# হতাশা থেকে পালিয়ে বাঁচা

- Author: [রিতু জাহান](https://sonelablog.com/author/mounata/)
- Published: 2016-06-09T07:42:30+00:00
- Updated: 2016-06-09T07:43:58+00:00
- Category: [একান্ত অনুভূতি](https://sonelablog.com/category/misc/personal/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%b9%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a6%be-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%81%e0%a6%9a%e0%a6%be/

---

আমার এক খালার মেয়ে জামাই কৃষির উপর পিএইচডি করছে চিনে। চার বছরের মেয়াদ। ওখান থেকে জাপান অথবা কানাডা যাবে। তাদের ইচ্ছা দু বছর ওখানে কোর্স করেই ঐ দেশে থেকে যাবে। এই দেশে আসবে মেহমান হয়ে। তাদের কথার মধ্যে ছিল হতাশা, সেই হতাশা ছিল এই দেশ নিয়ে। আমি ফোনে বল্লাম,”কেন আপু দেশে থাকবে না “?

আপু বলল” তোমরা ভাল আছ দেশে ? স্বাধীনমতো কোনো কাজ করতে পারছ ? দেশে পরিবারে কোন্দল, সমাজে কোন্দল, রাষ্ট্রে কোন্দল। কোনো কিছুর উপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। সবাই যার যা ইচ্ছা তাই করছে। সাধারণ জনগন পিষে মরছে। আমি কষ্টের হাসি হাসলাম। আপু গল্প করল, ” ওখানে সবাই সবাইকে যেভাবে পারে সাহায্য করে। এখানে আইন শুধু পাশই হয় না, প্রয়োগও হয়। রাস্তাঘাটে তুমি যেভাবে ইচ্ছে চলাফেরা করতে পারবে না। জোরে গাড়ির হর্ন বাজাতে পারবে না। যখন তখন বাজারের জিনিসের দাম বাড়ে না। সব থেকে বড় কথা সড়ক পথে নিরাপদ। এই দেশের মানুষ একটু বেশিই স্বাধীন তো! তাই যেখানে সেখানে মলমূত্র ত্যাগ করে, বিড়ি টানে। যা ইচ্ছে তাই করে। সরকারি সম্পদকে নিজের বাপদাদার সম্পত্তি মনে করে। ঘরের বৌ মনে করে যা ইচ্ছে নর্দমা ছোড়ে।

এইবার আমি জোরেই হাসলাম। ফোন কেটে গেল। সত্যিই তো, আমরা সড়কপথেই গেলে বুঝি কত ধানে কতো চাল। ট্রেনে বাসে কোথাও স্বস্তি নেই। পাবলিক বাস হোক আর যোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের অধীনে বিআরটিসি আধা স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের বাসই কেন না হোক। দুর্ভোগ আমাদের আছেই।

আমি গত দু’সপ্তাহ্ আগে রাজশাহী থেকে ভুরুঙ্গামারীর বিআরটিসির বাসে কুড়িগ্রামের উদ্দেশ্যে আসছিলাম। বাসে উঠার সময়ই লক্ষ্য করলাম অনেকগুলো পাথরের বস্তা বাসের ছাদে উঠাচ্ছে। আমি ভাবলাম এই ২৫/৩০ টা বস্তা বাসের ছাদে উঠালে তো ছাদ ভেঙ্গে পড়বে।  
[!\[13413147_1747575435500956_5185257079259271551_n\](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2016/06/13413147_1747575435500956_5185257079259271551_n.jpg)](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2016/06/13413147_1747575435500956_5185257079259271551_n.jpg)  
সুপারভাইজারকে জিজ্ঞেস করলাম, উনি পান খাওয়া দাঁত কেলিয়ে কইল ”কিছুই হবে না আফা। অনেকবার নিছি তো এমন কতো মাল”। বুঝলাম একা বলে লাভ নেই। বাসে উঠে বসলাম। কিছুদূর যেতেই শুরু হল ওদের নিত্য অত্যাচার একটু পর পর লোক উঠানো নামানো। কাউন্টার থেকে টিকিট কাটা যাত্রীদের ওরা ঠিকমতো নামতেও দেয় না।  
[!\[13419187_1747565272168639_8729328007383044737_n\](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2016/06/13419187_1747565272168639_8729328007383044737_n.jpg)](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2016/06/13419187_1747565272168639_8729328007383044737_n.jpg)  
যাই হোক একটু পর দুড়ুম করে শব্দ হল, সেই সাথে লোকের চিৎকার। পিছনে ফিরে দেখি বাসের ছাদ ডেবে গেছে। সবাই বাস থেকে নেমে গেলো। বগুড়া অফিসগামী কিছু লোক ছিল, তারা বাসের ছাদে উঠে দেখে পাথরের বস্তার সাথে একশোটা রও বেশি পাটের বস্তা, আমের কার্টুন। দিল ড্রাইভারকে উত্তম মাধ্যম কিছু। কিন্তু বগুড়া পার না হতেই চাকা বাস্ট হল। এখানে আমাদের গালি দেওয়া ছাড়া কিছুই হয়ত করার থাকে না। কিন্তু কেন ?  
[!\[13340273_1747574302167736_8036655434186912815_o\](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2016/06/13340273_1747574302167736_8036655434186912815_o.jpg)](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2016/06/13340273_1747574302167736_8036655434186912815_o.jpg)

আর এরা এতো বেপরোয়াভাবে ওভারটেক করে কি বলব! সামনে পিছনে কিছুই দেখে না। সেদিন বগুড়াতে এমন ভাবে ওভারটেক করার কারনে, পার্কিংএ থাকা এক প্রাইভেট কারকে দিল চাপা। গাড়ির সামনেরটা একেবারে দুমড়ে মুচড়ে গেল। যদি লোক থাকত, তবে তো মরেই যেত। গাড়িটা একদম নতুন গাড়ি। দাম অন্তত ৪০/৫০ লাখ টাকা হবে। বাসের ড্রাইভার ফকিরনির বাচ্চা এই গাড়ি ও জীবনের মূল্য কি বুঝবে! বাসের লোক গুলোও সুবিধাবাদী, তারা ড্রাইভারকে গাড়ি টান মারতে বলছে। তাদের হাতে যে সময় নেই!  কেন ঝামেলায় যাবে। কিন্তু যদি আইনের শাসন থাকত, তবে নিয়ম মতো ঐ বাস আটকে, বাসের লোকদের অন্য বাসে উঠিয়ে দিয়ে, ঐ অপরাধী বেপরোয়া ড্রাইভারকে শাস্তি দেওয়া যেতো। জরিমানা করা যেতো।

আসলে প্রতিবাদ করাও যায় না। ওরা এতো শক্তিশালি যে ওদেরই রাজত্ব। ওরা যাত্রীসহ গাড়ি টান মেরে নিয়ে যায় ওদের আস্তানায়। সড়ক চলাচলে জিম্মি আমরা সবাই। একবার তো আমাদের সাথে হয়েছিল, ঢাকা থাকতে। নিউমার্কেট থেকে উঠেছি এক সিএনজিতে। তো সিএনজি ড্রাইভার ভাড়া মিটানো সত্বেও জ্যাম দেখে আর শ্যমলি যাবে না। জুলি তখন ধানমন্ডি থানায় ছিল। আমার মেমন রিয়ান শিশু দুই বাচ্চাকে নিয়ে নেমে যেতে বলছে রাস্তার মধ্যেই। জুলির তো গেল মেজাজ গরম হয়ে। কেন যাবি না ? এই নিয়ে তর্কা তর্কি। আমরা বললাম নামব না। তুই রেখেই আসবি। ও বলল ঠিক আছে। ওমা, ও দেখি এমন টান দিচ্ছে ফার্মগেটের দিকে। বলছে ষ্টেশনে চল দেখাচ্ছি। জুলির তখন পিস্তল থাকত, বলছে মানুষ চিনিস, সোজা এখন তুই থানায় চল। ব্যাস ওর কান্নাকাটি শুরু হল। জুলি সেবার খুব রেগে গেছিল। সোজা থানায় নিয়ে আমাদের গাড়িতে উঠায়ে বাসায় পৌছে দিল।

কতরকম ভাবে যে আমরা জিম্মি এই সড়ক পথে।

যে দেশে মেধাবী মানুষ মরলে কিছু হয় না সে দেশে আবার সামান্য কারের ক্ষতিপূরণ! মিশুক মনির মারা গেল, আমি বলব খুন হল, কিছুই হল না। ওরা আন্দোলন করেই পার পেয়ে যায়। সব দেশেই অ্যাকসিডেন্ট হয়, তার কিন্তু সাজাও হয়। হয় না শুধু এই দেশে।এই দেশে যতোটা না গুম খুন হয় তার থেকে বেশী মানুষ মরে রোড অ্যাকসিডেন্টে। তার কোনো বিচার হতে আমরা কখনোই দেখি না। রোড অ্যাকসিডেন্টে মানুষ মরা যে খুন হওয়া এইটা যেন কেউ বোঝেই না। এটা আমাদের গা সওয়া হয়ে গেছে। একদিন গুম খুন, জঙ্গি হামলাও গা সওয়া হয়ে যাবে। কারণ বাঙ্গালি ধৈর্য্যশীল।

---

Comments: 20 — https://sonelablog.com/%e0%a6%b9%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a6%be-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%81%e0%a6%9a%e0%a6%be/#comments
