কবি ও কবিতা

১

মাঝরাতের অস্থির জাগরণ –
আর গুটিকয় সম্ভাব্য দুর্নামের সাথে,
বুকের ভেতর সম্মিলিত চিৎকার মিশিয়ে
চৈতন্যে নিঃসঙ্গ ট্রাফিক লাইটের মতো
ক্ষনস্থায়ী হলুদ বাতির সাবধানতা ; এইসবে মিশে আছে –
কবিতা ; আজন্ম প্রেয়সী আমার।

২

কবিতা আমার প্রেমিকা হয়েছে যেদিন –
সেদিন থেকেই জেনেছি ;
কবিরা মুলত, সত্যের মতো একা।

৩

ওষ্টের কোমলতার মতো বিষ
অথবা ভ্রুভঙ্গের মতো শানিত কাটারি
কিংবা দুরত্বের মতো নির্বোধ কার্তুজ।

যা খুশি তাতেই চাইলে কবিরে বধিতে পারো –
অনেক উপায় আছে, শোন
কবিতারা অবধ্য, নির্ভয় এবং ভয়াবহ –
তাকে রুখতে পারে তেমন দেয়াল তৈরী হয়নি কোন।

৪

বস্তত ; কবি প্রেমে পড়ে নারীর –
এবং বালিকারা প্রেমে পড়ে কবিদের।
অতঃপর, বালিকা নারী হয়ে উঠবার পরে, আর দশটা সাধারণ নারীর মতোই বৈভবের প্রেমে বুদ হয়ে যায়।

যেহেতু, বিষয়াসক্তি কবিতার সাথে যায়না, সেহেতু, যথারীতি কবি থেকে যায় চির উপেক্ষিত।

মোট পড়েছেনঃ ২,৩৮২জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২৫টি মন্তব্য

  1. কবিরা চির উপেক্ষিত নয়, তারা সৌভাগ্যবান। বস্তুত তারা সারাজীবনই ভালোবাসা পান, হ্যাঁ বৈষয়িক প্রেম বাদে। কবিদের সাথে সংসার ঠিক যায়না।
    নিঃসংগ ট্রাফিক লাইট কথাটা কেমন খঁচ করে ঢুকে গেলো।
    কবিতা, নারী দুই ই বেঁচে থাক অবধ্য কবির কলমে।
    বেশি ভালো লিখলে কর বসাবো।

  2. কবিতা যে বোঝে সে বড় মনের মানুষ। শুন্যের মতোই বলতে চাই, কবিতা প্রকৃতির কথা বলে, প্রেমের কথা বলে, শান্তির কথা বলে। এই কবিতার শব্দে ফুটে উঠেছে শত শত বিদ্রোহও।
    ভাল লেগেছে কবিতা।

  3. কবিতা এই শব্দটির সাথে আমার আজন্মের মারামারি, কাটাকাটি, ঝগড়াঝাটি। আর আপনি সেই কবিতাকে নিয়েই কবিতা লিখেছেন!
    তাই ভাবছি কি বলবো, মানে কি বলা উচিৎ!

    কবিতা বোঝেনা কিছুই, বোঝাতে পারেনা নিজেকেও
    হেরে যাবার একটু আগে জয়ের আনন্দ দেখে ভাবতে বসে, কখন আত্মসমর্পণ করবে কবি!

    এতো চমৎকার লেখেন আপনি!

      1. মন্তব্য আমি করিনা তো। আপনার লেখা-ই আমাকে দিয়ে এমন মন্তব্য করিয়ে নেয়।
        সবকিছুর মূলে তো আপনার কবিতা-ই নাটের গুরু। 🙂

        ধন্যবাদ আপনাকে।
        আরও লিখুন।

  4. কবি কখনো উপেক্ষিত থাকে নাকি? আমাদের শিমুল ভাইয়া একজন কবি। আপনি মোটেও উপেক্ষিত নন আমাদের কাছে 🙂 অপেক্ষায় থাকি আপনার কবিতার জন্য।

  5. কবিতাকে খুঁজি
    ————–
    কবিতা, ও কবিতা,
    তোমাকে নিয়ে করতে গবেষণা হয়েছি আমি নি:স্ব
    কোথা হতে সৃষ্টি তোমার
    আদি-অন্ত-উৎপত্তি, খুঁজে ফিরেছি বিশ্ব।

    হেডস্যার বলতেন- গদ্য হাটে, পদ্য উঁড়ে আকাশে,
    শুনে সেকথা মুখখানি আমার হয়েছিল কেমন ফ্যাকাশে।

    পদ্য যে উঁড়ে তা খুঁজতে আকাশে হারিয়েছি দৃষ্টি,
    পাইনি পদ্য, তবে পেয়েছি অনেক নিত্য-নতুন সৃষ্টি।

    হায়রে কবিতা
    কারো কারো মুখে তুমি খই ফোঁটাও, পাঠকে দাও একাগ্রতা।
    বোমা ফাঁটালেও আমার পেট থেকে
    বের হতে চাওনা তুমি, এ তোমার কেমন রসিকতা ।

    কাউকে দেখি কাধে থলে ঝুলিয়ে কাঁশবনে খুঁজে তোমায়,
    আমিও খুঁজি দাওনা ঠিকানা এসএমএস করে আমায়।

মন্তব্য করুন