# হঠাৎই

Author: রেহানা বীথি
Published: 2020-04-23
Category: অণুগল্প
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%b9%e0%a6%a0%e0%a6%be%e0%a7%8e%e0%a6%87/

জানালা খুলে উদাস হয়ে বসে আছে রূপু। বসে আছে সেই বিকেল থেকেই। গোধূলির রঙ ছড়িয়ে সূর্যটা ডুবে যাবে ভাব। পাখিদের তোড়জোড় নীড়ে ফেরার। কিন্তু কোথায় সে? ব্যস্ত পায়ে রোজ বিকেলেই তো হেঁটে আসে এপথ ধরে, কিন্তু গত দু’দিন কোনও খবরই নেই! কখনও কখনও হুটহাট ঢুকেও পড়ে রূপুদের বাড়িতে। মা, বাবা আর আপুর সাথে হৈচৈ করে গল্প জুড়ে দেয়। তবে মোটেও পাত্তা দেয় না রূপুকে। মাঝে মাঝে তো ওর লেখাপড়ার খোঁজখবর করে রীতিমতো অপমানই করতে চায়। জানে, সাজগোজ আর ঢঙ-ঢাঙ করতেই রূপুর বেশি পছন্দ, লেখাপড়া যতটা পারা যায় কম করাই ভালো, তবুও জেনে বুঝে অংক কষতে বলবে। কবিতার অর্থও বুঝিয়ে দিতে বলে মাঝে মাঝে। কচি খুঁকি তো নয় রূপু। এই তো আর কিছুদিন পর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েই কলেজে ভর্তি হবে, এখনও মোটে পাত্তাই দিল না! 

হঠাৎ হঠাৎ অবশ্য পকেটে হাত ঢুকিয়ে বের করে আনে দামী চকলেট। তাতে কী! 

আবার হঠাৎ হঠাৎ কোথায় যেন হাওয়া হয়ে যায়। একটানা দু-তিনদিন আসে না। কেন যে বড় ফাঁকা ফাঁকা লাগে তখন! এই যেমন আজ, জানালা খুলে বসে থেকে থেকে ক্রমশঃই আরও বেশি উদাস হল রূপু, আকাশ থেকে ধীরে ধীরে মুছে গেল আলো, তবুও এল না, একদম ফাঁকা হয়ে গেল ওর বুকের ভেতরটা। 

একসময় মা বলল, পড়তে বসো রূপু। যেন শূন্য হয়ে চলে গেল ও পড়ার টেবিলে। 

রাত বোধহয় সাড়ে ন’টা। দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ। কে এল এই রাতে? এসময় তো কেউ আসে না বাড়িতে! কেউ খুলেছে দরজা। শুনতে পাওয়া যায় সেই কণ্ঠস্বর, সেই হৈহৈ। মা বলছেন, দু’দিন আসিসনি কেন রে? কোথায় ছিলি? 

  
আর বোলো না খালা, কাজের কি অভাব আছে? দেশ উদ্ধার করছিলাম! হা হা হা……..

কপোট রাগ দেখিয়ে মা বললেন, হয়েছে হয়েছে, দেশ উদ্ধার করে খুব ভাল কাজ করেছিস। এসময়ে এসেছিস যখন, রাতে খেয়ে যাস। 

তা তো খাবই, কিন্তু…. ওই সাজুনি বুড়িটা কই, তাকে দেখছি না তো! বলতে বলতে রূপুর পড়ার টেবিলে।  কী, আমাকে দেখে খুব পড়ায় মনোযোগ দেখান হচ্ছে? 

গা জ্বলে গেলেও রূপু একদম চুপ। যেন সে পণ করেছে, কোনদিকে তাকাবেই না, এমনভাবে মুখ গুঁজে আছে বইয়ে। হঠাৎ মাথায় আলতো ছোঁয়া। আর তারপরেই বইয়ের ওপর টুপ করে পড়ল ভাঁজকরা একটুকরো কাগজ। 

বেরিয়ে গেল সে রূপুর ঘর থেকে। ঘটনার আকস্মিকতায় হকচকিয়ে গেল রূপু। থরোথরো হাতে কাগজটা নিয়ে খুলে দেখল, 

  
“ঘুমোতে পারছি না ক’দিন ধরে। তুমি কি ঘুম পাড়িয়ে দেবে আমায়?”
