# ‪#‎লন্ডনের‬ মনু মিয়া….

Author: আলমগীর হোসাইন
Published: 2016-05-05
Category: একান্ত অনুভূতি
URL: https://sonelablog.com/%e2%80%aa%e2%80%8e%e0%a6%b2%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a1%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0%e2%80%ac-%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%81-%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be/

[‪#‎লন্ডনের‬](https://www.facebook.com/hashtag/%E0%A6%B2%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A1%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0?source=feed_text&story_id=10209533635967970) মনু মিয়া….

ডাক্তারের কাছ থেকে আসলাম !লন্ডনে ডাক্তারা কিছুটা আজব প্রাণী, বয়েসে যারা তরুণ তাদেরকে কোন ঔষুধ দেয় না,বলবে প্যারাসিটামল খাও ৭২ ঘন্টা পড়ে ঠিক হয়ে যাবে |যত বারই ডাক্তারের কাছে যাই, কম বেশ উনারা সবাই প্রায় সমান কথা বলেন | যদিও সারা বছরে একবার বা দুবার করে মনে হয়, ডাক্তারে যাই | এমন বছর আছে সারা বছরও ডাক্তারে যেতে হয় নাই, স্থানীয় NHS থেকে বাসায় চিঠি এসেছে; আমি কি এই ঠিকানায় এখনও আছি কিনা ??? সব সময় সুস্থ থাকাটা মহান আল্লাহ-পাকের অনেক বড় নিয়ামত |

আসলেই যে খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম, সেটা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করতে পেরেছিলাম |এক বার মনে হয়েছিল, মনেহয়, না ফেরার দুনিয়াতে চলে যাচ্ছি ; রাত তখন ৪টা একটুও ঘুমাতে পারিনি সারা রাত খুবই অস্বস্তিকর অবস্থায় কেটে ছিল |

[‪#‎আমার‬](https://www.facebook.com/hashtag/%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0?source=feed_text&story_id=10209533635967970) আম্মা অনেক সাহসী নারী, যেকোন বিপদে উনি সাহস দিতে পারেন,আমি যখনি কোন সমস্যা পড়ি, এই বয়েসেও সবার আগে মাকে ফোন দেই |

[‪#‎বিলেতে‬](https://www.facebook.com/hashtag/%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A7%87?source=feed_text&story_id=10209533635967970) যখন প্রথম আসি একে বারেই শুন্য থেকে খুবই বৈরী পরিবেশে যাপিত জীবন শুরু করতে হয়েছিল,অনেকের সাথে যোগাযোগ করতে পারিনি,ব্যক্তিগত অবস্থান তৈরী করা নিয়ে খুবই ব্যস্ত ছিলাম; কেউ এক পাউন্ড দিও সাহায্য করে নাই ; শুধু আমার মা ধৈর্য্য আর সাহস দিয়েছেন প্রতিটা ক্ষেত্রেই |মাত্র কয়েক বছরেই প্রাণ পণ চেষ্ঠায় ঘুরে দাড়িয়েছি | বেচে থাকলে,হত যে পথে হাটতেছি,এক পাউন্ড -১০০ পাউন্ড,  
১ হাজার পাউন্ড আমার কাছে হবে শুধু মাত্র সংখ্যা |

বাড়ি -গাড়ি -ব্যবসা সব কিছুই নিজের করে নিতে পারলেও,আইনি জটিলতায় মা বাবাকে এখানে আনতে পারতেছি না ;এটা এই মুহুর্তের সবচেয়ে বড় দুঃখ ||

[‪#‎ভাবলাম‬](https://www.facebook.com/hashtag/%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE?source=feed_text&story_id=10209533635967970) যদি চল যাই, মাকে একটা ফোন দেই, কখনও এই সময়ে আম্মাকে ফোন দেও হয় না; আব্বা ফোনটা ধরলেন, প্রথমেই বলেন কি হয়েছে; এত রাতে? ঘুমাস নাই ? দাড়া তুর আম্মাকে দিছি ; আম্মাকে বললাম, আম্মা আমার খুবই জ্বর ; এর চেয়ে বেশি আর কিছুই বলতেও পারছিলাম না | আম্মা সাথে সাথেই বলেন, তর এত সকালের ফোন পেয়েই বুঝতে পেরেছি কোন সমস্যা ? ভয় পাইস না,আমি নামাজ পড়ে আল্লাহ কাছে দোয়া করব কমে যাবে |আর কিছুই বলতে পারিনি; আমি আসলেই খুবই অতিরিক্ত দুর্বল হয়ে পড়ছিলাম |আমার কেন জানি ভয় হচ্ছিল ; চার কালিমা পড়েও ফেলেছি ; কিছুদিন আগে সুস্থ -সবল আমার এক বন্ধু মারা যাবার পর, মৃত্য নিয়ে আমি অনেক ভাবি | পৃথিবীতে সব চেয়ে সত্য আমাদের সবাইকে একদিন মরতে হবে, তবে আমি ঈমানের সাথে যে কোন সময় মরতে প্রস্তুত|আমি বিশ্বাস করি, মৃত্যটা হবে খুবই শান্তির |

কিছুদিন আগে আমার খুবই ঘনিষ্ট একবন্ধু এভাবেই না ফেরার দুনিয়ায় চলে যান ; সময় না পাওয়ায় উনাকে নিয়ে লিখতে পারি নাই | ভদ্র লোকের নাম ছিল মনু ভাই, সবাই  
উনাকে মুন নাম ডাকতেন |

উনি ম্যানচেস্টারের রয়টন এলাকায় থাকতেন |উনি বয়েসে আমার অনেক বড় কিন্তু ঘনিষ্ট বন্ধু ছিলেন |উনি বিলেত এসেছিলেন অনেক ছোট বয়েসে | এখানে স্কুল কলেজ পড়েছিলেন |

পারিবারিক কিছু জটিলতার কারণে উনি একা -একা থাকতেন উনার বিশাল বাড়িতে | মাঝে মাঝে গভীর রাতে আমি,হীরা ভাই,জালাল ভাই,হেলাল ভাই,আমাদের আরেক বন্ধু রসডেলের বাঙালি লেবার পার্টির কাউন্সিলর আলী ভাই[Syed Ali Ahmed](https://www.facebook.com/syedali.ahmed.18) উনার বাসায় আড্ডা দিতাম ;কার্ড খেলতাম (২৯) | উনি আমাদের জন্য নিজেই চা -নাস্তা তৈরী করতেন |জানেন,আমার ভাবতেও অনেক কষ্ট হচ্ছে মনু ভাই আমাদের মাঝে নাই | উনি খেলায় সব সময় আমার পাটনার থাকতেন | আহারে -আমরা উইন করলে, উনার কি যে আনন্দ !! উনি বলতেন ভাই, আমি আরেক কাপ চা আপনার জন্য বানাছি ,দাড়ান || এখন এগুলো শুধুই স্মৃতি | মনু ভাই চিন্তা -চেতনায় প্রগতিশীল একজন ধার্মিক মানুষ ছিলেন |

ব্যক্তিগত ভাবে উনি আমাকে খুবই সম্মান করতেন,উনার ধারণা ছিল আমি নাকি অনেক কিছুর খবর রাখি !!আমি উনার বয়েসে অনেক ছোট হবার পরেও কখনও না ধরে ডাকেন নাই , সব সময় ভাই বলে ডাকতেন |

এখনও রয়টন দিয়ে গেলে উনার বাড়ির দিকে থাকাই ; মহান আল্লাহ পাক প্রিয় মনু ভাইকে শান্তি রাখবেন, এই দোয়া সব সময় করি |

মনু ভাই ইয়াং থাকতে বিলেতকে কেমন দেখে ছিলেন, প্রায়ই আমাদের বলতেন ; মৃত্যু সময় উনার বয়স হয়েছিল ৬০ এর কাছা-কাছি |উনি পাকিস্তান আমলে বিলেত এসেছিলেন ; তাই অনেক কিছুই জানতেন ; মজার ব্যাপার মৃত্যুর আগপর্যন্তও উনি খুবই হ্যান্ডস্যাম ছিলেন |ভাল ইংলিশ,ভাল বাংলায় কথা বলতে পারতেন |উনার বড় ছেলে ডাক্তার,আরেক ছেলে হাই স্কুলের শিক্ষক ;উনার মেয়েটাও কাউন্সিলে কাজ করে |কিন্তু পারিবারিক ভাবে খুবই অশান্তিকর একটা জীবন ছিল উনার, তাই জগত সংসার থেকে একটু একা-একা থাকতেন |

উনি প্রায়ই আমাদের সাথে আড্ডায় বলতেন, আমি আল্লাহের বাড়িতে গিয়ে মরতে চাই | আমরা তখন মজা করতাম | উনি প্রতি বছরই উমরা করতে সৌদি যেতেন ; আমাদের জন্য সৌদির খেজুর আনতেন | কিন্তু এবছর যে উনি একে বারেই চলে যাবেন ; এটা কল্পনাও করতে পারি নাই !সত্যি সত্যি সুস্থ-সবল মনু ভাই এবার ওমরা করতে গিয়ে সৌদিতে মদিনা শরীফে মারা যান |

[‪#‎মনু‬](https://www.facebook.com/hashtag/%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%81?source=feed_text&story_id=10209533635967970) ভাই কে নিয়ে আর কোন দিন গভীর রাতে আড্ডা হবে না ; কার্ড খেলাও হবেনা | মনু ভাইয়ের অনেক ভাল পরামর্শ,দিক-নির্দেশনা হয়ত অনেক দিন বেছে থাকবে আমার চিন্তা -চেতনায় || শান্তিতে থাকেন মনু ভাই ||
