# সোহাগপুরঃ যে গ্রামের সোহাগদেরকে হত্যা করা হয়েছিল

Author: সোনেলা রোদ্দুর
Published: 2015-04-06
Category: মুক্তিযুদ্ধ, সমসাময়িক
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%b8%e0%a7%8b%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0-%e0%a6%af%e0%a7%87-%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a7%8b/

[![11093759\_649452235159858\_1914906671\_o \[640x480\]](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2015/04/11093759_649452235159858_1914906671_o-640x480-500x185.jpg)](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2015/04/11093759_649452235159858_1914906671_o-640x480.jpg)

গ্রামের নাম সোহাগপুর।কেন সোহাগ দিয়ে একটি স্থানের নামকরণ করা হয়েছিল তা অজ্ঞাত।হয়ত ঐ গ্রামের কোন নারী তাঁর প্রিয়তম স্বামীর কাছ হতে খুব বেশী সোহাগ পেতেন কোন এককালে যা কালক্রমে সোহাগপুর হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে। শেরপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে নালিতাবাড়ি উপজেলার কাকরকান্দি ইউনিয়নে একটি গ্রামের নাম ছিল সোহাগপুর।

১৯৭১ সনের ২৫ জুলাই সেই সোহাগপুরের শান্ত নিরিবিলি গ্রামের প্রতিটি পরিবারের ঘুম ভাঙ্গার পরে প্রতিদিনের মত ভোর এসেছিল।পুরুষরা কৃষিকাজে ব্যাস্ত হয়ে পরেন।কেউ আমন এর চারা রোপনে ব্যাস্ত। বাড়ির নারীগন তাঁদের প্রাত্যহিক কাজে লেগে যান। কেউ চুলা জ্বালাচ্ছেন সকালের খাবার তৈরীর জন্য,কেউ বিছানা গুছাচ্ছেন।মশারীও অনেকে তোলেননি। ঠিক সেই সময় আলবদর কামরুজ্জামান এর পরিকল্পনায় রাজাকারদের সহযোগিতায় পাক সেনারা প্রচন্ড গুলিবর্ষণ করতে করতে গ্রামে প্রবেশ করে। যেখানে যাকে পায়,পাখির মত গুলি করে হত্যা করে।খুজে খুঁজে গ্রামের প্রতিটি পুরুষকে হত্যা করা হয়।পুরুষ শুন্য করাই যেন এই হত্যার উদ্দেশ্য ছিল। আর গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে মহিলাদের ধর্ষন করে নরপিশাচেরা।

সর্বমোট ১৮৭ জন বাঙ্গালীকে হত্যা করা হয়। দাফনের কাপড়ের অভাবে কলাপাতা, মশারীতে পেঁচিয়ে একসাথে দুই তিনজনকেও কবর দেয়া হয়। মোট ৫৭ জন বিবাহিতা নারীর সবাই হয়ে যান বিধবা।সোহাগ পুর থেকে সোহাগকে হত্যা করা হয়।যেহেতু ঐ গ্রামে বড় কোন পুরুষ ছিল না এবং একটি গ্রামের সব বধূরা বিধবা,একারণে গ্রামের নামকরণ হয়ে যায় **বিধবা পল্লী**।

৫৭জন বিধবা নারীদের মাঝে কালার স্বাক্ষি হয়ে বেঁচে আছেন এখনো ৩৪ জন নারী। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিদের মেরে ফেলায় পরিবারের নারীরা ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবন যাপন করেছেন। তাদের মধ্য থেকে তিনজন সাক্ষ্য দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে।

আজ সেই নরপিশাচ আলবদর কমান্ডার কামরুজ্জামান এর মৃত্যু দণ্ডের আপিলের রায় প্রদান করা হয়েছে। আলবদর কমান্ডার কামরুজ্জামান এর পক্ষের রিভিউ অগ্রাহ্য করা হয়েছে। তার ফাঁসি হতে এখন আর কোন বাঁধা নেই।

স্বাধীনতার এতগুলো বছর পর হলেও দানব পিশাচ নরঘাতক কামরুজ্জামানের বিচার হচ্ছে। ন্যায় বিচার পাবেন সোহাগপুরের বিধবা মায়েরা।কিন্তু যে স্বপ্নগুলো ভেংগে খান খান হয়ে গেল,পুর্ন সংসার,স্বামী,সন্তানের সুখ থেকে এই মায়েরা বঞ্চিত হলেন। এই মায়েদের সোহাগ কে ফিরিয়ে দেবেন?
