# যদিও সৃষ্টিকর্তার ইশারায়-ই সবকিছু হয়–তবুও একটু সতর্ক থাকতে হয়

- Author: [নিতাই বাবু](https://sonelablog.com/author/nitaibabu/)
- Published: 2020-06-02T19:36:36+00:00
- Updated: 2020-06-04T12:25:26+00:00
- Category: [একান্ত অনুভূতি](https://sonelablog.com/category/misc/personal/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%b8%e0%a7%83%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%87%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%87-%e0%a6%b8%e0%a6%ac/

---

আমাদের সকলেরই জানা আছে যে, পৃথিবীতে অনেক বড় বড় যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। সেসব যুদ্ধের প্রধান কারণই  ছিলো ক্ষমতা দখলের যুদ্ধ। গদি দখলের যুদ্ধ। নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার যুদ্ধ। প্রাচীন আমল থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত হিসাব করলে দেখা যায়, সেসব রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রান হানি হয়েছে। অনেকে চিরো পঙ্গুত্ত বরণ করে ধুঁকে ধুঁকে মরেছিল। যুদ্ধে জয়লাভ করার জন্য বিশ্বের অনেক দেশ অনেকরকম মারণাস্ত্রও তৈরি করেছিল। এখনো পৃথিবীর সবকটা দেশেই নিজ নিজ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য গোলাবারুদ, কামান, ট্যাঙ্ক, যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ অনেককিছু তৈরি করে রেখেছে। যা দিয়ে অন্য দেশের আক্রমণ থেকে নিজের দেশের মানুষ এবং দেশের সম্পদ তথা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য লড়াই করে। এতে কিন্তু অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতি হয়। জানমাল, অর্থনীতি-সহ কয়েকটা দেশ লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। তবুও ক্ষমতার লড়াই থেমে নেই। প্রাচীনকাল থেকে এপর্যন্ত লড়াই চলছেই চলছে।

এসব যুদ্ধ কেবলই মানবসৃষ্ট। মানে সভ্যতার শুরু থেকে যেসব যুদ্ধ এই পৃথিবীতে সংঘটিত হয়েছে, সব যুদ্ধই সৃষ্টি হয়েছে কোনো-না-কোনও মানুষের হিংসাত্মক মনোভাব থেকে। তারপরও বলা যায় যে, মহান স্রষ্টার এই পৃথিবীতে যা-কিছু ঘটে; সেই ঘটনায় স্রষ্টার ইশারা ইঙ্গিতও কিছু-না-কিছু থাকে। কথায় আছে, “স্রষ্টার হুকুম ছাড়া গাছের একটা পাতাও নড়ে না।”

তেমনই ইদানীংকালে এমন এক যুদ্ধ শুরু হয়েছে, এই যুদ্ধ মনে হয় ঘটে যাওয়া সেসব যুদ্ধ থেকে খুবই ভয়াবহ এবং নির্মম ভয়ংকর! মনে হয় মহান স্রষ্টা সুন্দর পৃথিবী সৃষ্টি করার পরেই এই যুদ্ধ সংঘটিত হবার দিনতারিখ সব যুদ্ধের শেষে নির্ধারণ করে রেখেছিলেন। তাই পৃথিবী সৃষ্টির পর থেকে বিশ্বে সংঘটিত হওয়া সব যুদ্ধের পর এই যুদ্ধটা শুরু হয়েছে ২০১৯ সালের শেষদিকে। যুদ্ধটা সংঘটিত হয়েছে পৃথিবীতে থাকা একটা দেশ থেকে। এই যুদ্ধ কোন দেশ থেকে কীভাবে শুরু হয়েছে তা পরে আলোচনা করছি। আগে প্রাচীনকাল থেকে অর্থাৎ সভ্যতার শুরু থেকে সংঘটিত হওয়া কিছু যুদ্ধের সময়কাল সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করছি।

প্রাচীনকাল থেকে সংঘটিত হওয়া নির্মম যুদ্ধগুলো নিম্নরূপ:

১। ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধ ১০৯৫-১২৭১ সাল পর্যন্ত।

২। ত্রিশ বছরব্যাপী  একটি যুদ্ধ ১৬১৮-১৬৪৮ সাল পর্যন্ত। এই স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে সুইজারল্যান্ডের প্রকাশ ঘটে।

৩। বক্সারের যুদ্ধ ১৭৬৪ সাল।

৪। প্রথম অহিফেনের যুদ্ধ ১৮৩৯-৪২ সাল পর্যন্ত।

৫। দ্বিতীয় অহিফেনের যুদ্ধ ১৮৫৬-১৯৬০ সাল পর্যন্ত।

৬। আমেরিকার গৃহযুদ্ধ ১৮৬০-১৯৬৫ সাল পর্যন্ত।

৭। প্রথম আরব ইসরাইল যুদ্ধ ১৯৪৮-১৯৪৯ সাল পর্যন্ত।

৮। প্রথম আরব ইসরাইল যুদ্ধ ১৯৪৯ সাল।

৯। দ্বিতীয় আরব ইসরাইল যুদ্ধ ১৯৫৬ সাল।

১০। তৃতীয় আরব ইসরাইল যুদ্ধ ১৯৫৬ সাল।

১১। চতুর্থ আরব ইসরাইল যুদ্ধ ১৯৬৭ সাল।

১২। ওয়াটার লুর যুদ্ধ ১৮১৫ সাল।

১৩। কোরিয়ার যুদ্ধ ১৯৫০-১৯৫৩ সাল পর্যন্ত।

১৪। ক্রিমিয়ার যুদ্ধ ১৮৫৪-১৮৫৬ সাল পর্যন্ত।

১৫। প্রথম চীন-জাপান যুদ্ধ ১৮৯৪-’১৮৯৫ সাল পর্যন্ত।

১৬। রাশিয়া-জাপান যুদ্ধ ১৯০৪ সাল।

১৭। দ্বিতীয় চীন-জাপান যুদ্ধ ১৯৩১-’১৯৩৩ সাল পর্যন্ত।

১৮। তৃতীয় চীন-জাপান যুদ্ধ ১৯৩৭-’১৯৪৫ সাল পর্যন্ত।

১৯। চীন-ভারত যুদ্ধ ১৯৬২ সাল।

২০। বলকান যুদ্ধ ১৯১২-১৩ সাল পর্যন্ত।

২১। প্রথম বিশ্ব যুদ্ধ ১৯১৪-১৯১৮ সাল পর্যন্ত।

২২। রাশিয়ার গৃহযুদ্ধ১৯১৭-১৯২১ সাল পর্যন্ত।

২৩। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ১৯৩৯-১৯৪৫ সাল পর্যন্ত।

২৪। ভিয়েতনাম যুদ্ধ ১৯৫৯-১৯৮৫ সাল পর্যন্ত।

২৫। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ এক ১৯৪৭, ১৯৬৫, ও  ১৯৯৯সাল এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধেও বাংলাদেশের হয়ে পাকিস্তানের সাথে ভারত যুদ্ধে জড়িয়ে ছিল। তাই বাংলাদেশে এই যুদ্ধের নাম মহান মুক্তিযুদ্ধ।

২৬। ইরাক-ইরান যুদ্ধ ১৯৮০-১৯৮৮ সাল পর্যন্ত।

২৭। ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা যুদ্ধ ১৯৮২ সাল।

২৮। শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধ ১৯৮৩ সাল।

২৯।ইঙ্গ-মার্কিন যুদ্ধ ২০০১ সাল। যা ছিল আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে।

৩০। ইরাকে ইঙ্গ-মার্কিন যুদ্ধ ২০০৩ সাল।

৩১। কঙ্গো যুদ্ধ ২০০৮ সাল।

উপরোল্লিখিত এসব যুদ্ধ ছাড়াও আরও ছোটখাটো অনেক যুদ্ধ এই পৃথিবীতে সংঘটিত হয়েছে। সেসব যুদ্ধের বর্ননা আমার মতো নগন্য লেখকের দেওয়া সম্ভব নয়। তাই বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির অনলাইন ঘেঁটে যেসব যুদ্ধের বর্ননা পেয়েছি, সেসব যুদ্ধের সংক্ষিপ্ত বর্ননা আমার এই লেখায় উপস্থাপন করেছি মাত্র।

যাইহোক, সভ্যতার শুরু থেকে যেসব মানবসৃষ্ট যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, সব যুদ্ধেই প্রচুর প্রাণহানি ঘটেছিল। আর যেসব দেশে দেশে এসব যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, সেসব দেশের অর্থনীতি-সহ নানাদিকও দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ওইসব ক্ষতির জের টানতে হয়েছিল সারাবিশ্বকেও। সেসব ক্ষতির জের টেনে বিশ্বের নানা দেশে যখন একরকম শান্তি বিরাজ করছিল,  ঠিক তখনই বিশ্বব্যাপী একযোগে শুরু হয়ে গেল নভেল করোনাভাইরাসের যুদ্ধ। এই করোনা যুদ্ধ হতে যাচ্ছে ঘটে যাওয়া সব যুদ্ধের চেয়ে ভয়াবহ ও ভয়ংকর যুদ্ধ। সব যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলেও, এই যুদ্ধ মনে হয় খুবই তাড়াতাড়ি শেষ হচ্ছে না। এই যুদ্ধের সাথে বিশ্ববাসীকে দীর্ঘদিন লড়াই করতে হবে।

এটির সাথেই এখন সারাবিশ্ব লড়াই করে চলছে। বর্তমানে সারাবিশ্বের পায় সবকটা দেশই সম্মিলিতভাবে কোভিড-১৯-এর সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। এটিও এখন সারাবিশ্বকে একসাথে আক্রমণ করতে শুরু করেছে। এই কোভিড-১৯-এর নিজস্ব কোনও সৈনিক নেই। নেই কোনও অস্ত্রসস্ত্র। কোনও গোলাবারুদও নেই। এই যুদ্ধের যোদ্ধা শুধু একজন’ই। এটি একটি শক্তিশালী যোদ্ধা। প্রশ্ন আসতে পারে, আসলে এটি কী? এটি একটি ছোঁয়াচে রোগ। এই রোগের নামই নভেল করোনাভাইরাস। সংক্ষেপে কোভিড-১৯।

এই প্রাণঘাতী ভাইরাস বা রোগটির উৎপত্তিস্থল ছিল, গণচীনের উহান শহরে। প্রথম প্রথম বিশ্বের কিছু রোগতত্ত্ব বিশেষজ্ঞদের ধারণা ছিল যে, এই ভাইরাসটি কোনোএক সামুদ্রিক প্রাণী অথবা কোনও পাখি থেকে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছিল। আবার কেউ কেউ সরাসরি গণচীনকেই দায়ী করেছিল। এতে বলা হয়েছিল যে, গণচীনের উহান শহরে থাকা কোনোএক ল্যাব থেকে এটি ছাড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু গণচীনের উহান শহরের ল্যাব থেকে এই প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কোনও প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। তারপরও বিভিন্ন রোগতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা নানাদিক থেকে গবেষণা করে দেখছে, আসলে এটি কী রোগ? নাকি মানবসৃষ্ট কোনও জীবানু অস্ত্র? এই প্রশ্ন এখন শুধু গবেষকদের মধ্যেই নয়, এই প্রশ্ন এখন বিশ্ববাসীর।

আমার মতে এটি মহান স্রষ্টার নির্দেশ পালিত এক যোদ্ধা বা অস্ত্র বা রোগ। কারণ, আমরা সকলেই জানি, মহান সৃষ্টিকর্তার হুকুম ছাড়া যদি গাছে একটি পাতাও নড়তে পারে না। যদি তাঁর হুকুম ছাড়া গাছের পাতা নড়তে না পারে, তাহলে অল্পকিছু দিনের মধ্যে এই ছোঁয়াচে রোগ সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়লো কীভাবে? আর কয়েক লক্ষ মানুষের প্রাণ-ই-বা কেড়ে নিলো কীভাবে? তাই বলছি, এটি মহান স্রষ্টার নির্ধারিত যোদ্ধা বা ভাইরাস বা রোগ।

তবুও আমার মতের বিরুদ্ধে অনেকেরই মত থাকতে পারে যে, মহান সৃষ্টিকর্তা তো মানবের বা জীবের ক্ষতিসাধন চায় না। তিনি সবসময়ই জীবের কল্যাণ চায়। জীবের যেকোনো সমস্যায় মহান সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করলে মহান সৃষ্টিকর্তা জীবের সহায় হয়। তাই অনেকে বলে মহান সৃষ্টিকর্তা হলো, “অসহায়ের সহায়ক।” হ্যাঁ, তিনিই দয়াময়। তিনিই মহান স্রষ্টা। তিনিই আল্লাহ। তিনিই ঈশ্বর। তিনিই গড। অনেকেই বলতে পারেন, তাহলে তিনি দয়াময় হয়ে জীবের ক্ষতির জন্য এই ছোঁয়াচে রোগ পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিলেন কেন? এই প্রশ্নের জবাব হলো, এই রোগে বা ভাইরাসে বা এই যুদ্ধে যাঁদের মৃত্যু নির্ধারণ করা আছে, তাঁদের তো এই রোগে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যুবরণ করতে হবে বা মরতে হবে। আরও বিস্তারিতভাবে জবাব দিতে গেলে একটি প্রসঙ্গ টানতে হয়। তা হলো, জীবের অথবা মানবের জন্ম, মৃত্যু, বিবাহ ও রিজিক; এই চারটি শর্তই একজন মানবের জন্য মহান সৃষ্টিকর্তা নিজে নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

যেমন: আমার জন্ম নোয়াখালী জেলার বজরা রেলস্টেশনের পশ্চিমে মাহাতাবুর গ্রামে। আমি যখন আমার মাতৃগর্ভে আটমাস, তখন আমার বাবা মাকে নারায়ণগঞ্জ নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমার ঠাকুরমার নিষেধের কারণে আমার বাবা মা’কে আর নারায়ণগঞ্জ নিতে পারেননি। গ্রাম্য গাইনির সাহায্যে খুবই সুন্দরভাবে কোনপ্রকার সমস্যা ছাড়াই আমি গ্রামের বাড়িতেই ভূমিষ্ট হই। আবার কোনো-কোনো গর্ভবতী মা, রাস্তাঘাটে, যানবাহনে, সিনেমাহলেও সন্তান প্রসব করে ফেলে। এর মানে হলো, যাঁর যেখানে ভূমিষ্ট হবার কথা, সে সেখানেই ভূমিষ্ট বা জন্ম নিবে। এতে মহান সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আর কারোর কোনও হাত নেই।

এবার আসি বিবাহ নিয়ে আলোচনায়। ঘটনা এক– আমি বিয়ে করেছি বিক্রমপুরের সিরাজদি খাঁন থানাধীন তালতলা সংলগ্ন সুবচনী এলাকার এক গরিব পরিবারের মেয়েকে। ওই এলাকায় আমার কোনও আত্মীয়স্বজন নেই। আমি এক ঈদের বন্ধে আমার এক বন্ধুকে সাথে নিয়ে সুবচনী এলাকায় একজনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলাম। সেই বাড়ির সাথেই আমার শ্বশুরবাড়ি। যেদিন ওই বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলাম, সেদিন বিকালবেলা আমার শ্বশুর বাড়ির পুকুর ঘাটে একটু বসেছিলাম। এমন সময়ই আমার সহধর্মিণী একটি কলসি নিয়ে পুকুর ঘাটে আসে। আমি তখন চেয়ে চেয়ে দেখছিলাম। আমার সাথে আমার বন্ধুটিও ছিল। সেই দেখাই দেখা! দুইবছর প্রেম প্রেম খেলা। তারপর বিয়ে। অথচ আমার মা মেয়ে দেখে রেখেছিল নরসিংদী জেলার এক গ্রামে। বিয়ের কথাবার্তাও একরকম পাকাপাকি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু হলো না বিক্রমপুর বেড়াতে যাওয়ার কারণে। এখন অনেকেই বলে, “আপনি বিক্রমপুর বিয়ে করলেন কীভাবে?” উত্তর দেই, সবকিছুই বিধার লেখা। আবার বুড়ো-বুড়িরা বলে, ” বিধাতা যাঁর সাথে যাঁর জুড়ি বেঁধে রেখেছে, তাঁর সাথেই বিয়ে হবে।” আমার বেলায়ও হয়েছে তা-ই।

ঘটনা দুই–আমার মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি গোপালগঞ্জ জেলাসদর এলাকার এক গ্রামে। সেখানে আমার কোনও আত্মীয়স্বজন নেই বা ছিলও না। আমার মেয়ে যখন এসএসসি পরিক্ষার্থী, তখন থেকে মেয়ের জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে সম্বন্ধ আসে। কিন্তু না, ছেলে পছন্দ হয়, তো ছেলে বংশ পছন্দ হয় না। আবার ছেলের বংশ পছন্দ হয়, তো ছেলে পছন্দ হয় না। এভাবে কয়েকটি সম্বন্ধ বিদায় হয়ে গেলো। শেষমেশ বর্তমান জামাই বাবাজী কোত্থেকে যে, উড়ে এসে জুড়ে বসলো, তা তখন বুঝতে পারিনি। এখন বুঝি! সবই ছিলো মহান সৃষ্টিকর্তার ইশারা। এখন অনেকেই বলে, “এতো দূর মেয়ে বিয়ে কীভাবে দিলেন?” উত্তর দেই, সবকিছুই বিধাতার খেলা। প্রিয় পাঠক, বুঝতেই তো পারছেন যে, জন্ম এবং বিবাহ’র উপর কারোই হাত নেই। যাঁর যেখানে এবং যেভাবে বিয়ে হবার, ঠিক সেখানে সেভাবেই হবে।

এবার রিজিক নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় আসি। ধরুন খাবার! ক’দিন আগে আমার এলাকার এক লোক আমার সামনে এসে দাঁড়ালো। লোকটাকে আমার আগে থেকেই অপছন্দ! কিন্তু লোকটার দিকে তাকাতেই কেমন যেন আপন আপন মনে হলো। আমি তখন বসা ছিলাম এলাকার একটা চা’র দোকানে। লোকটা আমাকে দেখে হেসে বললো, “নিতাই বাবু কেমন আছ?” উত্তরে আমি বললাম, ‘ভালো আছি। আপনি?’ লোকটা বললো, “আমিও ভালো আছি।” তারপর আমি বললাম, ‘এক কাপ চা পান করবেন?’ লোকটা আর না বলেনি। বললো, “হ্যা, পান করা যায়।” আমি সাথে সাথে চা দোকানদারকে দুই কাপ লাল চা’র অর্ডার দিলাম। লোকটার এক কাপ, আর আমি এক কাপ। চা’র কাপের চা শেষ হবার পর লোকটা বললো, “এই মুহূর্তে এখানে আসবো আমি ভাবিওনি। অথচ আসলাম, তোমার টাকায় চা পান করলাম।” উত্তরে আমি বললাম, ‘দেখুন, সবই মহান সৃষ্টিকর্তার খেলা। এখানে এই মুহূর্তে আপনার রিজিক আমার উপর মহান সৃষ্টিকর্তার কর্তৃক বর্ধিত ছিলো। তাই আমি আপনাকে চা পান করাতে পেরেছি এবং আপনিও স্বাচ্ছন্দ্যে গ্রহণ করলেন।

আবার একজন লোক ভালো চাকরি ছেড়ে দিয়ে অন্য জায়গায় গিয়ে কম বেতনে কষ্টের চাকরিও করছে বা করেও। কেউ খাবারের প্লেটে হাত দিয়েও খেতে পারে না। খাবার সামনে রেখে প্রাণত্যাগ করে বা অন্যত্র চলে যায়। খাবার অন্যজনে খায় নতুবা জাগায়ই পড়ে রয়। সবই মহান সৃষ্টিকর্তার নির্ধারিত খেলা। তাঁর এই খেলায় জীবকুল অংশগ্রহণ করতে বা বাধা দিতে পারে না।

এবার আসি মৃত্যু নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনায়। আমার বাবার খুবই ইচ্ছে ছিল যে, বাবার মৃত্য যেন তাঁর বাপদাদার ভিটেমাটিতে হয়। আমার মায়েরও একই ইচ্ছে ছিল। কিন্তু বিধাতার নির্মম পরিহাস! তাঁদের মৃত্যুর অনেক আগেই আমার বাপদাদার ভিটেমাটি বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। শেষ অবধি আমার মা-বাবার মৃত্যু হয় নারায়ণগঞ্জ। আমাদের পরিবারের সকলের ইচ্ছে থাকলেও উপায় ছিল না যে, মা-বাবার মরদেহ  গ্রামে বাড়ি নেবার। শেষমেশ বাবার শবদাহ করা হয় ১নং ঢাকেশ্বরী কটন মিলের শ্মশানঘাটে। আর মায়ের শবদাহ করা হয় নারায়ণগঞ্জ পৌর শ্মশানঘাটে। প্রিয় পাঠক, মানুষ মাত্রই মরণশীল। জন্ম হয়েছে তো মৃত্যু হবেই। এই পৃথিবীতে আমরা কেউ অমর হয়ে আসিনি। সবাইকেই একদিন-না-একদিন মরতেই হবে। কেউ জলে। কেউ স্থলে। কেউ যুদ্ধে। কেউ ঘুমের ঘোরে। কেউ বিমান অ্যাক্সিডেন্টে আকাশেও মারা যায়। এর মানে হলো যাঁর যেভাবে মৃত্যু লেখা রয়েছে, সে সেভাবে সেখানেই মৃত্যুবরণ করবে।

তাহলে বর্তমান সময়ে নভেল করোনাভাইরাসে যেসব মানুষগুলো মৃত্যুবরণ করছে, এটাও মহান সৃষ্টিকর্তারই নির্ধারিত ছিল এবং এই রোগ পৃথিবীতে কখন কবে হানা দিবে তা-ও মহান সৃষ্টিকর্তার সময়কাল নির্ধারণ করা ছিল। তাই পৃথিবীতে সভ্যতার শুরু থেকে যেসব যুদ্ধে মানুষ অবতীর্ণ হয়েছিল, আর যেসব মানুষ মৃত্যুবরণ করেছিল; সবই মহান সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক নির্ধারিত ছিল। এখন সারাবিশ্বব্যাপী যেই ছোঁয়াচে রোগ প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস দেখা দিয়েছে, তা-ও মহান সৃষ্টিকর্তা পৃথিবীর সৃষ্টির পর এই রোগে কতো মানুষ মৃত্যুবরণ করবে, সেটাও নির্ধারণ করে রেখেছিল বলে আমি মনে করি।

তবে এই রোগে যদি মহান সৃষ্টিকর্তা আমার মৃত্যু লিখে থাকেন, তাহলে এই পৃথিবীর কোনও রোগতত্ত্ব বিশেষজ্ঞদের ক্ষমতা নেই যে, আমাকে বাঁচিয়ে রাখার। আমি যেকোনো একভাবে-না-একভাবে এই ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত হবোই হবো এবং এই রোগে আক্রান্ত হয়েই আমি মৃত্যুবরণ করবো। তারপরও আমাকে অবশ্যই অবশ্যই সাবধানে থাকতে হবে। যাতে খুব তাড়াতাড়ি আমি এই প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত না হই। আমি জানি আগুনে হাত দিলে হাত পুড়ে যাবে। জলে হাত দিলে হাত ভিজে যাবে। তাহলে আগুন থেকে আমাকে অবশ্যই সাবধানে থাকতে হবে। যদি ভাগ্যবিধাতার লেখা থাকে যে, আগুনে পুড়ে আমার মৃত্যু হবে। তাহলে হবে। সেটা হবে আমার অনিচ্ছাকৃতভাবে। কিন্তু তা হবেই হবে। যেকোনো একভাবে। তা হোক। তবুও আমাদের অবশ্যই সাবধানে থাকতে হবে। দেখেশুনে চলতে হবে। ভালোমন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে চলতে হবে।

তাহলে আসুন, আমরা মৃত্যুকে ভয় না পেয়ে সকলেই সতর্কতার সাথে এই প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস প্রতিহত করি। সতর্কতা অবলম্বন করে চললে অবশ্যই আমরা এই প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস যুদ্ধে জয়লাভ করতে পারবো এবং অপরকেও সুরক্ষিত রাখতে পারবো।

---

Comments: 21 — https://sonelablog.com/%e0%a6%b8%e0%a7%83%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%87%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%87-%e0%a6%b8%e0%a6%ac/#comments
