তুই মর!!

পাশের বাসার প্রীতম বাবু মাঝে মাঝেই বউকে বেধড়ক পেটান।
ওনার পেটানোর স্টাইল দেখে আমার মাঝে মাঝে মনে হয় বউ পেটানো হচ্ছে একটা আর্ট। আর প্রীতম বাবুরা হচ্ছেন এই আর্টের অভিগ্য আর্টিস্ট। প্রীতমবাবুর বউ পেটানোর সময়টা আবার অফিস থেকে ফেরার পর। অবশ্য বউয়ের ও দোষ কম না, প্রতিদিনই প্রীতম বাসায় এসে দেখেন বউ ঘরে নাই, বউ তার তৃতীয় তলার ভাবির সাথে বসে বসে জি বাংলা সিরিয়াল দেখছেন।

এতো মার খাবার পরও বউটা আর জি বাংলা সিরিয়াল
দেখার অভ্যাসটা কমাতে পারলোনা। আর প্রীতম বাবুওতো বউ পেটানোর অভ্যাসটা ভালোভাবে রপ্ত করেছেন।

প্রাই শোনা যায় বউয়ে চিৎকার করে বলছে ” আর জীবনেও সিরিয়াল দেখবোনা, তোমার পা। ধরি, আর মেরোনা”

আর প্রীতমবাবু বলেন ” তোর সিরিয়ালের গোষ্টিরে বিপ বিপ” ( অকথ্য ভাষা)। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে ঠিকই পরের দিন উনি তৃতীয় তলায় চলে যান সিরিয়াল দেখার জন্য।

তো কয়েকদিন আগে প্রীতম বাবু অফিস থেকে এসে বউকে না পেয়ে ফোন করে বাসায় আনলেন। মেইন দরজা খোলা ছিলো তাই স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিলো। বউ আসার সাথে সাথেই প্রীতম বাবু বউকে পেটানো শুরু করলেন। মার কি মার.. এ যেন গাধা পিটিয়ে ঘোড়া বানানোর অক্লান্ত প্রচেষ্টা। তো মারের এক পর্যায়ে প্রীতমের বউ চিল্লিয়ে বলে উঠলেন ” আমি সিরিয়াল দেখবো, দরকার হলে বাপের বাড়ি গিয়ে দেখবো, করলামনা তর ঘর, তুই মর” আরো অনেক অকথ্য ভাষা ছাড়লেন। প্রীতম বাবু বোধায় পেটাতে পেটাতে ততক্ষনে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছেন, তাই আর কোন মারের শব্দ শুনলামনা।

আধা ঘন্টা পর দেখি প্রীতম বাবুর বউ স্যুটকেস নিয়ে বাপের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। প্রীতম বাবুও দরজা পর্যন্ত এগিয়ে এলেন। আমাকে দেখে একটা মুচকি হাসি দিয়ে সশব্দে দরজ বন্ধ করে দিলেন।

খুবই আপত্তিকর!!! ;?

মোট পড়েছেনঃ ১,০৫৩জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২৪টি মন্তব্য

  1. এই জি বাংলা, স্টার জলসা যে কতো মানুষের ঘরে আগুন ধরিয়েছে। আর বলি ঘরে থাকা মহিলাদেরও যেনো কি এক নেশা! ^:^
    আজগুবি চিড়িয়া!!!

    1. জি বাংলা, স্টার জলসা, এই চ্যানেলগুলা অফ করা হলে মহিলারা নাকি আন্দোলনে নামবে। সেই আন্দোলনের নাম হবে নাকি জি বাংলা আন্দোলন!! :D)

  2. সময়ের কথা ভালো ভাবেই এনেছেন।। ভালো লেগেছে।

    একটা শব্দ একটা বাক্যকে হরেক রকম মানে করে। এই যেমন “প্রীতম বাবু বোধায় পেটাতে পেটাতে ততক্ষনে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছেন,”। সম্ভবত এখানে “”প্রীতম বাবু “বোধ হয়” পেটাতে পেটাতে ততক্ষনে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছেন,” বলতে চেয়েছেন।

    শব্দ ব্যাবহারে একটু সজাগ থাকুন। লেখার মান আরো ভালো হবে।

  3. সিরিয়াল দেখতাম আগে সময় কাটাতে। কিন্তু ওসব ফলো করিনি কখনোই। এতো সাজগোজ, জটিলতা-কুটিলতা, রূপচর্চা আমায় দিয়ে হয়নি। আসলে কি জানেন মন-মানসিকতাকে সামলে রাখতে হয় নিজেকেই। কতো কতো মানুষের মধ্যে বসবাস করতে হয়, সবাই কি আর ভালো? কিংবা সবাই কি খারাপ? মানুষ নিজেই ঠিক করে নেয় কোনটা অনুকরণ করবে। তাছাড়া আপনার গল্পের প্রীতম বাবুরা সিরিয়াল দেখার জন্যে বৌ পেটাবে, এ কেমন কথা! এতো মার খেয়ে বহুদিন ছিলো উনার বৌ। আমি হলে হাত তোলার আগে নিজেই দিতাম মার তারপর গুডবাই। মেয়েরা ধৈর্যশীলা হবে শুধু, এ কেমন কথা!

    যাক ভালো লিখেছেন।

    1. হুম মারবেন বই কি?? শুনেছিলাম পাখি ড্রেস না কিনে দেওয়াতে একজন তার হাসবেন্ডের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিলো।
      আরেকজনতো নিজের গলায় ফাসি নিয়েছিলো।।

  4. এই সিরিয়াল নিয়ে কত যে সংসার ভাঙলো তার হদিস নেই। তারপর ও চলছে বিরামহীন সিরিয়াল। তবে বউ পিটিয়ে মানুষ করা একটা পিশাচের অচরন। এক সাথে বসে দুইজন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করাটা হচ্ছে যুক্তির কাজ।

  5. দেশীয় চ্যানেলগুলোতে বিনোদনের পর্যাপ্ত অভাবের কারণে মহিলারা ভারতীয় সিরিয়ালে আসক্ত। দিন শেষে এটা ডিমান্ড আর সাপ্লাই এর ব্যাপার। ডিমান্ড যখন তুঙ্গে কিন্ত সে তুলনায় দেশীয় মার্কেটে সাপ্লাইএর অভাব তখন তো দর্শক স্বাভাবিক ভাবেই বিদেশী পণ্যে আসক্ত হবে। একবার এ নিয়ে লিখেছিলাম http://istishon.com/?q=node/13457#sthash.hpDdEXRi.dpbs

    1. এদিক দিয়ে বলতে গেলে কিন্তু বাংলাদেশী নাটক গুলো ভারতীয় নাটক থেকে বেশি মানসম্পন্ন এবং সামাজিক। তবে শুধু ইয়াং জেনারেশনই দেশি নাটকের প্রতি আসক্ত।

    2. দাদা দেশীয় চ্যানেলে পর্যাপ্ত বিনিদিনের অভাব নায় অভাব আছে নোংরামির মানে মনের মত হয়না তাই। যা চাই তা নায়।
      দেশীয় চ্যানেলে অনেক অনেক ভাল বিনদন আছে।

মন্তব্য করুন