সহায় সম্বলহীন মৃন্ময়ী দেবী শোকে পাথর হয়ে উদাসীনভাবে দিকভ্রান্তে ছুটছেন। এমন করুণ শোক আর স্মৃতি আমায় বড্ড কাঁদায়। ঘড়িরকাটা দুপুর একটা ছুঁইছুঁই বিলাস চৌধরী এসেছেন পার্বতীকে নিয়ে বাড়ি চলে যেতে। চারপাঁচ দিন পর পার্বতীর বাগদান হওয়ার কথা। বিবাহের কথা শুনার পর থেকে পার্বতী দিনদিন কেমন হয়ে যাচ্ছে। চোখেমুখে বিষাদের কালোছায়া বহমান। তাকে একদন্ড হাসিমুখে দেখতে… [বিস্তারিত]
বিভাগ: উপন্যাস
পিউ’র মনটা এ মুহুর্তে খুব খারাপ। বরের বাড়িতে নাসিমাকে নিয়ে বেশ কথাবার্তা হচ্ছে। মৃদুলের সাথে কথা শেষ করার পরই ঘটনাটা ঘটেছে। এ বাড়িতে আসার পর থেকেই নাসিমার মনটা বিষণ্নতায় কেমন ঢেকে আছে । কতক্ষণ পরপরই সে কাঁদছে। কেঁদে কেঁদে তার চোখ দুটি বেশ ফুলে ওঠেছে। এমন সুন্দরী বউ পেয়ে বর পক্ষের সবাই খুব খুশি। কিন্তু… [বিস্তারিত]
মৃদুলের এখন একটা সিগারেট টানার খুব ইচ্ছা হচ্ছে। সুনসান বাড়ি। সবাই যার যার মতো ঘুমিয়ে গেছে। ঝিঁ ঝিঁ পোকা ডাকছে। গাছের তলায় কয়েল করে শুয়ে আছে টাইগার। মাঝে মাঝে কোনো কিছুর সামান্য আওয়াজ হলেই কান খাড়া করে তাকাচ্ছে। অন্ধকারে তার চোখের মনি ঝলঝল করে ওঠছে। এমন নিবিচ্ছিন্ন একাকীত্বে কি আর করা। সিগারেটেরও তেষ্টা পেয়েছে। সিগারেট… [বিস্তারিত]
পিউ মোটেই নাসিমার সাথে বরের বাড়ি যেতে রাজি হয়নি। সবার জোরাজুরি ও নাসিমার অনুরোধে তাকে শেষ পর্যন্ত যেতে হয়েছে। যাওয়ার আগে এক পলকের দেখায় পিউ মৃদুলকে বলেছে- মৃদুল ভাইয়া, আমি আপনাকে রেখে কিছুতেই যেতে চাইনি। সবাই মিলে আমাকে জোর করে পাঠালো। নেহায়েৎই আমি ইচ্ছার বিরুদ্ধে ওখানে যাচ্ছি। ভেবেছিলাম নাসিমা আপুর বিদায়ের পর আপনার সাথে আজ… [বিস্তারিত]
নাসিমাকে সন্ধ্যার আগে আগেই বিদায় করা হয়েছে। নদীর ঘাট পর্যন্ত তাকে এগিয়ে দিতে সবাই গেলেও যায়নি শুধু মৃদুল। একটা ভাঙ্গা হাটের নাইটগার্ড হয়ে সে যেন বসে আছে বৈঠক খানার রেলিং ঘেরা বারান্দায়। সন্ধ্যার পাতলা অন্ধকার ধীরে ধীরে গ্রাস করছে প্রকৃতি ও প্রতিবেশকে। বিদায়ের সময় নাসিমার বুক ফাটা আর্তনাদ, উচ্চস্বরের চিৎকার। তার কাছাকাছি এসে মাটিতে গড়িয়ে… [বিস্তারিত]
গেটের কাছে গেট মানি নিয়ে বার্গেনিংটা এখন মৃদুলের কাছে অসহ্য ঠেকছে। গলা উচিয়ে পিউকে একবার ডাকতে চায় মৃদুল। কিন্তু কি যেন ভেবে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে। এ বাড়িতে অন্যান্য বিয়ের অনুষ্ঠানে দেখেছে গেট মানি নিয়ে ছেলেপেলেরা সমস্যা সৃষ্টি করলে বড় মামা এগিয়ে গিয়ে ধমক লাগিয়েছে। ছেলে ছোকরাদের হাত থেকে বরযাত্রীদের ছুটিয়ে এনে তোয়াজ করে বসিয়েছে। কিন্তু… [বিস্তারিত]
পর্ব ৬৯ শীতের আদ্র সকাল। বারান্দায় বসে রোদের দিকে পিঠে পিঠ দিয়ে এলোচুল শুকিয়ে নিচ্ছে পাশের বাড়ির অরুণিমা দিদি। বয়স প্রায় আঠারো কুড়ি ছুঁই ছুঁই। বাড়িতে অরুণিমা দিদি ও তার মা মৃন্ময়ী দেবী ছাড়া তাদের আর কেউ নেই। অরুণিমা দিদির আদরের এক ভাই ছিলো,গতবছর বসন্ত রোগে মারা গিয়েছে। ভাইয়ের নাম অনুপম। লোকমুখে শুনেছি ছেলেটা লেখাপড়ায়… [বিস্তারিত]
বরযাত্রী নদীঘাটে এসে পৌঁছার খবর এসেছে। এই অঞ্চলটির রাস্তাঘাট তেমন উন্নত নয়। নদীপথে চলাচলই স্বাচ্ছন্দ্য,তাই লঞ্চে করে বর যাত্রী এসেছে। নাসিমার বাবা কাদিম আলী মোল্লাসহ অন্যান্য মুরব্বিরা বরযাত্রীদের এগিয়ে আনতে লঞ্চঘাটে গেছে। বরযাত্রী এসে যাওয়ার খবরে ভিতর বাড়িতেও মাহিলাদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। লঞ্চ ঘাট থেকে বরযাত্রীরা আসতে আসতে পনের মিনিটের মতো সময় লাগবে। সাজগোজ… [বিস্তারিত]
খাওয়ার পর্ব শেষ হওয়ার পর এতক্ষণের মানুষের থিকথিকে ঘনত্বটা এখন বেশ হালকা হয়েছে। গ্রামের লোকজন যারা এসেছিল, তারা সবাই চলে গেছে যার যার মতো। তবু ঘরে এখনো ষাট-সত্তুর জন মেহমান। এখন চলছে শোবার আয়োজন। কে কোন ঘরে ঘুমোবে বলে দেয়া হচ্ছে। মৃদুলের এলটে পড়েছে বাংলো ঘরের বারান্দার একটি রুম। একটু আগে পিউর মা রাশেদা ভানু… [বিস্তারিত]
সেবার এক গ্রীষ্মের ছুটিতে মামার বাড়ি বেড়াতে এসে অনেক দিন থেকেছিল মৃদুল। পুকুরে গোসল করতে যেয়ে নাসিমাকে ধাক্কা দিয়ে পানিতে ফেলে দিয়েছিল সে; এতে রেগে গিয়ে নাসিমা বলে ওঠে- :তুমি পঁচা, তুমি একটা কুত্তা, অসভ্য, ইতর। এমন সব গালাগাল শোনে মৃদুলও নিজকে সামলাতে পারলোনা। একটা শক্ত মাটির ঢেলা হাতে নিয়ে ছুড়ে মারে নাসিমাকে। ঢেলাটা গিয়ে… [বিস্তারিত]
পর্ব -তিন সাউন্ড সিষ্টেম ছাড়া হয়েছে। শুরু হয়েছে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান। ফরিদা ভানুই মেয়েকে মিষ্টি খাইয়ে ও হলুদ মাখিয়ে গায়ে হলুদের শুভ সূচনা করেছেন। এরপর একে একে চাচী, জেঠী, খালা, ফুফুরা হলুদ মাখিয়ে, মিষ্টি খাইয়ে শেষ করলো মুরব্বিদের পর্ব। মৃদুল বেশ কিছুটা দূরে গিয়ে একটা চেয়ার টেনে বসে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করছে। ছেলে মেয়েরাও তাদের কথা… [বিস্তারিত]
২.(দুই) মৃদুলের বড় মামা ওয়াহিদ মোল্লা বিরাট গেঞ্জাম বাঁধিয়ে দিয়েছেন ; কিছুতেই আধুনিকতার নামে মোল্লা বাড়িতে এসব গান বাজনা চলতে দে’য়া উচিৎ হবেনা। এ সব গান বাজনা বন্ধ করতে হবে; না হলে ওনি চলে যাবেন। সবাই মিলে ওয়াহিদ মোল্লাকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু কেউই তাকে শান্ত করার জন্য এগিয়ে যেতে সাহস পাচ্ছেনা। সাহস করে… [বিস্তারিত]
#পর্ব_৬৭ ... ধুলোমাখা জীবনের পদে পদে রয়েছে কত বাঁক। কে জানতো এ বাঁক সহজের পথে উত্তরণ হবে। এ শহরে এসে কত রাত,কত প্রহর কাটিয়েছি একাকীত্বের নির্বাকে। যদিও এই একাকীত্বের উপসংহারের শেষবেলা পার্বতী নামক ভালোবাসার মানুষটি কাছে এসেছিলো। আমরা একে অপরের বদ্ধপরিকরে বেসেছিলাম ভালো দুজন দুজনাকে। নিয়তিকে অগ্নিহোমে সাক্ষী রেখেছিলাম। আজও দুজন নিয়তির উপর নির্ভর করে… [বিস্তারিত]
মাহবুবুল আলম।। ১. শেষ পর্যন্ত যে তার ভাবনাটা এভাবে খাপের খাপ মিলে যাবে তা কষ্মিনকালে ও ভাবেনি মৃদুল। যে একটি কথা পিউকে বলবে বলে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগছিল সে, সেই কথাটাই পিউ কিছুটা আগে তাকে বলেছে। শুধু বলেইনি; হাতে একটা চিরকুট ও ধরিয়ে দিয়েছে। সেই চিরকুটটা এখন ওম দিচ্ছে মৃদুলের পকেটে। কিন্তু বিয়ে বাড়ির এতসব ঝামেলা ও… [বিস্তারিত]
#পর্ব_৬৫ সুবর্ণ গ্রামে আমাদের শীতের স্নিগ্ধ সকাল। শিশির ভেজা ঘাসের ডগায় একে একে প্রজাপতির চিহ্নচাপ। অনুরাগ জমে আছে এই শিশির ভেজা ঘাসের ডগায়। শীত এলেই যে সন্ধ্যা এসে ঝাঁপিয়ে পড়ে সুবর্ণ গ্রামে। খানিকক্ষণ পর শুভ মধ্যাহ্ন। পুরো গাঁ ঘুরে বেড়ালাম আমি আর বিনোদ। ভালো একটা সময় অতিবাহিত করলাম আমরা। এ গ্রামের ঐতিহ্যবাহী কুটিরশিল্পের সাথে অনেক… [বিস্তারিত]















