# সূযাই ডোম ও রাম্বা আখ্যান-১২ (ধারাবাহিক উপন্যাস)

Author: সাতকাহন
Published: 2014-07-02
Category: সাহিত্য
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%b8%e0%a7%82%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%87-%e0%a6%a1%e0%a7%8b%e0%a6%ae-%e0%a6%93-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%96%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8/

**হারিস মন্ডলের গরুকে রামু ও কৃষ্ণার বিষ খাওয়ানো**  
অবস্থাসম্পন্ন হারিস মন্ডলের বাড়ি। একটা কুকুর করুণ স্বরে ডাকছে। টিনের বেড়ার ফাঁক দিয়ে কুপির তীর্যক রশ্মি দেখা যায়। বেড়ার বুননের ফাঁক দিয়ে কুপির আলো দেখা যায়। এমন নিশুতি রাতে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক ছাড়া আর কিছুই কানে আসে না। ডোমপাড়ার সবাই সন্ধ্যারাতেই অতল ঘুমে তলিয়ে যায়। সারাদিন হাড়ভাঙ্গা খাটুনি আর সন্ধ্যা থেকে নেশাজল করার কারণে রাত না হতেই ওদের চোখে গহীন রাত নেমে আসে নিশ্চুপে। হঠাৎ হারিস মন্ডলের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বিছানায় শুয়ে হারিসের সাথে গল্প শুরু করে। খুব ক্ষীণ আলাপান হলেও ঘুমের রাজ্যে সে কথা স্পষ্ট শোনা যায়।  
কৃষ্ণা সে রাতেই গরুকে বিষ খাওয়ানোর জন্য মুখে কাপড় বেঁধে হারিস মন্ডলের বাড়ির পাশের ডোবায় ঘাঁপটি মেরে রামুর জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। রামু আসে।

কৃষ্ণা: এতনা দেরী কাহে করে?  
রামু: ও গণেশ কাকা যেতনা রাত হোককে তেনি যায় বোলে রাহা। ওকের সঙ্গে বাত বোলতে বোলতে তেনি দেরী হোগা।  
কৃষ্ণা: ও আচ্ছা!

হারিস মন্ডল এবং তার স্ত্রী ফাতেমার কথাবার্তা শুনে ওরা সাবধান হয়।

ফাতেমা: শুনছেন! ঘুমাইলেন নাকি।  
হারিস : না। বলো শুনতাছি।  
ফাতেমা: চারিদিকে নাকি চোরের উপদ্রব হইছে। চোরেরা নাকি দল বাইন্ধ্যা গরুরে বিষ খাওয়াইয়া মারতাছে।  
হারিস: তাই নাকি?  
ফাতেমা: হ। সেইদিন রাইতে চোর আমেনাগো বড় গরুডারে বিষ খাওয়াইয়া মাঠে লইয়া গ্যাছে। তারপর চামড়া ছিইল্যা গরুর দেহডারে ফালাইয়া থুইয়া গ্যাছে।  
হারিস: আমিনা বুঝলো ক্যামনে যে ওইডা অগোই গরু?  
ফাতেমা: সকালে উইঠা দেখে গোয়ালের বড় গরুডা নাই। খুঁজতে খুঁজতে চকে গিয়া দেখে বড় গরুডা মইরা পইড়া আছে, গায়ের চামড়া নাই।  
হারিস: শালা ওই ডোমেরা অভাবে পড়লেই এই অকাম গুলান করে।  
ফাতেমা: টর্চ জ্বালাইয়া একাবার দেইখ্যা আসবা নাকি গরু গুলান ঠিকঠাক মতো আছে কিনা?  
হারিস: হাসির কথা কইলা বউ। হারিস মন্ডলের গোয়ালের গরুরে বিষ খাওয়াইবো। এতবড় বুকের পাটা অগো আছে! আমার বাড়ির চৌহদ্দির মধ্যে এই কাম কইরা কেউ ধরা খাইলে গায়ের চামড়া ছিইলা জুতা বানাইয়া ফালামু না! অনেক রাইত হইছে তুমি ঘুমাও। আমার বাড়িতে এই কাম করার সাহস অগো হইবো না।  
রামু: এই কৃষ্ণা শালা তো অভিতক শুতে নেইকে।  
কৃষ্ণা: হাম হিয়া খাড়াকে পাহাড়া দেতিন। তে চুপ করেকে চাড়িকে ভিতর চিমোল দেকে আও।  
রামু: ঠিক বায় চিমোকে শিশিঠো দোও।

রামু গোয়াল ঘরের দিকে এগুতেই ডোমপাড়ার এক কুকুর তাদের ঘিরে ঘেউ ঘেউ করতে থাকে।

কৃষ্ণা: রামুরে সর্বনাশ ভোগা। কুত্তা যে ভুকোতে হামনিককে ঘিরমে ধরেবায়। অভি যদি সবকই জাগবায় তব হামনিককে উপায় কা হই!  
রামু: আরে ডরাইয়ামত। তব কুত্তা আরো ঘিরকে ধরি। কুত্তার সঙ্গে জানা আদমি এইসন বাত বোলেছে কুত্তা মান যায়ি। আর ঘেউ ঘেউ না করি।  
রামু: চু চু চু আরে ঘেউ ঘেউ করিয়ে মত্ দোস্ত। চুপ র চুপ র।

গলায় হাত দিয়ে রামু কুকুরটিকে আদর করার চেষ্টা করে। কুকুর আদর না নিয়ে ওদের ওপড় চড়াও হতে চায়।

ঘরের ভেতরে ফাতেমা আবার হারিস মন্ডলকে বলে…।

ফাতেমা: কুকুরটা অমন ডাকতাছে ক্যান? এই, উইঠা গোয়াল ঘরটা দেইখা আসে তো।  
হারিস: রাইত হইছে বউ ঘুমাও…।

হারিস মন্ডলের ঘরের কুপি নিভে গেলে রামু ও কৃষ্ণার বুকে সাহস ফিরে আসে। রামু ও কৃষ্ণা এতক্ষণ ঝিম মেরে ঝোপের আড়ালে ঘাপটি মেরে বসে ছিলো। কুপি নিভে যাবার সাথে সাথে কুকুরটাও কেমন যেনো নিস্পৃহ হয়ে পড়ে। আক্রমণ করে না কিন্তু ভয় দেখায়।

রামু: রুটি লিয়াইকে বোলেরিহা লিয়াইবারে?  
কৃষ্ণা: হ লিয়াইবানি।  
রামু: দে রুটিমে বিষ মিলাইকে কুত্তাকে খিয়াইব্। শালা খুব তেড়িবেড়ি করোতে।  
কৃষ্ণা: তো হামনিককে সারারাত কা খাইব্? খালি প্যাটমে তো সারারাত জাগা না যায়ি। রাতিকে শুতযায়েছো তো হামনিককে চামড়া না পাইব্। সকাল বেলা কেউ না কেউ আকে আগে আগেই চামড়া ছুলা শুরু করেদেহি। তব সারারাত জাগকে মিলি ছোটকা এগো ভাগ। তাও যদি ছিলেকে আগে ধরি সক্লেই আর না হকেছে আক্কু গাঁথেসকলি। হামনিককে যায়েকে আগে যদি কেউ পুরাঠো ছিলোলে তব এককো ভাগ না পাইব্ এককো পয়সা কড়িও না পাইব্।  
রামু: অভি যদি কুত্তাকে ডাকমে আদমি-জন উঠযায়ে তব ধরাতো পরোব মার এগো মাটিমে না গিরি। তব আমও যাই ছালাও যাই। দো দো রুটি দো!

কুকুর আবার ঘেউ ঘেউ করে ওঠে। কৃষ্ণা কোনো উপায়-অন্তর না দেখে কোমড়ে বাঁধা গামছার পুটলি থেকে একটা রুটি বের করে রামুকে দেয়। রামু বিষ মাখিয়ে দূরে ছুড়ে মারে। কুকুর সেদিকে ছুটে যায়।

রামু: কৃষ্ণা, তে হিয়া খাড়া র হাম চারিমে চিমোল দেকে আতিন।  
কৃষ্ণা: তে আসলেই বুদ্ধিমান রে রামু।  
কৃষ্ণা ঝোপের মধ্যে বসে লুকিয়ে বিড়ি ফুঁকতে থাকে। একটু পরেই রামু আসে।  
রামু: খেল খতম। চল কৃষ্ণা ঝরছে খসক যায়া।  
কৃষ্ণা: চল।

***(……………………………………..চলবে)***

**আগের পর্বগুলোর লিংক:**

১. [http://sonelablog.com/archives/12440](/archives/12440)

২. [http://sonelablog.com/archives/12475](/archives/12475)

৩. [http://sonelablog.com/archives/12531](/archives/12531)

৪. [http://sonelablog.com/archives/12788](/archives/12788)

৫. [http://sonelablog.com/archives/12859](/archives/12859)

৬. [http://sonelablog.com/archives/12944](/archives/12944)

৭. [http://sonelablog.com/archives/13003](/archives/13003)

৮. [http://sonelablog.com/archives/13126](/archives/13126)

৯. [http://sonelablog.com/archives/13269](/archives/13269)

১০. [http://sonelablog.com/archives/13617](/archives/13617)

১১. [http://sonelablog.com/archives/14926](/archives/14926)
