# স্বাধীনতা, এই শব্দটি কিভাবে আমাদের হল-নির্মলেন্দু গুণ

- Author: [সোনেলা রোদ্দুর](https://sonelablog.com/author/admin1/)
- Published: 2014-03-06T19:38:03+00:00
- Updated: 2021-03-07T16:52:20+00:00
- Category: [মুক্তিযুদ্ধ](https://sonelablog.com/category/freedom-war/)
- Tags: এই শব্দটি কিভাবে আমাদের হল -নির্মলেন্দু গুণ, সেই থেকে স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের, স্বাধীনতা
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%8f%e0%a6%87-%e0%a6%b6%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a6%be/

---

[!\[\](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2014/03/mujib-300x177.jpg)](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2014/03/mujib.jpg)

একটি কবিতা লেখা হবে তার জন্য অপেক্ষার উত্তেজনা নিয়ে  
লক্ষ লক্ষ উন্মত্ত অধীর ব্যাকুল বিদ্রোহী শ্রোতা বসে আছে  
ভোর থেকে জনসমুদ্রের উদ্যান সৈকতে: ‘কখন আসবে কবি?’

এই শিশু পার্ক সেদিন ছিল না,  
এই বৃক্ষে ফুলে শোভিত উদ্যান সেদিন ছিল না,  
এই তন্দ্রাচ্ছন্ন বিবর্ণ বিকেল সেদিন ছিল না৷  
তা হলে কেমন ছিল সেদিনের সেই বিকেল বেলাটি?  
তা হলে কেমন ছিল শিশু পার্কে, বেঞ্চে, বৃক্ষে, ফুলের বাগানে  
ঢেকে দেয়া এই ঢাকার হদৃয় মাঠখানি?

জানি, সেদিনের সব স্মৃতি ,মুছে দিতে হয়েছে উদ্যত  
কালো হাত৷ তাই দেখি কবিহীন এই বিমুখ প্রান্তরে আজ  
কবির বিরুদ্ধে কবি,  
মাঠের বিরুদ্ধে মাঠ,  
বিকেলের বিরুদ্ধে বিকেল,  
উদ্যানের বিরুদ্ধে উদ্যান,  
মার্চের বিরুদ্ধে মার্চ … ৷

হে অনাগত শিশু, হে আগামী দিনের কবি,  
শিশু পার্কের রঙিন দোলনায় দোল খেতে খেতে তুমি  
একদিন সব জানতে পারবে; আমি তোমাদের কথা ভেবে  
লিখে রেখে যাচ্ছি সেই শ্রেষ্ঠ বিকেলের গল্প৷  
সেই উদ্যানের রূপ ছিল ভিন্নতর৷  
না পার্ক না ফুলের বাগান, — এসবের কিছুই ছিল না,  
শুধু একখন্ড অখন্ড আকাশ যেরকম, সেরকম দিগন্ত প্লাবিত  
ধু ধু মাঠ ছিল দূর্বাদলে ঢাকা, সবুজে সবুজময়৷  
আমাদের স্বাধীনতা প্রিয় প্রাণের সবুজ এসে মিশেছিল  
এই ধু ধু মাঠের সবুজে৷

কপালে কব্জিতে লালসালু বেঁধে  
এই মাঠে ছুটে এসেছিল কারখানা থেকে লোহার শ্রমিক,  
লাঙল জোয়াল কাঁধে এসেছিল ঝাঁক বেঁধে উলঙ্গ কৃষক,  
পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে এসেছিল প্রদীপ্ত যুবক৷  
হাতের মুঠোয় মৃত্যু, চোখে স্বপ্ন নিয়ে এসেছিল মধ্যবিত্ত,  
নিম্ন মধ্যবিত্ত, করুণ কেরানী, নারী, বৃদ্ধ, বেশ্যা, ভবঘুরে  
আর তোমাদের মত শিশু পাতা-কুড়ানীরা দল বেঁধে৷  
একটি কবিতা পড়া হবে, তার জন্যে কী ব্যাকুল  
প্রতীক্ষা মানুষের: “কখন আসবে কবি?’ “কখন আসবে কবি?’

শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে,  
রবীন্দ্রনাথের মতো দৃপ্ত পায়ে হেঁটে  
অত:পর কবি এসে জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন৷  
তখন পলকে দারুণ ঝলকে তরীতে উঠিল জল,  
হদৃয়ে লাগিল দোলা, জনসমুদ্রে জাগিল জোয়ার  
সকল দুয়ার খোলা৷ কে রোধে তাঁহার বজ্রকন্ঠ বাণী?  
গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তাঁর অমর-কবিতাখানি:  
‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,  
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম৷’

সেই থেকে স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের৷

[**কবিতাটির আবৃত্তি শুনুন এই লিংক এ**](http://www.youtube.com/watch?v=FfZGmrBnF6M)

**পটভূমি:** ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে আনুষ্ঠিত জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ৩১০ আসনের মধ্যে ১৬৭ আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পরও তৎকালীন পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সরকার গঠনে মত দিতে অস্বীকার করেন। জাতীয় সংসদের নির্ধারিত অধিবেশন স্থগিত করার প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ১ মার্চ দেশব্যাপী অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। এর পর থেকেই স্বাধীনতার জন্য উন্মুখ হয়ে ওঠে বাঙালি জাতি। তখন জাতির জন্য দরকার ছিল একটি ঘোষণার, একটি আহ্বানের। অবশেষে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ এল সেই ঘোষণা। নেতার এই উদ্দীপ্ত ঘোষণায় বাঙালি জাতি পায় স্বাধীনতার দিকনির্দেশনা। মুক্তিকামী বাঙালি নেয় চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি। যুগ যুগ ধরে শোষিত-বঞ্চিত বাঙালি ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তা নিয়ে এগিয়ে যায় কাঙ্খিত মুক্তির লক্ষ্যে।

শুধুমাত্র অদম্য মনোবলকে সম্বল করে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে নিরস্ত্র বাঙালী মুখোমুখি হয়েছিল পাকিস্তানের আধুনিক সমরসজ্জিত, প্রশিতি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। মৃত্যুপণ লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুঃসাহসে দীপ্ত মুক্তিকামী বাঙালী একাত্তরের মাত্র ন’ মাসে প্রবল পরাক্রমশালী পাক হানাদারদের পরাস্ত-পর্যুদস্ত করে ছিনিয়ে এনেছিল মহামূল্যবান স্বাধীনতা। ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মদান, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ, দুঃসাহসিকতা আর আড়াই লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে বাঙালী অর্জন করে নিজস্ব মানচিত্র, লাল-সবুজের পতাকা।

বঙ্গবন্ধু শুধু একজন নেতাই নন, একটি ইতিহাস। নির্মলেন্দু গুণ তাঁকে স্মরণ করে বলেছিলেন, আমার প্রায়ই মনে হয়, বঙ্গবন্ধু যদি আরও কিছুটা সময় পেতেন, যদি তিনি তাঁর জীবনীর কিছুটা হলেও লিখে যেতে পারতেন, তাহলে তা আমাদের জন্য একটা বিরাট সম্পদ হতে পারত। শুধু আমাদের জন্যই বা বলি কেন? সাম্রাজ্যবাদবিরোধী তৃতীয় বিশ্বের আপোসহীন নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী হতে পারত বিশ্বের মুক্তিকামী সকল মানুষের পাঠ্য। আমার খুব দুঃখ হয় এই ভেবে যে, মহাত্মা গান্ধী, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু, ফিদেল কাস্ত্রো, হোচিমিন বা নেলসন মেন্ডেলার সমগোত্রীয় এই মহান নেতার মহাজীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাই আমাদের অজানা রয়ে গেল।’

---

Comments: 13 — https://sonelablog.com/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%8f%e0%a6%87-%e0%a6%b6%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a6%be/#comments
