# সূর্যাই ডোম ও রাম্বা আখ্যান-৫ (ধারাবাহিক উপন্যাস)

- Author: [সাতকাহন](https://sonelablog.com/author/satkahon/)
- Published: 2014-03-19T07:56:37+00:00
- Updated: 2014-03-19T07:56:37+00:00
- Category: [সাহিত্য](https://sonelablog.com/category/literacy/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%b8%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%87-%e0%a6%a1%e0%a7%8b%e0%a6%ae-%e0%a6%93-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%96%e0%a7%8d%e0%a6%af-5/

---

শ্রীপদ হাঁটতে হাঁটতে যমুনার ঘাটে আসে। শরতের চাঁদ তখন মেঘের আড়ালে লুকিয়েছে। নরমুণ্ডুটা পাশে রেখে নদীর জলে জোনাক আলোতে লাশের কালচে রক্ত মাখা হাত মুখ ধোয় শ্রীপদ। হঠাৎ মেঘের আড়াল থেকে উঁকি মারে শরৎ পূর্ণিমার চাঁদ। জলের উপড় নিজের রক্ত মাখা মুখমণ্ডল দেখে শ্রীপদ ভয়ে চিৎকার করে উঠে। সে চিৎকারের শব্দ প্রতিধ্বনি করতে করতে দূর বাতাসে মিলিয়ে যায়। চাঁদ আবার মেঘের চাদরে নিজেকে ঢাকে। শ্রীপদ নদীর ঘাট থেকে উঠে সোজা রওনা দেয় নিতাই ডোমের বাড়ির উদ্দেশ্যে।

নিতাই ডোমের বাড়ি ডোমপাড়ারই একটু দূরবর্তী জায়গায়। নিতাই ডোমের বাড়ির প্রশস্থ উঠানে এসে থামে শ্রীপদ, হাঁপাতে থাকে। নিতাই ডোমের ঘরের দরজায় জোরে জোরে শব্দ করে। জোরে জোরে ডাকে, ‘নিতাই কাকা, নিতাই কাকা!’ অকস্মাৎ শ্রীপদের মনে হয় দরজায় টোকাটা ঠিক লাগছে না। বিষয়টা অনেকটা স্বপ্নে চিৎকার করার মতো মনে হয়। হঠাৎ দরজা খুলে সামনে এস দাঁড়ায় মুণ্ডুবিহীন এক দেহ। সে কথা বলে ওঠে, ‘কে হ রে? হামার মাথাঠো লাগাদে হাম কুচ্ছু দেখেনেইখে সকতিন!’ শ্রীপদ ভয়ে চিৎকার করে। অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যায়।  
শ্রীপদের চিৎকার শুনে নিতাই ডোম ঘর থেকে বের হয়। কাটা মুণ্ডু বুকে নিয়ে শ্রীপদকে পড়ে থাকতে দেখে। নিতাই শ্রীপদের নিকটবর্তী হয়, শ্রীপদকে ডাকে, ‘শ্রীপদ, শ্রীপদ! শ্রীপদ কা ভায় এ? শ্রীপদ!

শ্রীপদ: নিতাই কাকা হাম কাহা?  
নিতাই: কারে এইসন চিল্লাও তেরে কাহে?  
শ্রীপদ: না এইছেন।  
নিতাই: তো এতনা রাতিকে কাহে আনবারে?  
শ্রীপদ: কবরছে মাথা কাটকে লেকে আনবানি। ইঠু বেঁচে খাতির তোহারকেনে আনবানি। নিতাই  দেখেশুনকে বোলোতে।  
নিতাই: বুড়হ আদমিকো মাথা। দু’শো রূপিয়াকে বেশি না পাইবে।  
শ্রীপদ: ঠিক বায় কাকা দু’শো রূপিয়া দো। কাকা তোহার ঘরে দারু বায়?  
নিতাই: বায়। ঘরমে আউ।

নিতাই ও শ্রীপদ দু’জন মিলে ভরপেট দারু পান করে। শ্রীপদ মদ্য পান করতে করতে যখন দিশেহারা হয়ে যায়। যখন কান লাভার মতো উত্তপ্ত হয়ে যায় তখন সে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা করে। পরের দিন সকালে ডোমপাড়া রান্নার গন্ধে মৌ মৌ করে। ডোম পাড়ার মানুষেরা বুঝতে পারে আজ চারুবালা ভালোমন্দ কিছু রান্না করছে। অনেকদিন পর চারুবালার বাড়ি থেকে রান্নার এমন মৌ মৌ করা সুগন্ধ আসছে। এমন সুগন্ধ অনেক দিন পায়নি ডোমপাড়ার মানুষেরা।

হঠাৎ রামু কথা বলে উঠলে মাতাল শ্রীপদ সেই কিশোর বেলার অতীত থেকে আবার বর্তমানে ফিরে আসে।

রামু: মালিক বহুত রাত হোগা। হামরেকে ছোড় দো। হামার লেকাকে তবিয়ত আচ্ছা নেইখে!  
শ্রীপদ: ঠিক বায়। যো কৃষ্ণা।

কৃষ্ণা ও রামু টাল অবস্থায় টলতে টলতে চলে যেতে চায়।

শ্রীপদ: রাম্বা, রাম্বা, রাম্বা, বাহিন আমার… রাম্বা… রাম্বা… রাম্বা…।  
কৃষ্ণা: রামু, রামু এ রামু!

কৃষ্ণা ও রামু মাতাল অবস্থায় বাহির দরজা রেখে ভুলে শ্রীপদের অন্দর মহলের দিকে যাত্রা শুরু করে। শ্রীপদ এটা খেয়াল করে রেগে আগুন হয়ে যায়। কৃষ্ণাকে কষে এক চড় মারে।

শ্রীপদ: কারে কেনো ওরি যাতারে?  
কৃষ্ণা: মাফ কারদো মালিক রাস্তা ভুলাগাবানি।

ওরা উল্টা ঘুরে আবার সঠিক পথে যাত্রা শুরু করে।

কৃষ্ণা: রামু, রামু এ রামু…!!

 

***(……………………………………চলবে)***

 

**আগের পর্বের লিংকগুলো :**

১. [http://sonelablog.com/archives/12440](http://sonelablog.com/archives/12440)

২. [http://sonelablog.com/archives/12475](http://sonelablog.com/archives/12475)

৩. [http://sonelablog.com/archives/12531](http://sonelablog.com/archives/12531)

৪. [http://sonelablog.com/archives/12788](http://sonelablog.com/archives/12788)

---

Comments: 13 — https://sonelablog.com/%e0%a6%b8%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%87-%e0%a6%a1%e0%a7%8b%e0%a6%ae-%e0%a6%93-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%96%e0%a7%8d%e0%a6%af-5/#comments
