# GET WELL SOON স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

Author: ইঞ্জা
Published: 2020-07-25
Category: সমসাময়িক
URL: https://sonelablog.com/get-well-soon-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a3%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%9f/

আমি ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য এবং স্বাস্থ্যখাত সম্পর্কে বেশ কিছু লেখা আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি, স্বাস্থ্যখাতের  দৈন্যতা নিয়ে এবারের আয়োজন আনতে গিয়ে সত্যি আমি আতংকিত হয়ে গেছি।আতংকিত হয়েছি কেন নিশ্চয় আপনারা জানতে চান? আমি বুঝিয়ে বলছি।

এতোদিন স্বাধীনতা পরবর্তীতে আমরা দেখছি যে,  দেশের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সকল মন্ত্রী, এমপি, শিল্পপতি, মালপতি (টাকা) সবাই চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান চিকিৎসার জন্য, তারা কেউ ভুলেও দেশের হাসপাতালের চিকিৎসা নেননা, কারণ কি?

কারণ হলো উনাদের দেশিয় চিকিৎসক, হাসপাতালের উপর ভরসা নেই।

ভরসা নেই কেন তা এতোদিন কোনো প্রশ্ন না করলেও জনগণ মনে করতেন উনারা নিজেদের একটা কিছু মনে করে অথবা উন্নত চিকিৎসার জন্যই নেতা খেতা, পাতি সাতি সবাই বিদেশে চিকিৎসার জন্য যান।

আবার যাদের কঠিন রোগ হতো, যেমন ক্যান্সার,  হার্টের জঠিল অপারেশন সহ বড় বড় রোগের জন্য যেহেতু দেশে উন্নত চিকিৎসা নেই বলেই মধ্যবিত্তরাও পাশের দেশ ভারতে যান, উনাদের তো আর কাড়ি কাড়ি টাকা নেই, তাই ধার দেনা করে, নিজের জমি বিক্রি বন্ধক করে বিদেশে চিকিৎসা করতে যান।

কেন এতো দৈন্যতা আমাদের চিকিৎসা ক্ষেত্রে?

করোনা বা কোভিড-১৯ আমাদের চিকিৎসা খাতের জাত চিনিয়ে দিলো, স্বাধীনতার পাঁচ দশকে এই প্রথম চিকিৎসা খাতের জাত চিনিয়ে দিলো সাধারণ জনগণকে, জানলে অবাক হবেন স্বাধীনতা পরবর্তী এতো বাজেট হলো প্রতি বছর,  কিন্তু এই প্রথম সবচাইতে বেশি বরাদ্দ পেয়েছে চিকিৎসা খাত, এতোদিন পর্যন্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আল্লাহর ওয়াস্তে চলেছে।

যাও অল্প কিছু বরাদ্দ পেতো তা নেতা খেতা, চোর ব্যবসায়ীরা মেরে খেয়েছে।

জানেন কিনা, স্বাস্থ্যখাতে চুরি বললে ভুল হবে, এই খাতে সাগর নয়, মহাসাগর চুরি হয়েছে।

এই খাতে যা মেসিনারিজ আছে তার মূল্য কয়েকশো শতাংশ বেশি দামে কেনা হয়, এর কারণ হলো সংশ্লিষ্ট দফতরের সবাই টপ টু বটম এইখান থেকে ঘুষ খায়, এদের ঘুষ না দিলে আপনি কোনো যন্ত্রপাতিই তাদেরকে দিতে পারবেন না, এইজন্য ব্যবসায়ীরা সাপ্লাইয়ের আগেই কন্ট্রাকে যান, দফতর থেকেই বলে দেয়, এইসব যন্ত্রপাতিতে আমাদের এতো পার্সেন্ট দিতে হবে, নাহলে ফুটো।

ব্যবসায়ীরাও সেয়ানা, পাঁচ টাকার মাল পাঁচ হাজার টাকা দাম ধরে, এরপর ঘুষ, কমিশন ইত্যাদি ধরে তা এক লক্ষ টাকা হয়ে যায়। 

বেশিদিন আগের কথা না, সরকার হার্টের রিংয়ের দাম ধার্য্য করে দেয়, তখন দেখা যায় যে আগে যেটা কিনতে দেড় দুই লক্ষ লাগতো, তার দাম অর্ধেরও কম দাম হয়ে গেছে। 

এইতো গেলো যন্ত্রপাতির কথা, ইদানিং খবরে জানা যাচ্ছে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট চোররা হাসপাতালে যা দেয়, মানে প্লেট বাসন, চামুচ, বেডশিট, বালিশ, পর্দা সহ সবকিছুতেই তারা কয়েকশো গুণ, হাজার, বেশি দাম দিয়ে কিনছে কিন্তু দেখার কেউ নেই।  

কেউ নেই কেন?

কারণ যারা দেখার, তারাই সব মেরে খাচ্ছে। 

শুধু কি তাই, হাসপাতালের খাবার কখনো দেখেছেন?

যারা দেখেননি তারা বুঝতেই পারবেননা কতো জঘন্য সেইসব খাবার,,যা রুগী খেলে উল্টো অন্য রোগ হয়ে যাবে, ডালে ডালের দেখা নেই, মাছ মাংস যা দেয় তা দেখলেই বমি আসে, ডিম দিলে তা নিশ্চিত পঁচা ডিমই হবে, হাসপাতালে ফল সে যেন অমাবস্যার চাঁদ।

এ যেন আলিবাবা চল্লিশ চোরের চিচিং ফাঁক, কিছুই নেই। 

 হাসপাতালে রুগী ভর্তি করবেন?

তার জন্য স্ট্রেচার, উইল চেয়ার লাগবে, টাকা ছাড়া এইসব পাবেনই না, ভালো বেড চাই, আয়ার দরকার, সবকিছুর জন্য টাকা লাগবে।

হাসপাতালের বাথরুম, এ্যাঃহে একদম জঘন্য, হাসপাতালের ওয়ার্ডবয়, আয়াদের ব্যবহার দেখলে আত্মহত্যা করতে ইচ্ছে করে, ওরাই হাসপাতালের বড় নবাব, ডাক্তারদের কথা না বললেই নয়, কচিত কোনো ডাক্তার যদি মায়া ভরে কথা বলে, তাহলে নিশ্চিত সে ফেরেস্তা ছাড়া আর কেউ নয়।

 কোভিড-১৯ আমাদেরকে স্বাস্থখাতের চোরদের  স্বরূপ একে একে সামনে নিয়ে আসছে, মাত্র দুইদিন আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহা পরিচালক পদত্যাগ করেছে, বলা যায় পদত্যাগ নয় বরখাস্তই হয়েছে, কারণ কি?

কারণ হলো উনার অতি চোর ভক্তি, উনি যে সাধু নন তার প্রমাণও ধীরেধীরে বেরিয়ে আসবে, উনি হাসপাতালের পারমিশন নাই এমনই হাসপাতাল দিয়ে কোভিড-১৯ এর চিকিৎসা, টেস্ট ইত্যাদি করার জন্য ছাড়পত্র দিয়েছিলেন, রিজেন্ট হাসপাতাল, জেকেজি, শাহবুদ্দিন মেডিকেলকে পারমিশন দিয়েছিলেন, যারা চিকিৎসা ও টেস্ট কম, ভূয়া চিকিৎসা ও টেস্ট করছিলো যা দেশে বিদেশে মান সম্মান নিয়ে টানাটানি হয়ে গেছে, তাদের ভূয়া রিপোর্ট নিয়ে দেশ থেকে প্রবাসীরা বিদেশ গিয়ে ফেরত এসেছে।

শুধু কি তাই, যারা কোভিড পেশেন্ট নন তাদের পজিটিভ আর যারা পজিটিভ তাদের নেগেটিভ রিপোর্টের ফলে কত শত মানুষ যে আক্রান্ত হলো তা কি কেউ বলতে পারে?

এই কারণেই দোষি ব্যক্তিদের কঠোর থেকে কঠোরতর শাস্তি দেওয়া এখন সরকারের কর্তব্য, যেন আগামীতে কোনো সাহেদ, সাবরিনা, শারমিন আর মাথা তুলতে না পারে। 

কয়েকদিন আগেই ‘৭১ টিভির টক শো একাত্তর জার্নালে কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কথা শুনে তব্দা খেয়ে গেলাম, তারা জানালেন যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের  একটি উপকমিটি আছে যারা করোনা হানা দেওয়ার আগেই পঁচিশটি দিক  নির্দেশনা দিয়েছিলেন, যা মন্ত্রণালয় একটিও নির্দেশনা ফলো করেনি, সবচেয়ে দুঃখজনক কি জানেন, এই কমিটিতে যারা আছেন তারা সবাই বিশেষজ্ঞ ডাক্তার।

দুঃখজনক হলেও সত্য কি জানেন, এই বিশেষজ্ঞদের কথা কেন মন্ত্রণালয় শুনেনি জানেন, যাস্ট ব্যবসা, উনারা আমাদের মতো সাধারণ মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে যাস্ট ব্যবসা ভাগানোর জন্য।

আমার ক্ষমতা থাকলে আমি নিশ্চয় এদের সবাইকে ফাঁসিতে ঝুলাতাম।

 সবচেয়ে দুঃখজনক যে স্বাস্থ্যখাতের দূর্বলতার জন্য একক ভাবে সরকার, বা গত পঞ্চাশ দশকে যত সরকার ছিলো তারাই দায়ী বলে আমি মনে করি, নাহলে কি ভাবে স্বাস্থ্যখাতকে এতো অবহেলা করে ও দূর্নীতিবাজদের আড্ডা হয়, সকল সরকার এতোদিন কেন এই ক্ষেত্রে নজর দেননি এটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ, কারণ মানুষ যেখানে স্বাস্থ্যসেবা ঠিক মতো পায়নি কেন তা সরকারের জবাবদিহি করা উচিত।

জনগণের জিজ্ঞেসা, কেন এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী একজন সামান্য মাস্টার্স পাশ ব্যক্তি হবেন?

মাস্টার্স পাশ ব্যক্তি স্বাস্থ্যখাত পরিচালনার কি জ্ঞান রাখেন তা আমার মতো সাধারণ মানুষের মাথায় আসেনা?

কথায় আছেনা আদার ব্যাপারি কিভাবে জাহাজের খবর রাখবে, তেমনি একজন স্বাস্থ্যমন্ত্রী তিনিই হওয়া উচিত যিনি একজন প্রথিতযশা চিকিৎসক এবং এ ব্যাপারে উচ্চতর জ্ঞান রাখেন, কিন্তু এমন ব্যক্তিকে মন্ত্রী না করে সাধারণ মাস্টার্স পাশ ব্যক্তি স্বাস্থ্যমন্ত্রী হওয়া মানে আমাদের চিকিৎসা ক্ষেত্রে দৈন্যতা নয়তো কি? 

ফলশ্রুতিতে বান্দর কিভাবে জানবে আদার স্বাদের মতোই অবস্থা হয়েছে আমাদের স্বাস্থ্য  মন্ত্রণালয়ের। 

এছাড়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী কোনো বিষয়েই দায় নিতে রাজি নন, কেন স্যার আপনি কি ফেরেস্তা নাকি, আপনি স্বাস্থ্যখাতের সকল দূর্নীতির দায় এড়াতে পারেন না, এ দায় আপনারই।

 কয়েকদিন আগেই চায়না থেকে কোভিড-১৯ এর ভ্যাক্সিন পাঠানো হয়েছে আইসিডিডিআরবির কাছে যা এই দেশেই টেস্ট করার কথা একুশশো মানুষের উপর, তা মন্ত্রণালয় বন্ধ করে দিয়েছে কোনো কারণ ছাড়া, কেন, কারণ কি, কার আশায় বন্ধ করলেন, অক্সফোর্ডের ভ্যাক্সিনের জন্য কি?

জ্বি না, ভুলে যান, মন্ত্রণালয় যায় চিন্তা করুক, আমি দিব্য চোখে দেখছি যে তা আপনারা পেতে আরও তিন বছর লাগবে, তাও ফ্রি পাবেননা, সুতরাং যা সুযোগ পেয়েছেন তাই ব্যবহার করুন দ্রুত, নাহয় আমও যাবে, ছালাও যাবে, সাধু ঘুম থেকে জাগুন। 

আমাদের তৌহিদ ভাই বলেছেন, স্বাস্থ্যখাতে এদেশের দুর্দশার কথা সবাই জানে তবু কোন এক অদ্ভুত কারনে কেউ প্রকাশ করেনা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একা কি করবেন। এ খাতে দ্বায়িত্বপ্রাপ্তরাও যেন একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে আছেন।

এই অবস্থার দ্রুত উত্তরণ না হলে সাধারণ জনগনকে চিকিৎসাসেবা দেয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। করোনাকালীন সময়ে যত দুর্নীতিবাজ ধরা খেলো তা প্রশংসার যোগ্য কিন্তু মাথাগুলোকে পাকড়াও করতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা যতক্ষণ জবাবদিহিতা চালু হবেনা কোন সেক্টরেই দুর্নীতি কমবেনা।

 আমার মতামতঃ

আমার মতামত দিয়ে তো আর সরকার চলবেনা, তবুও বলছি, প্লিজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শুনুন একবার আমাদের কথা, আমাদের বুলেট ট্রেন, আন্ডারগ্রাউন্ড ট্রেন, মেট্রো ট্রেনের এখন দরকার নেই, নেই আন্ডারগ্রাউন্ড চলাচলের পথ, এইসব পরেও করতে পারবেন, দয়া করে স্বাস্থ্যখাতের সকল দূর্নীতিবাজদের এক রশিতে বেঁধে পিটান, এদের কঠোর শাস্তি দিন যেন আগামীতে কেউ যেন এইসব দূর্নীতি করতে দুঃসাহস না করে। 

প্লিজ স্বাস্থ্যখাতকে ঢেলে সাজান, প্রতিটি হাসপাতালে উন্নত চিকিসার ব্যবস্থা করুন, দরকার হলে বিদেশ থেকে চিকিৎসক এনে দেশের চিকিৎসকদের শিক্ষা দিন যেন তারা উন্নত চিকিৎসা দিতে পারে, ব্রুমগ্রাদ, এলিজাবেথ হাসপাতাল থেকে ডাক্তারদের দেশে আনুন কয়েক বছরের জন্য, দেবি শেঠির মতো ডাক্তারদের হায়ার করুন, উনারা এদেশে এসে সকল চিকিৎসকদের উন্নত চিকিৎসার শিক্ষা দান করুক। 

এর সাথে সাথে দেশে আরও বেশি উন্নত হাসপাতাল করুন, প্রতিটি হাসপাতালে হাই ফ্লো অক্সিজেনের ব্যবস্থা করুন, উন্নত চিকিৎসা সামগ্রী দিন, সকল চিকিৎসা সরঞ্জামের ইম্পোর্ট টেক্স নেওয়া বন্ধ করুন, এতে চিকিৎসা সহজলভ্য হবে, দেশের সকল ঔষধ প্রস্তুতকারীদের উৎপাদিত সকল ঔষধের নির্ধারিত দাম করে দিন, ঔষধ প্রসাশনকে আরও উন্নত এবং সময় উপযোগী করে স্ট্রং করুন।

দেশের প্রতিটি হাসপাতালে উল্লেখযোগ্য হারে ফার্মাসিস্ট নিয়োগ দান করুন, উল্লেখযোগ্য হারে টেকনিশিয়ান নিয়োগে তাদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা নিন।

হাসপাতালে ওয়ার্ডবয়, মেথর, আয়াদের ভালো বেতন দিয়ে সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করুন।

 বেশি বেশি বিশেষায়িত হাসপাতাল করুন, যেন ক্যান্সার, হার্ট, কিডনি, ফুসফুস, লিভার সহ সকল চিকিৎসা যেন এখন থেকে দেশেই হয় এই ব্যবস্থা করুন।

সকল ডাক্তারদের নির্ধারিত ফির ব্যবস্থা করুন যেন তারা অযথা  মানুষের চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা করতে না পারে তার ব্যবস্থা করুন।

তাহলেই হতে পারে সঠিক, উন্নত চিকিৎসা খাত, এসবে যেমন উন্নত হবে দেশের চিকিৎসা খাত, তেমনি বিদেশ যাওয়া রুগী কমে যাবে, দেশের টাকা দেশেই থাকবে, সাথে সাথে বিদেশ থেকেও রুগীরা আসবে উন্নত চিকিৎসা নিতে, এতে এই খাত থেকেও ভালো রাজস্ব আসবে। 

 পরিশেষে আমার শুধু একটিই কথা বলা আছেঃ

***GET WELL SOON স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।।*** 

সমাপ্ত।

ছবিঃ গুগল।
