দাহকালের কড়চা

ভালোবাসা এসে যখনই আলতো টোকা দেয় বন্ধ দুয়ারে, বালক তার জন্য পথের পাশে ছড়িয়ে দেয় গন্ধ বকুল। তার চলার পথে বিছিয়ে দেয় নরম ঘাসের মায়া, শ্বাসবায়ুতে মিলায় হৃদ সৌরভী ধুপ। মাঝ উঠোনে পেতে দেয় কুসুম আসন, সাঝকে সাজায়ে দেয় জোনাক জলের আল্পনায়।

ভালোবাসা আলতায় রাঙানো পায়ের ছাপ রেখে এসে বসে সাঝের আসনে, মধ্য উঠোনে। ভালোবাসার কানে কানে গল্প বলে, জীবনের গল্প। স্বপ্ন এবং বেদনার, যাযাবর জীবনের গল্প, শিকড়ের গল্প এবং বিচ্ছিন্নতার। সে কান পেতে শোনে, প্রাণ পেতে শোনে।
কখনো বা, অস্তরাগের সুর্যের দিকে তাকিয়ে উল্লাসী, অহংকারী উচ্চারে বলে দেখো আমাকে। কি হিংসে হয়? হিংসে করোনা। ভালোবাসা আবেগের স্রোতধারা হয়ে হৃদয়ের উন্মুক্ত প্রবাস ঢেকে দেয়, মায়াময় আদরে। নিবিড় সুর্যের প্রাণ মুঠোয় নিয়ে নেমে আসে ধূলায়।

তারপর,
কোত্থেকে আসে এক বালুচরি নকশার সাপ, কোন গোপণ খোড়ল থেকে বেরোয়? হিলহিলে শরীরে তীব্র অবিশ্বাসের বিষ নিয়ে, কোত্থেকে আসে? সময়ে মোহ কাটে, মায়াঞ্জন কুপিবাতির কালচে ধোঁয়ায় বদলায়। চক্রবুহ্যের মধ্যিখানে বালক অভিমন্যু। সে ভেদ করতে জানে, নির্গমন অজানা। এবং সারথী বিহীন রথ সামলে যুযুধান প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়াটা একটু বেশীই কষ্টকর। তারমাঝেও সন্তের মতো নির্বিকারত্বের সাধনা।

প্রতিপক্ষ বিভিন্ন, এবং পরাক্রান্ত। ধর্ম, বিত্ত, শিক্ষা অকুলীন জীবন। আহা অভিমানী বালকের পুরুষ হয়ে ওঠার প্রানপাত চেষ্টা। কেবলই ভুল আগুনে ওম খোঁজা।
অথচ, বিফল নিবেদনের ব্যথা নিয়ে ফিরে গেছে অনন্তর দীপশিখা। স্বপ্নের সফেদ ব্যাঞ্জনায় বাজিয়ে মিহি সুর। বালুঘড়ি উল্টে দেবার অপেক্ষায় থেকে থেকে ভুলেছে সময়ের হিসেব, জলজোছনার কাব্য ধুসর আধাঁরি গিলে খেয়েছে।

সময়ের ছাপ পরে বালকের বুকে, মুখে, চোখে, আত্মায়।
নিকোটিনের হলদেটে ছোপ লাগা আঙ্গুলে শব্দের কান্নারা রঙ ডুবি খেলে। তীক্ষ্ণ নখের আচড়ে ফালি ফালি নিশিবাস, অচিন সৌরভ।

– শুভেচ্ছা বালক, আমৃত্যু দহনে যন্ত্রণায় কাটানোর অগ্রীম শুভেচ্ছা।শুভ যাবজ্জীবন।

– উৎসর্গ  আমার একাকীত্ব আর বুকশেলফে জমা হওয়া ধূলোদের ।

ছবি – RS ফটোগ্রাফী

মোট পড়েছেনঃ ৯৫৫জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২২টি মন্তব্য

  1. যন্ত্রণার ছিপ ফেলে ফেলে, তুলে আনতে হয় এক একটি তাজা অগ্নি উৎসব।
    বালক, আপনাকে শুভেচ্ছা।
    লেখার নীচে মন্তব্য কি করবো তা যদি বলে দিতেন !!!

    1. পৃথিবী ঠিক এক পুকুরের মতো, মাছের মতো মানুষ ঘুরে বেড়াচ্ছে কোথায় কোথায়। বৃথা ছিপ ফেলে বসে থাকা, কোন দূরে হারিয়ে যাওয়া মানুষটিকে ধরে আনবে কাছে, এমন সাধ্য কী?

      – যাও পাখি ,শীর্ষেন্দু 🙂

  2. আহা অভিমানী বালকের পুরুষ হয়ে ওঠার প্রানপাত চেষ্টা। কেবলই ভুল আগুনে ওম খোঁজা। – অসাধারণ অনুভূতি হচ্ছে।

    শুভ সকাল প্রিয়! -{@

  3. //প্রতিপক্ষ বিভিন্ন, এবং পরাক্রান্ত। ধর্ম, বিত্ত, শিক্ষা অকুলীন জীবন। আহা অভিমানী বালকের পুরুষ হয়ে ওঠার প্রানপাত চেষ্টা। কেবলই ভুল আগুনে ওম খোঁজা।//

    কেউ কেউ আজীবনই ভুল আগুনে খোঁজে ওম…

    দারুন ভাউ!

  4. “বালুঘড়ি উল্টে দেবার অপেক্ষায় থেকে থেকে ভুলেছে সময়ের হিসেব, জলজোছনার কাব্য ধুসর আধাঁরি গিলে খেয়েছে।”…
    ভীষণ ভালো লাগলো…
    (y) (y) (y)

  5. লেখাটির মাঝে ডুবে গিয়েছিলাম পড়তে পড়তে
    বালকটির মাঝে নিজকে দেখতে পাবে অনেকেই।

    এই বালকটিকে শুভেচ্ছা জানাতেই হয়।
    শুভ কামনা।

  6. সারথী বিহীন রথ সামলে যুযুধান প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়াটা একটু বেশীই কষ্টকর। তারমাঝেও সন্তের মতো নির্বিকারত্বের সাধনা।

    হুম সাইদ ভাই।
    এর মাঝেই সাধনা।
    খুব ভালো লাগলো।

  7. একাকীত্বকে অনেক অভিনন্দন, এমন একাকীত্বের সৌরভ পেলেন বলেই ভালোবাসার এত্ত রূপ
    বয়স্ক বালক দেখতে পেল।
    এই সব অনুভুতির কাছে আমার মন্তব্য খুবই ক্ষুদে মনে হয়।

মন্তব্য করুন