# সুবাস ( একটি কনভার্সেশান )

Author: এস.জেড বাবু
Published: 2019-12-05
Category: অন্যান্য
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a6%a8%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%a8/

\>> কেন শূণ্যতায় বাড়ালে হাত ?

—শুনেছি শূণ্যতার অনেক ভার, বিশ্বাস হয়নি, তাই সত্যিটা জানতে চাই।

\>> দীর্ঘশ্বাস বেঁধে দেয়ার মতো কোন শেকল যদি থাকত, তবে নাহয় দু’আঁটি রেখে দিতাম শূণ্য পথে।

—পথে কেন ? শূণ্য হাতে কেন নয় ?

\>> বুঝতে পারতে, কতটা উঁচু হয় শূণ্যতার স্পীডব্রেকার, কাউকে কত যত্নকরে গতিশূণ্য করে, নজর এড়ালেই যেখানে নির্ঘাত দুর্ঘটনা।

— কেউ পুঁতে রাখলেই পারে দুটি সবুজের নিশানা ।

\>> হাজার বছরের তৃষ্ণার্ত মরুর পথ, চোখের পলকে পাণ করে আকাশের অঝড় কান্না । বুক জুড়ে থাকে ভেজা শূণ্যতায় খানিকক্ষণ বয়ে যাওয়া স্রোতের দাগ।  
জলের দাগে সবুজের বীজ খুড়ি মেলে না যে।

—তবু কেন অযথাই আকাশের চোখে জল ? কেন বিজলী আর গগণবিদারী আর্তনাদে মিশে নামে বর্ষন ? এ কি খরার জন্য নীলের ভালোবাসা নাকি শূণ্যতার জন্য দিগন্তের অনুসুচনা ?

\>> সে পথের বাঁকে, নগ্ন বুকে চিত হয়েছিল আলেয়া- ষোড়শী নদীর মতো। ভরা পূর্ণিমায় আকাশের বুক ছিড়ে একটি নক্ষত্র ছিটকে পড়েছিল স্নানের নেশায় । উজ্জলতার পরশে উষ্ণ মরুবুকে উঠেছিল ঝড়। মরিচিকায় ভুলে জলের বদলে বালুঝড়ে হারিয়েছিল নক্ষত্রের ইচ্ছে তরী।

—তবে আজও কেন মেঘ ডাকে বেলা অবেলায় ?  
আষাঢ়ের স্রোত কি ছুঁতে পায় নক্ষত্রের তৃষ্ণা ?  
শ্রাবণ জোয়াড়ে ভরা কোন স্রোতস্মীনী নদীর বুকে ক্ষাণিকক্ষন ভাসে কি ইচ্ছে হারানো তরী ?

\>> তবে তো মোহনায় মিশে যেত পথ , সৈকতে হয়ে যেত আলেয়া আর স্রোতের মহাপরিণয় ।

—কি পেলেন একা একা দহনে শূণ্য ঠিকানাহীন, অশ্রুভেজা, ব্যার্থ যাত্রা পথের শেষে ?

\>> রোদে জ্বলা তামাটে চামড়া, একটা ভারী চশমা,  
আর …..

—আর ?

\>> আর একগুচ্ছ বর্ণের খেলাঘর, যে ঘরের দেয়ালে, আলেয়ার রেখে যাওয়া ঘুণেধরা অক্ষরগুলির শব্দার্থ খুঁজে পেলে সারিবদ্ধ করে লিখে রাখি।

—তবে থাক সে আলেয়ার গল্প । মরিচিকায় ভরা পুরুনো গল্প শুনতে মন চাইছে না।

\>> তা জানতাম, তবে ফিরিয়ে নাও হাত ।

—কেন ? শূণ্য হাত ফিরিয়ে নেয়ার জন্য তুলিনি।

\>> কি দিবো তোমায় নতুন করে ?

—খানিকটা সুবাস দেবেন ! দীর্ঘশ্বাসের গন্ধমাখা দহন ?

\>> কর্ম ক্লান্ত পথের শেষে গর্মাক্ত দেহ, পরাজয়ের মেলায় সুবাস কোথায় পাবো বলো !

—তবে ঐ কাঁধের ঝুলিটা দেখতে চাই, ওখানে সুবাস আছে ।

\>> নাহ, একটা দেয়শালাই, খানিক জলে পূর্ণ লালচে প্লাস্টিক বোতল, আর তো কিছু নেই

—আরও কিছু আছে, ভেবে বলেন তো

\>> কি করে জানলে ? তবে হ্যাঁ – আছে একটা কলম

—আর ?

\>> আর একটা পুরুনো ডাইরি ।

—আর ?

\>> আর !! আর নেই তো কিছু ।

—মিথ্যে বলছেন ;

\>> কেন মিথ্যে বলবো ?

—ডাইরিতে কি আছে বলেন ;

\>>ওহহ ! অতটা গভীরে ভাবিনি  
তবে আছে ; কিছু অমিমাংসিত বর্ণ সমাহার |

—অমিমাংসিত কেন ?

\>> মাঝখানের পৃষ্ঠা হারিয়ে ফেলা উপন্যাস, সময় অসময়ে লিখা ছন্দহীন কবিতা – যাদের করুন চিৎকার এই মন বার বার শুনে, শান্তনা দেয়ার অক্ষর খুঁজে, আর একটা দীর্ঘশ্বাসে সে ইচ্ছে পুড়ে ছাই হয়।  
তবু মিলে না বাক্য – এইতো অমিমাংসিত বর্ণমালা ।

—আর কি আছে ডাইরিতে ?

\>> একটা শুকনো গোলাপের গুটিকয়েক ঝড়ে যাওয়া পাপড়ি ।

—তবে আমি সত্যি কিছু নিবো , দেবেন ?

\>> হুমম,  
নাহ- !!  
সে গোলাপ তো একটাই, ইচ্ছে ভরা নৌকা ডুবু ডুবু প্রায় , বোঝাই হয়ে গিয়েছিলো, তাই গোলাপটা তুলে রেখেছিলাম।

—কেন দেবেন না ?

\>> এটা আমার কাছে আলেয়ার অসমাপ্ত ইতিহাসের সৌধ- আপনার কাছে ঝড়ে পড়া শুকনো পাপড়ি,  
যাকে দেয়ার ছিলো তাকে দেয়া হয়নি,  
আপনি নাইবা নিলেন ।

—আরে না না – আমি গোলাপ নিবো না-

\>> তবে ?

—যদি দিতে চান তবে,  
যে পৃষ্ঠার ভাঁজে গোলাপটা রাখা, সে পৃষ্ঠা টা আমায় দেবেন,

\>> কি করবেন ?

—ঐ যে বল্লাম,  
যে আলেয়ার পিছনে তপ্ত মরুর বুক চষে বেড়িয়েছেন,  
কাগজের নৌকায় ইচ্ছে ভাসিয়েছেন,  
মরা স্রোতের দাগ দেখে দেখে হৃদয় পুডিয়ে দীর্ঘশ্বাসের ভার মিশিয়ে দিচ্ছেন শূণ্যতায়;  
আমি সে হৃদয়ের চর্বি পোড়া ধোঁয়ার মন্ডপে রাখা- গোলাপের চারপাশের বর্ণগুলি থেকে, সেদিনের মতো খানিকটা সুবাস খুঁজে নিবো\_\_\_॥

\-০-

০৭/০২/২০১৯
