মূল লেখায় যান

কম্পেয়ার

সাফায়েতুল ইসলামএকান্ত অনুভূতি১টি মন্তব্য

অধিকাংশ মানুষজন চলাফেরা করে অন্যদের সাথে তুলনা করে। তারা রাস্তাঘাটে হাঁটার সময় আশেপাশের সবাইকে নিজের সাথে কম্পেয়ার করে। এই যেমন সামনের লোকটি দেখতে কেমন, কি পোশাক পরেছে, মানুষটি কি তার চেয়ে সুখী? ইত্যাদি নানান কিছু ভেবেই তাদের জীবন-যাপন। কিন্তু সুখী হতে কে না চায়? সমস্যা আসলে এখানে নয়। যখন কেউ আপনার সাথে প্রতিদিন উঠতে-বসতে গল্প করছে কিংবা ব্যক্তিগত বিষয়গুলো শেয়ার করছে, তখন পার্থক্য নোট করে বুঝল; আপনার চেয়ে সে অনেক বেশি অগোছালো, এলোমেলো এবং এক প্রকার অশান্তির মধ্যে আছে। এতকিছু ভেবে এক পর্যায়ে তাদের মেজাজ খারাপ হতে থাকে, ধীরেধীরে খিটখিটে আচরণগুলো প্রকট আকার ধারণ করে।

এই টাইপের মানুষগুলো নতুন কিছু শিখতে চায় না। এমনকি নিজেকে পরিবর্তন করতে গিয়ে শত রকমের এক্সকিউজ থাকে। তারা ‘কমফোর্ট জোন’ থেকে বের হয় না, তাই তাদের পরিবেশ ও আচরণগত অবস্থান একটি নির্দিষ্ট নিরাপদ এবং চাপহীন রুটিন ও ছকের মাঝে আটকে যেতে থাকে। এটি সাময়িক মানসিক নিরাপত্তার অনুভূতি দিলেও একই সাথে জীবনে চরম বিপর্যয় ডেকে আনে। তাদের সবচে বড় ঘাটতি হচ্ছে ‘লিভিং সেন্স’। বেঁচে থাকার মতো পর্যাপ্ত বোধগম্যতা আসেনি কিংবা উপলব্ধিবোধ খুবই নিম্নমানের। মাঝেমধ্যে ওরা বেমালুম ভুলে যায়; বেঁচে থাকতে গেলে অবশ্যই পরিশ্রম করতে হয়, তিন-বেলা খেতেও কষ্ট আছে।

অতি দুঃখজনক হলেও সত্য- এই মানুষগুলোর ভণ্ডামি আর নোংরামি মাত্রাতিরিক্ত। এক ধরনের পৈশাচিক আনন্দ পেতে গিয়ে দিনশেষে নিজেকেই ক্ষতি করছে। মাথায় সারাক্ষণ অন্যের ক্ষতি সাধনের প্রচেষ্টায় তাদের রাতের ঘুম হারাম করে দিচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে আমাদের বুঝতে হবে- প্রকৃতি ছাড় দেয় কিন্তু কাউকে ছেড়ে দেয় না। এই ধরনের মানুষ আমাদের প্রত্যেকের জীবনে অহরহ। এসব মানুষ থেকে সাবধানে থাকুন, প্রয়োজন ব্যতীত কারো সাথে কথা না বলুন। নিজে ভালো থাকুন অন্যদের ভালো রাখুন।

মোট পড়েছেনঃ ৭৩১জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

১টি মন্তব্য

  1. চমৎকার লিখেছেন। কারো সাথে কারো তুলনা হতে পারে না। প্রত্যেকের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আছে। তবে স্কুল লাইফে দুষ্টুমি করতাম। বান্ধবীরা একসাথে স্কুল থেকে বাসায় ফেরার সময়। কে কার থেকে কতটা লম্বা। বিশেষ করে ছেলেদের থেকে। শুভ কামনা।

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।