# সম্পর্ক

- Author: [রিমি রুম্মান](https://sonelablog.com/author/rimee-rumman/)
- Published: 2015-10-11T09:27:25+00:00
- Updated: 2015-10-11T09:27:25+00:00
- Category: [একান্ত অনুভূতি](https://sonelablog.com/category/misc/personal/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95/

---

বাড়িটিতে ছোটখাটো পার্টি চলছে। শিশুরা এঘর ওঘর ছুটোছুটি করছে। পুরুষরা ড্রয়িং রুমে। আর নারীরা ভেতরের রুমে গল্পে মশগুল। গল্পচ্ছলে বন্ধুপত্নী বললেন, দেশে ফোন করলেই শাশুড়ি বলেন, “বাবারে, আমারে তোর কাছে লইয়া যা” । আমি বলি, নিয়ে আসুন, বাড়িতে একজন মুরুব্বী থাকলে ভালোই হবে আপনার। তিনি কিঞ্চিৎ বিরক্তিতে বললেন, “থাকবে কোথায়, আমাদের তো বাড়তি রুম নেই।” অতঃপর প্রসঙ্গ পাল্টায়। অন্য বিষয় নিয়ে গল্প চলে। আগামাথা বিহীন গল্প। বাবা-মা, ভাই-বোন’কে এদেশে আনার ব্যাপারে কে কে আবেদন করেছে সেইসব গল্প। উচ্ছ্বসিত বন্ধুপত্নী এবার জানালেন, তিনি তাঁর বাবা-মা’য়ের জন্যে আবেদন করেছেন। সহসাই তাঁরা এদেশে আসছেন। আমি বললাম, “থাকবে কোথায়, আপনার তো বাড়তি রুম নেই।” তিনি বুঝলেন, হো হো করে হেসে উঠলেন। জানতাম, হাসির চেয়ে সুন্দর কিছু নেই। কিন্তু এই প্রথমবার কারো হাসি ভীষণ রকম অসুন্দর মনে হলো।

 

অতঃপর একদিন বন্ধুপত্নী’র বাবা-মা এলেন, বেড়ালেন, বছরখানেক বাদে দেশে ফিরেও গেলেন। কিন্তু “বাবারে, আমারে তোর কাছে লইয়া যা” বলে আকুতি করা মায়ের আকুতি আকুতিই থেকে যায়। তাঁর আর আসা হয়না প্রানপ্রিয় ছেলের কাছে।

 

টুকটাক কাজ করার সময় আমার সত্তরঊর্ধ্ব বয়সী শাশুড়ি এগিয়ে আসেন প্রায়ই। আমার মা যেমন করে বলতেন, ঠিক তেমন করে বলে উঠেন, “তোমার ভারী কাজ করা ঠিক না কিংবা তোমার ঠাণ্ডা লেগে যাবে”। বলেই তিনি নিজে করার চেষ্টা করেন ! তেমনি আমিও প্রায়ই বলে বসি, “আম্মা আপনি রেস্ট নেন, শরীর খারাপ করবে।” আবার বৈকালিক চা’য়ের সময়টাতে আমাদের গল্প ফুরাতে চায় না। যুদ্ধের সময়কার গল্প, জীবনের চড়াই উৎরাই এর গল্প কিংবা অন্য কোন বিষয়।এটি দু’জনের প্রতি দু’জনের মায়া, ভালোবাসা’র বন্ধুসুলভ এক সম্পর্ক।

 

যতবারই বাংলাদেশে যাই, দীর্ঘ ভ্রমনে পাশের সহযাত্রী’রা জানতে চায় আমরা মা-মেয়ে কিনা। মা-মেয়ে কিংবা বৌ-শাশুড়ি একটি পরিচয় মাত্র। কিন্তু একজন মানুষ হিসেবে আরেকজন মানুষের প্রতি সহমর্মিতা, ভালোবাসা কিংবা সন্মানটুকু তো অন্তত করা যায় । ঘরে ঘরে এমন সম্পর্ক বিরাজ করলে আমাদের শিশুদের জন্যে কতোই না ভাল হতো, তাই না ?

 

আমার বন্ধুপত্নীও একদিন শাশুড়ি হবেন। একটু একটু করে যত্নে আগ্‌লে রাখা সন্তানটি থেকে দূরে থাকার কষ্ট নিশ্চয়ই তিনি সেদিন অনুভব করবেন। কিন্তু সেদিন যে বড় বেশি দেরি হয়ে যাবে ! “বাবারে আমারে তোর কাছে লইয়া যা”___ এমন আকুতি কি তাঁর কানে বেজে উঠবে সেদিন ? হয়তো বা হ্যাঁ … হয়তোবা না..

সম্পর্কগুলো হোক___  
ভালোবাসার, সহযোগিতার, সহমর্মিতার, সন্মানের।

---

Comments: 30 — https://sonelablog.com/%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95/#comments
