেশে💔

        ভাল ও সুস্থ থাকুন সব সময় ভাইজান🌹

    2. সর্ষের মধ্যেই ভুত নাকি আম জনতাকে টুপি পড়ালো নাকি ঠিক বুঝতেছি না ভাই। তবে ডিফেন্সেও অনেক জঙ্গি সমর্থনকরা লোক আছে তা প্রথম বুঝেছিলাম সেই বিডিআর বিদ্রোহের সময়।

      জান্নাতের টিকেটের লোভ দেখিয়ে ভুলভাল ধর্মের ব্যাখ্যা দিয়ে অনেককেই টেররিষ্ট বানানো সম্ভব আমাদের দেশে💔

      ভাল ও সুস্থ থাকুন সব সময় ভাইজান🌹

  2. কাদের ছত্রছায়ায় এই কাজ হয়েছে তা খতিয়ে দেখা দরকার। নিজেদের নৈতিকতা দায়িত্ববোধ ভুলে গিয়ে অর্থলোভী দায়িত্বশীল কেই এই কাজে সাহায্য করেছে কিনা তা সঠিক তদন্ত হলেই বেড়িয়ে আসবে।

    সমসাময়িক বিষয় নিয়ে লেখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

    1. কেউ দেখবে না। নতুন ইস্যু আসবে আমরা এইটা ভুলে গিয়ে নতুন ইস্যু নিয়ে কথা বলবো, লেখালেখি করবো। বুঝতে হবে আমরা ইস্যু প্রিয় জাতি..
      ভাল ও সুস্থ থাকুন ভাই🌹

  3. এটা সরকারকে আই এস আছে প্রমানের জন্য পুলিশের ভিতর ঘামটি মেরে কেউ থাক্তে পারে, যে এই সোনার বাংলায় আই এস আছে। আমেরিকা তুমি শুরু কর। এই সিব করতে করতে সরকার কোন্টা য় ভাসে বুঝা খুব কঠিন।

  4. জাতির সাধারণ মানুষ জটিল কিছু ভাবতে পারে না,
    যেমন আপনি জটিল কিছু নিয়ে ভাবলেন।

    ফেসবুক বাংলাদেশী ইউজারদের একটি সহজ যোগাযোগ মাধ্যম সেখানে পাঠক থেকে লেখক সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমরাই।
    জেনে হোক আর না বুঝেই হোক সবাই ধর্মভীরু,
    সেখানে হিন্দু ছেলেটির কটাক্ষ ছিলো সহজ সরল স্পর্শকাতর যা প্রশ্নফাঁসে ক্লাস থ্রীতে পড়ুয়া শিক্ষার্থী সবাই দোষটা বুঝতে পেরেছে ( প্রকৃত দোষী যেই হোক )
    বলেই তৌহিদী জনতা পুলিশের গুলিতে নিহত।

    এখন কথা হলো,
    হলি আর্টিজান হামলার ঘটনা কতটুকু জাতির বোধগম্য?
    বা কোন সুত্রধরে জাতি জঙ্গীদের বাড়ী ঘরে আগুন দিবে বিস্তারিত ব্যখ্যা করতে পারবেন?

    1. জঙ্গিদের বাড়িঘরে আগুন দিবে কেন? এখানে তো সেই জঙ্গির ফ্যামেলি জড়িত না। তবে তৌহিদী জনতা সেই হিন্দু নামধারী আইডির জন্য বিক্ষোভ করতে পারলে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কেন আন্দোলন করতে পারবে না যদি সামর্থন না থাকে? যদি দাবি করা হয় জঙ্গিদের সাথে ইসলামের সম্পর্ক নেই??

  5. খোজ নিলে দেখা যাবে জেলখানাতেও এসব জঙ্গিদের সবাই সমিহ করে। এরা পরেজগার মানুষ, ধর্ম রক্ষার সৈনিক মনে করা হয় এদের। পুলিশ থেকে দাগী খুনি আসামি সবাই নেক নজরে দেখে। কিন্তু একই জেলখানায় একটা নাস্তিক গেলে সাধারণ সেলে থাকা ধর্ষক, খুনি আসামির কাছ থেকে অতর্কিত হামলার আশংকা থাকে। কারণ সে যতই আকাম-কুকাম করুক দিন শেষে একজন ইসলামের শত্রুকে হত্যা করে কে না জান্নাতের টিকেট পেতে চাইবে?

    ………….একেবারে বাস্তব কথা বলেছেন ভাই, সার্বিক ভাবে এমনটাই এখন আমাদের চারপাশে হতে দেখি।

    1. এমনটাই হয়ে আসছে আমাদের সমাজে। সারাদিন আকাম কুকাম করে দিন শেষে মদ, ৭২ হুরের টিকেট টা পেতে হবে তো নাকি? কে চান্স পেয়েও সুযোগ হাত ছাড়া করতে চায় বলেন আমাদের মত গুটি কয়েক মানুষ ছাড়া??

  6. পোষ্ট পড়লাম, মন্তব্যগুলিও পড়লাম।

    নুর হোসেন ভাই একটা চমৎকার জবাব দিয়েছেন।

    সহজ বোধগম্য বিষয়গুলি নিয়ে তোলপাড় হয়, ইন্টারনাল বিষয়/ বা ধারাবাহিক ভাবে ধীর গতিতে সংবাদ হওয়া বিষয়গুলি অধিকাংশ মানুষ টের পায়না।

    অন্য কোন নতুন গরম ইস্যুতে জড়িয়ে পড়ে সোসাল মিডিয়া/ সাধারণ মানুষ।

    এই সুযোগে আমাদের মত দেশে, নেপথ্যের কারিগরেরা তাদের উদ্দেশ্য হাছিল করতে পারে খুব সহজে।

    এসব জটিল বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখার ক্ষমতা/ বোধ সবার নেই।
    উপযুক্ত সত্যিকার দেশপ্রমিক, নিষ্ঠাবান ও বিবেকবান মানুষের চোখ কান খোলা থাকবে এটাই প্রত্যাশা।

    1. আমরা নতুন ইস্যুর অপেক্ষায় আছি🤣আসার সাথে সাথেই অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো ভুলে নতুনটার পেছনে লাগবো। আমরাতো ইস্যুপ্রিয় জাতি বুঝতে হবে।

      নুর হোসেন ভাই সহ সবাই ভাল মন্তব্য করেছেন…আসলে এখানে সবাই উন্নত চিন্তার মানুষ তাই সহজেই মেশা যায়। ভাল থাকবেন ভাই🌹

      1. আপনার প্রতিটি পোষ্ট মূল্যবান।
        অনেক গুছিয়ে লিখেন যা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখানোর মত।

        আপনার জন্য শুভকামনা সবসময়।
        অনেক ভাল থাকবেন আপনি।

মন্তব্য করুন