অনুভূতিহীন।

বনানীর ড্রেসি ডেল, ঈদের কয়েকদিন আগে ঘুরে ঘুরে একটা ড্রেস দেখছিলাম বউয়ের জন্য হটাৎ এক পিচ্ছি পিছন থেকে দৌঁড়িয়ে এসে আমার পা জড়িয়ে ধরলো আর কুট কুট করে হাসছে, আমিও পিছন ফিরে ওকে কোলে তুলে নিলাম আর গালে এক চুমু একে দিয়ে আদর করলাম এবং এইদিক সেদিক উকি দিচ্ছি ওর কাউকে দেখা যায় কিনা, হটাৎ যেন গায়ে বাঁঝ পড়লো আর আমি পাথর হয়ে গেলাম তাকে দেখে আর সেও যেন একি অবস্থায় পড়ে গেল তারপর এগিয়ে এসে বাচ্চাটাকে কোলে টেনে নিলো আর বলল আমার মেয়ে ভীষণ দুষ্ট হয়েছে “কেমন আছ” আমিও না পারতে বললাম ভালো বলে সোজা হাটা দিলাম দরজার দিকে আর পিছন ফিরে তাকালাম না, বের হয়ে এক দীর্ঘ নিশ্বাস ছাড়লাম, পিছন থেকে ও দৌঁড়িয়ে এসে ও আমার হাত ধরলো আর বলল দাঁড়াও, এইভাবে চলে আসলে কেন?

আমি চুপ।

কেমন আছো তুমি, মনে এখনো তোমার রাগ আছে দেখছি, এখনো আমাকে ভুলতে পারোনি?

আমি চুপ।

দেখো আমি ভুল করে ছিলাম আমি জানি কিন্তু তুমি কি পারতে সব ছেড়ে আসতে?

আমি পাথর।

কিছু বলো, বলো না কেন, প্লিজ বলো?

ম্যাডাম আপনি আবারও ভুল মানুষকে প্রশ্ন করছেন, আপনি যাকে চিনতেন খুঁজে দেখুন হয়ত এতোদিনে মরে গেছে।

জানি ওর চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে কিন্তু দেখার কেয়ার করলাম না কারন ওগুলো সব কুমিরের কান্না যা আগেও ওই দুচোখে দেখেছি। 

আর কথা বলার সুযোগ না দিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নেমে চলে এলাম, জানি উপর থেকে ভেজা চোখে দেখছে তার পাগল প্রেমিক লেটেস্ট মডেলের গাড়ীতে উঠে আবার ফেরারি হয়ে যাচ্ছে। 

 

মোট পড়েছেনঃ ৭৮৯জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৩২টি মন্তব্য

  1. ছোট্ট লেখায় পুরোটা বুঝাতে সক্ষম হয়েছেন। ঘটনা যাই হোক দু ‘জনের পথ আলাদা হয়েছে এটাই এখন বাস্তবতা। শক্তিশালী লেখনী। মুগ্ধতা রেখে গেলাম।

  2. এত বছর বাদেও ভুলতে পারেননি তা খুব স্পষ্টভাবেই বুঝা যাচ্ছে। কথা না বলে চলে আসা ঠিক হয়নি। এতে সেও জেনে গেলো তাকে ভুলতে পারেননি। তাকে যদি বলতেন আপনার বউয়ের জন্য একসেট পোশাক পছন্দ করে দিতে আর সেই পোশাক বাছাই করতে করতে আপনার বউয়ের খুঁটিনাটি প্রশংসা করতেন, কুমিরের কান্মার বদলে পরাজয়ের কান্না কাঁদতো সে।
    বত্ব, কোন ব্র‍্যান্ডের কী গাড়ি আর কোন মডেল জাতি জানতে চায়। 😀

    1. যার প্রতিটি নিশ্বাসে আছে বিষবাস্প তাকে কি বুঝাবো বলুন, আর গাড়ীর কথা বললাম এই কারনে সে যখন আমাকে চুষে খাওয়ার পর আমার ব্যবসা ভালো যাচ্ছেনা এই বুঝতে পেরে পিঠটান দেয় আর পরে যখন দেখে নতুন মডেলের গাড়ী চড়ছি বুঝতেই পারছেন তার আফসোসটা কেমন হচ্ছিলো। \|/

  3. আপনার ব্যাবসা খারাপ দেখে আপনাকে ছেরে চলে গিয়েছে যে নারী, তাকে পাত্তা না দিয়ে ভালই করেছেন।
    তবে নন্দিনী আপুর কথামত কাজ করলে তার অপমান আর কষ্ট আরো বেশি হতো।

  4. ভাইয়া আপনি…….?
    সবায় এমন হতেই পারে তাই বলে আপনিও!
    বলতেনই না হয় দু একটা কথা, প্রশ্ন না হয় করেই নিতেন সে কেমন আছে!? কি এমন বিশেষ হতো?? নিষ্ঠুর দুনিয়া,নিষ্ঠুর তার মানুষ জন! 🙁

  5. কিছুদিন আগে আমার এক্স-প্রেমিক পায়ে ধরে ক্ষমা চেয়েছে। এত্তো মজা পেয়েছি।
    আমায় বলে “আমি আর বেশীদিন নেই।” বললাম ক্যান্সারের লাষ্ট স্টেজ নাকি? :D)
    তারপর বলে আমি নাকি আর সেই আমি নেই। ঠিক এভাবেই বললাম আমি সম্পর্কে কতোটা সৎ, সেটা তুমি জানো।
    আর আমি যা বলি মিথ্যে একবিন্দুও থাকেনা, সেও জানো।
    ঠিক এই তিনটি কথা বলে চলে এসেছি। অদ্ভূত কি আমি? আসলেই ওই লোকটাকে আমার কখনোই মনে পড়েনা।
    ঘৃণাও দেইনি, কারণ আমি তাকে মনের কোথাও অতীত হিসেবেও স্থান দিতে চাইনি।
    আর আজ আপনার লেখাটা পড়ে দারুণ লাগলো। এসব মানুষদের পাত্তা দিতে নেই। কারণ এরা ভাবে জীবনে যখনই আসবে, স্থান নিশ্চিত পাবে।

  6. বলছেন এইটা জীবন কাহিনী। যদি তা ই হয়, তাহলে বলবো, খুব ভাল কাজই করেছেন ! আর হ্যা, জীবন যখন ছলনা করে, তখন জীবনকে এড়িয়ে যাওয়াটাই উচিত !!

    সংক্ষেপে সুন্দর করে আপেক্ষিকতা তুলে ধরেছেন !! (y)

  7. প্রাক্তন প্রেম জনিত নষ্টালজিয়া!! বেঁচে থাকলে প্রাক্তন সম্পর্কিত এমন অনেক ঘটনার সঙ্গেই জড়িত হতে হয়।এটাই জীবন। ভাল লাগলো।

মন্তব্য করুন