# সম্পর্ক ও আদিম রীতি।

- Author: [রিতু জাহান](https://sonelablog.com/author/mounata/)
- Published: 2019-02-11T12:33:59+00:00
- Updated: 2019-02-11T12:36:16+00:00
- Category: [একান্ত অনুভূতি](https://sonelablog.com/category/misc/personal/), [সমসাময়িক](https://sonelablog.com/category/current_affairs/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95-%e0%a6%93-%e0%a6%86%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%ae-%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a5%a4/

---

বাংলাদেশের হাস্যকর সামাজিক প্রেক্ষাপটে আজ পরকিয়া নামক এক অস্বস্তিকর একটা শব্দের বিচার হচ্ছে। আর তারই জের ধরে এক সাইকো লোকের আত্মহত্যা করা নিয়ে পুলিশ তিন দিনের রিমান্ড নিয়েছে একজন মানুষের। পুরো বাংলাদেশ তার বিচার চাচ্ছে। কিন্তু মিতু কি তার সাইকো স্বামীর মৃত্যুর জন্য আসলেই দায়ী। যদি দায়ীই থাকে তবে কতোটুকু দায়ী?

মনের উপর কখনো কারো জোর নেই। পরকিয়া নামক যে শব্দটির সাথে আজ আমরা পরিচিত তা একটি অস্বস্তিকর শব্দে পরিণত হয়েছে আমাদের কাছে।

মানুষ সব সময়ই একটা আদিম রীতি ধরে রাখে। প্রতিটা মানুষের মাঝে সেই আদিম রীতির বসবাস। আদিম রীতি মানে সামাজিক নিয়মের বাইরের আচরন গুলোর কথাই আমি বলতে চাচ্ছি। আর আদিম রীতির আর এক উদাহারণ যদি ধরি তা আমরা প্রতিটা ধর্ম, একমাত্র হয়তো বৌদ্ধ ধর্ম ও খৃষ্টান ধর্ম বাদে সব ধর্মেই এমন পরকিয়া নামক বহু বিয়ের জলজ্যান্ত ইতিহাস দেখে পড়ে শিখে বড় হয়েছি। এসবের ব্যাখ্যা একেকজনের কাছে একেকরকম। তাই পরকিয়ার বিচার করতে গেলে আগে ধর্মের বিচার করা উচিৎ।

বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে একজন ছেলে সন্তানের মা মনে করে তার ছেলের বউ ঠিক তার মতো করেই ঘর সংসার করবে। কিন্তু বিষয়টা আসলে ঠিক সে রকম নয়। হয়ও না। আর তাই ভাবাও ঠিক না। আর ঠিক এ কারনে বাংলাদেশের প্রতিটা সংসারে খুটিনাটি ঝামেলা লেগেই থাকে।

বর্তমানে এই শব্দটা নিয়ে কিছু ঘটনা সামনে আসার কারনে, দেখতে সুশ্রী একজন নারীর অবস্থা এমন যে তাকে ঘিরেই সবার ভ্রু কুচকে যায় নানান প্রশ্নে!!

প্রতিটা মানুষ তার নিজস্ব ভাবনা সেই মানুষটার উপর চাপিয়ে দেয়। স্বামী পুরুষটি যদি বয়সে অনেক বড় হয় তখন প্রশ্ন “কেমনে কি!!!!” বাড়ির সে বউ তখন এমন যে বাইরে কারো সাথে কথা বলতে গেলে হাজার বার চিন্তা করে।

আসলে, আমাদের এ সমাজ ব্যাবস্থার মতো বাজে সমাজ ব্যাবস্থা হয়তো আর কোনো দেশে নেই। কতো কতো প্রশ্ন!

মেয়ের বয়স হয়েছে, এখনো কেনো বিয়ে হচ্ছে না? নিশ্চয়ই এমন ছেলের সঙ্গে প্রেম করছে যে বেকার! নতুবা প্রেমে ছ্যাকা খেয়েছে! নতুবা চরিত্রে দোষ আছে। তখন এমন অবস্থা হয় যে সে মেয়েটি বেচারি কারো সাথে কথা বলতেই আড়ষ্ট বোধ করে। বাইরে বের হতেই বিরক্ত বোধ করে। কোনো অনুষ্ঠান সামনে আসলে মনে করে, যাবে কি যাবে না।

আমাদের সমাজ ব্যাবস্থায় রক্ষনশীল পরিবারে আমরা ছোটোবেলায় পারিবারিক ভাবে শিখে বড় হই যে, সন্ধ্যার পর বাইরে একদমই থাকা যাবে না। ঘন ঘন বাইরে বের হওয়া যাবে না। যে বাসায় পুরুষ মানুষ আছে সে বাসায় যাওয়া যাবে না। বাসায় পুরুষ কেউ এলে তাদের সামনে যাওয়া যাবে না। এমনকি জোরে হাসা যাবে না। হাজার বিধিনিষেধ এর বেড়ি আমরা পরে বড় হই।

একসময় বিয়ে হয়। সেখানেও ঠিক আরো বেশি কড়াকড়ি। স্বামীর আগে কখনোই খাওয়া যাবে না। স্বামী নামক প্রাণীটি বিয়ের প্রথম রাতেই বউকে শাসিয়ে বলবে, তার মা যেনো কখনো কষ্ট না পায়, যেদিন মা কষ্ট পাবে সেদিন কপালে দুঃখ আছে। যতো রকম মাইর আছে একটাও মাটিতে পড়বে না। এমনকি মায়ের সমান বড় বোনও যদি কোনো নালিশ করে কোনো যাচাই বাছাই হবে না। ডাইরেক এ্যাকশান মাইর। মেরে একটা শরীরকে বসে আনা যায়। কিন্তু মনকে কি যায়?

যখন কোনো পুরুষ বিয়ের রাতেই এমন হুমকি ধামকি দিবে আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলব, কোনো নারী আর ঐ লোককে ভালবাসতে পারবে না। স্বামী পুরুষটি সেই প্রথম ভালবাসা হারালে আর কি তা ফিরে পায়? পায় না। কারণ, সব মেয়েই যে একই চিন্তা ধারা নিয়ে বড় হয় তা ভাবা বোকামি। কারন, স্বামী ও শশুরবাড়ি মানুষের কাছে কোনো মেয়ে শুধুমাত্র কাজের মানুষ আর একজন দায়িত্বশীল বউ হয়েই থাকতে পছন্দ করে না। কারণ, তারও ইচ্ছে হয় আল্হাদ করে কিছু আবদার করতে, নিজের পিঠেও কখনো কখনো এক রঙ্গিন প্রজাপতির ডানা জড়াতে ইচ্ছে করে।

মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোয় বাড়ির বউকে বাইরে যেতে হলে হাজারবার শাশুড়ির সামনে গিয়ে মাথা নত করতে হয়। শাশুড়ি তো মুখের উপর বলেই দেয়,”তোমাদের যে কিসের এতো বাইরে যাওয়া, আমরা সংসারের কাজ করে তো সময়ই বের করতে পারতাম না।” ব্যাস! বউ বেচারি তখন সংসারে কাজ না থাকা কাজগুলোও করতে ব্যাস্ত হয়ে পড়ে। আর এ বিষয়ে হাজার মন খারাপ থাক স্বামী পুরুষটি বাড়িতে আসলে মুখে একটা মেকি হাসি তাকে হাসতেই হবে। কারণ, বাড়িতে তো সে দেনমোহর দিয়ে একজন বার্বিডল কিনে এনেছে। মনোরঞ্জণের এক দামি সামাজিক পুতুল।

কিন্তু যদি সে বউ বিদ্রোহি হয় তখন হয় চরমতম অশান্তি। বউ শাশুড়ির যুদ্ধ। কর্তা বাড়িতে আসলে একদিকে মায়ের নালিশ অন্যদিকে বউ এর নালিশ। ননদ থাকলে তো কথাই নেই। ব্যাস! পুরুষ তখন বাইরের সুখে মশগুল। শুধু সকল ত্যাগ করে শান্ত থাকলেই সংসারে কল্যাণ। কিন্তু সব সময় এই বউই কেনো ত্যাগ করবে? সব সময়ের শান্ত থাকা এ বউ একসময় বিদ্রোহি হয়েই ওঠে এটা চরম সত্য। একটা পুরুষ যেমন ঘরে অশান্তি হোক বা না হোক বাইরে শান্তি খোঁজে কিন্তু একটা নারী ঘরে বসে বালিশ ভেজায়। আমি কিন্তু এ সমাজের নব্বইভাগ পরিবারের কথা বলছি। হ্যাঁ এখন, সমাজের পরিবর্তন হয়েছে আর তাই মিতুদের আমরা আবিষ্কার করতে পারছি। যদি মিতুুুুরই বিচার হয় তবে যারা ব্রেকাআপ নামক শব্দটা ব্যবহার করে তাদেরও বিচার হওয়া উচিৎ। ব্রেকআপ মানেই তো মন নিয়ে খেলা করা। তো সে মন নিয়ে খেলা করার সময় যে মন ভাঙবে তারই বিচার হওয়া উচিৎ। তাই নয় কি? তবে সে ক্ষেত্রে শুধু মিতু একা কেনো। হ্যাঁ, মিতুর কিছু পারিবারিক দোষ থাকতে পারে। আমি কিন্তু শুধুমাত্র ‘মিতু’ নামটাই মিন করছি না। আমি একটা নারী চরিত্র বিশ্লেষণ করছি। তাই মিতুর মতো সকলেরই বিচার হওয়া উচিৎ। তাই নয় কি? তা নারী পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই হতে পারে।

আমি বলছি না নারীকে ব্যাভিচারি হতে হবে। ব্যাভিচারি শব্দটা তাইলে আগে ভাঙতে হবে। কিছু স্বামী আছে, কোনো কারো সাথেই সে তার বউ এর মেলামেশা দেখতে পারে না। মিশলেই সে ব্্যভিচারি!

ব্যাভিচার মানেই কি শরীর নিয়ে লুকোচুরি খেলা? এটা এক ধরনের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। যা নারী পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে হতে পারে। আর অধীকাংশ মানুষ মাত্রই তার নিজস্ব অভ্যাসের দাস। কোনো মানুষ যদি এই অভ্যাসের দাস হয় তবে তাকে ছেড়ে দিয়ে নিজে বাঁচা উচিৎ।

অনেক স্বামী আছে, দীর্ঘদিন এক সাথে বেড়ে ওঠা সেই ছোট্টবেলার খেলার সাথীদের সাথেও দেখা যায় কথা বলা দেখলে স্বামী পুরুষটি সন্দেহের চোখে দেখে। শরীরের সাথে শরীর ঘেষলেই কি সব হয়? উত্তেজনা কাজ করে? আমার তো তা মনে হয় না। প্রেম না থাকলে শারীরিক সম্পর্ক অসম্ভব বলে মনে হয় আমার কাছে। ভালবাসা ও শরীর যাকে তাকে বিলানোর জিনিস নয়।

আমাদের সমাজে আমরা বাড়ির বউকে যতোটা পঁচানোর চেষ্টা করি অন্য কোনো দেশে তা হয় কিনা আমার সন্দেহ। বর্তমানে আমরা দো-টানা সংস্কৃতিতে বাস করছি আর তাই যতো ঝামেলার সৃষ্টি।

একটা গল্প দিয়ে শেষ করি

নীলা এক অন্যরাম চিন্তার মানুষ। খুব হুট করেই পরিবার থেকে মোটামুটি আগে থেকে পছন্দ করা নিজের থেকে বেশি বয়সি ছেলের সাথে বিয়ে হয়ে যায়। স্কুল কলেজ জীবনে উড়ন্ত এক প্রজাতির হঠাৎ ডানা ছাটার মতো প্রতিটা ডানা পুড়িয়ে দেয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রচন্ড চুপচাপ শান্ত নীলা বিয়ের দিনই স্বামী পুরুষটির সকল নির্দেশ চুপ করে বাধ্য বালিকার মতো শুনতে শুনতে বউ হওয়ার কাজকর্ম সেরে ঘুমিয়ে পড়ে। যে নীলা স্বামী পুরুষটির কথা চিন্তা করলেই প্রেম উঠে আসবে এমন ভাবনায় জীবন সঙ্গী ভাবতো সে এসব র্নির্দেশে চুপসে গেলো। মনে হলো, হঠাৎ করে বড় হয়ে যাওয়া এক বড় কর্তব্যপরায়ন মানুষে রুপান্তরিত হলো। নিজের থেকে বয়সি বড় দেবর ননদ, ননদের মেয়েদের মানুষ করতে হবে। তাদের পড়াশুনা, খাওয়া দাওয়া সবকিছু দেখেশুনে রাখতে হবে। অপরদিকে রক্ষণশীল পরিবারের বউ হিসেবে অসুস্থ শশুর শাশুড়ির সেবা ও সকল ধর্মনীতি মেনে চলতে হবে। বোরখা ছাড়া বাড়ির বাইরে এক পাও যাওয়া যাবে না। মৌলবী মানুষের বাড়ির বউ বলে কথা!! একে একে ইচ্ছেগুলো মারতে মারতে কখন যে একটা মরা মানুষে নীলা পরিনত হলো নীলা তা টেরই পেলো না।

এবার নীলা আরো একবার মরলো, বিদ্রোহ করে ওঠার পর। হুজুর পরিবারের প্রতিটা মানুষের মুখোশের অত্যাচারে নিজে সকল ধর্মনীতির বেড়াজাল খুলে ফেলে দিলো। সংসারের যে সকল জটিল বিষয়গুলো নীলাকে অসহায় করে দিতো সে সকল বিষয়গুলোতে নীলার পাগল হয়ে যাবার মতো অবস্থা।

সামান্য কিছু সম্পদের কারনে, বাড়ির এতোদিনের কর্তব্যপরায়ণ বউ হয়ে গেলো একেবারে ছন্নছাড়া। স্বামী পুরুষটির কর্মস্থলে আজ এ নালিশ কাল সে নালিশ। আর স্বামী পুরুষটিও সেই বিয়ের প্রথম দিনের কথা একেবারে মান্য করে চলতো। দুই চার মাস পর বাড়ি এসে তার শোধ তুলতো। বড় বোন, বড় ভই, মা নালিশ করেছে মানে নীলাকে শাস্তি পেতেই হবে। সন্তানদের সামনে মুখের কথা থেকে হাতের কথায় কোনো কিছুতেই শাসনের কমতি হতো না। এখানে গল্পটা মর্মান্তিক হতে পারতো যদি নীলা আত্মহত্যা করতো।

কিন্তু, সবকিছুরই শেষ আছে। নীলা বাঁচতে জানে। বেঁচে আছে। সবকিছু ছুঁড়ে ফেলে বেঁচে আছে। কিন্তু এ সমাজে নীলার মতো মানুষের আত্মসন্মান নিয়ে বেঁচে থাকাটাও মুশকিল। মাঝে মাঝে নীলা ভাবে, তার মুখে বড় রকম এক দাগ সৃষ্টি করে রাখতে। যেনো অন্তত নির্ভিগ্নে সবার সাথে মিশতে পারে। কোথাও যেতে যেনো আর নীলার বাঁধা না থাকে। মুখে দাগ থাকলে কুদৃষ্টি যেমন তেমন অন্তত কু কথা থেকে নীলা মুক্তি পেতো।

কিন্তু, নীলা যদি কখনো নিজের জন্য একটু বাঁচতে চায়? এ সমাজ তা কখনোই মেনে নিবে না। কারণ, সমাজ জানে নিয়ম বেঁধে দিতে। সে নিয়মের মান রক্ষা করতে সমাজের কোনো দায়বদ্ধতা নেই।

কাউকে প্রচন্ড শাসণ করে কখনোই ভালবাসা ও প্রেম জাগানো যায় না। শুধুমাত্র সংসার করা যায়।

ভালবাসা প্রেম ঠিক স্বর্গীয়। অপলোক তাকিয়ে থাকার মতো। সকল ভালো লাগায় যে মুখটি ভেসে ওঠে তাই ভালবাসা, তাই প্রেম। সকল বাঁঁধা পেরিয়ে একটিবার সে মুখটি দেখার নামই ভালবাসা।

@রিতু। কুড়িগ্রাম।

 

 

---

Comments: 15 — https://sonelablog.com/%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95-%e0%a6%93-%e0%a6%86%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%ae-%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a5%a4/#comments
