একদিনের কথা মনে আছে, আব্বা ও আমি রাত দুইটা পর্যন্ত রাজনীতির আলোচনা করি। আব্বা আমার আলোচনা শুনে খুশি হলেন। শুধু বললেন, শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক সাহেবের বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ না করতে। একদিন আমার মা’ও আমাকে বলছিলেন, “বাবা যাহাই কর, হক সাহেবের বিরুদ্ধে বলিও না।” শেরে বাংলা মিছামিছিই ’শেরে বাংলা’ হন নাই। বাংলার… [বিস্তারিত]
বিভাগ: ইতিহাস ঐতিহ্য
সময় কারো জন্য থেমে থাকে না।আজ পর্যন্ত কোন মানুষ মৃত্যুর সময়ের রেখা অতিক্রম করতে পারেনি।সময় আসলে মরতে হবে সবাই জানেন,কিন্তু ক্ষেত্র বিশেষ সময় এলে যখন কার্য সম্পন্ন হয় তখন বুদ্ধিমান লোক ব্যতীত অন্যরা হৈ চৈ শুরু করে দেয়।আগুনে হাত রাখলে হাত যেমন পুড়ে যায় তেমনি পানিতে হাত রাখলে হাত ভিজবে।অর্থাৎ কার্য সম্পন্ন হলে তার ফল… [বিস্তারিত]
‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ ধ্বনিতে গোপালগঞ্জ শহর মুখরিত হয়ে উঠল। নেতারা জনসমাগম দেখে খুবই আনন্দিত হলেন। সভা হবে, কিন্তু প্যান্ডেল গত রাতে ঝড়ে ভেঙে গিয়েছে। নৌকার বাদামগুলি ছিঁড়ে টুকরা টুকরা হয়ে গেছে। সেই ভাঙা প্যান্ডেলে সভা হল। রাতেই সকলে বিদায় নিলেন। আমার অবস্থা খুবই শোচনীয় হয়ে গেল। এত টাকা আমি কোথায় পাব? বাদামগুলি ছিঁড়ে গেছে, এখন তো… [বিস্তারিত]
আমি কলকাতায় রওয়ানা হয়ে গেলাম, নেতৃবৃন্দকে নিমন্ত্রণ করার জন্য। যখন সোহরাওয়ার্দী সাহেবকে দাওয়াত করতে গেলাম, দেখি খাজা শাহাবুদ্দিন সেখানে উপস্থিত আছেন। শহীদ সাহেব বললেন, “আমি খুবই ব্যস্ত, তুমি বুঝতেই পারো, নিশ্চয়ই চেষ্টা করব যেতে। শাহাবুদ্দিন সাহেবকে নিমন্ত্রণ কর উনিও যাবেন।” অনিচ্ছা সত্ত্বেও শাহাবুদ্দিন সাহেবকে বলতে হল, তিনিও রাজি হলেন। মওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ এবং হবীবুল্লাহ… [বিস্তারিত]
বাড়ীর পাশের একটি চা স্টলে চা পান করে রাত জাগা চোখের রোগ সারিয়ে নিলেন সূর্য্য তারপর হাটতে লাগলেন সোজা সমরদের বাসার দিকে।সমরদের বাসাটা তার বাসা হতে দশ পনের মিনিট পথের হাটার দূরত্ব।হাটছেন আনমনে নিজেকে পৃথিবীর সেরা সুখী মানুষ ভেবে।গত রাতে তার মা তাকে সংসারি হতে ওয়াদা করিয়েছেন যদিও তার মত ছিল না তবুও মায়ের কথা… [বিস্তারিত]
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যখন বাংলাদেশ দখল করে মীর জাফরের বিশ্বাস ঘাতকতায়, তখন বাংলার এত সম্পদ ছিল যে, একজন মুর্শিদাবাদের ব্যবসায়ী গোটা বিলাত শহর কিনতে পারত। সেই বাংলাদেশের এই দুরাবস্থা চোখে দেখেছি যে, মা মরে পড়ে আছে, ছোট বাচ্চা সেই মরা মার দুধ চাটছে। কুকুর ও মানুষ একসাথে ডাস্টবিন থেকে কিছু খাবার কাড়াকাড়ি করছে। ছেলেমেয়েদের রাস্তায়… [বিস্তারিত]
এখন তা কল্পনাতীত...অথচ এক দিন এই চিঠি লেখাই ছিল অনেকের কাছে দৈনিক রুটিন ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর হতেই মুলত স্বাধীনতা যুদ্ধের ঢামাঢোল বাজতে থাকে,সময়ের অতিক্রমে তার রূপ ভয়ংকর হতে থাকে...চার দিকে কেবল ফিসফাস পাকিদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের রাতে ঢাকা শহরে বসবাসরত একটি পরিবারের এক মাত্র কন্যা নাজমার অপেক্ষা তার সহপাঠি… [বিস্তারিত]
রক্তচোখের আগুন মেখে ঝলসে-যাওয়া আমার বছরগুলো আজকে যখন হাতের মুঠোয় কন্ঠনালী খুন পিয়াসী ছুরি, কাজ কী তবে আগলে রেখে বুকের কাছে কেউটে সাপের ঝাঁপি আমার হাতেই নিলাম আমার নির্ভতার চাবি; তুমি আমার আকাশ থেকে সরাও তোমার ছায়া, তুমি বাংলা ছাড়ো । অনেক মাপের অনেক জুতোর দামে তোমার হাতে দিয়েছি ফুল হৃদয়-সুরোভিত সে-ফুল খুঁজে পায়নি তোমার… [বিস্তারিত]
১৯৪৩ সালে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ আরম্ভ হয়েছে। লক্ষ লক্ষ লোক মারা যাচ্ছে। এই সময় আমি প্রাদেশিক মুসলিম লীগ কাউন্সিলের সদস্য হই। জনাব আবুল হাশিম সাহেব মুসলিম লীগের সম্পাদক হন। তিনি সোহরাওয়ার্দী সাহেবের মনোনীত ছিলেন। আর খাজা নাজিমুদ্দীন সাহেবের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন খুলনার আবুল কাশেম সাহেব। হাশিম সাহেব তাঁকে পরাজিত করে সাধারণ সম্পাদক হন। এর পূর্বে সোহরাওয়ার্দী… [বিস্তারিত]
একদিন আমরা পাড়ার কয়েকজন ছেলেমেয়ে একটা নতুন কিছু করার ইচ্ছা থেকেই সিদ্ধান্ত নিলাম পাড়ায় এবং এর আশপাশের এলাকায় যে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা আছে তাদের সম্বর্ধনা দেব। পাড়ার উঠতি বয়সি কিছু ছেলেমেয়েদের এটা একটা উদ্যোগ। শুরু করেছিলাম আমরা । কিন্তু আমাদের এই কাজকে বড়রা সবাই যে ভাবে সাহায্য সহযোগিতা করেছিল, সাহস দিয়েছে মনেই হয় নি যে আমরা… [বিস্তারিত]
একটা ঘটনার দিন-তারিখ আমার মনে নাই, ১৯৪১ সালের মধ্যেই হবে, ফরিদপুর ছাত্রলীগের জেলা কনফারেন্স, শিক্ষাবিদদের আমন্ত্রণ জানান হয়েছে। তাঁরা হলেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম, হুমায়ুন কবির, ইব্রাহীম খাঁ সাহেব। সে সভা আমাদের করতে দিল না, ১৪৪ ধারা জারি করল। কনফারেন্স করলাম হুমায়ুন কবির সাহেবের বাড়িতে। কাজী নজরুল সাহেব গান শুনালেন। আমরা বললাম, এই কনফারেন্সে রাজনীতি… [বিস্তারিত]
১৯৪১ সালে আমি মেট্রিক পরীক্ষা দেব। পরীক্ষায় পাস আমি নিশ্চয় করব, সন্দেহ ছিল না। রসরঞ্জন বাবু ইংরেজির শিক্ষক, আমাকে ইংরেজি পড়াতেন। আর মনোরঞ্জন বাবু অঙ্কের শিক্ষক, আমাকে অঙ্ক করাতেন। অঙ্ককে আমার ভয় ছিল। কারণ ভুল করে ফেলতাম। অঙ্কের জন্যই বোধহয় প্রথম বিভাগ পাব না। পরীক্ষার একদিন পূর্বে আমার ভীষণ জ্বর হল এবং মামস হয়ে গলা… [বিস্তারিত]
বাংলাদেশে অনেক আলোচনা ও সমালোচনা হয় দেশের মুক্তিযুদ্ধের স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে, তাঁর একটি সুন্দর ও রাজনৈতিক জবাব স্যার অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ দিয়েছেন বলেই আমার ধারনা। যা আমি এই ব্লগের অনেকের হয়ত পড়া আছে তার পরেও শেয়ার করলাম। ১. অনেক বিশ্লেষক অভিযোগ উত্থাপন করেন, ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত জনসভায় সরাসরি… [বিস্তারিত]
১৯৩৯ সালে কলকাতা যাই বেড়াতে। শহীদ সাহেবের সাথে দেখা করি। আবদুল ওয়াসেক আমাদের ছাত্রদের নেতা ছিলেন। তাঁর সাথেও আলাপ করে তাঁকে গোপালগঞ্জ আসতে অনুরোধ করি। শহীদ সাহেবকে বললাম, গোপালগঞ্জে মুসলিম ছাত্রলীগ গঠন করব এবং মুসলিম লীগও গঠন করব। খন্দকার শামসুদ্দীন সাহেব এমএলএ তখন মুসলিম লীগে যোগদান করেছেন। তিনি সভাপতি হলেন ছাত্রলীগের। আমি হলাম সম্পাদক। মুসলিম… [বিস্তারিত]
খেলা পাগল ছেলেটা আমার মন খারাপ করে গ্যালারীতে বসে আছে। জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন হয়নি কারণ কি। তার দুটো মামাতো ভাই পাকিস্তানের পক্ষে কাফঝাপ করছে। “ওরা কি স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস জানেনা”? বিদেশ বিভুঁয়ে জন্মানো ছেলেটা খুঁটিয়ে খুঁচিয়ে জানতে চাইতো, আমি কি করেছি যুদ্ধের সময়, কেন আমি যুদ্ধে যায়নি, আরো কত কী? অথচ ওরই কাজিনরা কিনা তাদের… [বিস্তারিত]






