# হাসি

Author: গোধূলি
Published: 2016-03-20
Category: গল্প
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%bf-3/

[![10155298\_894502780572726\_4433847236073081594\_nrgwg](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2016/03/10155298_894502780572726_4433847236073081594_nrgwg.jpg)](/%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%bf-3/10155298_894502780572726_4433847236073081594_nrgwg/)

“হ্যালো”

“হ্যালো, কি করছো?”

“কি আবার? ডিউটি। তুমি কি করছো?”

“হ্যালো, নাহিদ, রাখছি। পেশেন্ট আসছে”

“আচ্ছা”

ফোনটা বুকপকেটে রেখে নাহিদ নিজেই বলল, “তুমিও ডিউটিতে”

কিছুক্ষণবাদেই ফোন বেজে উঠল। নীলা আবার ফোন করেছে।

নাহিদ বলল, “তোমার পেশেন্ট গেছে?”

“হুম”

“কেন এসেছিল?”

“এমনিই। বেশির ভাগ সময় আসে হুদাই। এজন্য কখন যে রোগীর অবস্থা সিরিয়াস আর কখন সিরিয়াস না- বোঝার উপায় থাকে না। দুদিন আগে কি হলো জানো?”

“কি?”

“এক রোগীর লোক বারবার আসতেছে। আমি তখন আরেক রোগীকে দেখছি। রোগীর লোক বলতেছে বারবার, ‘আমার রোগী সিরিয়াস বেশি। আপনি আসেন’। আমি বললাম, ‘কি হয়েছে?’ বলল, ‘কেমনজানি করতাছে’। মিনিটপাচেক পরে গিয়ে দেখি রোগী আয়েশের সাথে পান চিবুচ্ছে”

“এটা তো খুবি কমন ব্যাপার”

“আরো কি করবে জানো? সারাদিন দৌড়ের পর হয়ত সবাই লাঞ্চ করবো বলে ইউনিটের দরজা ভিড়ায়ে খেতে বসছি। এমন সময় এসে নক না করেই ঢুকবে। বললাম, ‘কিছুক্ষণ পর আসেন’। বের হয়েই বলবে, ‘হ্যারা খাইতে বইচে। রোগী মরতাচে। আর অ্যাগো খাওন আইচে, কসাই সব’। আমরা কি রক্তমাংসের মানুষ নই? আমাদের ক্ষুধা-ঘুম নেই? আর উই রোবটস? অদ্ভুত!”

“আমাদের একটা ঘটনা বলি। খাবার সময় রোগীর লোক এসে বলে ‘রোগীর অবস্থা খারাপ’। বললাম, ‘কি হয়েছে?’ বলে, ‘কোতাইতে কোতাইতে মরতাছে। হাগ আর আহে না। আর আফনে খাইতেছেন’। তখন বললাম, ‘আপনার রোগীর তাও কোত আহে। আমার সেইটাও আইবো না যদি খাইতে না দ্যান’”

নীলা হাসতে লাগলো। নাহিদের ইচ্ছে করছে নীলাকে দেখতে। হাসলে নীলাকে অপার্থিব লাগে। নীলা বলল, “সত্যি?”

“হুম। আরো এক্সপিরিয়ান্স আছে আমার”

“কি রকম?”

“ইউনিটের দরজা লাগিয়ে টয়লেটে ঢুকছি। নইলে ইউনিটের রুমে ঢুকে চিল্লাপাল্লা জুড়ে দেবে ‘ডাক্তার নাই’। প্যানের উপর পজিশন করে বসছি। এক মিনিট যেতেই দুমদুম করে বাড়ি মারতে লাগলো ইউনিটের দরজায়। মনে হল, দরজাই ভেঙ্গে ফেলবে। কি আর করবো? ইনকমপ্লিট ফিলিং নিয়ে উঠে পরলাম। বের হলাম, দেখি অন্য ইউনিটের রোগীর লোকজন”

“সিরিয়াসলি? দ্যাট ওয়াজ রিয়েলি প্যাথেটিক”

“হুম”

“হারামিগুলো হাগতেও দেয় না”

নীলা আবারো প্রকটভাবে হাসতে লাগলো। বলল, “তুমি ঘটনাটা এমনভাবে বলছো, প্রচন্ড হাসি পাচ্ছে। কিন্তু ব্যাপারটা… কি বলবো… কোন দুঃখে যে এই প্রফেশনে এসেছিলাম। ছুটির দিন নেই, সম্মান নেই। ফিমেল ডক্টরদের তো আরো নেই। আমরা হলাম ‘সিস্টার’, ‘খালা’, ‘মাইয়া’, ‘ছেমড়ি’, ‘আয়া’। এই সেই দিন কয়েকজন সিনিয়র আপুদের সাথে বসে আছি। রোগী বলে, ‘ডাক্তার কৈ?’ এক আপু বলে, ‘কি সমস্যা, মা? আমাদের বলেন’। লোক বলে উঠে, ‘ডাক্তার কৈ?’ আরেক আপু বলে, ‘কেন? আমাদের ডাক্তার মনে হয় না?’ সাথে সাথে বলে, ‘পুরুষ ডাক্তার কৈ?’”

“তুমি ভাবতেছ, শুধু তোমাদেরই সিস্টার-খালা ডাকে। আমাদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা যদিও কম, তবুও ‘মামা’, ‘বস’, ‘ওস্তাদ’ ডাক এখনো শুনি আমরা”

“জানো, দিনদিন কেমন জানি টক্সিক হয়ে যাচ্ছি। ব্যবহার অনেক রুড হয়ে গেছে”

“We have to be rude to survive. সবে তো শুরু। আরো দিন পড়ে আছে”

“এই শোনো না। অনেক দিন তো দেখা হয় না। চলো না, একদিন-”

“একটা পেশেন্ট আসছে। বাই”

রাত ২টা। রোগীকে দেখে আসতে আসতে কখন যে ২টা বেজে গেছে। ভীষণ ক্লান্ত নাহিদ, ঘুম পাচ্ছে। ইচ্ছে করছে, এখুনি শরীরটা বিছানায় এলিয়ে দিতে। নীলাকে ফোন দেবে? যদি নীলা ঘুমিয়ে পড়ে? নাহিদ ইতস্তত করতে করতে ফোনটা হাতে নেয়। দেখে ১০টা মেসেজ। গ্রামীণের ৬টা, নীলার ৪টা। নীলার মেসেজ “জেগে আছো?”, “রোগী খারাপ নাকি অনেক? তোমার তো অনেকদিন ধরেই ঘুম হচ্ছে না ঠিকমত”, “ঘুম আসলে ঘুমিয়ে পড়ো। কেমন? ফোন দিতে হবে না”, “ঘুমিও কিন্তু। জেগে থেকো না। ইউ নিড সাম স্লিপ। গুডনাইট <3 ”

নীলার সাথে দেখা হয়েছিল শেষবার একমাস আগে। একই শহরে থেকেও সময় হয়ে ওঠে না। নাহিদ নীলার কথা ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত ৪টার দিকে আবার দরজায় নক।

রুমে ফিরে এসে ইচ্ছে হচ্চে নীলাকে ফোন দেবার। কিন্তু নীলা ঘুমিয়ে পড়েছে। ২দিন বাদেই নীলার জন্মদিন। কিন্তু ঐদিন ডিউটি, কারো সাথে এক্সচেঞ্জ করতে পারেনি। নীলাকে এখনো জানায়নি। নীলা হয়ত অনেক কিছু এক্সপেক্ট করছে। বাসার একমাত্র ছেলে নাহিদ। বাবা রিটায়ার করেছেন। বাসার খরচ তাকেই দিতে হয়। এক্সট্রা অনেকগুলো জায়গায় ডিউটি করে। বঙ্গবন্ধুতে কোর্সে চান্স না পেলে অনাহারী অনারারী করা লাগতো। পৃথিবীর আর কোন দেশে এমন বিনা বেতনে ডাক্তারীর নিষ্ঠুর নিয়ম নেই। অনারারী কমপ্লিট করে পরীক্ষাগুলো দিতে যে টাকা লাগবে, সেটা কোথা থেকে আসবে- এটা স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় ভাবে না। ইন্টার্নী শেষে অকূল পাথারে পড়েছিল নাহিদ। বিসিএসের জন্য পড়বে না টাকা কামাবে না পরের ডিগ্রীর জন্য পড়বে? এমবিবিএসের চেম্বারে রোগী আসে না, তাদের রোগী হল পাশের বাসার তথাকথিত আন্টি-আংকেল, যারা প্রেসক্রিপশন নিতে নয়, চেক করাতে আসে। মেডিকেল পড়াশুনা আসলে মধ্যবিত্তদের জন্য নয়, উচ্চবিত্তদের জন্য। মধ্যবিত্তদের জন্য বিলাসিতা ছাড়া কিছু নয়। এই বয়সে পড়াশুনা চালিয়ে যাবার জন্য মধ্যবিত্ত পরিবারের কি ব্যাক-আপ দেয়া সম্ভব?

[![1040882\_583088428380831\_538633222\_ofwf](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2016/03/1040882_583088428380831_538633222_ofwf.jpg)](/%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%bf-3/1040882_583088428380831_538633222_ofwf/)

সিগারেট ধরাল নাহিদ। নাহিদ নীলার নাম্বারটা বের করে বারবার দেখছে। হঠাৎ স্ক্রিনে নীলার নামাবার ভেসে উঠল। নাহিদ স্বর পরিবর্তন করে ঘুমঘুম গলায় বলল, “হ্যালো, কি হয়েছে?”

“তুমি কি ঘুমোচ্ছিলে?”

“এই সময় ঘুমাবো না তো কি ডিম পাড়বো?”

“আমার মনে হচ্ছিল, তুমি জেগে আছো। স্যরি, ঘুমোও তাহলে”

“না না। ঘুম ভেঙ্গে গেছে অলরেডি। কথা বলবো”

“কি কথা?”

“তুমি গান গাইতে পারো?”

“না পারি না। সেটা কি তুমি জানো না?”

“হুম। নীলা, জানো, রাতে ক্লান্ত হয়ে যখন বাসায় ফিরে শরীর বিছানায় এলিয়ে দেই, ঘুমিয়ে পরি। মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে যায়। ঐ সময় বিছানায় তোমার ঘুমন্ত মুখটি দেখতে ইচ্ছে করে। ইচ্ছে করে তোমার ঘুমন্ত চোখের পাতায় ঠোঁট ছোঁয়াতে”

“তুমি তো আমাকে কখনো ঘুমন্ত দেখোনি”

“হুম। দেখতে চাই। তোমাকে ভালবাসতে চাই, কাছে পেতে চাই, জড়িয়ে ধরে ঘুমোতে চাই”

“আমি কি কোলবালিশ?”

“সব স্ত্রীরাই স্বামীর কাছে কোলবালিশ”

“আগে যদি জানতাম, এমন কামুক প্রেমিক আমার”

“শোনো, সুস্থ-স্বাভাবিক সকল প্রেমিক এমনই চায়। কিন্তু পারে না…” দীর্ঘনিঃশ্বাস ছেড়ে নাহিদ বলতে লাগলো, “আমি তোমাকে আমার করতে পারছি না। আমার হাত-পা বাঁধা। মধ্যবিত্ত প্রেমিকদের প্রেমিক হওয়াই উচিত নয়। আমার মনের ভেতরটা হাহাকার করে, নীলা। নীলা, তুমি শুনছো?”

“হুম। শুনছি। একই সঙ্গে বিষণ্ণতা ও মুগ্ধতা নিয়ে শুনছি। আমি অপেক্ষা করবো সেই দিনের, যেদিন ঘুম থেকে উঠে আমি আপনার মুখটা দেখতে পাবো এবং বিরক্ত হয়ে ঠেলা মেরে বলবো, ‘আর কতোক্ষণ ঘুমাবা?’”

নাহিদ হেসে দিল। বলল, “তোমার জন্মদিন একদিন বাদে। ঐদিনের ডিউটিটা ম্যানেজ করতে পারিনি”

কিছুক্ষণ নীরবতার কাটল। নীরবতা ভেঙ্গে নীলা বলল, “যেদিন পারবেন ঐদিন দেখা হবে। আমাদের তো ছুটির দিন নেই। ছুটির দিনের রোস্টার ডিউটি নিয়ে মন কষাকষি হবে। Holiday is a curse for doctors.”

“আমি ভেবেছিলাম, তুমি রাগ করবে। ফোনটা কেটে দেবে”

“আমিও তাই ভেবেছিলাম। কিন্তু ফোনটা কেটে দিলে আপনি আর ফোনই করতেন না। তখন আমারি করা লাগতো। সব পুরুষ তো মেয়েদের অভিমান বোঝে না। তাই অভিমান না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি”

“থ্যাঙ্ক ইউ”

সপ্তাখানেক পর নীলা ডিউটি থেকে সরাসরি দেখা করতে গেল নাহিদের সাথে। নাহিদ বলল, “ডিউটি থেকে আসলে?”

“হুম”

“আমি অনেক ভেবেছি, কি গিফট দেবো তোমাকে”

“তাই?”

“হুম। শাহ্‌জাহান মমতাজকে যতোটা ভালোবাসতো তার থেকে কিঞ্চিত কম তো বাসি না। তাই ভাবলাম, তাজমহলের কথা। তোমার প্রেমিকের মনের চাহিদা আকাশসম, কিন্তু পকেট তো লিলিপুট। তাই… এই নাও আমার তাজমহল” বলে পেছন থেকে হাত সামনে ধরল। হাতের মুঠিতে ২৬টা সুন্দর গোলাপী রঙের গোলাপ।

“তাজমহল?”

“গোলাপের বিরল জাত। আমার বিরল প্রেমিকার জন্য বিরল গোলাপ। আরেকটি উপহার আছে” বলে প্যাকেটটি হাতে দিয়ে বলল, “বাসায় গিয়ে খুলবে”

“না। আমি এখুনি খুলতে চাই। আমি যখন গিফটটা খুলে হাতে নেব, আমার মুখের এক্সপ্রেশন দেখতে চাও না?”

“না। চাই না। যদি খুশি না হও, আমার খারাপ লাগবে… তোমার হাসি দেখতে চাই, অন্য কিছু নয়”

“যাই দাও না কেন আমি খুশি হবোই” বলেই র‍্যাপিং খুলে ফেলল। নীলা হাসল। বলতে লাগল, “তোমার চোখের নিচে কালি পড়েছে। বিধ্বস্ত লাগছে। তোমার ঠিক কতোদিন ধরে ঠিকমত ঘুম হয় না? বলো তো”

“জানি না”

“যেদিন থেকে তোমার ডিউটি কেবিন ব্লকের ভি-আইপি কেবিনে-”

“নীলা, আমি জানি না, সেদিন থেকেই কিনা… জানো, নীলা, ভি-আইপিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য কতোকিছু করা হয়। সাধারণ মানুষগুলো মরে ধুঁকে ধুঁকে। লোকটাকে টিভিতে দেখেছি। কিন্তু সামনা-সামনি দেখার অনুভূতি আরো তীব্র। হৃষ্টপুষ্ট শরীর, হার্ট ফেইলর নিয়ে এসেছে, কিডনীতেও সমস্যা, গলস্টোন(পিত্তথলিতে পাথর)। প্রস্টেটটাও বড়। কেবিনের বাইরে একগাদা লোকজন বসে থাকে, দোয়া-দরুদ পড়ে সর্বক্ষণ”

“পচাত্তর থেকেই দেশের পচন শুরু হয়েছিল- বাবা বলে। জানো?”

“যেই দেশকে কখনো স্বীকার করেনি সেই দেশ তাকে দিচ্ছে ভি-আইপি ট্রিটমেন্ট। স্বাধীনতার পরেও পূর্ব-পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল লোকটা। এই লোককেই দিন-রাত দেখতে হচ্ছে আমাদের। দেশের অদ্ভুত সিস্টেম আমাদের কোন ক্ষমতা দেয় নি, আমাদের পঙ্গু-মেরুদণ্ডহীন করে রেখেছে। আমরা যারা ফার্স্ট বেঞ্চের ছেলেপেলে তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করে থার্ড বেঞ্চ। আমাদের কোন ক্ষমতা নেই। সিস্টেম সেই থার্ডবেঞ্চের দখলে। আমরা আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য মিটিং-মিছিলও করতে পারি না। মিটিং-মিছিলের সময় ডাক্তাররা কখনোই এক হতে পারে না। ঐ সময় কারো না কারো ইমারজেন্সী রোগী, মিছিল হয়ে যায় দুর্বল। মানবতার কাছে অধিকার হেরে যায় বারবার। আর এই মানবরা ‘কসাই’ পদবী লাভ করে… বছরের পর বছর পড়াশুনা ও পরিশ্রমের পর ভিজিট ৭০০-৮০০ হলেই আপত্তি। কৈ? একজন ইঞ্জিনিয়ারকে তার প্রতি প্রজেক্ট বা একজন উকিলকে তার কেসের জন্য টাকা দেবার সময় আপত্তি ওঠে না। সমাজটায় আমরা হাসির পাত্র”

“তুমি এসব ভাবা বাদ দাও তো। কি হবে ভেবে?”

“ভাবি। মায়ের শরীর থেকে যদি পচা মাছের গন্ধ আসে, তাকে কি ভালবাসা যাবে না? ঐ পচা মাছগুলোকে শেষ করার জন্য কসাই হতে ইচ্ছে করে, নীলা”

“পচা মাছ তো মরাই। কিন্তু যে পচনের শুরু হয়েছে তাকে ঠেকানো কি সম্ভব? পচা মাছগুলো আশেপাশের অনেকটা অংশে পচন ছড়িয়ে দিয়েছে। ভয় হয়, এই পচন যদি তোমাকে আমাকেও ছুয়ে যায়”

“পচন তো ছুঁয়েছেই। তাই তো কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে থাকি। তোমার কি জেনেভা ডিক্লায়ারেশনের ওথগুলো মনে আছে? I solemnly pledge myself to consecrate my life to the service of humanity. I will not permit consideration of religion, nationality, race, party politics or social standings to intervene between my duty & my patient”

“এই ওথগুলো মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, অমানুষের ক্ষেত্রে নয়”

“তুমি যাকে অমানুষ বলছো, তার কতো ভক্ত-অনুসারী আছে… সেদিন যখন ফলো-আপ দিয়ে বের হচ্ছিলাম, এক অনুসারী আমাকে বলে, ‘আপনার বেহেস্ত নিশ্চিত’। আমার বেহেস্ত হবে কিনা নির্ধারণ করবে তারা! হুহ…” নাহিদ দীর্ঘ-নিঃশ্বাস ছাড়ে।

মাস খানেক কেটে গেল। বিশিষ্ট গন্যমান্য ব্যাক্তির শারীরিক অবস্থা সঙ্কটাপন্ন। নাহিদের এখন ডিউটি অন্য ব্লকে। মাঝে মাঝে নাহিদ ভাবে, অমানুষদের ক্ষেত্রেই মানবতার কথা কেন ভাবে সবাই?

বিকেল ছ’টা। নাহিদ সিগারেট টানছিল। এমন সময় নিম্মির ফোন এল। নিম্মি বলল, “হ্যালো, কি রে? কোন খোঁজ নিস না। তোরা মেডিসিনওয়ালারা এমন কেন?”

“তোরা গাইনীয়ালা এমন দেখে। সারাটা সময় খোঁজ নিতেই থাকিস”

“মজা হচ্ছে?”

“ঐ কয়টা কল পাঠায়ছি আমরা?”

“তা আর বলতে?”

“চুপ থাক। আমাদের ইউনিটটাতে আয় না”

“আবার কোন রোগী খারাপ হল?”

“আছে, আছে, আয় না, এমন করিস কেন? রোগীটাকে একটু দেখে যা”

নাহিদ গেল রোগীকে দেখতে গাইনীতে। রোগী দেখা শেষে খেয়াল করল ফ্লোরে। নিম্মিকে বলল, “ঐটা কি অ্যামনিওটিক ফ্লুইড?”

“হুম”

নাহিদ একটা ১০সিসি সিরিঞ্জ হাতে নিল। নিম্মিকে বলল, “আচ্ছা, কখনো Amniotic Fluid Embolismএর কেস দেখেছিস?”

“না। অনেক ঝামেলার কেস। অনেক কমপ্লিকেশন। DIC(Dessiminated Intravascular Coagulation) হতে পারে”

“DIC থেকে কি মারাও যেতে পারে?”

“If not Treated, of course”

“হুম। আসি তবে”

“ডাকলে আবার আসিস, বন্ধু” বলে একটা ফ্লাইং কিস ছুঁড়ে দিল।

“তোর স্বামী জানে, লোকজনকে হাওয়াই চুমা দাও যে”

“জানে। কিন্তু সে তো কন্টাক কিস পায়। সো আপত্তি করে না” বলে ভেংচি কেটে লেবার রুমের দিকে গেল নিম্মি।

নাহিদ অ্যামনিওটিক ফ্লুয়িড সিরিঞ্জে তুলে নিল। রুমে ফিরে মাগরিবের আজানের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো। কখন যে টেবিলের উপর ঘুমিয়ে পড়ল ঠিক নেই। ঘুম থেকে উঠল যখন তখন রাত ১০:৩০টা বাজে। রুম থেকে বের হতেই মনে হল, কিছু একটা হয়েছে। আইসিইউ থেকে আওয়াজ আসছে। কেউ মারা গেছে অবশ্যই। কেউ মারা গেলে শোরগোল হয়, কিন্তু এতো শোরগোল হয় না। কোন কিছু না ভেবেই নাহিদ সিরিঞ্জটা সাথে নিয়ে কেবিনব্লকের ভি-আইপি কেবিনের দিকে গেল। দেখল, ভি-আইপি সেখানে নেই। ভি-আইপিকে আইসিইউতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং ভি-আইপি সেখানেই গত হয়েছেন। নাহিদ কেবিনের ডাস্টবিনের কাছে এগিয়ে গেল সিরিঞ্জটা ফেলে দিতে। খেয়াল করল, ডাস্টবিনের পাশে অ্যাম্পুল পড়ে আছে। নাহিদের মনে হল, পটাশিয়ামের অ্যাম্পুল। নিচু হয়ে হাতে নিল। হুম, পটাশিয়াম। সিরিঞ্জটা ফেলবার জন্য ঢাকনাটা তুলল নাহিদ। ২০-২৫টা পটাশিয়ামের অ্যাম্পুল, একটা বয়স্ক হার্টের রোগীর হার্ট অ্যাটাকের জন্য যথেষ্ট। নাহিদের চিন্তা-ভাবনাগুলো আরো কারো মস্তিস্কে ছিল। নাহিদ তার ভাবনার বাস্তবায়ন করতে পারেনি, সে পেরেছে। নাহিদ আশেপাশে তাকিয়ে দেখল। নাহিদের মনে হল, কেবিনের দাদু হাসছে। একজন সিস্টারকে আসতে দেখল ট্রলী নিয়ে। সেও যেন হাসছে। কেবিনের গার্ডও যেন হাসছে। তাদের হাসি অন্যরকম লাগছে নাহিদের, অদ্ভুত হাসি। মানুষের হাসি এমন হয় না। শয়তানের হাসির মত? না, এই হাসি দেবতার হাসি, বিজয়ের হাসি।

\[বিঃদ্রঃ সব চরিত্র কাল্পনিক। কিন্তু এমন কল্পনাও আনন্দ দেয়\]

নাহিদ ও নীলার অন্য গল্প  [অপেক্ষা](/%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BE-10/#comments "অপেক্ষা")

নাহিদের গল্প [মনসূত্র](/%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A6%B8%E0%A7%82%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0/ "মনসূত্র")
